মেল প্রস্টিটিউট একজন পুরুষ বেশ্যার গল্প
মেল প্রস্টিটিউট একজন পুরুষ বেশ্যার গল্প
Male Prostiute
একজন পুরুষ বেশ্যার গল্প
পর্ব ১
রাজা অঙ্কুর
লেখকের কথাঃ গত বছর ‘অন্য পুরুষের গল্প’ পেজে আমার একটা ধারাবাহিক প্রকাশিত হয়েছিলো ‘কল বয়’। সেই গল্প অনেকের ভালো লেগেছিলো আবার অনেকে আমাকে ব্যাক্তিগত আক্রমণ করেছিলেন। এই গল্পটা অনেকদিন মাথায় এসেছিলো আর লিখলাম। গল্পটা আমি উৎসর্গ করলাম পেজের সব পাঠক এবং সামজীদ, রহস্য, দিহান, নিশো, মেঘ, পরাগ ও রক্তিমকে।
রাতে বাড়ি ফিরে যখন বাথরুমে শাওয়ারের নীচে জলের ধারার তলায় নিজেকে পেলাম। আমার কেমন একটা ঘেন্না, বিস্বাদ লাগছিলো। একটা বিবমিষা জড়িয়ে ধরছে আমায়। বমি করলাম, স্নান করলাম। নিজেকে দিনের পর দিন বিক্রি করে আমি ক্লান্ত,শ্রান্ত...
কি করছি?
কেন করছি?
কি পেলাম?
আসলে আমার পথ চলার শুরু সেইদিন থেকে যেদিন প্রথম সেই ছোটবেলায় আমি রক্তাক্ত হয়েছিলাম।
ওহ আমি দুঃখিত। আসলে নিজের পরিচয় না দিয়ে আবোলতাবোল বকতে শুরু করলাম। আসলে আমি সামান্য একজন, আমার নাম প্লাবন। আপনাদের এই সমাজে আমি সমকামী বলে পরিচিত। একটু যদি বুঝিয়ে বলি আমি বেশ্যা কিন্তু আমি পুরুষ। আপনারা শিক্ষিত তথা বুদ্ধিজীবী মানুষগণ একটা গালভরা নাম দিয়েছেন ‘জিগোলো, কেউ আবার বলেব ‘কল বয়’।
“এবার কি খুলব?”
“হ্যাঁ তার আগে লাইট অফ করে দিও...”
লাইট অফ করে ছেলেটা উলঙ্গ হয়। বিছানায় শুয়ে সঙ্গী পুরুষকে উলঙ্গ করে আদিম কামে মত্ত হয়। অনেকক্ষণ চলে সেই খেলা...
“দারুণ!!! উফফফফ!!! কি সাইজ তোমার??? মুখে দাও...”
লিঙ্গ কাম
কেমন আছো তুমি?
কাল রাতে তোমার উরুতে রক্তের ধারা দেখেছি, বাকি রাত
উন্মুক্ত ছিলে দুই জন, আমরা দরজায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা
করছিলাম...
তোমার শরীরে পুরুষ লিঙ্গ আমরা ঢুকতে পারিনি।
থাকার ইছে ছিলো... কিন্তু
কি হয়েছে পুরুষ তোমার? হাঁটতে কষ্ট, আমরা কাল রাতে দেখেছি
দুটো গুহা তোমার নরম ঠোঁট কামড়াচ্ছিল, তুমি
কিছুই বললে না, বাধা দিলে না...
আমাদের কাছে চাবি ছিলো,
তাই ঢুকতে পারিনি সমকামের ঘরে।
আমি ‘জিগোলো’ কিংবা ‘কল বয়’ যাই বলুন হ্যাঁ হ্যাঁ এটাই আমার পরিচয়। হ্যাঁ আসলে এই সমাজ মানে আপনারা আমার এই নামকরণ করেছেন। আমার পরিচয় আগেই দিয়েছিলাম কিন্তু সেটা এখন কোথায় হারিয়ে গিয়েছে কে জানে। আসলে আমিও তো হারিয়ে গিয়েছি। আমার ছোটবেলা, আমার শিক্ষাদীক্ষা সব কোথায় চলে গিয়েছে আমাকে ছেড়ে অনেকদিন...
আসলে আমার বর্তমান আমার অতীতকে আসতে দেয় না ফলে ভবিষ্যতের সাথে তার সাপে নেউলে সম্পর্ক...
একদিন ঠিক হারিয়ে যাবো
করব নিরুদ্দেশ যাত্রা।
ভেসে যাওয়া মেঘের ভেলায় চেপে কিংবা
পথ হারানো পথিকের কাঁধের ঝোলা ব্যাগ করে।
চলে যাবো কোন সুদূর।
আমার কথা বলুন কিংবা আমার গল্প সেটা আমার জীবন... আপনারা শুনবেন... একটা ছেলে বেশ্যার গল্প... রগরগে লিঙ্গের উত্থান-পতনের গল্প... আমার কথা শুনবেন?
আমার ছোটবেলাঃ
“মা, ও মা।”
“কি হয়েছে বাবান। দেখছো আমি ছবিটা কমপ্লিট করছি।”
“আমি যাবো না।”
“যাবে না মানে? কোথায় যাবে না?”
“কাকুর বাড়ি।”
“সেকি? তুমিই তো রকির সাথে খেলতে ভালোবাসা।”
“আমি তো বল নিয়ে খেলছিলাম রকির সাথে কিন্তু কাকু আমাকে রুমের মধ্যে ডেকে প্যান্ট...”
“ঠিক আছে এখন যাও...”
সরকারী কর্মচারি পল্লব বাবু এবং অঙ্কন শিল্পী তিথির সন্তান ১২ বছরের প্লাবন। তাদের পাশের বাড়িতে থাকেন বছর ৪৪ নিবির বাবু, পেশায় ব্যবসায়ী। তার প্রিয় ল্যাব্রাডার কুকুরের সাথে প্লাবনের খুব জমে।
“বাবান সোনা কেমন আছো?”
“এইতো আঙ্কেল ভালো।”
“একবার এই রমে আসবে একটা নতুন খেলা খেলব।”
বাড়িতে তখন ক্যানভাসে তুলির টান দিচ্ছেন মা তিথি দেবী অন্যদিকে ১২ বছরের বাচ্চা ছেলের নরম শরীর ভোগ করছে পেডোফিলিক নিবির বাবু।
“আমার লাগছে আঙ্কেল। উফফফ...”
“ব্যাস আর একটু। খবরদার কাউকে কিছু বলবে না বাবান সোনা।”
“আমি পারছি না।”
প্লাবন পড়ে দক্ষিণ কলকাতার একটা নামী ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে। প্লাবন খুব ভালো ফুটবলও খেলে।
“প্লাবন তোমার পায়ের টাচ দারুন।”
“থ্যাঙ্ক ইউ পলাশদা।”
“কালকের ম্যাচ নিয়ে কিছু কথা আছে। একটু রাতের দিকে আমার রুমে আসবে তো।”
আন্ডার ১৩ ম্যাচ খেলতে দুইদিনের জন্য প্লাবনরা কলকাতার বাইরে গিয়েছিলো একটা নামী ক্লাবের হয়ে।
“এসো আমার পাশে।”
খালি গায়ে শর্টস পড়া স্যারের পাশে বসে প্লাবন। শুরু হয় গায়ে হাত দেওয়া। প্লাবনের চোখের সামনে ভেসে ওঠে নিবির কাকুর সেই অন্যরকমের খেলা।
“এটা কি করছো পলাশদা?”
“আজ রাতে আমি তোমার পলাশ আর তুমি আমার প্লাবন, একটা নরম শরীর।”
“আমার খুব লাগছে, কষ্ট হচ্ছে...”
“এটা একটা অন্যরকমের খেলা। এটাতে দুইজনেই জেতে। খুব আনন্দ। কাউকে বলতে নেই। একদম চুপ...”
আমি দুঃখিত
হে মহান কবিতা একটা প্রশ্ন
তুমি কি সমকামী?
সব চাওয়া সব প্রাপ্তির সীমা ছাড়িয়ে
তুমি কি বেড়ে উঠেছ গভীর থেকে গভীরে?
আমার কি অন্য কিছু ভাববার দরকার ছিলো?
একটা ললনা কিংবা অদিম কোন খেলা অথবা নেশাতুর নিষিদ্ধতা?
“কি ব্যাপার বাবান। খেলাতে জিতেছও কিন্তু মন খারাপ কেন?”
“কিছু হয়নি ড্যাড।”
নিবির কাকুর কথাটা যেমন মা শুনেও না শোনবার ভান করেছিলো এবার কিভাবে স্কুলের গেমস টিচারের ব্যাপারটা বলবে বাড়িতে। ফ্রেস হয়ে বিছানায় শুয়ে থাকে প্লাবন। ব্যাথা করছে, বমি পাচ্ছে একটা কেমন লাগছে প্লাবনের।
“কি হলো বাবান?”
“আমি বড় হবো কবে?”
“কি করবে বড় হয়ে?”
আজ ক্লাস ৮-র ফাইনাল পরীক্ষার শেষদিন। আজ অঙ্কের পরীক্ষা। প্লাবনের এখন স্কুলে যেতে ইচ্ছে করে না, পড়াশুনায় মন নেই। নিজের রোল আসার আগে প্লাবন একটা ফাঁকা ক্লাসে গিয়ে ভেতর থেকে লক করে দেয়। পরীক্ষার ব্যাস্ততায় কেউ খেয়াল করে না সেইদিকে। পরীক্ষার শেষে সব স্টুডেন্ট বেড়িয়ে যায়, দারোয়ান স্কুল লক করে বেড়িয়ে যায়। সন্ধ্যেবেলা অবধি ছেলে বাড়ি না আসতে তিথি দেবী ও পল্লব বাবু প্রিন্সিপাল ম্যাডামকে খবর পাঠিয়ে স্কুল খুলে সেই ক্লাস রুম থেকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে প্লাবনকে।
সমাজ তুমি
আমার নাম দিয়েছো বেশ্যা...
আমি পুরুষ বেশ্যা।
আমি অন্য পুরুষ অন্য নারীর সাথে শুলাম,
আমি হলাম নষ্ট।
অন্যরা মহান পুরুষ
আমিও পুরুষ কিন্তু...
দ্রৌপদি পাঁচজনের সাথে শুয়েও সতী
অথচ আমি হলাম কতি।
“আপনারা বাবা-মা?”
“হ্যাঁ ডাক্তারবাবু, কি হয়েছে আমার ছেলের?”
“একটা প্রচণ্ড মানসিক আঘাত লেগেছে বলেই জ্ঞান হারিয়েছে। ওষুধ দিয়েছি। জ্ঞান ফিরলে সব জানা যাবে।”
“আপনি কি বলছেন ডাক্তারবাবু কিছুই তো বুঝতে পারছি না।”
“যৌন নিপীড়ন বোঝেন?”
“মানে!!!”
“সেক্সুয়ালি অ্যাবিউজড।”
“ও কি মেয়ে নাকি?”
“আজকাল ছেলেরাও সুরক্ষিত নয়। কাকা-মামা, পাড়ার দাদা কিংবা টিচার। পেডোফিলিয়া বোঝেন।”
ডাক্তার চলে গেলে তিথি মুখ ঢেকে কাঁদতে থাকে।
“আরে তুমি মরা কান্না জুড়লে কেন?”
“একটা সিনেমাতে দেখেছিলাম। আমার ছেলের সাথে কেন?”
“পাগল নাকি তুমি? ডাক্তার বলল আর তুমিও বিশ্বাস করে নিলে?”
“আরে না ও পাশের বাড়ির নিবির বাবুর কথাও বলেছিলো...”
“থামো তুমি!!!”
“আপনারা আসুন। জ্ঞান ফিরেছে।”
“আমি বাবানের কথা শুনব, তারপরে পুলিশের কাছে যাবো।”
“এই তিথি লোক হাসবে।”
“তোমার ছেলের অবস্থার জন্য যারা দায়ি তাদের তুমি ছেড়ে দেবে?”
“কেউ বিশ্বাস করবে না। এইরকম আবার হয় নাকি। এইসব ওই বস্তাপচা সিরিয়াল আর কার্টুন দেখার ফল।”
“তোমার ছেলে সিরিয়াল দেখে না পল্লব।”
“এইসব সত্যি? কোনদিন শুনেছো? সবাইকে কি বলবে তোমার ছেলের ধর্ষণ হয়েছে? বুড়ো লোক তোমার ছেলের শরীর নিয়ে খেলেছে? শুনবে কেউ? প্রমাণ করতে পারবে?”
“দেখুন পল্লববাবু আর তিথি ম্যাডাম বিষয়টা কিন্তু সিরিয়াস।”
“কি বলছেন ডাক্তারবাবু।”
“প্লাবন মানে আপনাদের সন্তান কিন্তু একবার নয় বরং বেশ কয়েকবার সেক্সুয়ালি হ্যারাসড। তাকে জোর করে পায়ুকামে লিপ্ত করা হয়েছে।”
“কিন্তু এইসব কিভাবে?”
“প্রথমজন আপনাদের পাড়ার কোন একজন মাঝবয়সী ব্যবসায়ী ভদ্রলোক।”
“হ্যাঁ নিবিরবাবুকে নিয়ে কিছু একটা বলেছিলো বাবান।”
“হয়ত। দ্বিতীয়বার ওর ফুটবল ক্লাবের কোচ কি সাম পলাশ এবং লাস্টলি এই স্কুলের টিচার।”
“একজন ছেলেকে!!!”
“একটা কমবয়সী বাচ্চাকে ভুলিয়ে কিংবা ভয় দেখিয়ে আজকাল অনেক জায়গাতে এইসব হচ্ছে। ধরা পড়বার ভয় কম কারণ অ্যান্টি বুলিং কোন আইন আমাদের দেশে নেই।”
ডাক্তার বা নার্সিংহোমের আশ্বাস সত্ত্বেও পল্লব-তিথি তাদের ছেলেকে বাড়িতে নিয়ে আসে। বাড়িতে ফিরে বারান্দার দাঁড়িয়ে কাঁদে তিথি।
কি হয়ে গেল?
কেন?
একটা ছেলেও নষ্ট হয়?
কিভাবে বাঁচাবে নিজের সন্তানকে?
আমার আজঃ
ফেসবুকে একের পর এক #মি_টু ঝড়।
আচ্ছা আমিও কি লিখতে পারি?
সবাইকে জানাতে পারি নিজের অসহায় অতীতের কথা?
চোখের জল মুছে আর একটা নাইট্রোজেন নেয় প্লাবন। আজ সে প্রাপ্তবয়স্ক। সে আজ নষ্ট। অতীতের সেই দিনগুলো পুরোটা বুঝতে না পারলেও আজো মনের দরজাতে দাঁড়িয়ে কড়া নাড়ে। একটা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটত।
“তিথি প্লিজ একটু বোঝো। পরিবার-আত্মীয় এই সমাজ সব রক্ষণশীল। খবরের কাগজ থেকে প্রিন্ট মিডিয়া এটা নিয়ে রসালো খবর করবে। তাছাড়া আমাদের কি ক্ষমতা আছে এই কেস লড়বার। কতো কেসের কি হাল হয় তুমি নিজেও জানো। ওই স্কুল নিজেদের বদনাম ঢাকতে টাকা ছড়াবে। আমার সামান্য সরকারী চাকরী। লজ্জায় মুখ দেখাতে পারব না কোথায়।”
লজ্জায় সেইদিন পালিয়ে ছিলো অসহায় একটা পরিবার। স্কুল ছাড়িয়ে দূরের একটা স্কুল, বাড়ি বিক্রি করে অন্য পাড়াতে ফ্ল্যাট কিনলেন পল্লববাবু। তিথিদেবী আঁকা ছেড়ে দিলেন। সেদিন কিন্তু বিচার পায়নি একটা অসহায় ছেলে ও তার পরিবার। পড়াশুনায় বরাবর ভালো ছিলো প্লাবন তাই সহজেই সে যাদবপুরে ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে ভরতি হলো।
“কি হে প্লাবন এখানে কি গাঁড় মারাচ্ছিস।”
“কিছুই না।”
“চল চল ক্যান্টিনে। হেভি গাঁজা এনেছি খাবি চল।”
নিরুপায় প্লাবন যে কোনদিন সিগারেট ছুঁত না সে আজ গাঁজা, পাতা, মদ ইত্যাদি সব নেশাই করছে। ইউনিভার্সিটিতে সে কাউকে চটাতে চায় না। ইউনিভার্সিটিতে প্রথমদিনের সেই র্যাগিং।
“এইসব ছেলেরা জাঙ্গিয়া পরে লাইন করে দাঁড়িয়ে নিজেদের কিস করো।”
প্লাবনের চোখের সামনে আবার ভেসে ওঠে সেইসব আতঙ্কের দিন। সে দাঁতে দাঁত চিপে আদেশ পালন করে কারণ সে মেনে নিতে শিখে গিয়েছে। প্লাবন মাঝেমাঝে ক্লাস মিস করলেও কিন্তু দেবাদিত্য স্যারের কোয়ান্টাম-মেকানিক্সের ক্লাস কিছুতেই মিস করার প্রশ্ন নেই।
আসলে পাগল করে ক্লাসের বন্ধু কৌশিক। কৌশিকের চেহারাতে একটা ম্যাচো ইমেজ। প্লাবন কেমন পাগলের মতন তাকিয়ে থাকে বন্ধুর দিকে কিন্তু চোখে আতঙ্কের ছাপ থাকে না। কৌশিকের তাকিয়ে থাকা, হাঁটা, বসা, একসাথে সিগারেট কাউন্টারে খাওয়া কেমন একটা মাতাল করে দেয় প্লাবনকে।
আমার ছোটবেলা থেকে কলেজঃ
“এই বাবান তোদের এই স্যার কেমন?”
“দেবাদিত্য স্যার দুরন্ত পড়ায় মা। খিদে পেয়েছে কিছু দাও না।”
“দাঁড়া আমি তোকে পরোটা-আলুভাজা করে দিচ্ছি।”
“তোর ইউনিভার্সিটিতে ভালো বন্ধু হয়েছে?”
“হ্যাঁ মা। কৌশিক খুব ভালো ছেলে।”
মায়ের কথায় আনন্দে বাথরুমে গিয়ে ফ্রেস হয় প্লাবন। আচমকা চোখের সামনে ভেসে আসে দেবাদিত্য স্যারের পড়ানোর সময়ে পাশে বসা কৌশিকের সাথে গা ঘষাঘষি করে বসা। কৌশিকের শরীরের স্পর্শ, ঘামের গন্ধ।
“তোদের সাথে কতোজন পড়ে?”
“স্যার দুটো ব্যাচ পড়ান আর প্রতি ব্যাচে ৮ জন।”
স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে তিথি। আসলে সেই ঘটনার আতঙ্কে প্রথমদিকে প্রাইভেট টিউশান দিতে চায়নি কিংবা দিলেও বারবার সেই ঘরে নানান আছিলায় যেতো তিথিদেবী। মাধ্যমিক অবধি ছেলের সাথে রোজ স্কুলে যাবার ফলে ছেলেকে প্রায়শই বন্ধুদের টিটকিরি শুনতে হতো, ‘ফিডিং বোতল বেবি’ ইত্যাদি ইত্যাদি। ছেলে হেনস্তার শিকার হচ্ছে বুঝেও কোথাও সেইদিন, স্কুলের সেই রুম, অজ্ঞান বাবান কিংবা ডাক্তারের সেইদিনের কথাগুলো আজো কানে বাজে।
“তিথি ৪-৫ আগের একটা সামান্য ঘটনা, একটা অতীত নিয়ে কেন পড়ে আছো?”
“আমার ভয় করে।”
“কিসের ভয়? তোমার কি ধারণা তোমার ছেলের রোজ ধর্ষন হবে?”
“তোমার কি ইচ্ছে পল্লব? ওর সাথে আবার একই ঘটনা হোক?”
“আমি শুধু ওই জঘন্য অতীত ভুলতে চাই তিথি। বাবান আমারও সন্তান।”
কোথাও একটা বুকচাপা হাহাকার বেড়িয়ে আসে একজন অসহায় বাবার মুখ থেকে।
“তুমি সেদিন ভয় পেয়েছিলে পল্লব...”
“আমি ভয় পেয়েছিলাম সিস্টেমকে, এই সমাজকে। আজ তুমি ছেলের সঙ্গে যাচ্ছো বলেই টিটকিরি শুনছ আর সেইদিনের ঘটনা সবাই জানলে সবাই দাঁত-নখ বের করে ছিঁড়ে খেত আমাদের, আমাদের সন্তানকে। ওরা বাঁচতে দিত না বাবানকে। তোমার কি মনে হয় আমার কষ্ট হয় না। সেইদিন থেকে আজ পর্যন্ত আমি বাবা হিসেবে নিজেকে ক্ষমা করতে পারিনি। আমার আজো মনে হয় সব পেডোফিলিক হারামিগুলোকে গুলি করে মারি। আমরা অপারগ তিথি, খুবই অসহায় আমরা মধ্যবিত্তরা।”
আমি পুরুষ বেশ্যা আমার ডায়ারিঃ
‘বেশ্যা’ এই শব্দটা আপনাদের আরোপিত হলেও আমার একটা আপত্তি আছে। আমার মনে হয় এই শব্দটার আড়ালে কোথাও একটা হেরে পরাজয় বলুন কিংবা পরাভব, সব থেকে পালিয়ে যাওয়া, হীনমান্যতা লুকিয়ে আছে। এটা মেনে নিলে সবার চোখে নিজেকে ছোট করা হয়। আসলে আজকের এই সমাজে কেউ নেশার বশে বেচলেও অশিকাংশই পেটের দায়ে শরীর বেচে। একটা ছেলে যখন শরীর বেচে, তখন তার পেছনে লুকিয়ে থাকে কোন করুণ কাহিনী। ছোটবেলায় কাকা-মামা কিংবা দাদা কিংবা পাড়ার কেউ অথবা বন্ধুবান্ধবদের দ্বারা ঘটা একটা ঘটনা তার জীবনে অভিশাপ...
আমি এক পুরুষ, আমি বেশ্য।
আমি কোন সময়ে কি চমকে উঠি?
আমি কি অবাক হই?
নিজেকে কি সন্দেহ করি?
আমি কি আদৌ মানুষ?
আমি আকাশ পানে তাকিয়ে আমি
একাকী ধ্রুবতারা মণিতে দেখি,
অপার বিষণ্ণতা।
আমি এক পুরুষ, আমি বেশ্য।
নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ঠোঁটে ঢেউ খেলিয়ে
ছড়িয়ে দেয় শরীরের উত্তাপ,
সমাজ তুমি কি চাও?
আমি এক পুরুষ, আমি বেশ্যা।
বেঁচে থাকার অদম্য বাসনা অন্ধকূপে ভেসে ওঠে,
আমার স্বপ্ন হয়ে ওঠে সিলিং থেকে ঝোলা লাশ।
নিকষ কালিমা লজ্জিত হয় আমার নগ্নতায়।
আমি যন্ত্রণায় লজ্জা পাই,
গুটিয়ে ভাবি
আমি কি মানুষ?
সমাজ কি চায়?
ক্রমশ

