STORYMIRROR

Sanchaita Roy Chowdhury

Romance Inspirational Others

4  

Sanchaita Roy Chowdhury

Romance Inspirational Others

অন্যরকম ভালোবাসা

অন্যরকম ভালোবাসা

8 mins
33

অন্যরকম ভালোবাসা 

পর্ব-৩৪


আর্য সুইমিং পুলের ধারে একা বসে ভাবলো,'অদৃত এখনো কেন সকলকে জানায় না আমার আর ওর সম্পর্কের কথা? ওর বন্ধুদের কাছে সবসময় আমার পরিচয় দেয় বন্ধু নয় ভাইয়ের। বন্ধুদের কাছে আমাদের সম্পর্কের কথাটা তো বলাই যায়। কেন বলে না সত্যিটা? তবে কি ওর আমাকে মেনে নিতে কোনো অসুবিধা হয়?'

আর্য আবার ভাবলো,'সত্যিই তো কেন মেনে নিতে অসুবিধা হবে না আমি কি অদৃতের যোগ্য নাকি? আমি তো পার্টিতে কি পড়তে হয় জানি না, মানুষের সাথে ঠিক মতোন মিশতে পারি না।

অদৃতের মতোন তো আমার ওতো অর্থও নেই, আর স্বাবলম্বীও নই। আমি তো খুব একটা কিছু জানিও না, জানি বলতে ওই আঁকাটুকুই।

নিজস্ব কোনো পরিচয় নেই।আমার পরিচয় বলতে আমি তমাল সেনের ছেলে। কিন্তু অদৃতের নিজস্ব পরিচয় আছে, ওর পরিচয় লোকসমাজে একজন ব্যবসায়ী হিসেবে, পত্রলেখার পরিচয় একজন বিখ্যাত নায়িকা হিসাবে। তাহলে আমার নিজস্ব পরিচয় কি? এইজন্যই কি অদৃতের আমাকে পরিচয় দিতে অসুবিধা হয়?

সবাই ঠিকই বলে ওতো সুন্দর ছেলের পাশে হয়তো পত্রলেখার মতোন সুন্দরী মেয়েকেই মানায়। কোথায় পত্রলেখা আর কোথায় আমি।'




হঠাৎই আর্য তার কাঁধের ওপর চেনা হাতের স্পর্শ অনুভব করল। সে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকিয়ে দেখলো অদৃত তার কাঁধের ওপর হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ।

অদৃত রেগে গিয়ে এক নিঃশ্বাসে বলে চলল,'তুমি জানো আমি তোমাকে কত খুঁজেছি গোটা পার্টিতে? তোমার কাউকে বলে আসা উচিত ছিল, এইভাবে না বলে বেরিয়ে আসাটা ঠিক হয়নি। অন্তত আমাকে বলে আসতে পারতে। চারপাশটা খুঁজে দেখার পর দেখলাম শেষমেশ তুমি এখানে বসে আছো।'

অদৃত আর্যর পাশে বসে বলল,' কি হয়েছে? ভিতরে ভালো লাগছে না?'

আর্য বলল,'আসলে একটু অস্বস্তি হচ্ছিল। অতো আওয়াজ, অতো ভিড়ের মধ্যে কেমন দমবন্ধ হয়ে আসছিল।'

অদৃত একটু শান্ত হয়ে বলল,'ওহ্ । কিন্তু তোমার মুখটা এরকম লাগছে কেন? কিছু হয়েছে?'

আর্য বলল,'কই না তো।'

অদৃত বলল,'তাহলে এরকম লাগছে কেন?

ও বুঝেছি অভ্রতনুরা ওইরকম বলেছে বলে খারাপ লেগেছে? '

আর্য বলল,'না।'

অদৃত বলল,'তাহলে?'

আর্য বলল,'বললাম তো কিছু হয়নি।'







অদৃত বলল,'কিছু তো একটা হয়েছে। আমার চোখকে ফাঁকি দেওয়া ওতো সহজ নয়। বলো কি হয়েছে?'

আর্য বলল,'অদৃত আমি তোমাকে পেয়ে খুব খুশি কিন্তু তুমি আমাকে পেয়ে খুশি তো?

দ্যাখো আমি হয়তো তোমাকে একটা পারফেক্ট রিলেশনসিপ দিতে পারবো না। লোকে হয়তো এটা নিয়ে অনেক কথাও বলবে।সত্যি বলতে আমার তোমাকে দেওয়ার মতোন কিছু নেই, তোমাকে আমি কেবল আমার সবটুকু ভালোবাসা দিতে পারবো। তুমি এগুলো নিয়ে খুশি হতে পারবে তো?'

অদৃত দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল,'এই কথাগুলো আসছে কোথা থেকে?

প্রথমত,আমি তোমাকে পেয়ে সত্যিই খুব খুশি। আর দ্বিতীয়ত,রইলো বাকি পারফেক্ট রিলেশনসিপের কথা। তুমিই তো আমাকে বলেছিলে আর্য আমরা জীবনে কেউ পারফেক্ট নই। সত্যি বলতে আমরা কোনো মানুষই কোনো মানুষের কাছে পারফেক্ট নই, আমরা যতই ভালো কাজ করি না কেন , সকলে তা বিচার বিশ্লেষণ করে কোনো না কোনো খুঁত ঠিক খুঁজে বের করবে। আর যাদের কাছে আমরা পারফেক্ট নই সেই মানুষগুলো আমাদের সম্পর্কটাকে কিভাবে পারফেক্ট বলবে? 

অন্যরা তাদের মতোন করে দেখবে, তাদের মতোন করে বিচার করবে। তাই আমাদের কাছে আমাদের সম্পর্কটা পারফেক্ট থাকা প্রয়োজন, অন্যদের কাছে নয়।আর আমার কাছে এই সম্পর্কটা পারফেক্ট। অন্যরা কে কি বলছে তাতে আমি কান দিই না। '

আর্য মাথা নাড়লো।

অদৃত বলল,'তোমাকে একটা খবর দেওয়ার ছিল।

আর্য বলল,'কি?'

অদৃত বলল,'পত্রলেখার বন্ধুর তোমার আঁকা ছবিগুলো খুব পছন্দ হয়েছে,উনি তোমাকে ক্লাস দিতেও ইচ্ছুক। তো.... তুমি যদি চাও তবে তুমি বিদেশে গিয়ে ওনার ক্লাস নিতে পারো। সেক্ষেত্রে তোমার ভালো হবে। আমি জানি এই বিষয়ে কথা বলার অধিকার হয়তো আমার নেই।'

আর্য বলল,'তুমি এখনো ওই কথাগুলো ধরে রেখেছো। আমি সত্যিই সেদিন রাগের মাথায় বলেছিলাম, আমি নিজেও জানি না আমার 

সেদিন কি হয়েছিল।আমি তার জন্য ক্ষমা চাইছি।'

অদৃত বলল,'না ঠিক আছে। আমিও পরে ভেবে দেখলাম তোমার জীবনের কিছু সিদ্ধান্ত তোমার একার , সেগুলো আমি বা কেউই তোমার ওপর জোর করে চাপিয়ে দিতে পারি না।'

আর্য বলল,'আচ্ছা তুমি কি চাও আমি তোমাকে ছেড়ে বাইরে গিয়ে পড়াশোনা করি?'

অদৃত চুপ করে রইলো।

আর্য অদৃতের কাঁধে মাথা রেখে বলল,'আমি চাইনা তোমাকে ছেড়ে দূরে চলে যেতে । আমি তোমার সাথে,আন্টি-আঙ্কেলের সাথে থাকতে চাই। আমি তোমাকে ছেড়ে দূরে গিয়ে থাকতে পারবো না অদৃত। কিন্তু তুমি যদি মন থেকে চাও আমি চলে যাই, তাহলে ঠিক আছে আমি চলে যাবো।'

অদৃত বলল,'না। আমি মন থেকে কখনোই চাই না তুমি আমার থেকে দূরে চলে যাও, তোমাকে ছাড়া আমি থাকতে পারবো না। কিন্তু এটাও ঠিক তোমাকে ভালো করে শিখতে হলে, বিদেশে যাওয়াটা সেক্ষেত্রে দরকার। আমি চাই তুমি সবথেকে ভালো শিক্ষাটা পাও।'

আর্য বলল,'কিন্তু আমি তোমাকে ছেড়ে যেতে চাইনা।'

অদৃত আর্যর হাত ধরে বলল,'ঠিক আছে। তুমি যখন যেতে চাও না আমি আর জোর করব না, এমনিতে আমিও চাইনা তুমি আমাকে ছেড়ে দূরে গিয়ে থাকো। আমি পত্রলেখাকে বলে দেবো যে, তুমি যেতে চাও না ।'

আর্য কথাটা শুনে খুশি হল।

অদৃত আর্যর কপালে ঠোঁট ছুঁয়ে একটা আদর করে বলল,'এবার ভেতরে যাওয়া যাক!'

আর্য বলল,'হ্যাঁ চলো।'











পার্টি শেষে বাড়ি ফেরার সময় শ্রেয়সী বলল,'পিয়ালি এবার আমরা তবে এগোলাম।'

পিয়ালি বলল,'আচ্ছা।'

ইন্দ্রনীল বলল,'আসছি তবে। আর হ্যাঁ পরশুদিন কিন্তু তোমরা সবাই আসবে। আর পত্রলেখা!'

পত্রলেখা বলল,'হ্যাঁ আঙ্কেল?'

ইন্দ্রনীল বলল,'ওইদিন কিন্তু প্রতিবারের মতোন এইবারেও সব দায়িত্বভার তোমার ওপর রইলো ।'

পত্রলেখা বলল,'একদম।'

আর্য পিছনে দাঁড়িয়ে ভাবলো,'পরশুদিন কি আছে? ও অদৃতের জন্মদিন আছে, ও আমাকে বলেছিলো। আমি এতোকিছুর মাঝে ভুলেই গিয়েছিলাম।'

অদৃত বলল,'পরশু দিন কিন্তু সকলে তাড়াতাড়ি আসবে।'

পিয়ালি বলল,'অবশ্যই ।'













পরদিন সকালে অদৃত আর্যকে ত্রিদিবের স্টুডিওতে পৌঁছাতে যাওয়ার পথে খেয়াল করল আর্যর মুখটা এখনো কেমন ফ্যাকাসে হয়ে রয়েছে।

সে জিজ্ঞাসা করল,'আর্য তুমি ঠিক আছো?'

আর্য বলল,'হ্যাঁ ।'

গতকাল রাতের পার্টি থেকে ফেরার পর থেকেই আর্য গম্ভীর হয়ে আছে, দরকার ছাড়া খুব একটা কথাও বলছে না কারোর সাথে , সারাক্ষণ যেন কিছু ভেবে চলেছে। 

স্টুডিওতে পৌছাতেই ত্রিদিব অদৃতকে বলল,'এই তো আমি তোদের জন্যই অপেক্ষা করছিলাম।'

অদৃত বলল,'কি হয়েছে? দেখে মনে হচ্ছে খুব ব্যস্ত।'

ত্রিদিব বলল,'সামান্য।

আর্য আর অদৃত দুজনকেই বলছি আজকে রাতে আমার বাড়িতে তোমাদের দুইজনের নেমন্তন্ন রইলো আমার মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষে। অবশ্যই আসতে হবে।'

অদৃত বলল,'তাই! আমরা অবশ্যই যাবো।'

ত্রিদিব বলল,'কাউকে বলিনি শুধু তোদের দুইজনকেই বলেছি। অবশ্যই আসবি কিন্তু।'

অদৃত বলল,'অবশ্যই যাবো।'







ত্রিদিব ছবি আঁকার সময় খেয়াল করল আর্যকে অন্যদিনের তুলনায় আজকে একটু অন্যরকম লাগছে,সে বলল,'আর্য কি হয়েছে তোমার? মুখটা এরকম লাগছে কেন?'

আর্য বলল,'কিছু হয়নি।'

ত্রিদিব বলল,'আমি এতোমাস তোমাকে দেখছি আমি বুঝতে পারবো না কিছু হয়েছে কিনা, এটা হতেই পারে না । বলো কি নিয়ে মন খারাপ?'

আর্য বলল,'আচ্ছা পত্রলেখার সাথে অদৃতকে খুব ভালো মানাবে তাই না দাদা?'

ত্রিদিব বলল,'এর মধ্যে অদৃত আর পত্রলেখা এলো কি করে?'

আর্য একটু সঙ্কোচ করে বলল,'এমনি.....এমনি জিজ্ঞাসা করছিলাম।'

ত্রিদিব বলল,'আমাদের মন খারাপ থাকলে কিন্তু তার প্রভাব আমাদের ছবি আঁকার মধ্যেও ফুঁটে ওঠে।'

আর্য বলল,'আমি সত্যি বলছি আমার কিছু হয়নি।'

ত্রিদিব বলল,'তাহলে কেন ধূসর ছাই রঙ আর কালো রঙ দিয়ে ছবি আঁকছো ? যদি বলতে না চাও বোলো না কিন্তু এইভাবে তোমাকে মুখভার করে দেখতে ভালো লাগে না।'

আর্য কিছুক্ষণ পর বলল,'আমি.....আ....মি..... একটা কথা জিজ্ঞাসা করবো?'

ত্রিদিব বলল,'হ্যাঁ বলো।'

আর্য বলল,' আচ্ছা ভালোবাসতে গেলে কি যোগ্যতা বা মাপকাঠির প্রয়োজন হয় ? '

ত্রিদিব বলল,'না, কেন? কাউকে ভালো লেগেছে? '

আর্য বলল,'না ঠিক সেরকম নয়।'

ত্রিদিব বলল,'তাহলে হঠাৎ জিজ্ঞাসা করলে কেন?'

ত্রিদিব বলল,'আজকাল খেয়াল করেছি তোমার হঠাৎ হঠাৎ মন খারাপ হচ্ছে, কেমন মনমরা হয়ে থাকো। কি হয়েছে? 

সত্যি করে বলো ভালোবাসো কাউকে?'

আর্য বলল,'হ্যাঁ ।'

ত্রিদিব বলল,'কাকে?'







আর্য বলল,'আমি যদি বলি আমি কাকে ভালোবাসি তাহলে হয়তো দাদা তুমি আমাকে ভুল বুঝবে বা খারাপ ভাববে।'

ত্রিদিব বলল,'দাদা বলে ডাকছো অথচ বিশ্বাসটাই রাখতে পারছো না। দ্যাখো আর্য আমার একটা ভাই ছিল সে অনেকটা তোমার মতোন ছিল,শান্তশিষ্ট ধীরস্থির স্বভাবের । কিন্তু আঁকার দিকে কোনো আগ্রহ ছিল না ; ও খুব ভালো গান করতো জানো। আমাদের দুজনের মধ্যে যত না দাদা - ভাইয়ের সম্পর্ক ছিল, তার থেকেও অনেক বেশি ছিল বন্ধুত্বের সম্পর্ক। বলতে পারো আমরা একে অপরের বেস্টফ্রেন্ড ছিলাম। একটা দুর্ঘটনায় ওকে আমি হারিয়ে ফেলি। খুব মিস করি জানো ওকে। কিন্তু তোমাকে যেদিন দেখেছিলাম সেদিন একমুহূর্তের জন্য আমার ভাইয়ের মুখটা মনে পড়েছিল। আমি সেইদিন থেকেই তোমাকে আমার ভাইয়ের মতোন ভাবি। তাই তুমি যদি না চাও বোলো না, কিন্তু আমি তোমাকে কখনো ভুল বুঝবো না বা খারাপও ভাববো না।'

আর্য বলল,'অনেক ধন্যবাদ। আমার নিজের কোনো দাদা নেই, কিন্তু তোমার কোনো তুলনা হয় না। যখনই বিপদে পড়ে সাহায্য চেয়েছি তোমাকে পাশে পেয়েছি।'

ত্রিদিব বলল,'একজন দাদাই তো তার ভাইকে সাহায্য করবে।

আচ্ছা এবার বলোতো তুমি কাকে ভালোবাসো?'

আর্য হাত কচলিয়ে বলল,'আমি......আমি একটা ছেলেকে ভালোবাসি।'

কথাটা বলে আর্য একবার ত্রিদিবের মুখের দিকে তাকালো, সে দেখলো কথাটা শুনে ত্রিদিব অবাক হয়নি আর না ত্রিদিবের মুখের মধ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া ফুটে উঠেছে বরং সে আগের মতোই মনোযোগ সহকারে তার কথা শুনছে । 

আর্য বলল,' অবাক হলে না দাদা?'

ত্রিদিব বলল,'না তো। কেন অবাক হবো? অবাক হওয়ার মতোন তো কিছু ঘটেনি। এটাতো একটা স্বাভাবিক বিষয় । এটায় অবাক হবো কেন?

যাইহোক ছেলেটা কে? আমি কি তাকে চিনি?'

আর্য বলল,'হ্যাঁ।'

ত্রিদিব বলল,'কে?'

আর্য বলল,'অদৃত রায়।'








ত্রিদিব বলল,'আচ্ছা ।'

আর্য মাথা নেড়ে বলল,'হ্যাঁ।কিন্তু আমি হয়তো ওর যোগ্য নই।'

ত্রিদিব বলল,'কেন? অদৃত কি কিছু বলেছে?'

আর্য বলল,' না অদৃত বলেনি তবে...'

ত্রিদিব বলল,'তবে কে ? ওর বাবা-মা?'

আর্য বলল,'আরে না না ওর মা-বাবা তো এখনো পর্যন্ত কিছু জানেন না।'

ত্রিদিব বলল,'তাহলে কে?'

আর্য বলল,'গতকাল পত্রলেখাদের পার্টিতে সবাই বলছিল , পত্রলেখা আর অদৃতকে একসাথে খুব ভালো মানায়, আমারও মনে হয় জানো। পত্রলেখা কত সুন্দরী, কত উচ্চশিক্ষিত, কত আধুনিকা , নিজের পায়ে প্রতিষ্ঠিত। অদৃতের পাশে দাঁড়ালে ওকে সত্যিই খুব ভালো লাগে। ওদের মাপকাঠি সমান । কিন্তু আমার তো তা নেই, আমার তো নিজস্ব কোনো পরিচয়ই নেই, আমি ওতো উচ্চশিক্ষিত নই, আধুনিকও নই। পার্টিতে সবাই বলছিল, পত্রলেখাই অদৃতের যোগ্য। ওদের দুজনের বিয়ে হলে খুব ভালো হবে।ওরা দুজনেই বড়োলোক, ওদের মাপকাঠি নাকি সমান। কিন্তু আমার তো ওতো অর্থ নেই। না না আমাকে মানায় না ওর পাশে। জানো 

ওনার বাবা-মাও পত্রলেখাকে খুব ভালোবাসেন।'

ত্রিদিব বলল,'অদৃত কখনো বলেছে তোমাকে যে ও পত্রলেখাকে ভালোবাসে বা বিয়ে করতে চায়?'

আর্য বলল,'না।'

ত্রিদিব বলল,'তবে? দ্যাখো লোকে অনেক কথা বলবে, অনেক কিছু ভাববে ; কিন্তু আসল সত্যিটা তো তোমরা জানো। অদৃত তোমার সবটা জেনেই তোমাকে ভালোবেসেছে। তাহলে তুমি লোকের কথায় পাত্তা দিচ্ছো কেন?'

আর্য বলল,'কিন্তু তুমিও তো বলেছো পত্রলেখার সাথে অদৃতকে ভালো মানায়।'

ত্রিদিব বলল,'হ্যাঁ বলেছিলাম । কারণ তখন তো আমি জানতাম না । তারজন্য সরি! ওইভাবে না জেনে বলাটা আমার উচিত হয়নি।'

আর্য বলল,'আচ্ছা অদৃতের সাথে কি কোনোরকমভাবে আগে পত্রলেখার কোনো সম্পর্ক ছিল? আমি জানি এইভাবে জানতে চাওয়াটা অন্যায় কিন্তু......'

ত্রিদিব বলল,'না। বন্ধুদের মধ্যে যেরকম ঠাট্টা-তামাশা হয় আমাদের মধ্যেও সেরকমই চলতো। পরবর্তীকালে সোশ্যাল মিডিয়াতে যখন ওদের দুজনের সম্পর্ক নিয়ে জল্পনা শুরু হল, তখন আমরা আরো পিছনে পরলাম। কিন্তু অদৃত 

পত্রলেখাকে ওইভাবে দেখে বলে মনে হয় না, হ্যাঁ তবে ওকে ও খুব আগলে রাখে, পত্রলেখার সমস্ত আবদার যদিও অদৃতের কাছে, অদৃত ওর সমস্ত আবদার মেটায় এটা ঠিক কিন্তু ওকে ভালোবাসে না। আর এটাও ঠিক যে , ও তোমাকে খুব ভালোবাসে।'

আর্য বলল,'তুমি জানলে কি করে? আর তুমি অদৃতের সাথে আমার সম্পর্কের কথা জানতে নাকি? তুমি কথাটা শোনার পর অবাক হলে না কেন?'

ত্রিদিব বলল,'একদম অবাক হইনি তা বলবো না । কিন্তু আমি এটা খেয়াল করেছি অদৃত তোমার কাছে একদম অন্যরকম আচরণ করে, ও যেরকম সেরকমই থাকে। ও তোমার কাছে ওর নিজস্বতা নিয়ে চলে, এরকম প্রাণোচ্ছলতা ওর মধ্যে শেষ কবে দেখেছিলাম তা আমার মনে নেই। ওর মতোন ছেলে হয় না , ওর খেয়াল রেখো আর্য।'

আর্য হেসে বলল,'হ্যাঁ, রাখবো।'

ত্রিদিব বলল,'কালকে তো অদৃতের জন্মদিন।'

আর্য বলল,'হ্যাঁ।'

ত্রিদিব বলল,'কালকে ওকে কি দেবে কিছু ঠিক করেছো?'

আর্য বলল,'হ্যাঁ ।'












To be continued...........


Rate this content
Log in

Similar bengali story from Romance