শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ
শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ
বিয়ের পর প্রথমবার শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছে অরিত্র।
মনে মনে তার যতটা উত্তেজনা, তার চেয়ে বেশি ভয়। কারণ স্ত্রী মধুমিতা আগেই সতর্ক করে দিয়েছে—
“শোনো, আমার বাড়িতে কিন্তু বেশি চালাকি দেখাতে যেও না। বাবা খুব গম্ভীর মানুষ, আর মা সবকিছু খুঁটিয়ে দেখেন।”
অরিত্র হেসে বলেছিল, “চিন্তা কোরো না। আমি একেবারে আদর্শ জামাই হয়ে থাকব।”
কিন্তু শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছেই তার আদর্শ জামাই হওয়ার পরীক্ষা শুরু।
সকালে চা খেতে গিয়ে শাশুড়ির প্রশ্ন,
“বাবা, চায়ে চিনি কতটা খাও?”
“এক চামচ।”
“ডাক্তার তো চিনি কমাতে বলেছেন!”
দুপুরে মাছের ঝোল খেতে গিয়ে শ্বশুরের প্রশ্ন,
“বাবা, মাছটা কেমন হয়েছে?”
“অসাধারণ!”
“কিন্তু তুমি তো শুনলাম মাছ খেতে ভালোবাসো না!”
অরিত্র বুঝল, এখানে প্রতিটি উত্তর দেওয়ার আগে দুবার ভাবতে হবে।
বিকেলে শ্বশুরমশাই তাকে ডেকে বললেন,
“বাবা, একটু বাজার থেকে ঘুরে আসবে?”
অরিত্র ভাবল, এ তো ভালোই! জামাই হিসেবে দায়িত্ব পালন করা যাক।
কিন্তু বাজারের তালিকা দেখে তার চোখ কপালে!
মাছ, মাংস, সবজি, ওষুধ, মিষ্টি—একেবারে পূর্ণাঙ্গ সংসারের দায়িত্ব!
তবু হাসিমুখে সব সামলে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরল।
রাতে শোবার আগে মধুমিতা জিজ্ঞেস করল,
“কী গো, কেমন লাগল আমার বাড়ি?”
অরিত্র দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
“তোমার বাড়ি নয়, এ যেন একটা অলিম্পিক প্রতিযোগিতা! সকালে চা, দুপুরে মাছ, বিকেলে বাজার—সব পরীক্ষায় পাশ করেছি কি না জানি না!”
মধুমিতা হেসে গড়িয়ে পড়ল।
ঠিক তখনই পাশের ঘর থেকে শ্বশুরমশাইয়ের গলা শোনা গেল—
“অরিত্র, কাল কিন্তু তোমাকে নিয়ে একটা জরুরি কথা আছে!”
অরিত্রর মুখ শুকিয়ে গেল।
পরদিন সকালে শ্বশুরমশাই তাকে বসিয়ে বললেন,
“বাবা, আমরা ঠিক করেছি, এই বাড়ির একটা ঘর তোমার নামে লিখে দেব।”
অরিত্র অবাক!
“কিন্তু কেন?”
শ্বশুরমশাই মৃদু হেসে বললেন,
“তুমি গতকাল আমাদের বাড়ির সব দায়িত্ব যেভাবে সামলেছ, তাতে বুঝেছি—আমাদের মেয়েকে তুমি শুধু ভালোবাসো না, আমাদেরও আপন করে নিয়েছ।”
অরিত্রর চোখ ভিজে উঠল।
সে বলল,
“বাবা, বাড়ির ঘর আমার নামে না লিখলেও চলবে। আপনাদের মনে যদি একটু জায়গা পাই, সেটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
শ্বশুরমশাই হাসলেন।
তারপর বললেন,
“তাহলে ঠিক আছে, আজ থেকে তুমি আমাদের বাড়ির জামাই নও, পরিবারের ছেলে।”
অরিত্র মধুমিতার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলল—
“এবার বুঝলাম, বিয়েতে শুধু বউ পাওয়া যায় না, একটা গোটা পরিবারও পাওয়া যায়!”
সত্যিই তো—
শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ!
