Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published
Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published

Maheshwar Maji

Inspirational


3  

Maheshwar Maji

Inspirational


আস্তিক ও নাস্তিক

আস্তিক ও নাস্তিক

4 mins 547 4 mins 547

আজ কাজের ছুটি। সকালে একবার মন্দির গিয়েছিলাম। দর্শণ সেরে বাড়ি ফিরছি। তখনি একটি যুবক পিছন থেকে ডাক দিল,কেমন আছেন কাকু?

আমি ঘুরে তার দিকে চাইলাম।চব্বিশ,পঁচিশ বছর বয়স। চিনতে পারলাম না। বুঝতে পেরে যুবকটিই পরিচয় দিল, চিনতে পারলেন না তো?আমি বর্ধন।আপনার কাছে মাধ্যমিক পরীক্ষার সময় টিউশানি পড়েছি।মৈনাকবাবুর ছেলে।

এবার আমি চিনতে পারলাম। তাই ভ্রূ তুলে বলে উঠলাম,আরে ব্বাস এযে দেখছি তুমি অনেক বড় হয়ে গেছ! আমাকে ডিঙিয়ে ফেলেছ! মুখকাল তো চেনাই যায় না।..খুব ভাল। তা কী করছো এখন?

---এম.এ টা শেষ করে চাকরির জন্য চেষ্টা করছি। চারিদিকে যা পরিস্থিতি তাতে কোন আশা তো দেখছি না।

---আরে নিরাশ হও না। চেষ্টা চালিয়ে যাও। একদিন হবেই।

---কাকু একটা কথা জিজ্ঞাসা করবো আপনাকে? যদি কিছু মনে না করেন,তবেই।

---বলো। বলে ফেলো। আমি কারু কথাতেই তেমন কিছু মনে করি না।

---বলছি আপনি তো খুব ঠাকুর ভক্ত।ঈশ্বরে আপনার অগাধ বিশ্বাস। ঈশ্বর কৃপায় আপনি সুখ পেয়েছেন। কত লোক আপনার মতো সুখী হওয়ার তাগিদে ঈশ্বরকে ডাকছেন। হরিকীর্তণ গেয়ে বেড়াচ্ছেন। আপনি আপনার ঈশ্বরকে একটু অনুরোধ করুন না যদি আমার একটা চাকরি,বাকরি জোগাড় করে দেন। বড় উপকার হয় কাকু।

কথাটা শুনে আমি অল্প হাসলাম। তারপর বর্ধনের দিকে চেয়ে বলে উঠলাম, তুমি ঈশ্বরের স্বরূপকে চেনো না বর্ধন। শুধু লোক মুখে ঈশ্বর মহিমার কথা শুনেছ। তাই এরকম কথা বলছো।আসল কথা হল, ঈশ্বর কাউকে কিছু পাইয়ে দেন না। শুধু মানুষ নয় এই পৃথিবীর প্রতিটা জীব যা কিছু পায় নিজের চেষ্টার ফলে পায়। সে ব্যাপারে ঈশ্বরের কোন হাত থাকেনা।

বর্ধন নকল বিষ্ময়ের ভাব তুলে বলে উঠল, বলেন কি কাকু!..সত্যিই মানুষের চাওয়া, পাওয়াই তার কোন হাত নেই?

---এটা আমি মানি।

---তাহলে আপনি মন্দির, ভগবান কেন করে বেড়ান?

কথাটা শুনে আমি আবার অল্প হাসলাম।

---কেন করি জানতে চাও?

---অবশ্যই।

---সুখ আর শান্তির খোঁজ পাওয়ার তরে।

---সে তো ঈশ্বরে বিশ্বাস না করেও পাওয়া যায়। বলতে গেলে ঈশ্বর না বরং বিজ্ঞানই মানুষকে সভ্যতার আদিলগ্ন থেকে সুখ আর শান্তি দিয়ে আসছে।

---এটা অবশ্যই তর্কের বিষয়। মানুষ সুখ তার পছন্দ মত বেছে নেয়। নির্জনে কেউ পাগল হয়ে যায়। আবার কেউ কেবলজ্ঞান অর্জন করে। কেউ জলে ডুবে মারা যায়, তো কেউ সাঁতার কেটে সোনার মেডেল জেতে। পরিস্থিতিকে অনুকূল করার নামই ভাগ্য।

তোমায় ছোট্ট একটা গল্পের মাধ্যমে নাস্তিক এবং আস্তিকের মধ্যে পার্থক্যটুকু বুঝিয়ে বলছি, শোন।

একবার দুজন যুবক স্থির করল, তারা আকাশ থেকে ঝাঁপ দেবে। এটা এক ধরণের খেলা। আজকাল খুব জনপ্রিয়।

সেইমতো তাদের দুজনকে প্লেনে চাপিয়ে দূর আকাশে নিয়ে যাওয়া হল। সে প্রায় ভূমি থেকে তিন হাজার মিটার ওপরে।তাদের পায়ের নিচে মেঘ ভাসছে।তারপর সেখান থেকে দুজনকেই ছেড়ে দেওয়া হল।


একসাথে এবং পাশাপাশি তারা শূণ্য থেকে মাটির অভিমুখে পড়ছে।সেই দুজন যুবকের মধ্যে একজন ছিল ঈশ্বরবিশ্বাসী অন্যজন বস্তুবিশ্বাসী।দ্বিতীয় যুবকটি বস্তুর কার্যকারণে শুধুমাত্র বিশ্বাস রাখে। এর বাইরে সে কিছু মানে না।

তারা হাজার ফুট নিচে অবতরণ পর প্যারাস্যুটের সুইচ অন করল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেটা দুজনের কারু খুলল না। অনেকরকম চেষ্টা করে দেখল। তবু তা খুলল না। দুজনই শূণ্য থেকে তিরের বেগে মাটির অভিমুখে নেমে যাচ্ছে।

সেই অবস্থায় নাস্তিক যুবকটি প্রচন্ড ভয় পেয়ে গেল। নিজের আসন্ন মৃত্যুর কথা ভেবে। সে জানে মৃত্যু তার অবধারিত।এতদূর থেকে সে যদি তুলোর গদিতেও পড়ে। তবু বাঁচার আশা নেই। একবার ভাবল,নিশ্চয়ই এটা শালা ট্রেনারের দুষ্টুচাল। সে ইচ্ছে করে তাকে মারার জন্য এরকম করে রেখেছে। তখনি তার মনে পড়ে গেল। নিজের ভাই এর কথা।ভাইটি সমস্ত সম্পত্তির অর্ধেক দাবী তুলে কোর্টে কেস ঠুকেছিল। যেহেতু ব্যাবসাটা তাদের বাবা দাঁড় করিয়েছিলেন। সেহেতু বাবার মৃত্যুর পর সমস্ত সম্পত্তি দুই ছেলের মধ্যে সমানভাবে ভাগ হওয়ার কথা। সে বাবার বড় ছেলে। তার বাবা বয়সকালে তাই বড় ছেলেকেই নিজের চেয়ারে বসিয়ে গেছিলেন। ছোটছেলে তখন অন্যদেশে পড়াশুনো করছিল। এই তালে সে সম্পত্তির সিংহভাগ বাগানোর প্ল্যান করছিল।

এখন যুবকটি পরিস্কার বুঝতে পারছে, তাঁকে এই মৃত্যুফাঁদে ফেলানোর সমস্ত পরিকল্পনা তার ছোট ভাই টির। নিশ্চয়ই সে কয়েক মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে ট্রেনারের সততাকে কিনে নিয়েছে। তাকে এইভাবে মেরে ফেলার জন্য। কারণ সে মরে যাওয়ার পর সমস্ত সম্পত্তির মালিক তার ভাই একা হবে। পরক্ষণে আবার চিন্তা করতে লাগল,সে ঠিক কেমনভাবে মারা যাবে? সেই বীভৎস কল্পনা করতে, করতে এক সময় তার হার্ট অ্যাটাক চলে এলো। হৃৎপিন্ড বন্ধ।সে তখন মারা গেল।


ওদিকে ঈশ্বর বিশ্বাসী যুবকটি তার আসন্ন মৃত্যুকালে ভাবছে, হে ঈশ্বর আপনি সত্যিই করুণাময়। আমার বড় সাধ ছিল, জীবনে একবার আকাশ থেকে ঝাঁপ দেওয়ার। সেই সুযোগ রচনা করে দেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক,অনেক ধন্যবাদ। আপনি আপনার রচিত এই সুন্দর পৃথিবীতে অতগুলো বছর সুখে, শান্তিতে থাকতে দিলেন। তারজন্য আপনাকে শতকোটি প্রণাম। মৃত্যুর আগে জীবনের এমন সৌন্দর্য উপভোগ করানোর জন্য আরো একবার ধন্যবাদ জানাচ্ছি। ভাগ্যিস আমি আমার সমস্ত সম্পত্তি আমার অবর্তমানে অনাথ আশ্রমে ডোনেট হয়ে যাওয়ার অঙ্গিকারপত্রে সাইন করে রেখেছিলাম। তাই আজ আর কোন আক্ষেপ নেই। শুধুমাত্র আমার প্রমিকাকে আপনি শক্তি দেবেন ঈশ্বর। সে যেন ভেঙে না পড়ে। আমি জানি সে হারবে না। কারণ আপনার প্রতি বিশ্বাস তার মনেও আছে। সে জানে আপনি যা কিছু করেন, কালের নিয়ম মত করেন।এর উপর কারো কোন বাঁধা খাঁটে না।

আহা...মৃত্যু তুমি বরণ করো আমায়। এই শেষ সুযোগ ভগবানের নাম নিয়ে মৃত্যুকে সার্থক করে তোলার।

  ভূমি স্পর্শ করার দুশো মিটার আগেই হঠাৎ সেই প্যারাসুটদুটো তাদের খুলে গেল।


ঈশ্বরবিশ্বাসী মানুষটি বেঁচে গেল।কিন্তু বাস্তুবাদী মানুষটির মৃত্যু হয়ে গেছে। বলো এরজন্য দায়ী কে?

এটাই হল প্রকৃত আস্তিক এবং নাস্তিকের মধ্যে পার্থক্য।

ঈশ্বর মানে শুভ চিন্তন। ঈশ্বর মানে একটা ধনাত্মক ইচ্ছাশক্তি। আমরা তাকে কখনো বিগ্রহে প্রত্যক্ষ করি কখনো মহাশূণ্যে। কেউ যদি সৎভাবে কিছু করার মনস্থির করে, ঈশ্বরশক্তি তার সহায়ক হয় মাত্র।

এটাই হল ঈশ্বর। তারবেশি কিছু ভেবো না। এর বেশি ঈশ্বরও কিছু করেন না।


Rate this content
Log in

More bengali story from Maheshwar Maji

Similar bengali story from Inspirational