বিধি নিষেধকবিতা রক্ষিত
বিধি নিষেধকবিতা রক্ষিত
ও নারী শুনছ
তুমি শার্ট, প্যান্ট পরেছ!
এ পোশাক তো তোমার নয় নারী
এ তো পুরুষের।
তুমি শাড়ী পরো
যা তোমায় মানাবে
তবে পেট, বুক, নাভী ঢেকে
সামলে সুমলে নারী, দেখা যেন না যায়।
ও নারী তুমি তো বিবাহিতা
ঘোমটা কই, ঘোমটা দাও, মাথা ঢাকো
ছিঃ ঘোমটা ছাড়া মানায় নাকি,
তুমি তো বউ
ওহে নারী, শাখা, সিঁদুর কই তোমার
ওগুলো তো বিবাহের লক্ষণ
তোমার ওগুলোই তো অলঙ্কার
খুলে ফেললে চলবে কেন?
তাহলে তো অমঙ্গল
তুমি কী চাও স্বামীর অমঙ্গল?
এক হাতে শাখা কেন? এক কানে দুল?
এক হাতে চুড়ি? সবই অমঙ্গলের চিহ্ন
এভাবে কেউ স্বামীর অমঙ্গল ডাকে?
ও নারী তুমি চাকরী করো?
ছিঃ ছিঃ ছিঃ ঘর সামলাবে কে?
আর সন্তান?
সব তো তোমাকেই সামলাতে হবে।
বাড়ীর কাজ? স্বামীর সেবা শুশ্রূষা?
কে করবে বলো দেখি
এটা ঠিক হচ্ছে না নারী।
তুমি ভ্রমণে একা বেরিয়েছ?
ওহো তোমায় নিয়ে আর পারা যায় না
পথে ঘাটে বিপদ লুকিয়ে আছে,
পুরুষসঙ্গী কোথায়?
একা বেরিয়ে পড়লে?
ছিঃ ছিঃ নারী, তুমি একজন অসতী নারী
ছিঃ নারী তুমি নোংরা হয়েছ?
ঋতুস্রাব নিয়ে মন্দিরে প্রবেশ করলে?
ছিঃ ছিঃ সব গেল, সব গেল
মাথা ঢাকা কোথায়?
মন্দিরে ঢুকেছ যে বড়
তুমি কী পুরুষ যে মাথা আঢাকা দিয়ে ঢুকবে, তুমি নারী,
বুঝেছো হে নারী, তুমি নারী।
তুমি মানুষ নও, তুমি পায়ের যোগ্য নও
তুমি নখের যোগ্য নও নারী
তুমি প্রতিযোগীতা করতে এসো না
আমাদের সাথে, আমরা যে পুরুষ।
তোমার স্থান ঘরে, সন্তান হবার যন্ত্র তুমি
অলিতে, গলিতে, পাহাড়ে, জঙ্গলে
যেও না, একবার সতীত্ব গেলে,
আর চরিত্র গেলে
তোমায় একঘরে করা হবে,
সেটা তুমি জানো, ভালভাবেই জানো।
তোমার জন্য বাইরের পৃথিবীটা নয়,
আকাশ নয়, বাতাস নয়, মহাকাশ নয়
তোমার স্থান ঘরে।
হ্যা নারী তোমার স্থান ঘরে।
