AYAN DEY

Drama Romance


3  

AYAN DEY

Drama Romance


তুমি কি কেবলই ছবি?

তুমি কি কেবলই ছবি?

3 mins 10.1K 3 mins 10.1K

অর্পণ বিশ্বাস বর্তমানে বেশ বড়মাপের চিত্রকর | সবরকমের ছবি এঁকে প্রদর্শনীতে পাঠিয়ে অর্পণের নাম গুণীমহলে ছড়িয়েও পড়েছে | একবার সে " বিউটি এন্ড নেচার " এই থিমের উপর ছবি আঁকতে আঁকতে একটি মেয়ের ছবি এঁকে ফেললো | ছবিতে দেখা যাচ্ছে এক অপরূপ সুন্দরী মেয়ে বনের একটি বড়ো গাছের ডাল টেনে আপনমনে আকাশপানে চেয়ে আছে | ছবি শেষ হওয়ার পর অর্পণের নিজের তাক লেগে গেলো | কে এই মেয়ে ? কি অপরূপ রূপা ! চোখগুলোয় শীতল ছোঁয়া | সে তো চেনে না তাকে | প্রদর্শনীতে ওই ছবিটিই সব চেয়ে বেশি প্রশংসিত হলো |

শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতীতে সেই ছবি প্রদর্শনীতে থাকাকালীন অর্পণ সেখানে উপস্থিত ছিল | পাঁচদিন ব্যাপী চলা প্রদর্শনীর দ্বিতীয়দিনে একটি মেয়ে তার সঙ্গে দেখা করতে এলো | দেখা করার আগে লোকের মুখে তার চেহারার বিবরণে সে চমকে উঠলো | সঙ্গে সঙ্গে সে তাকে ভিতরের ঘরে নিয়ে আসার কথা বললো | সামনে আসতেই চেয়ার ছেড়ে সে তড়াক করে উঠে দাঁড়ালো | এও কি সম্ভব? মনে মনে প্রশ্ন করতে লাগলো নিজেকে | এতো তার ছবির মেয়ে | মেয়েটি কোনোদিকে না তাকিয়েই আগেই তাকে প্রশ্নবানে জর্জরিত করে তুললো | সেও দেখলো অর্পণকে আগে কখনো দেখেনি ও তাতে আরো অবাক হলো এবং নতুন কিছু প্রশ্ন যুক্ত হলো | মেয়েটি বললো ," একটি মেয়ের আড়ালে ছবি তুলে তার ছবি এঁকে শিল্পী হচ্ছেন? লজ্জা করেনা? "

অর্পণ বললো ," দেখুন আপনাকে আগেও বলেছি এইটা নিছক আমি কল্পনায় ভেবে এঁকেছি আর তাতে ঘটনাচক্রে আপনার চেহারা চলে এসেছে | "

মেয়েটি বললো ," সে কী করে হয় ? "

অর্পণ বললো ," আচ্ছা দাঁড়ান | সিতাই , গনেশ একবার এসো তো এদিকে | সিতাই আমার বাল্যজীবনের সঙ্গী আর গনেশ এই গ্রামেরই ছেলে | এইতো সিতাই আচ্ছা বলতো এর আগে কোনোদিন আমি এখানে এসেছি ? গনেশ তুমিতো স্টেশন মাস্টারের অ্যাসিস্ট্যান্ট তুমি কি দেখেছো এইখানে আমায় কোনোদিন বা মাস্টারমশাইকে জিজ্ঞেস করো আমায় দেখেছে কিনা এর আগে ? যা শুনেছি এই শান্তিনিকেতনেই তো আপনার বাড়ি | কি ? সবরকম প্রমান দিয়ে আমি প্রমাণ করে দেব এখনই ,আমি আসিনি এর আগে | "

কথায় কথায় লোকের মুখ থেকে তার নামটা শুনে ফেলেছিলো অর্পণ | তার নাম সম্পূর্ণা | এখানেই সে সঙ্গীত নিয়ে রিসার্চ করছে | সে অর্পণের কথাগুলো ঠিক বুঝে উঠতে পারলোনা |

অর্পণ সবের শেষে বললো ," তোমাদের,তুমিই বলছি , সংগীতেও তো প্রতিনিয়ত নতুন নতুন রাগ রাগিণীর সংমিশ্রনে নতুন সুর তৈরী হচ্ছে | তারা কি সর্বদাই তোমার কাছে জানা, চেনা | আমিও তো শিল্পী | কল্পনা আর রূপ উপলব্ধির এই ফল | যদিও ভাবতে অবাক লাগছে আমার কী করে একজন অচেনা মানুষের ছবি এঁকে ফেললাম | "

" কেন ভালো লাগেনি ছবিটা তোমার ? " এই প্রশ্নটা করতেই সম্পূর্ণা লাজে রাঙা হয়ে ছুট্টে বেরিয়ে গেলো | ছবিটি আঁকার পর থেকে অর্পণ এ নিয়ে কম ভাবেনি | তবু ভেবে কূল পায়নি |

শহরের আরেকটি ছেলে তার সাথে এসেছিলো সব ছবি গুলো দেখার দায়িত্বে | সে এতক্ষন চা আনতে গেছিলো | ছবিটা তার সামনে এই প্রথম সে দেখলো আর দেখেই হা হা করে উঠলো |

" অর্পণ দা এই ছবি কী করে আঁকলে গো? "

অর্পণ বললো ," কেন বলতো, বাচচু ? "

বাচচু বললো ," আরে গতবারকার পুজোর কথা মনে নেই তোমার ? "

অর্পণ বললো ," কোন কথাটা ? "

বাচচু বললো ," আরে প্যান্ডেল থেকে নামতে গিয়ে একটি মেয়ে পড়ে যেতে স্বেচ্ছাসেবকের দলে থাকা তুমি তাকে ধরে ফেলেছিলে | তাতে গোটা পুজোয় তোমার পেছনে লেগেছিলো সবাই | মনে পড়ছে | মেয়েটা মুচকি হেসে ধন্যবাদ দিয়ে এগিয়ে গেছিলো |"

অর্পণ বললো , " হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ , আমার মনে পড়েছে | "

সে ছুটে বেরিয়ে সম্পূর্ণার বাড়ির ঠিকানায় খুঁজতে যাবে তো ফের সামনে সম্পূর্ণা এসে হাজির |

আচ্ছা বাড়ি ফিরতে ফিরতে একটা কথা আমার মনে হলো ," আপনি কি নবোদয় সংঘের পুজোর ক্লাব সদস্য ? "

অর্পণ দুলকি চলে মাথাটা একবার ওপর থেকে নিচে নামালো | সম্পূর্ণা খিলখিলিয়ে হেসে উঠলো আর হল ভর্তি সবাই এসব শুনে তারস্বরে হেসে উঠলো | ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে দাঁড়িয়ে রইলো কেবল অর্পণ |


Rate this content
Log in