STORYMIRROR

SOURAV Chakraborty

Classics

4  

SOURAV Chakraborty

Classics

জীবনের কিছু কথা

জীবনের কিছু কথা

3 mins
309

মানুষের জীবনে অভিজ্ঞতার কোনো শেষ নেই ,এবং না হওয়াটাই বাঞ্ছনীয়। মানব জীবন নানা রং,স্বাদ,আলহাদ, পরিবেশ এবং পরিস্থিতি কে কেন্দ্র করে আচ্ছাদিত, তাই মানব মনে নানা রকম চিন্তা এবং পরিস্হিতি পরিবেশ কেন্দ্রিক অভিজ্ঞতা জন্মানোটা কাঙ্ক্ষিত।মানব মনে জীবনে ঘটে যাওয়া নানাবিধ ঘটনাকে বিষয় করে নিগূঢ় বিশ্লেষণাত্মক চিন্তা ধরার আগমন টা বাস্তবিক । যেহেতু বিধাতা এই জন্মে মানব রূপে আমাকে পৃথিবীতে ভূমিষ্ঠ করেছেন, তাই আমিও এর থেকে অনুপ্রাণিত । 

প্রায় একবছর আগের কথা ,যখন সে বছরের মত শেষ বার ওদের বাড়ি গিয়েছিলাম, নুতন কোনো অনুভূতি অনুভব করিনি কারণ ,অগণিত বার আমার সেখানে যাওয়া পড়েছে এবং অন্তরঙ্গ পরম আত্মীয় হওয়ার সূত্রে সম্পর্ক আমাদের মধ্যে নিবিড় । দুপুরে মধ্যাহ্ন ভোজ শেরে যথা রীতি ,আমার তৎকালীন চিরাচরিত স্বভাব অনুযায়ী আপন মেজাজে ছিলাম। তার বহু দিন আগের থেকেই ওদের বাড়ি পরিবর্তন করার একটা খবর কানে এসেছিল।তাই তথাকথিত শেষ বার ওদের সেই আগের বাড়িতে গিয়েছিলাম।সন্ধে বেলা বাড়িতে এসে পরি একটু তাড়াতাড়িই বটে, তা এক অত্যন্ত প্রথাসিদ্ধ কারণের জন্যে, কিন্তু ওই বছরের জন্যে ঐটাই ছিল আমার ওদের বাড়িতে গিয়ে শেষ বার , বিকালে, রোদ পুড়িয়ে গেলে একলা মনে বারান্দার এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে , হেঁটে মনে মনে গুনগুন করে গান গাওয়া।মাঝে মাঝে আশ পাশে একটু চাইলে অতি সাধারণ দৃশ্য চোখে পড়ত,এবং সেগুলো ছিল অবর্ণনীয়।

তাদের সেই সমসাময়িক নুতন বাড়িতে প্রবেশ এর কারণ অবিশ্যি এই রকম , তাদের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল যে তৎকালীন পরিত্যক্ত বাড়ির সীমানার মাঝখানে একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে। কিন্তু তাদের প্রতিবেশীরা নিজের বাড়ি ছেড়ে দিতে নারাজ ছিল,তাই সেই বহুতল বাড়ি গড়ার প্রক্রিয়া শুধু মাত্র কিছু কাগজে আবদ্ধ থেকে বছর ঘুরতে না ঘুরতেই এটা মুছে সাফ হয়ে যায়।

এতে তাদের আর্থিক বেশ ক্ষয় ক্ষতি হয় ,এবং যেহেতু ওরা আর পাঁচজনের মতন হিসেব করে প্রচলোলিত নিয়ম মাফিক খরচ করেনা, সুতরাং সেটাই স্বাভাবিক ছিল।

বাড়ি পরিবর্তন করার পর ওদের নুতন পরিবর্তিত বাড়িতেও বহু বার যাই,এবং আমার কাছে ঐটাই ভালো লেগেছিল বেশ।এক বাড়ি থেকে ওপর বাড়ি তে আসার মধ্যে ও যে বহু সময় লেগেছিল সেটাও ঠিক ,এবং জীবন যে চলমান ,সুতরাং জীবন এ ঘটে গিয়েছিল অনেক অবিস্মরণীয় ঘটনা। খারাপ টাকে বিস্মরণ করাটাই মানুষের সাধারণ স্বভাব,কিন্তু কিছু ঘটনা আজীবন মনে গেঁথে থেকে ,এবং আমার মনেও সেটা গেঁথে আছে ,"মন ভোলার অনেক চেষ্টা করে ,তবু হায় এ মন তাহা ভুলিতে কি পারে ? "

জীবনের সেই এরকম একটা মুহূর্তে আমি সেদিন ছিলাম যখন আমার অসহায়তার এবং আমি যদি আরো পরিষ্কার ভাবে ব্যাক্ত করি আমি সেদিন ছিলেন এক আশ্চর্য অনভিপ্রেত বিশ্বয়ের মধ্যে ,এরকম একজন মানুষ কে সেদিন আমার জীবন থেকে চলে যেতে হয়ে ছিল যার যাওয়া টা আমি আমরণ অবিশ্বাসের সাথেই দেখবো । 

সেই দিন ওরা নুতন গৃহে আসেন, তার পর কেটে যায় বহু দিন ,মাঝে আমার অনেক লড়াই করে যেতে হয়েছে, নিজেকে প্রমাণ করার লড়াই, এ লড়াই সবাই করতে পারেনা বলে আমি বিশ্বাস করতাম কিন্তু যখন পৃথিবীকে আরো কাছ থেকে দেখি মনেহয় আমার এই ক্ষুদ্র রণ শুধু যেন নিছক সময়ের একটা অপরিহার্য দাবি ছিল ,বহু মানুষ পৃথিবীতে আছেন যারা ক্রমাগত লড়াই করে চলেছে এবং আমরণ তাদের সেটা না করে কোনো উপায় নেই,ওদের কাছে সেই নিছক তাত্ত্বিক এবং পুঁথিগত ব্যাখ্যার কিংবা প্রকরণের তত তাই মূল্য নেই যতটা , একজন বহুতল ভবনের অধিবাসীর একজন গৃহহীন জিবকের প্রতি থাকে।

তবুও আমি আমার সেই সময়টাকে একটু সংগ্রমিক দৃষ্টি ভঙ্গিতেই দেখবো।

কিছু মানুষ যারা একসময় আমার অন্তরঙ্গ ছিল কিন্ত সময়ের স্রোতে ওরা কোথায় ভেসে গিয়েছিল জানিনা ,তাই ওদের আবার ফিরে পেয়ে বড়োই প্রফুল্লিত হয়েছিলাম ,কিন্তু এখন ভবি ওটা শুধু মরুভূমিতে এক তৃষ্ণার্থ মানুষের মরীচিকা দেখে প্রজ্বালিত হওয়ার মতই ছিল।

সংগ্রামের পর শেষে পুরষ্কার স্বরূপ হাতে কিছু নিয়ে আবার ওদের পুরনো ,বাড়িতে এই নুতন বছরই ঘুরে এলাম।

 



এই বিষয়বস্তু রেট
প্রবেশ করুন

Similar bengali story from Classics