Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published
Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published

Sayandipa সায়নদীপা

Drama


3  

Sayandipa সায়নদীপা

Drama


বাজি - চতুর্থ কিস্তি

বাজি - চতুর্থ কিস্তি

6 mins 1.4K 6 mins 1.4K

ফেব্রুয়ারি,২০১০


                    ৯


“হোয়াট ইজ দিস সংকেত? হোয়াট ইজ দিস? রেজাল্ট অন্যবারের তুলনায় খারাপ হল ঠিক আছে, হতেই পারে। কিন্তু এটা কি? খারাপ মানে এতটাই যে একটা পেপারে সাপ্লিমেন্টারি দিতে হবে!”

 “সরি স্যার।”

 “হোয়াট সরি? আমাকে সরি বলে কি হবে? তোমার মত ছেলের কাছ থেকে এটা আশা করিনি।”

কোনো উত্তর দিতে পারলাম না আমি, মুখ নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলাম। স্যারই আবার বলতে শুরু করলেন, “কাউকে আমি বলিনা এসব কিন্তু তোমাকে বলেই বলছি, তোমার মতো ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট! ব্যাপারটা কি বলোতো?”

আমি নিরুত্তর দেখে স্যার আরও উত্তেজিত হয়ে পড়লেন। “প্রেম করতে শুরু করেছ নাকি? তোমার মত বহু ছেলেকে এই করেই শেষ হয়ে যেতে দেখেছি।

কি হলো উত্তর দিচ্ছ না কেন? গার্লফ্রেন্ডের ডিমান্ড সামলাতে গিয়ে লেখাপড়া হচ্ছেনা তাই তো?”


   “রিল্যাক্স ব্রো। জাস্ট কুল ডাউন।”

“আই কান্ট।”

“আরে ভাই এটা তো স্যারদের কমন ডায়লগ, রেজাল্ট একটু খারাপ হলো মানেই জিজ্ঞেস করবে প্রেম করছ? এমন করে বলে না যেন ওটা ছাড়া দুনিয়াতে আর কোনো কারণই নেই যাতে রেজাল্ট খারাপ হয়।”

“একটু খারাপ! ডু ইউ থিংক এটা একটু খারাপ রেজাল্ট!”

“ভাই আমি তো বলবো তুই যে সিচুয়েশনে এগজাম দিয়েছিস তাতে অন্য কেউ হলে সেমিস্টারে বসতই না।”

“আমি কোনো এক্সকিউজ দিতে চাইনা।”

“এক্সকিউজ নয় রে, ফ্যাক্ট ফ্যাক্ট। কাকুর ওরকম শরীরের কন্ডিশন। যে পেপারটায় তোর সাপ্লি এলো সেই পেপারটার দিনই কাকুর এনজিওপ্লাস্টি ছিল। আরে আমি তো সবই জানি। একে কাকুর হেলথের ওরকম কন্ডিশন তারপর এনজিওগ্রাম, এনজিওপ্লাস্টির খরচা পরপর, তোর ওপর যে চাপ গেছে সে চাপ কেউ বুঝবে না রে। তোর খারাপ রেজাল্ট হওয়াটা জাস্টিফায়েড। আমি জানি কাকু কাকিমাও কিছু বলবেন না এ নিয়ে, কারণ ওরাও তো জানেন সবই।”

“প্লিজ বাবাকে টানিস না এর মধ্যে, বাবা একবার শুনলে নিজেকে দোষী ভাবতে থাকবে।”

“সংকেত, ভাই কেউ দোষী নয়, পরিস্থিতি একমাত্র দায়ী এসবের জন্য।”  


অর্ঘ্য... আমার কলেজের একমাত্র ভালো বন্ধু, আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে আমাকে সামলানোর। কিন্তু আমি জানি কারুর কোনো কথাতেই কাজ হবে না এই মুহূর্তে। এই একটা ব্যর্থতা আমার জীবনে যে কতখানি ক্ষতি তা ও বুঝবেনা হয়তো। স্যার ঠিকই বলেছেন, আমার মাইন্ড ডাইভার্ট হয়ে গেছে বেকার কাজে। নাহ আর এসব হতে দিতে পারিনা আমি।


“রেনেসাঁ…” অস্ফুটে বলে উঠলাম আমি। আমার ঠোঁটের নড়াচড়া দেখে অর্ঘ্য বোধহয় ধরে ফেললো ব্যাপারটা।

 “ভাই রেনেসাঁকে দোষ দিয়ে লাভ নেই, সে বেচারী কি করবে? 

দেখ আমি তাকে ব্যক্তিগত ভাবে চিনিনা ঠিকই কিন্তু তোর কাছে যা শুনেছি আর তোকে ফোন করে যখন দেখেছি তো তখনও… তুই অনেক লাকি রে ভাই। তোর যাতে পড়াশুনার হ্যাম্পার না হয় তার জন্য রোজ ফোনে মাত্র দশ মিনিট কথা বলে, কোনো ডিমান্ড নেই কিছুনা… এমন গার্লফ্রেন্ড অনেক ভাগ্য করে পাওয়া যায় রে।”

 “সী ইজ নট মাই গার্লফ্রেন্ড… আন্ডারস্যান্ড?” দাঁত চিপে কথা গুলো বললাম আমি। আমার এমন মূর্তি বোধহয় অর্ঘ্য কোনোদিনও দেখেনি; কোনো কথা বললো না সে, অবাক হয়ে চুপচাপ তাকিয়ে রইলো আমার দিকে।


  আমাদের কথার মাঝেই কর্কশ স্বরে ডেকে উঠলো আমার দেড় হাজারী ফোনটা। স্ক্রিনে দেখলাম কলারের নাম… রেনেসাঁ। গভীর আক্রোশে মেঝেতে ছুঁড়ে ফেললাম ফোনটা। পেছনের কভারটা খুলে ব্যাটারিটা ছড়িয়ে পড়লো মেঝেতে। 



   অনেক নাটক হয়ে গেছে, এবার যবনিকা পতনের পালা।


                       ১০


বাড়ি ফিরছিলাম হোস্টেল থেকে। স্টেশন থেকে পা দুটো আর যেন চলছে না। জানিনা কিভাবে গিয়ে দাঁড়াবো মা বাবার সামনে! কিভাবে বলবো আমায় রেজাল্টটা! 

  

“বাহ্ চমৎকার গুরু! ফাটাফাটি। তুমি তো সালা দু মুখো মাল!”

আমার সামনে এসে ক্যাঁচ করে ব্রেক কষে বাইকটা দাঁড় করাল প্রত্যুষ দা, তারপর চিবিয়ে চিবিয়ে কথা গুলো বললো।

 “কি বলতে চাইছো কি?”

 “জানোনা যেন চাঁদু! বাজি জেতার পরও এখনও এতো মধু খাওয়া কিসের?”

 “মাইন্ড ইয়োর ল্যাংগুয়েজ প্রত্যুষ দা।”

 “আরে রাখ রাখ এসব… আমি সালা ভাবতাম দুনিয়ার সবচেয়ে বড় হারামি আমি কিন্তু তুই তো ভাই আমারও বাড়া! আর কি কি করে ছাড়বি মালটাকে?” প্রত্যুষদার কথায় নোংরা ইঙ্গিত স্পষ্ট।

 “রাস্তা ছাড়ো, বাড়ি যেতে হবে।”

জিভ দিয়ে একটা অদ্ভুত শব্দ করে প্রত্যুষ দা সরে দাঁড়ালো, “যাও চাঁদু বাড়ি যাও। কিন্তু শোনো একটা কথা তোমার মধু খাওয়ার দিন শিগগির শেষ হতে চলেছে। তোর ওই বুড়ো বাপটা সুদ্ধ তোকে যদি পাবলিকের ধোলাই না খাইয়েছি তো আমার নামও প্রত্যুষ দাস নয়। শ্লা সবেতে আমাকে হারাবি তাই না? খুব শখ তোর… যা যা ঘরে যা।”


    “বাবু! কি হয়েছে তোর? ফোন ধরেছিলি না কেন? 

কি হলো দরজার কাছে ওভাবে দাঁড়িয়ে রইলি কেন? এই বাবু…”

আজকে আর পারলাম না, সব প্রতিরোধ, সব নিয়ন্ত্রণ কোথায় যেন হারিয়ে গেল। ছুটে এসে মাকে জড়িয়ে ধরে হাউহাউ করে কেঁদে ফেললাম ছোটো বাচ্চার মতো। সত্যিই ছোটবেলাটা অনেক ভালো ছিলো। তখন হাতে পায়ে সামান্য ছড়ে গেলেও কেঁদে ভাসাতাম। বড়ো হওয়ার সাথে সাথে ওসব আঘাত তো গা সওয়া হয়ে গেছে কিন্তু এখন যে আঘাত গুলো লাগে তার রক্তক্ষরণ তো চোখে দেখা যায়না, তাই আর আগের মতো মায়ের কোলে ঝাঁপিয়ে পড়ে কাঁদাও যায়না প্রাণ খুলে। কিন্তু আজ আর পারলাম না, বুকের মধ্যে জমিয়ে রাখা হাজারটা আঘাত, হাজারটা কষ্ট যেন একসাথে ঠেলে বেরিয়ে আসছে বাইরে, আমি কাঁদছি… আমি কাঁদছি…হাউহাউ করে কাঁদছি…


“এই বাবু কি হয়েছে? বল আমায়, আমার কিন্তু ভীষণ ভয় লাগছে। বল না রে…” মায়ের গলার স্বরে দুশ্চিন্তার ছাপ।

তোমায় কি বলি মা! আমি নিজেও কি জানি আমার ভেতরের এই বাঁধ ভাঙা বন্যার কারণ! এটা কি নিছকই রেজাল্ট খারাপের বহিঃপ্রকাশ, নাকি প্রত্যুষদার হুমকি! নাকি এর গভীরে আছে আরও অন্য কিছু! ভেতরটা কেমন যেন ভেঙে চৌচির হয়ে যাচ্ছে… গলার কাছে এসে কিছু যেন একটা আটকে গেছে। তোমার ছেলে শেষ হয়ে গেছে মা… শেষ হয়ে গেছে…


                     ১১


“সংকেত দা…”  

ছুট্টে এসে আমায় জড়িয়ে ধরলো রেনেসাঁ, তারপর অভিমানী গলায় বললো, “তুমি ফোন ধরেছিলে না কেন? জানো আমি কতো ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম?”

দু’হাত দিয়ে জোর করে রেনেসাঁকে সরিয়ে দিলাম নিজের থেকে, তারপর দাঁতে দাঁত চিপে বললাম, “কথা আছে কিছু তোমার সঙ্গে।”

আমার ব্যবহারে হতবাক রেনেসাঁ শুধু বললো, “বলো।”

 “শুনেছ কিনা জানিনা তাও বলছি, আমার বাবার ট্রান্সফার হয়ে গেছে কলকাতার অফিসে।” 

 “হ্যাঁ। কাকিমা বলেছেন।”

 “গুড। তারমানে এটাও শুনেছ যে আমরা হোল ফ্যামিলি ওখানে শিফট করে যাচ্ছি বোনের পরীক্ষার পরই।”

 “হুম। জানি আর আগের মতো দেখা হবে না। কিন্তু আমি অপেক্ষা করবো তোমার জন্য।” মুখে একটা মিষ্টি হাসি এনে কথাটা বললো ও।

 “প্রয়োজন নেই।” কর্কশ গলায় প্রত্যাখ্যান করলাম আমি।

 “মানে?”

 “মানে আমার জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই, কারণ আমি ফিরবোনা কোনোদিন।”

 “সংকেত…”

 “হুম ঠিকই শুনছ। আর একটা কথা, তোমার মনে আছে গত বছর আমাদের এই ফেক রিলেশনটা শুরু হওয়ার কিছুদিন পর প্রত্যুষ তোমাকে কি বলেছিল?”

 “ফেক রিলেশন! তোমার মাথার ঠিক আছে তো?”

 “একদম। লুক, প্রত্যুষ সেদিন যা যা বলেছিল তার প্রতিটা কথা অক্ষরে অক্ষরে সত্যি, প্রতিটা…”

 “আমি তোমার মুখ থেকে শুনতে চাই।”

 একটু চুপ করে থেকে বললাম, “তবে তাই হোক। প্রত্যুষ সত্যি কথাই বলেছিলো, ওর সাথে একটা বাজি ধরে আমি তোমার সাথে ভালোবাসার অভিনয় করি। দু হাজার টাকা দিয়েছিলো ও। বাবার অসুখের সময় আমার সেমিস্টার ফি দিতে খুব কাজে লেগেছিলো। যাই হোক, আসল কথা হলো আমি তোমাকে ওসব ভালো টালো কিছু বাসিনা, ওসব আমার আসেনা।”

 “তুমি মুখ নিচু করে কথা গুলো বলছ কেন? আমার চোখের দিকে তাকিয়ে কথাগুলো বলো…”

 “ফুল… ওসব চোখে চোখে কথা নভেলে, সিনেমাতেই হয় বাস্তবে নয়। তুমি আর তোমার রোম্যান্টিক মাইন্ড…”

 “তুমি মিথ্যে কথা বলছ… আমি বিশ্বাস করিনা…”

 “দ্যাটস ইয়োর প্রবলেম। কখনো যদি তোমার রোম্যান্টিক সেনসেশন থেকে বেরিয়ে প্র্যাক্টিক্যালি ভাবার চেষ্টা করতে তাহলেই বুঝতে পারতে তোমার মতো মেয়ের সাথে আমি কেন প্রেম করতে যাবো! হতে পারে তোমার বাবার মতো আমার বাবা অতো ধনী নন, কিন্তু ইকোনোমিক স্ট্যাটাসটা তো আমার হাত ধরে যে কোনো মুহূর্তে চেঞ্জ হয়ে যাবে…”

 “সংকেত দা… সংকেত দা ওই প্রত্যুষ তোমাকে কিছু বলেছে উল্টোপাল্টা?”

 “আমাকে কেউ কিছু বলেনি।”

 “তাহলে কেন এসব অদ্ভুত কথা বলছ?”

 “বিশ্বাস হচ্ছেনা? যাও গিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের মুখটা দেখো, ঠোঁটের পাশে ওই ধ্যবড়া তিলটাকে দেখো তারপর বলো তোমাকে ভালোলাগার কোনো কারণ আছে?”

 “সংকেত দা এতো বড়ো কথাটা বললে তুমি? তুমি তো বলতে আমার তিল টা… বলোনা সংকেত দা তুমি মজা করছো আমার সাথে… আমাকে রাগাবে বলে এসব করছো তাই না? আমি রাগবোনা… রাগবোনা আমি…” গলাটা ধরে এলো মেয়েটার। দু চোখ ভর্তি জল নিয়ে বলতে থাকলো, “আমি বিশ্বাস করিনা… আমি বিশ্বাস করিনা এসব…”


  কোনো উত্তর দিলাম না আর, বাইরে যাওয়ার জন্য ঘুরে দাঁড়ালাম। ছোটবেলার থেকেই ভীষণ কেরিয়ারিস্টিক আমি, কেরিয়ার আর আমার মাঝে যা কিছু আসে তাকে ছেঁটে ফেলাই আমার দস্তুর। এগিয়ে চলাই আমার জীবনের লক্ষ্য, পেছন ফিরে তাকাইনি কোনোদিন। এবারেও তার ব্যতিক্রম হবে না জানি। আমি সংকেত সেন, বিশ্বাস করি নিজেকে। মেয়েটা এখনও কিসব যেন বলছে; পেছন ফিরে দেখলাম না, সামনের দিকে পা বাড়ালাম।


  বাইরে বেরিয়ে আসতেই গেটের বাইরে দাঁড়ানো একটা কুকুর আমাকে দেখতে পেয়ে ঘেউঘেউ করে তেড়ে উঠলো, গেট লাগানো না থাকলে হয়তো ঝাঁপিয়ে পড়তো আমার ওপর। নিশ্চয় আমার গা থেকে ওঠা গন্ধটা পেয়েছে… জানোয়ার জানোয়ার গন্ধ…


  রেনেসাঁ দের বাগানের ডালিয়া ফুলগুলো শুকিয়ে গেছে সব। কিছুদিন আগে অবধিও তো কত রঙের বাহার ছিলো ওদের, কিন্তু আজ শুধু শুকনো রং। বাইরে একটা ঠান্ডা বাতাস দিচ্ছে, বৃষ্টি হওয়ার আগে যেমন বাতাস দেয় ঠিক সেরকম। আকাশের কোণে জমতে শুরু করেছে মেঘ… আচ্ছা শীতের শেষেও কি বৃষ্টি নামে?


ক্রমশ...



Rate this content
Log in

More bengali story from Sayandipa সায়নদীপা

Similar bengali story from Drama