STORYMIRROR

SOURAV Chakraborty

Abstract Horror Others

4.0  

SOURAV Chakraborty

Abstract Horror Others

একটি ঘটনা

একটি ঘটনা

8 mins
188

বহুদিন বোধহয় প্রায়, তিন বছর পর অবশেষে অফিস থেকে মাসখানেকের ছুটি নিয়ে চললাম ভবানীপুর আমার এক কাকার বাড়ি। কাকা সেখানে থাকেন না , ওটা ওনার ফার্ম হাউস ছিল , সত্যি বলতে কি ছুটি কাটানো কিংবা হাওয়াবদলের

একেবারে উপযুক্ত ঠিকানা।ট্রেন আসতে বেশি দেরি হলো না , সিটএ চেপে একটা দীর্ঘ স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে , একটা বিদেশী ডিটেকটিভ উপ্যান্যাসের পাতায় চোখ বুলাতে লাগলাম।আমার কেবিনে আমি একাই বেয়ারা এসে অর্ডার নিয়ে চলে গেলে, হঠাৎ দেখলাম একজন ভদ্রলোক কোট প্যান্ট পড়া, মাথায় কাঁচা পাকা চুল ,এবং আরো যেটা নজর কাড়া সেটা তার 'ব্যাঘ্র চক্ষু' গুলো । ট্রেন ছাড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই, বেয়ারা এসে চা দিয়ে গেল । বইটা মোটামুটি পড়া শেষ , ওদিকে ভদ্র লোক ও এতক্ষন একটা জার্নাল পড়ছিলেন এখন উইন্ডোর দিকে মুখ ঘুরিয়ে একটা সিগারেট ধরালেন । হঠাৎ আমার দিকে তাকিয়ে , জিজ্ঞাস করলেন " কি মশাই , কি করা হয় "? 

আমি বেশ একটা অপ্রস্তুত হয়েই উত্তর দিলাম , "আজ্ঞে একটা নিউজ এজেন্সি তে আছি , এডিতরিয়াল এ " নাম মুকুল চক্রবর্তী ।

"বেশ তো , নিউজ এর নাম কি "?

আমি বললাম ," নাম দৈনিক জাগরণ ", আমি একটা বিশেষ কলাম লিখি এর , সাপ্তাহিক নাম "The conundrum" নাম টা শুনে ভিজতেই পারছেন ব্যাপারটা কিসের ওপর নির্ভর।

ভদ্রলোক একটা রিং উড়িয়ে বললেন ," বেশ ইন্টারেস্টিং, এগিয়ে যান ....."

আমি বললাম ," এই কলাম এ শহরের যা সব অমীমাংসিত রহস্যজনক ঘটনা ঘটে তা নিয়ে একটা পাবলিক অপিনিয়ন দেওয়া এই যা"।

ভদ্র লোক এবার প্রশ্ন করলেন , "ভুত আছে কি ?"

আমি কথাটা শুনে একটু ইতস্তত হয়ে বললাম , ভূত মানে, ঠিক আমি বুঝতে পারছিনা "

এবার গলার প্রচণ্ডতা বাড়িয়ে , ভদ্র লোক বললেন , আরে মশাই ভূত মানে, Ghost অপদেবতা "ওটা আছে কি , নাকি শুধু সমস্বরবিশিষ্ট খুন , চুরি , ইত্যাদি ?"

আমি বললাম " না আসলে , ও জিনিসে আমার খুব একটা আস্থা নেই , কোনোদিনেরই , আসলে যে জিনিস কে বিজ্ঞান প্রতি মুহূর্তে contradict করছে সেটা নিয়ে জনসমক্ষে অহেতুক না বলাই ভালো আমার মতে "।

ভদ্র লোক , হঠাৎ আমাকে একবার জিজ্ঞাস করলেন "আচ্ছা আমরা তো, এখন শহরে ঢুনিকি, অর্থাৎ ড্রপিং স্টেশন আরো ৪ ঘণ্টা ?"

আমি ঘড়ির দিকে চেয়ে বললাম "তা হবে কিছুটা"

ভদ্রলোক বললেন " তাহলে আপনাকে বলা যেতেই পারে ,দেখি যদি আপনাকে একটি টলাতে পড়ি কিনা, If you don't have any problem"

আমি বেশ একটা অপ্রস্তুত হয়েই বললাম " না সে হবে কেন, আপনি শুরু করুন"

ভদ্র লোক এবার শুরু করলেন - 

" সত্যি কি মিথ্যে সেটা যাচাই করে দেখবার মত আপনার "

আমি বললাম "বেশ বলুন না আপনি , একটা নতুন অভিজ্ঞতা ও হওয়া দরকার "।

ভদ্রলোক শুরু করলেন আবার "কিন্তু একটা কথা বলে রাখছি ঘটনাটা আমাকে একেবারে জর্জরিত করে ফেলে, বিশ্বাস করার সুযোগ পর্যন্ত .....। এই বলে ভদ্রলোক একটু থেমে গেলে , তার পর আবার বেগে ফিরলেন , "আমার নাম নীলাদ্রি হালদার, এককালে মনুমেন্ট নিয়ে গবেষণা করতাম, বিদেশে বেশ কিছু নামকরা জার্নাল এ আমার প্রবন্ধ ছেপেছে নিয়মিত , দেশের প্রায় সবই জানা অজানা হেরিটেজ সাইট আমার ঘোড়া, পাছে একটা খবর পেলাম, বিদেশের একটা বিখ্যাত restorating এজেন্সি , একটা বিজ্ঞাপন দিয়েছে, ওরা বীরভূমের বেশ কিছু বিলুপ্ত প্রায় , ঐতিহাসিক স্থানের ওপর কাজ করতে ইচ্ছুক, কিন্তু ওদের একজন গাইড এর প্রয়োজন যে সব ল্যান্ড রিপোর্ট দেবে, জার ওপর নির্ভর করে তাদের সংস্থা কাজ এগোবে। সুতরাং এপ্লাই করায়, ভারটা আমার ওপরেই পড়লো । হাজার হোক মশাই, momunent দিয়েকি পেট ভরে । 

বীরভূমের প্রত্যন্ত একটা গ্রামের লাগোয়া এলাকায় ছিল আমার যাবতীয় কর্মকান্ড , একটা দু চালা পাকা বাড়ি , কিছু দিনের জন্য ভাড়া নিলাম। বাড়ির মালিক মহেন্দ্র সিংহরায় এককালীন জমিদার ছিলেন, তিনি বাড়ির পেছনে কিছুটা দূরে থাকেন।মহেন্দ্রবাবু থেকে সব বুঝে চাবিটা নিয়ে সেদিন রাতে ঘরে ঢুকলাম।দুটো থাকার রুম , একটা রান্না ঘর, উপরের দুটো রুম ব্যাবহার করা হয়না , আমার অবশ্যি সেটাই যথেষ্ঠ। কারণ বাড়িটা নেওয়া শুধু রাতে মাথা গোঁজার জন্যে , বাকিটা সময় রোদে পুরেই কাটাতে হতো। সামনে বারান্দা সেখান থেকে রাস্তা দেখা যায়, আবার কোনো কোনো সময় স্ট্রিট লাইট কিংবা চাঁদের আলোও এসে তাতে পড়ে।বাড়িটির গা ঘেষে দুটো তেতুল গাছ,সেখানটা আগে ঘাট ছিল, পরবর্তী কালে , কালের ও অবহেলার অভিশাপে সে জায়গাটা পুরো গাছ গাছালির দ্বারা একটা ছোটখাটো জংলায় পরিণত হয়েছে । এবাড়িতে এসেছি প্রায় দিন তিনএক হয়েগিয়েছিল, সব কিছু স্বাভাবিকই চলছিল। কিন্তু সেদিনের সেই ঘটনাটা আমার সজ্ঞানতা কে এমন ভাবে আঘাত করে জার জন্য আমার নিজের শরীরের উপর এবং মানুষিক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যায় । তখন বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং তথাকথিত তাত্ত্বিক পর্যবেক্ষণ একেবারে ভিত্তিহীন তখন ভিত্তিহীন হয়ে দাড়ায় আমার কাছে। 

সাধারণত সন্ধ্যার মধ্যে আমি ঘরে ফিরে আসি, কিন্তু সেদিন আসতে প্রায় ৯-টা বেজে যায় কোনো এক কারণে। ফিরে একটু ফ্রেশ হয়ে পাশের একটা হোটেলে খেয়ে এসে, একেবারে বিছানায় উঠে পড়লাম। ঠিক তার কিছুক্ষণের মধ্যেই বাইরে একটা ঝড়ো হাওয়ার শব্দ কানে এলো, একটা ভয়ানক তুফানের আগাম সংকেত টের পাচ্ছিলাম,জানলার ফাঁক দিয়ে স্ট্রিট লাইটের আলোটাও ততক্ষনে আর আসছেনা, মাথার কাছ থেকে টর্চটা নিয়ে, টেবিল ল্যাম্পটা জ্বালিয়ে , খাটে এসে বালিশ পেতে হেলান দিয়ে বসলাম। ধীরে ধীরে চোখের পাতা গুলো ভারী হয়ে আসলো, ঠিক তেমন সময় আচমকা একটা বীভৎস স্বশব্দে, ঘরের জানালা , দরজা ধাপ! করে খুলে গেলো।

ব্যাপারটা আমার কাছে একটু অসম্ভব লাগে , বেরোবার আগে ঘরের সব দরজা জানালা আমি লাগিয়ে এসেছি, ঘরের চাবিও আমার কাছে, আর শোবার আগে আমি সব দেখেই এলাম তাও.....।

ব্যাপারটাতে খুব একটা মাথা ঘামলাম না, উঠে জানলা লাগিয়ে , খাটে শোবার আগে একটা সিগারেট ধরিয়ে একটা রিং প্রাণ ঠিক তেমন সময় বজ্রপাতের সঙ্গে নামলো মোষলধারে বৃষ্টি। ঠিক তেমন সময় আবার ঘরের প্রতিটা জানলা ও দরজা আবার খুলে গেলো, এবার আমার মনে একটা খটকার উদয় হলো। কারণ একটু আগে আমি সব খুব ভালো করে নিরক্ষণ করে এসেছি , তাও আবার এরকম ব্যাপার হওয়া খুব অবাস্তব।

সত্যি বলতে কি চোরের ভয় তখন করিনি , ভয় টা যা নিয়ে করছিলাম তাতে সায় দিতে মন চায়ছিলনা।তখন মন কে নানান যুত্তি দিয়ে শান্ত করলাম। তন্দ্রাচ্ছন্ন চোখে লক্ষ করলাম খাতের ডান দিকে, ঘরের একেবারে শেষ প্রান্তে একটা ছায়া আবছা মূর্তি ঠায় দাড়িয়ে একে বারে সোজা আমার দিকে চেয়ে, সহসা উঠে টর্চটা তাক করতেই দেখি কেউ নেই , আলোটা ফাঁকা দেওয়ালে পড়লো। এবার লক্ষ করলাম মূর্তিটা একেবারে আমার খাটের পাশের ল্যান্ড লাইনটার 

সামনে , এক টানে মশারিটা হেচকা টানে তুলে , বেড়িয়ে দেখি , করার চিন্হ মাত্র নেই, সব শুন্য।

মাথাটা ঠিক রাখতে পারলামনা আর।টর্চটা হাতে নিয়ে এবার জোর গলায় চ্যাঁচাতে লাগলাম

কে ? কে ? কে এখানে? এতক্ষন এখানে কি ইয়ার্কি হচ্ছে , আমি কিন্তু ছেড়ে কথা বলবো না , সাহস থাকে তো সামনে আয় দেখি । 

ঠিক তেমন সময় একটা নারীর বিকট অট্ট হাসিতে পুরো ঘরটা ছম ! ছম! করে উঠলো , সে ক্রমাগত হা হা হা হা করে হেসেই চলেছে ।

আমি বোকার মত দিশে হারা হয়ে কানে দুহাত চেপে বিছানায় ধাপ করে বসে পড়লাম। সে হাসি যেন আমার শরীরের ভেতর ঢুকে আমার দেহ থেকে প্রান্তকে কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিল । সেটা অসহ্যকর এবং সাধারণ নারী কণ্ঠ সেটা হতে পারে না , সেটা ছিল অতি অপ্রাকৃতিক এবং ভয়ানক পৈশাচিক । ঠিক তার পরমুহুর্তেই লক্ষ করলাম টেবিল ল্যাম্পটার পাশে আনুমানিক একটা মাস ছয়েকের একটা ফুটফুটে শিশু, সে আর পাঁচটা শিশুর মতোই ব্যাবহার করছে । এটা কি করে সম্ভব এবং যদি প্রেক্টিক্যালি ভাবি , বন্ধ ঘরে একটা শিশু কিভাবে আসতে পারে , এত আমার চোখের ভুল নয়, এজে বাস্তব। আমি নেমে টেবিলটার কাছে যাবো , ঠিক সেই সময় লক্ষ্য করলাম সেই শিশুটি খিলখিলিয়ে হাসছে আর হঠাৎ মুষ্টিবদ্ধ হাতে আমার ডান পাশে সোজা আঙ্গুল তাক করা মাত্র, চেয়ে দেখলাম ওই মূর্তিটা। এখন তো যেন আরো স্পষ্ট এবং তার সেই শিশুটির উত্তেজনা প্রতক্ষ করে , আমার বুঝতে কষ্ট হয়নি, এ তার মা। মনে তখন নানা প্রশ্নের অবনমন হচ্ছিল আর ঠিক সেই মুহূর্তে আমি শিশুটিকে ধরতে যাবো , তৎক্ষণাৎ বাইরে থেকে একটা দমকা হাওয়া এমন ভাবে পাগলা ঘোড়ার মত এলো যে পাশের জানলাটা ধরাম! করে খুলে গেলো তার পরমুহুর্তেই একটা বজ্রের ঝিলিকের সাদা আলো সেই মূর্তির মুখে এসে পড়তেই তার সেই ভয়ঙ্কর , মৃতবৎ মুখটি আমার সামনে ভেসে উঠলো।সে কত শব্দে ব্যক্ত করা সম্ভব নয়। আর পাঁচটা সাধারণ মানুষ হলে হয়তো অজ্ঞান কিংবা মারাই পড়ত। আমি নিজেকে সেই সময় ফস্কাতে দেইনি, নিজেকে শক্ত রাখি , আমি পেছন থেকে ফ্লাওয়ার ভেসেতা নিয়ে মারলাম ছুঁড়ে, ছিটকে সেটা টেবিলের উপর পড়ল, কিন্তু কোথায় সেই মূর্তি আর কোথায় বা সেই শিশুই । আবার ঠিক সেই সময় আবার কানে এলো সেই হারহিম করা অট্টহাসিটা হা হা হা হা হা ...।

এবার মনে সাহস এনে জিজ্ঞ্যেস করলাম কে তুমি? কোনো মানুষ নও সেটা আমি জানি 

এবার সেই হাসিটা বাতাসে মিলিয়ে উত্তর এলো "আমি এবাড়ির ই একজন" ।

সত্যি বলতে কি, সেই কণ্ঠস্বর ছিল অন্যজাগতিক এবং অতি সূক্ষ।

"আমার স্বামী , মহেন্দ্র সিংহের ঠাকুরদা , উপেন্দ্র সিংহ , শুধু মাত্র মিথ্যে সন্দেহের বশে আমাকে আর আমার ৬ মাসের মেয়েকে হত্যা করে এবং আমার সমস্ত পৈতৃক সম্পত্তি আত্মসাৎ করে,।

এত গুলো বছর ধরে, এখানে অনেকে এসেছে, কেউ ভয় পেয়ে পালিয়েছে কেউ মরেছে। আজ তোকে শুধু অটল থাকতে দেখলাম। হত্যার প্রতিশোধ আমাকে নিতে হয়নি, অবেটা কিছুদিন পরেই বেঘোরে মরে। আমি শুধু একটা জিনিসের জন্য এত বছর ধরে অতৃপ্ত হয়ে এবাড়িময় ঘুরছি"।

আমি নির্বাক হয়ে শুধু শুনলাম, তার বদলে কিছু বলার আমার সাময়িক অবস্থা ছিলনা।

" বাড়ির দক্ষিণ দিকে একটা পুকুর আছে , তার বা পাশে তেতুল গাছের নিচে ৪ হাত মাটি খুঁড়ে , একটা পেতলের কলস পাবি , তাতে আমার সব গয়না এবং আমার জীবনকালিন কিছু সঞ্চয় আছে । তুই তা বেড় করে , মহেন্দ্র সিংহের কাছে দিবি, ওর অবস্থা খুবই খারাপ,আর অর্ধেক নিজের কাছে রাখবি।

এতেই আমার শান্তি আমার উদ্ধার"।

বাইরে ততক্ষনে বৃষ্টিও থেমে গিয়েছে, কিছুক্ষণের মধ্যে ঘরে আলো ও ফিরে এসেছে। 

নিজেকে কিছুটা সময় একটু সামলে নিলাম, নার্ভাস ব্রেকডাউন হওয়াটা স্বাভাবিক ছিল।

রাত্রে সেদিন আর ঘুম এলো না , ঠিক ভোর ৪:৩০ টায়, মাটি খোঁড়া শুরু করলাম, এবং কথা মত সবই পেলাম"।  

আমি জিজ্ঞ্যেস করলাম " তার পর কি সেগুলোর মূল্যায়ন করলেন?"

ভদ্রলোক বললেন " করিয়েছি সেদিন সকালে কাজে গেলাম না , একেবারে শহরে এসে সেগুলোর মূল্যায়ণ করে দেখলাম, প্রায় ৩.৫ কোটির কিছুটা বেশি । সত্যি বলতে কি একজন কর্মহীন, বেরোজগারিকের জীবন পাল্টে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল কি বলেন?"

আমি একটু মৃদু হেসে বললাম "তা একশবার "।

ভদ্রলোকের চোখ গুলো এবার জ্বলজ্বল করতে লাগলো, যেনো এক তীব্র লালসার মিশ্রণে তার মুখমন্ডল আরো উত্তেজিত এবং অধীর হয়ে উঠেছে। তিনি বললেন " বুঝলেন মশাই ওদিক আর মারাইনি , একেবারে পরদিন ৪:৩০ ভোরের ট্রেন ধরলাম , ভবানীপুর এসে পড়বো , কিন্তু......।

স্টেশনের কাছাকাছি আশায় আমি পাশের সুটকেসে বই টা পুড়তে পুড়তে ওনাকে জিজ্ঞ্যেস করলাম " আচ্ছা আপনার বাড়ি কি এখানেই ?"

ওমা কোথায় ইনি, এই মাত্র তো এখানেই ছিলেন।

ঠিক সেই সময় বেয়ারা চায়ের সেট গুলো নিতে এলে , জিজ্ঞ্যেস করলাম , আচ্ছা এখানের ভদ্রলোকটি কোথায় দেখেছ।

বেয়ারা বলল " না স্যার, হয়তো স্টেশনে নেমে গেছেন"। 

আমি একটু খটকার সঙ্গে অন্যমনস্ক হয়ে বললাম " ও আচ্ছা তাই হবে হয়ত, আচ্ছা স্টেশন এসে পড়েছে ?"

বেয়ারা বলল,"আর আঁধ ঘণ্টার মধ্যেই পৌঁছে যাবে"।

আমি ওর থেকে , জার্নাল টা নিয়ে চোখ বুলাতে লাগলাম, হঠাৎ যে জিনিসটা চোখে পড়লো , সেটা হচ্ছে কিছুক্ষণ আগে আমার উল্টো দিকের সেট বসা মুকুল চক্রবর্তীর মৃত্যু সংবাদ, ট্রেন দুর্ঘটনা, মৃত্যু গতকাল, ঠিক ৭:৩৭ । 



এই বিষয়বস্তু রেট
প্রবেশ করুন

Similar bengali story from Abstract