নন্দা মুখার্জী

Inspirational


3.6  

নন্দা মুখার্জী

Inspirational


প্রিয় বান্ধবী

প্রিয় বান্ধবী

3 mins 1.1K 3 mins 1.1K

   Dear পারভিন,


    প্রায় তিনযুগ হয়ে গেলো তোর সাথে আমার দেখা নেই।কিনতু আজও তোকে আমি স্বপ্ন দেখি। চিঠি লেখার অভ্যাসটা বহুদিন হোলো হারিয়ে গেছে। তোর আদি বাড়ির পুরোনো ঠিকানাটা খুঁজে পেলাম;তাই ভাবলাম জীবনের এই গোধূলিবেলায় আর একবার চেষ্টা করে দেখি তোর সাথে যোগযোগ করতে পারি কিনা! নেট সার্চ করে তোকে কোথাও পাইনি।আজও তোকে খুব মিস করি!


      সংসারের ঘাত প্রতিঘাতে যখন বিধ্বস্ত হয়ে পড়ি;মন ভেঙ্গে যায় -ফিরে পেতে চাই হারিয়ে যাওয়া সেই ছেলেবেলার দিনগুলি আর তখনই বড্ড মনে পরে তোর আমার একসঙ্গে কাটানোর দিনগুলির কথা। কত ভালো ছিলো সেই সব দিনগুলি। কোন চিন্তা ভাবনা ছিলোনা -ছিলোনা আর্থিক সমস্যায় জর্জরিত হয়ে রাতদিন এক করে টেনশন করা-ছিলোনা এত রোগ, শোক, দুঃখ আর যন্ত্রনা! কিভাবে হাসি আনন্দের মধ্য দিয়ে দিনগুলি কেটে যেত। জীবন থেকে একবার যা হারিয়ে যায় শত চেষ্টা করেও যে তাকে আর পাওয়া যায়না;তবুও মন মানেনা!




      মনে আছে তোর? প্রতিবছর শীতের শুরুতেই দল বেঁধে স্যার আর দিদিমণিদের সাথে পিকনিকে যাওয়ার কথা? সরস্বতী পূজা ছাড়া আর যেদিন আমরা শাড়ি পড়তাম তা এই পিকনিকের দিনে। ছবি তোলার সময় ঝোঁপের আড়ালে যেয়ে একজন আর একজনের শাড়ি পাল্টিয়ে পড়তাম। জানিস এখনো সেই ছবিগুলি আমার কাছে আছে। মাঝে মাঝে বের করে দেখি আর নিজের অজান্তেই চলে যাই সে ফেলে আসা দিনগুলিতে।




      বয়সের ভারে অনেক কথায় এখন ভুলে যাই;কিণ্তু ছেলেবেলার ওই সব দিনগুলি আজও সেই আগের মতোই জ্বলজ্বল করে চোখের সামনে ভেসে ওঠে, মনেহয় যেন এই সেদিনের কথা।




     ধর্ম নিয়ে আমরা কোনদিনও মাথা ঘামাইনি। আমরা দু'জনে ছিলাম যেমন দুই সখী ঠিক তেমনই দুই বোন। একের বাড়িতে অন্যের খাওয়া থাকায় কোনদিন আমাদের পরস্পরের বাড়ির লোকের আপত্তি ওঠেনি। আজ যখন চারিপাশে এই সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে গোলমাল দেখি তখনই ভাবি মানুষ আজ কোথায় নেমে যাচ্ছে আস্তে আস্তে! যুগের কি পরিবর্তন! সময়ের সাথে সাথে মানুষের মনে এ কোন হিংসার বীজ বপন হচ্ছে?




       এই! তোর মনে আছে? সেই রমা সাহার কথা? সেই কালো রোগা মেয়েটা;ওই যে বাজারে যাওয়ার পথে তাদের বাড়িটা পড়তো-আরে সেই মেয়েটা যে লাষ্টবেঞ্চের ছাত্রী ছিলো, পড়া পারতোনা বলে প্রায়ই শাস্তি পেতো!প্রতি বছর যে ছিলো টি.টি.পি.(টেনেটুনে পাশ)। সে আজ ডাক্তার জানিস ? আর আমি? ক্লাসের ফাষ্টগার্ল হয়ে কোন চাকরীই কপালে জুটাতে পারলামনা! সব সময় হাতাখুন্তি নেড়ে চলেছি। আসলে কি জানিস? মানুষ তার ভাগ্য নিয়েই জম্মায়। হ্যাঁ-পরিশ্রমের মূল্য আছে ঠিকই কিণ্তু ভাগ্যটাকে কিছুতেই অস্বীকার করা যায়না।




      আচ্ছা-খালাম্মা, খালু, তোর বোনেরা-লিপি, পলি, পপি, রনি আর তোর ভাই সুমন সবাই কেমন আছে? দেখেছিস-আজও কেমন নামগুলি মনে আছে। আর তোর সেই মামা? যার ডাকনাম ছিলো অশ্রু। সবাই কেমন আছে রে? যদি সত্যিই তোর গ্রামের বাড়ির ঠিকানায় দেরিতে হলেও চিঠিটা পৌঁছায় তাহলে কিণ্তু অবশ্যই যোগাযোগ করবি আর বিস্তারিত জানাবি।


  


       তুই এখন কি করিস? চাকরী নাকি আমার মত হাতাখুন্তিই নাড়িয়ে চলেছিস? আর তোর মানুষটা? ব্যবসা নাকি চাকরী?




      আমার মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। ছেলে এবার বারো ক্লাস দেবে। আর সব থেকে কাছের মানুষটিকে মাত্র পাঁচমাস আগে হারিয়ে ফেলেছি! মানুষটিকে হারিয়ে মানষিকভাবে একদম ভেঙ্গে পড়েছি।




     ও! একটা কথা মনে পড়লো। সালেহার কথা মনে আছে তোর? শুনেছি ওর নাকি ক্যানসার হয়েছিলো,কিন্তু এই মারণ রোগকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে জীবনযুদ্ধে সে আজ জয়ী ।আর রেখা সেন? যার বাবার স্টুডিও ছিলো। শুনেছি ওর মধ্যমগ্রাম বিয়ে হয়েছে। ফেসবুকে যাদের খুঁজে পেয়েছি সবই আমাদের জুনিয়র, আমাদের ব্যাচের কাউকেই পাইনি।




      জীবনের স্বর্ণালীদিনগুলি কোনোদিনও আর ফিরবেনা;তবুও স্মৃতির খাতায় ময়লা জমলেও আজও অক্ষরগুলি স্পষ্ট হয়ে আছে।




     খুব খুব ভালো থাকিস। আমার অনেক ভালোবাসা নিস। আমি অপেক্ষায় থাকবো তোর সাথে যোগাযোগের আশায়!


               ইতি তোর প্রিয় বান্ধবী


Rate this content
Log in

More bengali story from নন্দা মুখার্জী

Similar bengali story from Inspirational