বিসর্জন
বিসর্জন
চলুন ,আপনাদের আমার মনের মানুষ এর সাথে পরিচয় করাই। ওইযে ওই কেশবচন্দ্র ফ্ল্যাট এর 3rd ফ্লোর ।এখুনি বেরোবে আরে ওই, ওই মেয়টা আরে চুড়িদার পরে খোলা চুল হাতে ব্যাগ , ওর কথা বলছি । ও এখন হেঁটে পাঁচ মাথার মোড়ে যাবে ।ওখান থেকে বাস ।বাস থেকে নেমে অটো করে ওর অফিস যাবে। ওকে দেখে বুজবেন না ওর কষ্ট টা ।জানেন ও একসময় ভালো নৃত্যশিল্পী ছিল। বড় বড় পুরস্কার লাভ করেছে কিন্তু এক নোংরা প্রস্তাবে রাজি না হবার অপরাধে ওর ক্যারিয়ার টা শেষ হয়ে যায় ।কিন্তু ওর মনের মধ্যে এখনও শিল্পী সত্তাটা আছে। হঠাৎ আনমনে নাচের তাল দিলে ওর মা বলে "আহ্ কি হলো কি করছিস তুই" ।তখনই ও থেমে যায়।কিন্তু ও নিজের পরিবারের কথা ভেবে এখন একটা অফিস এ কাজ করছে।দেখেছেন ওর কথা বলতে বলতে সন্ধ্যা হয়ে গেলো ও এখন বাবার ওষুধ কিনে বাড়ি যাবে।
ওই দেখছেন দোকানটার পাশে দাঁড়িয়ে বড় বড় চুল ওলা ছেলেটি ওহ ওইযে চশমা পরে যে, হ্যাঁ হ্যাঁ ওর কথাই বলছি ওর নাম সুজয় চক্রবর্ত্তী একসময় খুব ভালো ড্রয়িং করতো, করতো কেন বলছি এখনও করে । ও এখন ড্রয়িং শেখায় আর একটা সংস্থা তে কাজ করেন লোগো বানানোর কাজ বাড়ির চাপে হয়তো এইগুলো ছেড়ে দেবে কদিনের মধ্যে কিন্তু ও মেনে নিয়েছে।
এখন ওই পান এর দোকানে বসে গল্প করবে। আরেকটা কথা বলি পানের দোকানে মালিক রহিম তো অসাধারন জিবনাস্টিক করতো কিন্তু কপালে না থাকলে যা হয় আর কি, টাকার অভাবে চালিয়ে যেতে পারলো না ছেলেটা। তার ওপর সমাজ, কানের কাছে বলতে লাগলো -কি করবি ওইসব করে তারচেয়ে মাঠে খাট কাজ দেবে। সমাজ দমিয়ে দিলো তার প্রতিভাকে। এখন পান এর দোকান খুলেছে ।
এই প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলছি আর মধুমিতা দিদির কথা বলবোনা তা হয়না। দুর সম্পর্কের আত্মীয় হয় আমার। এই একজন কে আমি দেখেছিলাম যার কণ্ঠে সত্যি যাদু আছে কিন্তু সংসার,
সন্তান এর প্রতি কর্তব্য করতে করতে নিজের যে একটা প্রতিভা আছে সেটা সে ভুলেই গেলো ।এছাড়া শশুর বাড়িতে বৌমার গান গাওয়াটা ঠিক মেনেওও নেইনি। কোনদিন হারিয়ে ফেললো তার প্রতিভাকে সে নিজেই জানেনা।
আমাদের পাশের মানুষটাই হয়তো বড় মাপের প্রতিভাধর । সুযোগের অভাবে বা পরিস্থিতির জন্য হারিরে যাচ্ছে তারা।এইভাবে হচ্ছে হাজারো প্রতিভার ' বিসর্জন'।
