ওদের কথা
ওদের কথা
কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে একটি ঘটনা ঘটেছে যা সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত ছিল। আমাদের কলেজের একটি বাস উল্টে পাশের পুকুরে পড়ে যায়। ঘটনাটা কি কারণে ঘটেছিল সেটা সংশ্লিষ্ট মহল দেখবে হয়ত। কিন্তু আজ যে জিনিসটা লক্ষ্য করি সেটা দেখে সত্যিই বিশ্বাস যেনো আরো গাঢ় হলো, মাঝে মাঝে যখন মনেহয় আশপাশটা খুব পাল্টে গেছে , সেটায় কিছুটা সন্দেহের দাগ পড়ে। পরিষ্কার করে না বললে আমার নিজের সাথেই অপরাধ করা হবে। আমি অটো দিয়ে কলেজের দিকেই আসছিলাম ,অটোতে লোক।ছিল আরো।পেছনে আরো অটো ছিল যেরকমটা তখন সময় হয়ে থাকে, প্রত্যেকের ক্লাস ছিল নিয়মিত সময়ে পৌঁছবার তাগিদ ছিল । কলেজর কাছাকাছি আশায় লক্ষ্য করলাম আমাদের অটোটা রাস্তার ধারের থেকে আধা কিছু লোক এসে আটকায়। আশপাশ সংলগ্ন গ্রাম্ম এলাকার মানুষ বলে মনেহয়েছিল। প্রথমটায় সকলের মতই আমারও মনেহয় অহেতুক কোনো কারণে ওরা পথ আটকায়, এবং অবাঞ্ছিত ব্যাপারে সহায়তার জন্য মিনতি করছিল । কিছুটা পরিষ্কার হওয়ার পর , মনের অসংলগ্নতা কেটে যায়।এগিয়ে দেখলাম সেই ঘটনা। তৎক্ষণাৎ আমাদের মধ্যে বেশ কিছু ছেলে বাসে উঠে পড়ল , নানা দিকে ছড়িয়ে পড়ল, প্রাণ পনে চেষ্টা করতে লাগল আটকে পড়া সবাইকে কে বার করবার, এবং উদ্ধারকার্য চলছে। এলাকার লোকেরা যেন সবাই ছুটে একেবারে নিজেদের আপন ভেবে সবাই যারা যতটুক যেভাবে পারে সব দিক থেকেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল। আজ ওরা না থাকলে উদ্ধার হয়ত করা যেত, কিত্নু ক্ষতির অঙ্কটা আরো দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারত। মহিলারা ছুটে এসে , আহতদের মাথায় জল দিতে লাগলো , ক্ষেতের দিন আনে দিন খায় লোকেরা চিন্তা করলনা ভাতের, ঘরের বৌয়েরা হারি বসিয়ে দৌড়ে ছুটে আসল, মাথায় তখন ছিল না ওদের হয়ত, ঘরের দেরাজ লাগিয়ে আসার, কিংবা খানিক আশপাশ দেখে আসার। উদ্ধার সবাই কেই করা হল, শেষে যখন এক দুজন আটকে পড়ে, তখন পেছনের গ্লাস ভেঙে ওদের বার করে সেই পিছিয়ে পড়া লোকেরাই। কিন্তু কেউ ওদের কথা বললোনা। প্রাণে বাঁচার উল্লাসে ঈশ্বরের কাছে নিজের হয়ে আভার ব্যক্ত করে দীর্ঘ্য নিশ্বাস ত্যাগ করে অধ্যায় শেষ করল। প্রতিষ্ঠান থেকেও ওই লোকেদের তেমন কোন স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। স্বীকৃতির আশা ওরা করেনা। ওরা এভাবেই হয়ত আগামিদিনেও এভাবেই পাশে থাকবে। সেখানে এরকম ও কিছু লোক ছিল, দুর দুর ছুটে আসে, কলেজ থেকে শুধু মাত্র ঘটনা উপভোগ করার জন্যে । সাহায্য সবাই করতে হয়ত পারেনা , কিন্তু নিজের যত টুকু মানুষ হিসেবে ভূমিকা পালন করা দরকার সেটা করা দরকার, পরবর্তীকালে এ নিয়ে আর কোন আক্ষেপ জন্মায় না। আমরা হয়ত ভুলে যাব কিছুদিন পরে, গাড়িও ওঠানো হবে, সব স্বাভাবিক হয়ে উঠবে , আর সেই লোকেরাও হয়ত ঘুরে বেড়াবে আসে পাশে , মাঝে মাঝে ভাববে সে সেদিন সেই মেয়েটা কত কান্নাকাটি করছিল, ওকে তো আমিই ধরে রাস্তার পাশে এনে মাথায় জল দিয়ে ,অ্যাম্বুলেন্সে উঠিয়ে দিয়ে, মাথায় হাত বুলিয়ে দিই,ঐতো যাচ্ছে বাসে। ঐত সেই ছেলেটা প্রায় কোলে করে ওকে উঠিয়ে আনলাম , পিছলে নিজেও পড়লাম বার বার , কিন্তু নিজের সন্তানের মত আগলে তুলে আনলাম। আশপাশ সারা ফেলে আরো লোক জড়ো করলাম, ঐতো সে আজ ডান পাশের সিটে বসে আসছে। কখনও কলেজের পাশে সেই দোকানে বসে আড্ডা মারছে , ছবির পর ছবি তুলছে। আমাকে চিনতে পারবেনা ও, থাক আমার আর কি দিন ফুরিয়ে এলো ।
