STORYMIRROR

SR Meher

Abstract Tragedy Others

3  

SR Meher

Abstract Tragedy Others

নিস্তব্ধ উপসংহার

নিস্তব্ধ উপসংহার

3 mins
210

রাতের নিস্তব্ধ পথে হেটে চলেছি।কোথায় যাবো জানি না।নাহ!পথ ভুলি নাই।তবে চেনা পথে যেতে ইচ্ছা করছে না।তাই যেদিকে মন চাচ্ছে সেইদিকেই পা বাড়িয়ে দিচ্ছি।যতোক্ষণ মন চাইবে এভাবেই হেটে যাবো।

এমন অদ্ভুত সিদ্ধান্ত কেন?

চলুন একটু অতীত ঘুরে আসি


আজ ভাদ্র মাসের ৭ তারিখ ইংরেজি খেয়াল নাই সেলুনে বাংলা ক্যালেন্ডার দেখে মামাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম আজ কয় তারিখ তখনই জানতে পারলাম।যাই হোক আমি মেহের। অনার্স ৩ বর্ষের বাংলা বিভাগের ছাত্র।অনেকটা জোর করেই বাংলা নিয়ে পড়া।সাইন্সের স্টুডেন্ট ছিলাম বলে বাসার সবাই চেয়েছিল ইঞ্জিনিয়ার বা ডক্টর হই। কিন্তু আমি সময়ের স্রোতের বিপরীতে বাংলা নিয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত নি।


ব্যাক্তিগত পরিচয় আরও জানতে পারবেন তাই গল্পে ফিরি।


সেলুন থেকে বের হয়ে দেখি পকেটে আর ১১৭ টাকা আছে।১৬ টাকা দিয়ে একটা সিগারেট নিয়ে টানতে শুরু করলাম।রৌদ্রময় দুপুরে হাটতে হাটতে বাসার দিকে যাচ্ছি।আত্নীয় পরিবার বলতে বন্ধুরা ছাড়া আর কেও নাই।ভার্সিটিতে ওঠার বছরেই আব্বা আম্মা বাস দূর্ঘটনায় ইন্তেকাল করেন।তারপর থেকে আত্নীয়রাও কেমন যেন অপরিচিত হয়ে গেল তাই আমি আর কারো সাথেই যোগাযোগ রাখি নাই।

যাই হক বাসায় এসে ঘুম দিলাম একটা।

তেমন কোনো কাজ নাই পড়াশোনা ঘুম খাওয়া দাওয়া।


একজন ভালোবাসার মানুষ ছিল। ছিল বললাম কেন সে হাত ধরেছিল খুব শক্ত করে কিন্তু বাস্তবতাই কেমন ভাবে যেন বাধন টা হালকা হয়ে গেল।আর সেও পরিবারের চাপের অযুহাত দেখিয়ে চলে গেল।আম্মু আব্বু মারা যাবার পর সেদিনই কান্না করেছিলাম। কিন্তু তার পেছনে ফিরে তাকানোর আকুতি পূরণ হয় নাই।


শুনলাম কিছুদিন পরেই নাকি তার বিয়ে।তাই আমি আর তার জীবনের আবর্জনা হতে চাই নাই।

তার জন্য দোয়া করে দূর থেকেই ভালোবেসে যায়।


যাই হোক বিকালে ঘুম থেকে উঠে সিগারেট জ্বালিয়ে বেলকনিতে দাঁড়িয়ে খেতে লাগলাম।


ঢাকা শহরটা এমনই।কে কি করলো অন্য কারো দেখার সময় নাই।মানুষ মরলেও কেও দেখে না বাচলেও না।তবে মরার পর সবাই মৃত ব্যাক্তিকে কেমনভাবে যেন ভালো বানিয়ে দেই।


যাই হোক রোহানের কল আসলো চলে গেলাম সালাম মামার টঙে।এখানেই বেশি সময় পার করি আমরা।


হঠাৎ অর্নব এসে বলতে লাগল সপ্তাহ খানেক পরে একটা কনসার্ট আছে সেখানে পারফর্ম করতে হবে।আমার কাজ না থাকাই রাজী হয়ে গেলাম।

আড্ডা দিয়ে রাত ১১ টা নাগাত বাসায় আসলাম।এসে কিছু প্রোজেক্ট নিয়ে কাজ ছিল সেটা কমপ্লিট করলাম তারপর কি ঘুম।


এভাবেই খুবই সাধারণ ভাবে দিন কাটলে লাগলো।তার মাঝেই তার বিয়ের দিনও চলে আসলো।সকাল থেকেই তার বাসার সামনে বসে আছি আর সিগারেট টানছি।কতো হৈ চৈ কোলাহল চারিদিকে।বসে বসে এইগুলাই দেখতেছি।

এক বার তার দেখাও পেয়েছিলাম।বউ সেজে এসেছিল পার্লার থেকে।অসম্ভব মায়াবী লাগতেছি।

যদিও সে যেমন সুন্দর তার না সাজলেও চলে।

প্রকৃত সৌন্দর্য ছিল তার রূপে।আর অসম্ভব মায়াবী ছিল আমার কাছে।


সে বাসায় ঢুকে গেলে আর তার দেখা পাই নাই।বিকাল নাগাত বরের গাড়ি বহর এসে থামলো তার বাসার সামনে।বরকে দেখতে পাইনি।তবে যা মনে হলে অভিজাত পরিবার।সব গাড়িগুলোই নিজস্ব ছিল।



পকেটে ১১৭ টাকা নিয়ে নিয়ে সকাল থেকেই বসে আছি।খাওয়া দাওয়া বলতে ১১ টা সিগারেট ছাড়া আর কিছুই হয় নাই।এটাই তাই আমার কাছে খাওয়া দাওয়া।


রাত ১০ টার সময় আবারও তার দেখা পেলাম। যদিও এটাই শেষ দেখা।কান্না করতেছিল অনেক।একবার তার চোখ আমার দিকে পড়ে গেল।কয়েক সেকেন্ড তাকাই ছিল কিন্তু এবার আর সেই মায়াবতী ভাব টা অনূভব করি নাই।


সে তার বরের সাথে চলে যাওয়ার পর আমি উঠে হাটা শুরু করি।ঘন্টা খানেক হেটেই যাই।কোথায় যাচ্ছি জানি না।তবে হাটতে খুব ভালো লাগছে।


কতোদূর যাবো জানি না।তবে হাটতে ভালো লাগছে।


Rate this content
Log in

Similar bengali story from Abstract