খেলাঘর বাঁধতে লেগেছি
খেলাঘর বাঁধতে লেগেছি
মনের মাঝে সযত্নে আমি বেঁধেছি যে মর্মকুটির,
সে কি শুধুই আমার মানব জীবনের খেলাঘর!
বড় সাধ করে রেখেছি আমি আমার অন্তর,
গোলকধাঁধায় রাখা অন্তরের ভিতরে অন্তর।
যখন হৃদয়ের রাজ্যে কান পেতে বুকের কথা শুনি
সেথায় পাই শুধু প্রতিনিয়ত হাপরের ধুকধুক ধ্বনি,
মর্মে মর্মে ডুকরে কেঁদে ওঠে আত্মার আধার।
মনে হয় আত্মা প্রশ্ন করে তুমি হতে চাও কার?
হৃদয়ের স্তম্ভ কাঁপে, কাঁপে আমার নড়বড়ে ভিত
আশংকার দোলাচলে হারায় সেই সোনালি অতীত,
ভেঙে-চুরে ঝড়ে হারিয়ে গেল সব মিথ্যে আশ্বাস।
কোথায় লুকাবো আজ এই হৃদয়ের দীর্ঘশ্বাস?
অন্তরের আন্দোলিত হয় মরুভূমির মত হাহাকার,
থেকে থেকে তাই বাঁচার জন্য বিদ্রোহ চিৎকার!
সব যেন আজ মবে হয় শুধুই নিস্ফল—নিস্প্রাণ,
আজ তবে এই পেলাম, ভালবাসার অভিজ্ঞান!
ভেঙে গিয়ে, ক্ষয়ে গিয়ে আর নষ্ট হতে চাইনা
শুধু বলে যাই , আমার বঞ্চিত মনের যাতনা
কোথায় হবে আমার এই কষ্টেরা আড়াল?
সেই পথে ছিন্ন করি আমি তোমার মায়াজাল।
আমার হাতে থাকুক নাহয় কষ্টের নীলগোলাপ।
নীরবে হেঁটে যাও, হাতে নিয়ে ফুটন্ত লালগোলাপ
যেতে যেতে অন্যপথে তুমি চলে যাও বহুদূর….
আকাশের ওপারে তোমার লক্ষ্যে পৌঁছানোর পর,
ভেঙে এই খেলাঘর সাজাও তুমি আপন বাসর।
আমার সব জীর্ণতা তোমার দুহাতে দিয়ে কবর,
আমায় ভুলে তুমি অন্য কারোর সঙ্গে বেঁধো ঘর!

