Click Here. Romance Combo up for Grabs to Read while it Rains!
Click Here. Romance Combo up for Grabs to Read while it Rains!

Pronab Das

Inspirational


2  

Pronab Das

Inspirational


নারী শক্তি ।

নারী শক্তি ।

3 mins 767 3 mins 767

গ্রামের নাম আধাটা। শহর থেকে অনেক দূরে বাংলাদেশ সীমান্তে গ্রামটি অবস্থিত। পালান শেখ এই গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধান। দেখতে ধার্মিক,সাদাসিধে, নিরীহ এই পালান শেখের ভেতরটা রুক্ষ মরুভুমির মত কঠিন ও নির্দয়। আগে পালান শেখ কাদের মিঞার কাছে চোলাই এর ভাটিতে কাজ করত। কাদের মিঞার কোন সন্তানাদি না থাকায় পালানকে সে নিজের ছেলের মত দেখত। ভাটির ব্যবসায়ের হিসেব কিতেব পালানই রাখত। একদিন ব্যবসায়ের হিসেবের কারচুপি কে কেন্দ্র করে কাদের মিঞার সাথে পালানের ঝামেলা বাধে। পালানকে অন্যান্য কর্মচারীর সামনে গালিগালাজ ও অপমান করে তাড়িয়ে দেয়। অপমানিত পালান সেই দিন রাতেই নিঃশব্দে তার ঘরে ঢুকে গলায় পা দিয়ে কাদের মিঞাকে মেরে ফেলে। লোকের মুখে শোনা যায় পালান নাকি ভাটির আগুনেই তার লাশটা পুড়িয়ে দেয়। কাদের মিঞার স্ত্রী কে বিয়ে করে পালান এখন সমস্ত সম্পত্তির মালিক।


বেশ কয়েক বছর হল পালান শেখ গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধান । বিভিন্ন জনহিতকর প্রকল্পের সাথে যুক্ত থাকলেও অনুগত কাশেম আলীকে দিয়ে পালান শেখ তার পেয়ারের চোলাই এর ব্যবসাটি ঠিক রম রমিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে। মোটা টাকার বিরাট ব্যবসা। পালান শেখের চোলাই আজ এই প্রত্যন্ত আধাটা গ্রামের সীমানা ছাড়িয়ে শহরও শহরতলির বিভিন্ন অন্ধকার অলিতে গলিতে পাকাপাকি ভাবে জায়গা করে নিয়েছে। প্রশাসন এই বিষয়ে চুড়ান্ত নির্বিকার। গ্রামে এই অবৈধ চোলাই এর ভাট্টি বন্ধের দাবিতে অভিযোগ বা আন্দোলন হয়নি এমন নয়। কিন্তু পালান শেখের লোকজন কখনও কব্জির জোরে, কখনও বা অর্থের জোরে সেই আন্দোলন ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছে।


 কাশেম আলীর দাপটও কম নয়। সমস্ত দিক সামলানোর জন্য কাশেম আলী মোটা মাসোহারা পায় পালান শেখের কাছ থেকে। কাশেমের স্ত্রী আমিনা পালান শেখের ছত্রছায়ায় গ্রামের কয়েকটি মহিলা স্বনির্ভর প্রকল্পের প্রধান। আমিনা ও কাশেমের একমাত্র ছেলে সাদিক কলকাতায় মেসে থেকে কোন একটা কলেজে পড়াশোনা করে।


সেদিন এক অজানা কারণে সকলের অজান্তে কাশেমের তৈরি চোলাই বিষাক্ত হয়ে যায়। বিষয়টি কাশেম বা পালানের গোচরে আসার অনেক আগেই সেই সমস্ত নেশারুদের পেটে কয়েক গ্লাস চলে যায়। রাতের তৈরি বিষাক্ত চোলাই দুপুরের পর থেকেই তার মৃত্যুর হাতছানি দিতে আরম্ভ করে দেয়। আধাটা গ্রামের স্বাস্থকেন্দ্র তো বটেই, শহরের বিভিন্ন হাসপাতাল গুলিতে ভীড় জমাতে শুরু করে ওই বিষাক্ত চোলাই খাওয়া মুমূর্ষু রোগীরা। সন্ধ্যের পর থেকে শহরের এক একটা হাসপাতাল থেকে আস্তে থাকে একের পর এক মৃত্যুর খবর। আধাটা গ্রামের স্বাস্থকেন্দ্রেই কুড়ি জনের মৃত্যু হয়। বেশ কিছু মুমূর্ষু রুগী এখনো মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। 


ক্রুদ্ধ ক্ষিপ্ত গ্রামের মহিলারা দলবেঁধে জড়ো হয়েছে গ্রামের স্বাস্থকেন্দ্রের সামনে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বুক চাপড়ে কাঁদছে, কেউবা শোকে পাথর হয়ে গেছে। তারা সবাই জানে এই মৃত্যু মিছিলের জন্য একমাত্র দায়ী কে। 


এদিকে পালান শেখ কাশেম কে নির্দেশ দেয় দ্রুত চোলাই এর ভাট্টি নিশ্চিহ্ন করে ফেলে কোন নিরাপদ স্থানে সাময়িক গা ঢাকা দেওয়ার। কাশেম তার প্রভুর নির্দেশ পালন করতে যাবে এমন সময় খবর পায় তার একমাত্র ছেলে সাদিক তার তৈরী সেই বিষাক্ত চোলাই খেয়ে মারা গেছে। মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। একমাত্র পুত্রের মৃত্যু শোকে আমিনা পাথর হয়ে যায়। এদিকে গ্রামের স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে গ্রামের সমস্ত মহিলারা হাতে বটি, দা, কাস্তে, লাঠি নিয়ে পালান শেখের বাড়ীর দিকে মিছিল করে এগোতে থাকে। কাশেমের স্ত্রী ও তাদের সাথে যোগ দেয়। কাসেম পালিয়ে গেলেও পালান শেখের মোটর গাড়ী ওই মিছিলের সামনে এসে পড়ে। ক্রুদ্ধ ক্ষিপ্ত মহিলারা পালান শেখ কে মাঝ রাস্তায় পিটিয়ে মারে ও গাড়ী সমেত জ্বালিয়ে দেয়।  


যে পালান শেখের দাপটে আধাটা গ্রামে বাঘে গরুতে এক সাথে জল খেত, সেই পালান শেখ আজ নিজ গ্রামের নারী শক্তির কাছে পরাজিত ও নিহত।।       


Rate this content
Log in

More bengali story from Pronab Das

Similar bengali story from Inspirational