Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published
Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published

নন্দা মুখার্জী

Drama Romance


3  

নন্দা মুখার্জী

Drama Romance


অলক্ষ্যে

অলক্ষ্যে

2 mins 193 2 mins 193


  ছেলেবেলার থেকেই ঝিলিক আর আয়ুস খুব ভালো বন্ধু | দুজনেরই বাড়ি বলতে গেলে একদম পাশাপাশি | দুই বাড়ির সাথেও খুব ভালো সম্পর্ক | আয়ুসদের তুলনায় ঝিলিকেরা আর্থিক দিক থেকে একটু খাটো | আয়ুসের বাবা একজন বড় ব্যবসায়ী  | বিশাল বাড়ি , গাড়ি নিত্যনূতন জামাকাপড় আর আসবাবপত্রের ছড়াছড়ি | আর এদিকে ঝিলিকের বাবা একজন কলকাতা মিউনিসিপ্যালিটির সামান্য ক্লাক | কিন্তু অর্থের ভেদাভেদ দুটি পরিবারের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্কের কোন প্রভাব ফেলতে পারেনি | 

 ঝিলিক এবং আয়ুস ছোট থেকেই একই স্কুল থেকে উচচমাধ্যমিক পাশ করে উচচশিক্ষার্থে দুজন দুদিকে ছিটকে যায় | আয়ুস জয়েন্টে চান্স পেয়ে চলে যায় ডাক্তারী পড়তে ব্যাঙ্গালোর  আর ঝিলিক ইংলিশে অনার্স নিয়ে নিজের বাড়ি থেকেই কলেজে যাতায়াত করতে থাকে | ফোনে রোজই তাদের দুজনের কথা হয় | এখনো ঝিলিক আয়ুসদের বাড়িতে যায় তার বাবা মায়ের সাথে গল্পগুজব করে আসে | 

 একদিন আয়ুস অনেক রাতে ফোন করে ঝিলিককে  

--- ভীষণ মনে পড়ছে তোর কথা | তুই কি করছিস এখন ?

--- কি আর করবো? ঘুম আসছেনা শুয়ে শুয়ে তোর কথাই ভাবছি | তুই বললি বলে আমি স্বীকার করলাম নাহলে তো তোর যা মুখ ,হয়তো বলে বসতিস আমি তোর প্রেমে পড়েছি |

 আয়ুস হাসতে হাসতে বললো ,

--- প্রশ্নটা আমাকেও ভাবাচ্ছে -- আমি কি সত্যিই তোর প্রেমে পড়েছি ?

---  তোর মাথাটা একদম গেছে | শুধু উল্টোপাল্টা কথা ভাবছিস | ফোন রাখ এখন ঘুমা |

--- আচ্ছা মনে কর আমি যদি তোর প্রেমে পড়ি তাহলে তুই কি আমায় বিয়ে করবি ?

--- তোকে? আমি বিয়ে করবো?তুই যা ঝগড়াটে সারাটাজীবন আমার সাথে ঝগড়া করে কাটাবি |

--- আচ্ছা - প্রেমে পড়লে মানুষের ফিলিংসটা কেমন হয় ?

--- আগে আমি প্রেমে পড়ি কারও তারপর নাহয় জানাবো --- 

 ফোনটা কেটে দেয় ঝিলিক | কিন্তু তারও আয়ুস পড়তে যাওয়ার থেকেই ওর জন্য মনটা খুব খারাপ থাকে | তাইতো মাঝেমধ্যে ওদের বাড়িতে গিয়ে আয়ুসের ঘরে ঢুকে আয়ুসের জিনিসপত্র নিয়ে নাড়াচাড়া করতে ভালোবাসে | আয়ুসের ঘরে ঢুকলেই ওর মনটা কিছুটা সময় হলেও ভালো হয়ে যায় | এসব নিয়ে সেভাবে তো ঝিলিক কোনদিনও ভাবেনি | আজ আয়ুসের বলা কথাগুলো তাকে খুব ভাবাচ্ছে | 

 পাঁচ বছরে পাঁচবার আয়ুস বাড়িতে এসেছে শুধুমাত্র | তাও বেশিদিনের জন্য নয় |আসলে পড়াশুনা হবেনা -- তাই বাবার কড়া হুকুম পাশ করে তো বাড়িতেই ফিরে আসবে তাই এখন ওখানে পড়াশুনাটাই মন দিয়ে করো | 

 কথা প্রতিরাতেই দুজনের হয় কিন্তু গল্পের থেকে ঝগড়াতেই সময় কাটে ওদের | ঝিলিকের পড়াশুনাও শেষ | নানান জায়গায় চাকরির পরীক্ষা দিয়েই চলেছে | হঠাৎ করেই এক আত্মীয়ের বিয়েতে ব্যাঙ্ক ম্যানেজারের মায়ের খুব পছন্দ হয়ে গেলো তাকে | তারা ছেলেকে নিয়ে ঝিলিকদের বাড়িতে আসবেন কথা দিলেন | রাতে সবকথা ঝিলিক আয়ুসকে ফোনে জানালো | প্রথম প্রথম আয়ুস ঝিলিকের বিয়ে নিয়ে বেশ মজা করতো | কিন্তু ঝিলিককে দেখতে আসার দিন যত এগিয়ে আসতে থাকলো আয়ুসও কেমন থম মেরে যেতে লাগলো | 


 --- কি রে আমার বিয়ে হবে শুনে মনেহচ্ছে তুই মোটেই খুশি হোসনি ?

--- তুই খুশি ?

 না কোন উত্তর ঝিলিক সেদিন আয়ুসকে দেয়নি | শুধু ফোনটা কেটে দিয়েছিলো |

 ঝিলিককে দেখে ওরা পছন্দ করে গেলো | এবার ঝিলিকের বাবা , মাকে তাদের বাড়িতে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়ে গেলেন | 

  পাঁচদিন ছুটি থাকায় হুট করে আয়ুস এসে উপস্থিত হয় | কাউকে খবর না দিয়েই সে আসে | ঝিলিক জানতে পেরেই আয়ুসের কাছে ছোটে | সেদিন আয়ুসদের বাড়িতে কেউ ছিলোনা | চাবি ছিল ঝিলিকদের বাড়ি | এটা দুইবাড়ির বরাবরের নিয়ম | কিন্তু আয়ুসকে দেখে ঝিলিক চমকে ওঠে |

--- এই কি হয়েছে তোর ?এরকম লাগছে কেন ?

 আয়ুস নির্লিপ্তের মত জবাব দিলো ,

--- কিছুই হয়নি , দুদিন ট্রেনে জার্নি করেছি তাই এমন লাগছে | আয় ভিতরে আয় |

--- না তুই ফ্রেস হয়ে নে আমি তোর জন্য কিছু খাবার নিয়ে আসি |

 আয়ুস ওর একটা হাত ধরে টেনে নিয়ে ঘরে যেতে যেতে বললো ,

--- আমি এতো দূর থেকে খাবার খেতে আসিনি তোর সাথে আমার কথা আছে |

--- তোর কি হয়েছে? তুই এরকম করছিস কেন ? 

 আয়ুস ততক্ষণে ঝিলিককে দুহাতে নিজের বুকের কাছে টেনে নিয়েছে |

--- আমি তোকে ভালোবাসি ঝিলিক , ভালোবাসি , ভীষণ ভালোবাসি | তুই শুধু আমার | তোর অন্য কোথাও বিয়ে হতে পারেনা | 

--- তুই কি বলছিস এসব ?

--- তুইও আমায় ভালোবাসিস আমি জানি | কিন্তু তুই বুঝতে পারছিসনা বা মুখ ফুটে বলতে পারছিস না আর তার প্রমাণটা আমি এখনি দেবো |

 আয়ুস আস্তে আস্তে ঝিলিকের মুখটা তুলে নিজের মুখটা তার দিকে এগিয়ে নিয়ে যায় | ঝিলিক চোখ বুজে আয়ুসের তপ্ত নিশ্বাস অনুভব করে | নিজের ঠোঁট দুটি দিয়ে ঝিলিকের ঠোঁট দুটি স্পর্শ করে | ঝিলিক তখন ঠকঠক করে কাঁপছে | আয়ুস তাকে বাহুবন্ধন থেকে মুক্ত করে বলে ,

--- তুইও যে আমায় ভালোবাসিস এটাই তার প্রমাণ | যদি আমায় তুই ভালো না বাসতিস তুই আমাকে বাধা দিতিস | কিন্তু তা তুই দিতে পারিসনি | চোখ বুজে আমার আদর খেয়েছিস ---| ভালোবাসি তোকে আমি আর তুই ও আমাকে ---|

 আবারও এগিয়ে গিয়ে ঝিলিককে কাছে টেনে নিয়ে বলে ,

--- তোকে ভালোবাসি বুঝতে অনেক দেরি হয়ে গেছে | তাই তো ছুটতে ছুটতে চলে এলাম তোকে কাছ থেকে কথাটা বলবো বলে | আর দেরি করলে আমি তোকে হারিয়ে ফেলতাম | তুই কিচ্ছু  ভাবিসনা | তোকে এ বাড়ির বৌ করতে কেউ আপত্তি করবেনা | মাকে আমি আজ সব বলবো | 

 --- ঝিলিক চুপচাপ আয়ুসের কথাগুলো শুনছিলো | হঠাৎ দুইহাতে আয়ুসকে জড়িয়ে ধরে বললো ,

--- এবার বুঝতে পারছিস তো প্রেমে পড়লে ফিলিংসটা কি হয় ?

--- দূর পাগলী আমি তো আগেই বুঝেছি | বরং তুইই বুঝতে পারিসনি |

--- অনেক আগেই পেরেছিলাম রে | কিন্তু তুই যে আমায় ভীষণ খ্যাপাস | আমি তো এই বিয়েতে রাজি হয়েছিলাম কারণ আমার দৃঢ় ধারণা ছিল তুই কিছুতেই এ বিয়ে হতে দিবিনা | তাই তো তোকে রোজ রাতে ফোন করে বাড়িয়ে বাড়িয়ে আমার বিয়ের কথা জানাতাম | কথাগুলো শুনে তোর যে রাগ হত সেটাও বুঝতাম | কষ্ট হত আমার কিন্তু মনেমনে খুব হাসতাম |

 আয়ুস ঝিলিকের কোমরটা ধরে এক ঝটকায় তাকে আরো কাছে টেনে নেয় |

--- তবে রে তলে তলে এতো দুষ্ঠু বুদ্ধি তোর --- আর আমার পাগলের মত অবস্থা ---

 ঝিলিক আয়ুসের চুলগুলি কপালের উপর থেকে সরিয়ে দিয়ে বললো ,

--- আমার সাথে ঝগড়া করবি না তো আর ---?

 আয়ুস হাসতে হাসতে বললো ,

--- ভালোবাসা যেখানে ঝগড়াও সেখানে | সারাজীবন তোকে ভালোবাসবো আর ঝগড়া করবো | এবার তো আমায় কিছু খেতে দে -- খুব খিদে পেয়েছে---| তোকে কথাগুলো বলতে পেরে কতদিন পরে বুক ভরে নিঃশ্বাস নিলাম |

 না, কোন বাড়ির থেকেই কোন আপত্তি ওঠেনি ওদের বিয়েতে | আয়ুসের ডাক্তারী পড়া শেষ হয়ে যাওয়ার পর চার হাত তারা এক করে দিয়েছিলেন |


Rate this content
Log in

More bengali story from নন্দা মুখার্জী

Similar bengali story from Drama