সময় কাটে তবু না কাটুক
সময় কাটে তবু না কাটুক
ওইদিন গুলোতে ঋতু কতই না ,মনে মনে ,কখনো কখনো মুখ ফুটে সবার সামনে পরিতাপ করে বলতো , হায় এই দিন গুলো কেনো কেটে যায়না? ।
আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছি আর পারছিনা , ঋতুর তখন প্রতিটা দিন মনে হতো যেনো এক একটা বড় অভিশাপ যা সে হয়তো ,তার কোনো এক পাপের ফলের জন্য পাচ্ছে ।ভারাক্রান্ত হৃদয়ে সে সব সহ্য করে সমাজের সামনে বেশ হাসি মুখ নিয়েই থাকত। এক একসময় তার মনে হত সব ছেড়ে বহুদুরে কোথাও চলে যাই ।সেই প্রতিকূল পরিস্থিতি তেও হৃদয়ের উপকূলে কিছু জনের আবির্ভাব ঘটে,যারা তার সেই বিজন হৃদয় মরুতে নব জোয়ার এনে দিয়ে ছিল।সময়ের সাথে সাথে ওদের অন্তরঙ্গতা পেয়ে সে নিজেকে মানিয়ে সেই পরিস্হিতির সাথে সহমত পোষণ করে নেয়।
ওদের মধ্যে সবাই যে ওকে সানন্দে রেখেছে সেটা পুরো নয়, ঋতু কে বেশ কিছু সময় নিজের সহজ,সরল, এবং অতিপ্রভূততার জন্য একাধিক বার অনঅভিলাশিত ক্লেশের শিকার হতে হয়েছে।
মাষ্টার মশাই যখন ঋতু কে হেতু অহেতুক ধতানি দিয়েন সে মনে মনে খুব কষ্ট পেত এইভেবে যে হয়তো তার থেকে নিষ্কর্মা আর এই জগতে কেউ নেই।মাষ্টার মশাইয়ের সাথে সাথে ওরাও একবার ওকে খুব কাদিয়ে ছিল,অহেতুক এক মিথ্যা অপবাদ দিয়ে যে ,ঋতু নাকি ওর একবন্ধু ঋত্বিক কে গালমন্দ করেছে,সেদিন মাষ্টার মশাই ও ঋতুর সাথে ছিলনা কেনো জানি,কিন্তু হয়তো ঋতুর ও আজ মনে নেই কারা ওকে তখন শান্তনা দিয়েছিল,কিন্তু মনে মনে সে তাদের প্রতি এখন খানিক কৃতজ্ঞ।
একটা সময় পর যখন পরিস্হিতি একটা সম্পৃক্তি পরিমণ্ডলে এসে পরে,তখন মাষ্টার মশাইয়ের ব্যাবহারের মধ্যে এক আশ্চর্য অনভিপ্রেত পরিবর্তন লক্ষ করে ঋতু,যা সে এত বছরেও ভুলতে এবং বুঝতে পারেনি,হয়ত সেটা ছিল স্বেচ্ছায় পরোক্ষ ভাবে নিজস্ব প্রতিবিধান ।
ঋতু এখন বেশ বড়ো হয়েছে,স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে এসেছে সে, জীবনে নানা অভিজ্ঞতার সন্মুখীন হয়েছে এবং আগামী দিনগুলোতেও হবে,এবং যত দিন পেরিয়ে যাবে,ততই বারে বারে মন অতীতের সেই অম্লান পথের ধারেই পরে থাকবে,কত প্রশ্ন জাগে মনে এবং তার উত্তর মন নিজেই দিয়ে দেয়,এ যেনো নিছক মনের খেলা মাত্র, মনের নিঝুম ঘন অন্ধকার আচ্ছন্ন আকাশে সেই প্রান্তিক উপহাসই যেনো এনে দেয়,সমুজ্জিত সুউজ্জল সোর্য রশ্মিকে যা ,তার মনের বিবর্ণ গগনে আহ্লাদের রামদেনু একে বেড়ায়।
