ছুটির ঘন্টা
ছুটির ঘন্টা
পিছনে পূবালী ভোর ; সামনে বড় দালান,
এসে গেছি হর্ষ নিতে জীবনের মরণের ,
কে যেন বলল ' ওরে এই তোর স্থান ' ;
দেখলাম স্কুল ; চারিদিকে ফুল ; নানা ধরণের ।
হাতে হাত রেখে কেউ বলল আমায় ;
সামনে বিশাল মাঠ যত খুশি খেল ,
দেহে মনে উল্লাস - ছেঁড়া ফাটা জামায় ;
বাধা নেই ; এখানেই চোখ দু'টি মেল ।
চেয়ে দেখি মাঠ নয় ; মরণ উপত্যকা ;
ফোকলা মুখে আছে চেয়ে ; মনে ধূ ধূ খালি,
একটি ঘন্টা বাজে ; যায় না তা' রোখা ;
দলের দামাল ছেলে বাগানের মালি ।
ঘন্টার একটি ধ্বণি - স্কুল যায় বসে ;
দুই, তিন, চার, পাঁচ, ছয়ে হাতে ধরে,
ঢঙ ঢঙ রব তার অনর্গল বার ,
ছুটির ঘন্টা ভালো লাগে ; কানের কুহরে ;
যদি সে ঘন্টা বলে ' তুইতো আমার ' ।
এসে গেছি ক্লাসরুমে কত অনিয়ম ;
ব্ল্যাকবোর্ডে সাদা চক , ডাস্টার টেবিলে,
এই যাহ্ ! লেখা যে তা'তে ঈশ্বরই যম ;
দেয়ালে টাঙানো ছবি ; কি যাতনা দিলে !
আমি বলি -'এর চেয়ে ঢের ভালো বন'' ;
যেথা হতে এসেছিলে তুমি বনমালী,
ছিল না দেয়াল সেথা - নিয়ম নিগম ;
ব্যত্যয় ঘটেনি হেথা কখনো চুণকালী ।
ঘন্টার নিগড়ে বাঁধা জীবন মরণ ;
ছুটির ঘন্টা যদি বাজে একবার ,
লহমায় স্তব্ধ হয় সব ব্যাকরণ ;
মুহুর্তের মাঝে হারায় সব অধিকার।
