Quotes New

Audio

Forum

Read

Contests

Language


Write

Sign in
Wohoo!,
Dear user,
টেলিফোন
টেলিফোন
★★★★★

© AYAN DEY

Drama Tragedy

6 Minutes   1.3K    77


Content Ranking

ষাটোর্ধ্ব মিস্টার রণদেব সাহার জীবন অনেকটা সেইরকম বিদেশী ডিসগুলোর মতো যার নাম এবং দাম দুই খুব হাইফাই কিন্তু টেস্টে তার থেকে চিড়েতার জল ঢেড় ভালো । একাধারে ইঞ্জিনিয়ার রণদেব বাবু একটি নামী কোম্পানি থেকে রিটায়ারমেন্টের পর এখন সম্পূর্ণ একা । ২০-৩০ বছরের মধ্যে প্রায় শতাধিকবার ভেবেছেন বই লিখবেন । কবিতা , গল্প আর উপন্যাসের সংখ্যা তাঁর কাছে প্রচুর কিন্তু নিজেরগুলোকে এখনো ছাপা কালিতে কাগজের গন্ধে মেলাতে পারেন নি । এছাড়াও ৪০ এর উর্ধ্বে ভেবেছেন অনেক তো চাকরি হলো এবার একটু ফিল্ম করলে কেমন হয় ? কিন্তু ওই কেমন হয় অবধি , নানা দায়বদ্ধতার মধ্যে এসবের কোনোকিছুই করে ওঠা হয়নি । তবে এতদসত্ত্বেও জীবনে তাঁর চাকচিক্যের অভাব হয়নি । প্রচুর টাকা করেছেন , বাড়ি গাড়ি ইত্যাদি যা কিছু স্ট্যাটাসের জন্য লাগে তার সবই তিনি করেছেন । তিনি যে কম্প্লেক্সে থাকেন সেখানে তাঁর আলাদাই সম্মান । আজও কোম্পানি তাঁকে কোনো স্পেশাল কাজে বা অকেশনে ডেকে পাঠায় । কোম্পানির একটা রিজিয়নের ডেলিভারি হেড হয়ে রিটায়ারমেন্ট কি কম কিছু ! কিন্তু কি তিনি এত ভিড়ের মাঝেও একা । বিবাহ করেন নি । কমবার তাঁর জন্য সম্বন্ধ ঠিক হয়নি । একবার তো তাঁকে ঘুম থেকে টেনে তুলে গায়ে হলুদ করে দেওয়া হয়েছিলো । সন্ধ্যেবেলা বিয়ের ঠিক আগে দড়ি বেয়ে বাড়ি থেকে পালিয়েছিলেন শটান দার্জিলিং । তবে এই মানুষটার জীবনে কি নারী আসেই নি ?

ব্যালকনিতে বসে রবিবার ঘুম থেকে উঠে লিকার চা পান করছিলেন । কাজের লোক তিনি রাখেননি । ঘর নিজেই সাফ করেন , খাবার নিজেই বানান । কখনো কখনো মহিমকে নিমন্ত্রণ করেন বৌ- ছেলে সমেত । পাশের ফ্ল্যাটে আজ দশ বছর বাস করছেন স্ত্রী ও এক ছেলে নিয়ে শ্রী মহিম দাস । মহিমকে নিজের ভাইয়ের মতই দেখেন তিনি । তো সেদিন সকালে ঘটলো এক অবিশ্বাস্য ঘটনা । ফোন বেজে উঠতে চায়ের কাপটা চেয়ারে রেখে রিসিভার তুলে হ্যালো বলতেই ওপার থেকে যে কন্ঠস্বর ভেসে এলো তাতে গায়ে শিহরণ খেলে গেলো ।

তিনি বললেন , " কে কে কথা বলছেন ? "

উত্তর এলো , " আমি শ্রী তোমার সুপুরি । "

পায়ের তলাটায় আদৌ মাটি আছে কি না তাঁর সন্দেহ হলো ! মনে হলো তাঁর শরীরে কোনো জোর নেই । গলার কাছে একটা কঠিন কিছু যেন আটকে গেছে । নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করলেন ও গলাটা একবার খাঁকিয়ে বললেন , " বল , কী খবর , এতদিন পর কী ভেবে ? আমার বাড়ির নম্বর পেলি কী করে ? "

" সে অনেক কথা , তার আগে বলো , তুমি কেমন আছো ? "

" আছি ভালোই , এই গেল বছর অবসর নিলাম । "

" আচ্ছা , তা লেখালেখি করো এখনও ? "

" সে তো করি রে । আজও স্বপ্ন দেখি সৃজিতের সাথে একটা সিনেমা করবো আমার গল্প দিয়ে , অরিজিতকে একটা গান গাওয়াবো আমার লেখা আর প্রীতমের সুর । কিন্তু সবটাই স্বপ্ন হয়েই থেকে গেলো । সৃজিতেরও বয়স হলো , অরিজিত এখন অতটা গায় না । তোর কী খবর বল ? "

" আমার খবর , হুম , সে আর কী বলবো ! আমার পাগলামি সম্পর্কে তুমি বেশ ভালোই অবগত । হয়তো ওই পাগলামির জন্য সংসারটা হলো না ... যাক ছাড়ো ওসব দুঃখের কথা । তুমি একটা বইও তো বের করলে না ! আমার আজকে তোমায় ফোনের উদ্দেশ্য কিন্তু খানিকটা সেইজন্যই । "

" বুঝলাম না ঠিক , সেইজন্য বলতে ? "

" আমি আপাততো একটি প্রকাশনী খুলেছি । আমার স্বামীর দুঃসম্পর্কের দাদা তোমাদের ওই মহিম দাস । আমার ডাইভোর্স সত্ত্বেও মহিম দার সাথে আমার যোগাযোগ ছিলো । দাদা তার শান্ত কুটিরে আমার মতো বেহায়াকে মেনে নেয় নি, যে বৌদির সাথে দাদার বিয়ের আগে অবধি আমার দারুণ সম্পর্ক ছিলো ইভেন আমার বিয়ের আগে অবধি , সে পর্যন্ত কথায় ইঙ্গিতে আমায় বুঝিয়ে দিল আমার নিজের বাড়ি ফেরত আসা উচিত হয়নি । তোমার মনে আছে আমায় বাঁদর বললে কেউ তোমার খুব রাগ হতো ? "

" হ্যাঁ সে তো মনে থাকবেই , তুই আবার ওটাই পছন্দ করতিস । নীলের সাথে বহুদ্দিন যোগাযোগ নেই । ফেসবুক আর ব্যবহারই হয় না । তাই কিচ্ছু জানিনা এসব ঘটনার । "

" হুম তো সেই দাদা আমায় বললো যে নিজের বাঁদরাপনার জন্য আমি সংসার ভেঙ্গেছি । মা বাবাও সাপোর্ট করলো । "

" তুই তো সাইকোলজি নিয়ে পড়ছিলি ? "

" অনার্স ভালো মতো পাশ করে এম্.এস্.সি

পড়াকালীন প্রবীরের সাথে আলাপ । প্রেমটা আমি কোনোদিনই চাইনি কিন্তু এক্ষেত্রে কি হলো প্রবীর নিজে আমার অজান্তে আমার বাড়ি এসে বাবা মাকে সব জানালো ও বিয়ের কথা বললো । ব্যাস তোরজোর শুরু হলো । এম্.এস্.সি পাশের পরই বিয়ে হয়ে গেলো । প্রবীর কিন্তু আমায় মানা করেনি চাকরি করতে । ভুলটা করলাম আমি । চাকরির অফারগুলো পায়ে ঠেলে সংসারে ঢুকে পড়লাম । ঠিক একবছর পর প্রবীরের চাকরি গেলো আর তারপর থেকে আমার জীবনটা আমূল বদলে গেলো । যেভাবে হোক বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে আসার জন্য জোর হলো , অত্যাচার হলো শারীরিক , মানসিক । খেতে পর্যন্ত পেতাম না । সব সহ্য করছিলাম কিন্তু একদিন যখন টাকার জন্য নিজের বন্ধুর সাথে আমায় মিশতে বললো তখন আর পারলাম না লহমায় বাঁধন কেটে বেরিয়ে এলাম । শুধু মহিম দাই আমার সব বিষয়ে পাশে থেকেছিলো । "

অঝর ধারায় কাঁদছিলেন রণদেব বাবু । চোখ মুছে বেদনার সুরেই বললেন , " তা এই প্রকাশনীর ব্যাপারে কি যেন , কি যেন বলবি বলবি করছিলি ? "

" মহিম দার নিজস্ব প্রেস আছে আমায় সেখানে কাজ দিয়েছিলো ম্যানেজারের । আমি একদিন তাকে বলি নতুন লেখকদের প্ল্যাটফর্ম দিতে যদি আমরা বই প্রকাশ করি তাদের ... মহিম দা বললো , " এ তো অতি উত্তম প্রস্তাব । " ব্যস খুলে ফেললাম শ্রী প্রকাশনী । "

" তো আমার এখানে কি পাঠ ? "

" তোমার সব প্রেমের কবিতাগুলো আমায় দিতে হবে । সেই তোমার পেজটায় যে যে কবিতা লিখতে প্রেমের সব চাই । "

" তো হঠাৎ আমার বই ছাপবি কেন ? "

" কারণ তোমার চেয়ে প্রেমের কবিতা কেউ ভালো লেখে না এখন । "

" তোকে কি তবে মহিম আমার নম্বর দিয়েছে ? "

" অমন উকিলি জেরা করছো কেনো ? মানছি তোমার বিশাল অভিমান জমে । সেদিন একটা লেখা নিয়ে এসেছিলো মহিম দা । বলেছিলো , " আমাদের পাশের ফ্ল্যাটে একজন দারুণ লেখেন । এটা তাঁর প্রেমিকাকে উদ্দেশ্য করে লেখা , দেখ প্রতি লাইনের শুরুর অক্ষর মেলালে তার নাম হয় । তোর নামের সাথে মিলছে বলে ভাবলাম এটা প্রকাশ করবি তুই । কবিতাটা শুনবে ? "

ভরা রোদেলা সকালেও মনে হলো তাঁর আকাশে বজ্রপাত হচ্ছে । মনের সমুদ্রে তোলপাড় হচ্ছে । পাড়ের বড়ো বড়ো গাছগুলো জোরে জোরে দুলছে । দেওয়ালে নিজের সাথে শরীরকে ধাক্কা দিলেন । আপনাআপনি সেই লাইনগুলো বেরিয়ে এলো ,

“She is like a gentle breeze ,

Hiding behind my bushes of emotions .

Riding on her chariot of beauty I

Establish a house of hope with glowing future

Engaging my every moment with her...only her ! “

" আমি এতটাই বোকা আকাট মূর্খ যে তোমার তখনের লেখা থেকে বুঝেও উঠতে পারিনি যদিও নামটা কাফি ছিলো সব বোঝার জন্য , ফার্স্ট লেটার | কী আপসোস হয় আজ ! "

এবার আর কথা বলতে পারলেন না । দুইপাশ থেকে কান্না ছাড়া আর কিছু শোনা গেলো না । শ্রী একবার কান্নার মধ্যেই বলে উঠলো ," দেবে তো তোমার সবকটা প্রেমের কবিতা আমায় ? তোমার ভালোবাসা পাওয়ার যোগ্য আমি নই , ভালোবাসার লেখাগুলোতে নিজেকে ভাসাতে তো পারি ? "

" দেবো ক্ষেপি দেবো । শুধু কবিতা নয় এবার আমার সঞ্চয়ের সবটুকু প্রেমে তোকে ভরিয়ে ... " আর বলতে পারলেন না রণদেব বাবু । ফোন রেখে অঝরে কাঁদতে বসলেন । ওদিকে মহিম দরজা ধাক্কাচ্ছে শুনে দরজা খুলে দিলেন । মহিম বললেন , " কথা হলো শ্রীয়ের সাথে ? "

একটা থাপ্পর মারার ভঙ্গি করে জড়িয়ে নিলেন মহিমকে । মহিম বললেন সন্ধ্যেবেলা শ্রী কে নিয়ে আসবেন ।

সন্ধ্যেবেলা শ্রী এলো । পুরোনো অনেক কথা , মান অভিমানের পালার পর রণদেব তাঁর পুরো একটা কবিতার খাতা তুলে দিলেন । শ্রী উঠে ফিরে যাচ্ছিলো রণদেব তার হাতটা ধরে বললেন , " এই বুড়ো খাঁচায় পাখিটা কি আজ ধরা দেবে ? "

পিছন ফিরে গলায় জড়িয়ে কেঁদে উঠলো শ্রী , বললো " পাখির যে একা ওড়ার ক্ষমতা তো ছিলই না কোনোদিন , ও তো ভীতুর ডিম । শুধু বাকি পাখিদের দেখে সে ডানা মেলে দিতো । এবার যে তাকে ধরা দিতেই হবে । "

দূরে দাঁড়িয়ে মহিম কোমরে হাত দিয়ে হাসতে লাগলো ও একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো ।

bengali story storymirror drama tragedy letters love

Rate the content


Originality
Flow
Language
Cover design

Comments

Post

Some text some message..