STORYMIRROR

Atrayee Sarkar

Romance

4  

Atrayee Sarkar

Romance

পরিনীতা পর্ব ২

পরিনীতা পর্ব ২

6 mins
255

অনেক ভেবে...... কিছুদিন বাদে পরিনীতার কথা কৌশিক বুঝতে পারে । যে সত্যি...বাবা মনের অনেক কথাই বলতে পারে না।

কৌশিক-- " বাবা আমি পরিনীতার কাছে তোমাদের বন্ধুত্ব..... সবই....

কৌশিকের কথা শেষ হওয়ার আগেই সৌমেনবাবু বলে ওঠেন -- " ওসব কথা রাখ...বল কেমন চলছে তোর চাকরি?? সারাক্ষণ তো ল্যাপটপ নিয়ে বসে থাকিস । তোর চোখ এখন ঠিক আছে??"

কৌশিকের চোখের সমস্যা হয়ে গেছিল কিছুদিন আগে । সকাল ৮ থেকে রাত ৯ টা অব্দি কাজে ব্যস্ত থাকে কৌশিক ।

কৌশিক -- " কথা পাল্টাচ্ছ কেন?? মনের কথা তুমি কতো চেপে রাখবে?? আমার দিকে তাকাও। বন্ধুত্ব খারাপ কি?? তুমি কথা বলতেই পার । খালি ভাবছো আমি তোমায় খারাপ ভাববো.. তাই তো ??

কখনোই না।

কাল আমরা সাউথ সিটি মল এ একটু যাব । তুমি তোমার বান্ধবীকে আসতে বলো । "

সৌমেনবাবু-- " রাজু এসব কি করছিস???? বাদ দে না। তোরা চলে যা।"

সৌমেনবাবু কৌশিককে রাজু বলে ডাকত ।

কৌশিক -- " আমরা চলে যাবো.... আর তুমি একা থাকবে??? এ হয়না । আর কোন কথা নয়,,, তুমি না গেলে..... আমরা ও যাবো না ।"

পরের দিন পরিনীতা আর কৌশিকের কথা অনুজাই সোমেনবাবু ওনার বান্ধবী মধুরিমা দে''কে নিয়ে সাউথ সিটি মল এ আসনে ।

সবার সাথে মধুরিমা দে''র আলাপ হয় । মলে আনন্দ করে ফিরছিল সবাই ।

পরিনীতা তখন মধুরিমা দে''কে বলে -- " আন্টি একটা কথা বলবো.... যদি আপনি কিছু না মনে করেন??"

মধুরিমাদেবী তখন বলে ওঠেন-- " এইভাবে বলছিস কেন?? তুই তো আমার মেয়েরই মতন বল কি বলতে চাস ।"

পরিনীতা-- " যদি আপনার সাথে একটু ওয়াটস্যাপে কথা বলি.... আপনি কিছু মনে করবেন না তো??"

মধুরিমাদেবী-- " আমার সাথে গল্প করলে,, আমার কতো ভালো লাগবে বলতো । ঈশ্বর বন্ধু জুটিয়ে দিচ্ছে আমায় ।"

পরিনীতা মাঝে মধ্যে মধুরিমাদেবীর সাথে কথা বলত । পরিনীতা টিউটার, তাই বেশি কথা বলার ওর সময় থাকতো না ।

পরিনীতা একদিন মধুরিমাদেবীকে বলেন--" আন্টি,

বাবা আর আপনি কি খুব প্রিয় কলেজ ফ্রেন্ড ছিলেন?"

মধুরিমাদেবী-- " হ্যারে মনা,, আমাদের খুব ভালো বন্ধুত্ব ছিল । আরো দুজনের সাথে বন্ধুত্ব ছিল । ওরা একজন ছেলে একজন মেয়ে । আমরা মজা করতাম । একই সিনেমা হলে যেতাম, একই মলে ঘুরতে যেতাম একসাথে । আর তোর বাবা আমায় রাগাত । কিছু কথা তো আজও ভুলতে পারিনি । এখন হাশি পায়,, তখন খচে যেতাম ।"

পরিনীতা-- " কি কথা?? কৌশিক ও তো কখনো রাগায় আমায় । "

মধুরিমাদেবী-- " ওই বাবারই তো ছেলে। একই রকম হয়েছে।

আর বলিস না, তখন কলেজে পড়তাম,, একদিন বলছিলাম তোদের বাবাকে " জানিস আমি হাতিদের খুব ভালোবাসি ।" কি পাজি জানিস, বলে মোটারা তো হাতিদের ই ভালোবাসে । আমি মোটা বল??"

পরিনীতা-- " বাবা এরম করত?? বিশ্বাসই হচ্ছে না। "

মধুরিমাদেবী-- " এটা তো কম বললাম, আরো শুনলে, আরো হাশবি তুই ।

ওইসব শোনার পর তো,, আমি খচে বোম হয়ে গিয়ে চেঁচিয়ে চলে যাচ্ছিলাম। আর তোদের বাবা জানত আমি icecream খেতে খুব ভালোবাসি,, তারপর corneto নিয়ে চলে এসেছিল আমায় মানাতে ।

আর খালি বলতো,, গ্রিন টি খা, ডায়েট কনেট্রাল কর । কি বলবো বল । এখনই রাগ উঠে যাচ্ছে বলতে গিয়ে ।"

পরিনীতা-- "সত্যি আমার বিশ্বাস হচ্ছে না, আপনি যে বাবার কথা বলছ । বাবা আর আপনি সবসময় এরম মজা করতেন??"

মধুরিমাদেবী-- " হমম্ করতাম । পড়াশোনায় তবে ও অনেক হেল্প করত । যেটা বুঝতে পারতাম না । আমায় বুঝিয়ে দিত ।

আর বলিস না । একদিন তো ফ্রেন্ডসিপ ডে ছিল । তোদের বাবা দেখি গোলাপ ফুল দিচ্ছে । দেখে আমি তখন বলি " গোলাপ ফুল?? বন্ধুকে গোলাপ ফুল দেয় নাকি??

কি করল তারপর জানিস ।

বললো না তোর জন্য গিফ্ট ও এনেছি । বললাম দেখা ।

বলে -- " এই নে ।"

দেখি একটা সুন্দর ছোট প্যাক করা বক্স । খোলার পর তোদের বাবাকে আমার ঝাঁটা তুলে পেটাতে ইচ্ছা করছিল ।

বক্স খুলে কি দেখি জানিস???

ফিজিক্সের কিছু নোটস লেখা । বাক্সটা তো ওর দিকে ছুড়েছিলাম।

তারপর হাসতে হাসতে বলে-- "রাগিস না। এইনে ।"

দেখি আমার জন্য সুন্দর ছোট লকেটের সেট এনেছে, একটা গোলাপ ফুলের লকেট, তার সাথে দুল আর আংটি ও ছিল।

তারপর তো বলি-- " আগে দিতে পারলিনা? তার জায়গায় ফিজিক্সের নোটস। খুব সুন্দর ।"

তোদের বাবা তারপর জিজ্ঞেস করে আংটি কেমন হয়েছে,, বললাম সব ভালো ।

আবার বলছিল আংটিটা পরতে । সুন্দর ছোট আংটি । তবে নিতে গিয়ে আমার হাত থেকে হঠাত্ পরে যেতে তোদের বাবা বল্ল -- " তোর দারা কিছু হয়না । দে আমি পড়িয়ে দিচ্ছি ।"

এরমই বন্ধু ছিলাম আমরা। কখনো মজা করতাম,, কখনো মারামারি করতাম ।"

পরিনীতা-- " কলেজ লাইফের পর আর কি বন্ধুত্ব ছিল না আপনাদের??"

মধুরিমাদেবী -- " এই আপনি বলবি না একদম । তুমি বলবি ।"

পরিনীতা -- " আচ্ছা ঠিক আছে ।"

মধুরিমাদেবী-- " হ্যা,,, কি অদ্ভুত,, একই অফিসে চাকরি পেয়েছিলাম । ওর প্রমোশন হতে,, ওকে স্যার বলতে হতো । বলতে তো আমার হাশি পেয়ে যেত,, আর ও খচে যেত ।

বলতে গিয়ে এখনই হাশি পাচ্ছে দেখ।"

পরিনীতা -- " তারপর??"

মধুরিমাদেবী -- " তারপর আমার হঠাত্ করে বিয়ে ঠিক হয়ে যায় । এতো ভালোবাসা দিচ্ছিল মন থেকে,, আমি আর বলতে পারিনি ,,, আমি এখন বিয়ে করতে চাই না ।"

পরিনীতা -- " বাবা কি করছিল??"

মধুরিমাদেবী-- " তোদের বাবা কথা বলছিল না তখন অতো । অবাক লাগতে, আমি ওর সাথে একদিন একটা ক্যাফেতে গিয়ে জিজ্ঞেস করি এরম করছিস কেন ।

কি অদ্ভুত দেখ ,, বলছিল-- তোর বিয়ে হয়ে যাচ্ছে, আমার সাথে অতো কথা বলিস না । লোকে খারাপ বলবে ।

তখন বলি, আমরা তো বন্ধু

বলে-- বাকিরা সেটা মানবেনা ।

মনে হলো সত্যিই তাই, কেউ মানবেনা ।

তারপর তো আমার বিয়ে হয়ে সংসার ।"

পরিনীতা -- " তোদের সন্তান হয়নি??"

মধুরিমাদেবী -- " না রে। এইটা একটু খারাপ লাগে। ডাক্তার দেখিয়েছিলাম । কিন্তু হলো না ।"

পরিনীতা -- " এতে খারাপ কি আছে । এরম হতেই পারে । এডপ্টও নাও নি??"

মধুরিমাদেবী -- " আমার স্বামীর অসুবিধা ছিল না, যে সন্তান হয়নি । বললাম না, পরিবারটা খুব ভালো ছিলো ।"

পরিনীতা-- " তোমার স্বামী মারা গেছেন অনেক বছর হয়ে গেছে??? "

মধুরিমাদেবী-- " হ্যা রে । তারপর থেকে একলা লাগতো খুব । ফেসবুকের বন্ধু, আমার স্বামীর কলিগের বউ,, কিছু বন্ধুর সাথে ওই একদিন বেরতাম কথা বলতে, কিছুক্ষণের জন্য। তারপর একদিন তোদের বাবার নাম হঠাত্ ফেসবুকে এড এস এ ফ্রেন্ডে দেখে অবাক লাগছিল । নাম পরে মনে হচ্ছিল চিনি । কিন্তু কিছুতেই মনে আসছিল না। তারপর ছবি দেখে মনে এলো।

পরিনীতা-- "আচ্ছা আন্টি বাবা আর তুমি তো এতো প্রিয় বন্ধু । তোমরা কখনো তো এবার বেরিয়ে, কথা বলতে পার, কোন ক্যাফেতে , ঠিক আগের মতন। তুমিই তো বল্লে, তোমরা বন্ধু । তা বয়স হয়ে গেছে বলে বন্ধুত্ব ভেঙেই দেবে। এতো বছর বাদে, আবার দেখা হলো । জানি তুমি ও বলবে ,,,,, ' কিন্তু এখন '। এখন বলে সেই বন্ধুত্ব একেবারে জলে ফেলে দেবেন?? এটা কি ঠিক?? 


(ক্রমশ প্রকাশ্য)


Rate this content
Log in

Similar bengali story from Romance