Dipayan Sarkar

Comedy Classics Children


4  

Dipayan Sarkar

Comedy Classics Children


"লকডাউন এ ভ্রমণ"

"লকডাউন এ ভ্রমণ"

6 mins 25 6 mins 25

   জানি বাড়ি বসে লকডাউন এ ঘুরে বেড়াতে মন চাইছে! তাইতো? তবে তো একেবারে সঠিক ঠিকানায় এসেছেন। চলুন আপনাদের সুন্দর জায়গা গুলোর সন্ধান দিয়ে দিই। আর এই লকডাউন এ সেই সব জায়গায় নিমেষেই ঘুরে আসতে পারেন আর তাও আবার একদম বিনামূল্যে... একেবারে ফ্রী.. ফ্রী... ফ্রী। আসুন তবে আমি নিজেই নিয়ে যাই নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে।

    প্রথমেই "বেডরুম গঞ্জ" থেকে অলসতা কাটিয়ে উঠে আসতে হবে। নানা ঐ শুয়ে শুয়ে মোবাইল ফোনের মধ্যে নিমজ্জিত থেকে ঘোরাঘুরি সম্ভব নয়। বরং এখনি উঠে আসুন নতুবা মা কিম্বা বৌ এর হাতের জাদুর ছোঁয়ায় কিম্বা পিঠে অসাধারণ থাপ্পড় বা ঘুসির আঘাতে ঘুম এমনিতেই ভেঙে যাবে। এই রে আপনাদের বলতে বলতে আমার নিজের ই ওঠা হয়নি। আর রক্ষে নেই। "বাঁচাও কে আছো মরে ছি যে দেরি করে!!"

      না বাবা বাঁচলাম! মশারী গুছিয়ে বিছানাপত্র গুলো ঠিকঠাক করে দেওয়ার জন্য রুদ্র রূপ দেখতে হলো না। ছুঁটে গিয়ে চলে গেলাম "বাথরুম নগরীতে"। আহ্! এর চেয়ে শান্তির জায়গা কি আর আছে? মনের সব কষ্ট ও বেদনা একেবারে জলের মাধ্যমে বাহিত হয়ে কোন অদূরে চলে গেল। নানান চিন্তা ভাবনার জন্ম গ্রহন কিন্তু এই নগরীতেই হয়। আবার এখন তো অফুরন্ত সময়, তাই আপনারা খবরের কাগজ নিয়ে বসে যেতেই পারেন কারণ এখানে দেখবার মত তেমন কিছু নাই। তাই নিজেদের চিন্তা ভাবনার জাগরণ ঘটাতে দিনে কয়েকবার ঘুরে আসুন এই নগরীতে। আর ঠিকানা মাথায় রাখুন কারণ বেশ কয়েকবার যেতেও হবে।

    এরপর "বারান্দা গড় " এ চলে আসুন। দেখুন বাইরে অজস্র পাখিরা গান গেয়ে শোনাবে। এমন সুন্দর মধুর প্রাকৃতিক সঙ্গীত হয়তো আগেও শুনেছেন অথচ খেয়াল করেন নি কখনো। এই তো সুযোগ, মনপ্রাণ দিয়ে শুনুন। কোয়েলের কুহু ডাক থেকে শুরু করে রঙ-বেরঙ এর পাখির কলতানে মুখরিত হয়ে যাবেন। এই যা! ব্যাটা... কাক গুলো ও এসে কা... আ... কা... আ... শুরু করেছে। কর্কশ শব্দে মনের ছন্দ টাই ভেঙে গেল। নাহ্ চলুন আরেক জায়গায় নিয়ে যাই।

     মুখে মাস্ক লাগিয়ে চলে আসুন "উঠান ল্যান্ড" এ। অবশ্য যদি পাশের বাড়ির কাউকে নিজের চাঁদ পানা বদন খানি দেখানোর ইচ্ছে থাকে তাহলে মাস্ক নাও পড়তে পারেন। কিন্তু তার জন্য বকাঝকা খেলে আমায় কিছু বলতে আসবেন না কিন্তু। আমি আগেই সাবধান করে দিচ্ছি! উঠান ল্যান্ড এ এসে দেখুন বাইরে দিয়ে অনায়াসে কুকুর, বিড়াল আর অন্য পশু পাখি অবাধে বিচরণ করছে। আপনি তাদের দেখছেন না তারা আপনাকে দেখতে এসেছে সেটা বলা যদিও মুশকিল। আর ঐ দেখুন না একখানা হনুমান আমাকে দেখে লাফিয়ে লাফিয়ে চলে গেল দাঁত বের করে মুচকি হাসি হাসতে হাসতে। যেন চিড়িয়াখানায় আমাকে বন্দি দেখে খুব খুশি হয়েছে। ধুর এই অপমান নেওয়া যায় বলুন তো? না চলুন আরেক জায়গায় নিয়ে যাই বরং।

    এরপর "সিঁড়ি প্রদেশ" এ চলে আসুন। এখানে পর্বত আরোহণ এর মজা নেওয়া যাক। সিঁড়ির এক এক ধাপ অতিক্রম করতে করতে উপরে উঠে আসুন। ভীষন কঠিন কিন্তু। যদি মনে হয় কষ্ট হচ্ছে তবে রেলিং ধরে ধরে উঠতে থাকুন। আমি তো অনেক ফুট উচ্চতায় উঠে এসেছি। আরেকটু গেলেই সিঁড়ি প্রদেশ এর সর্বোচ্চ চূড়া জয় করে ফেলব যেখানে "ব্যালকনি পুর" অবস্থিত আছে। যাহ্ ভুলেই গেছি, কতগুলো ধাপ অতিক্রম করে উপরে এসেছি। দাঁড়ান আরেকবার গিয়ে গুনে নিই। এই এক ধাপ....এই দুই ধাপ...এই তিন ধাপ....... বাপরে প্রায় ১২০০‌ ফুট উচ্চতায় উঠে এসেছি। বিশ্বাস হচ্ছে না? এক এক ধাপ যে প্রায় ৩০ ফুটের সমতুল্য। এবার আপনারাই বিচার করে দেখুন।

      আহা! এবার ব্যালকনি পুর এসে মন যে জুড়িয়ে গেল। এত উচ্চতায় ফুরফুরে স্নিগ্ধ বাতাস মন ছুঁয়ে গেল। এখান থেকে বাইরে নীচের দিকে তাকিয়ে দেখা পাবেন বিশেষ কমান্ডো বাহিনীর যাদের হাতের তেল মাখানো চকচক করতে থাকা লাঠি আপনাকে অনবরত ডাক দেবে," আয় খুকু আয়...আয় খুকু আয়...।" যদি আপনার পশ্চাদ্দেশে মালিশের দরকার হয় তবে বিনামূল্যে এই সেবা গ্রহন করতে পারেন। তবে বলে রাখি মাস্ক পড়ে ঔষধ, সবজি কিম্বা অত্যাবশ্যক জিনিস নিতে গেলে এই বিনি পয়সার সেবা গ্রহণ করা যাবে না। তাই বিনা কারণে একবার ঘুরে এসে দেখুন , এই অপূর্ব মালিশের তারিফ না করে থাকতে পারবেন না!

    এরপর সিঁড়ি প্রদেশ দিয়ে নেমে এসে "সোফা দ্বীপ" এ যেতে পারেন। এর চেয়ে আরামদায়ক জায়গা আর কোথাও খুঁজে পাবেন না। মন হালকা করে একটু ঘুমিয়ে নিতে পারেন। কিম্বা মানবজাতির এক অনন্য আবিষ্কার মানে ঐ বোকা বাক্সের সামনে বসে একটু বাইরের জগতের খোঁজ নিয়ে নিতে পারেন। আমিও তাই করছি কিন্তু একি শুধু চিৎকার চেঁচামেচি ছাড়া আর কিছুই হচ্ছে না যে। ধুর! বরং বাথরুম নগরীতে গিয়ে স্নান সেরে একটু ফ্রেশ হয়ে নেওয়া যাক।

     এরপর চলে আসা যাক "রান্না নিকেতনে"। সারাবছর যারা আপনাকে খাওয়ালো তাদের একটু সাহায্য করতে পারবেন না! এ কি কথা! একটু না হয় সবজি গুলো কেটে দিন, আর রান্না করতে পারলে তো কোন কথাই নেই। সে হোক না ঝলসানো রুটি কিম্বা নুন ছাড়া তরকারি। নিজে করে খেয়ে দেখুন এটাই অমৃত লাগবে। আর যদি নিজেকে একেবারেই ঢেঁড়স মনে হয়, তবে জলের বোতল ই না হয় ভরে দিন। এই রে আপনাদের বলতে বলতে আমার নিজের ই করা হয় নি। দাঁড়ান আমি আজ নিজেই রান্না করে খাওয়াবো বলে কথা তো দিয়ে ফেলেছি কিন্তু কোথা দিয়ে যে শুরু করি। যান যান বাথরুম নগরীতে ঘুরে আসুন, আমি ততক্ষণে রান্না টা সেরে নিই।

বাপরে এত দেড়ি করে এলেন যে, ঐ নগরীতে স্বপ্নের দুনিয়াতে হারিয়ে গেছিলেন বুঝি! আমার তো রান্না প্রায় শেষ। কি কি করলাম? এই পোড়া আলু ভাজা, বেশি লবণ এ ডাল, পাঁচমিশালি সবজি যদিও তা ঘেঁটে 'ঘ' হয়ে গেছে। আর ভাত হচ্ছে। ভাত টা আর করতে দিল না, বুঝলেন তো, আমার ট্রেলার দেখে যা ভয় পেয়ে গেছে!

      এবার স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে দিয়ে চলে আসুন "উইন্ডো সিটি" তে। এটা আবার আমার খুব প্রিয় জায়গা, কারণ এখানে একটা আরাম-কেদারা নিয়ে বসে গালে হাত দিয়ে ভাবতে ভাবতে বাইরের দৃশ্য দেখতে খুব ভালো লাগে। এখান থেকে বাইরের সবুজ জগতে হারিয়ে যেতে পারেন। দেখুন চোখে এক অনন্য অনুভূতি পাওয়া যাবে যা আর অন্য জায়গায় গিয়ে পাবেন না। দেখুন না আমি নিজেই হারিয়ে গেছিলাম। হ্যা জানি, এখানেও মন বসবে না বেশিক্ষণ।

     চলে আসুন তবে সবচেয়ে খোলামেলা জায়গায় অর্থাৎ "ছাদ পার্কে" । না না, অন্য পার্ক এর মত বাগান পাবেন না তবে নীল রঙের খোলা আকাশের দেখা পাবেন। আর কপাল ভালো থাকলে দেখা পেলেও পেতে পারেন সেই সমস্ত পাখিদের যারা বিমানের মত উড়ে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাচ্ছে। এরপর দেখা মিলতে পারে পেঁজা তুলোর মত মেঘের যাদের আনাগোনায় মন ও হালকা হয়ে উড়তে থাকবে। তবে দেখবেন পাখা গজিয়ে আবার আকাশে পথে উড়ে না যান। এতকিছুর পরও যদি মন ভালো না হয়, তবে আসুন আমার পরিচিত এই শেষ ঠিকানায়।


      কোথায়? সব পাপ পুণ্যের অবসান ঘটাতে চলে আসুন "ঠাকুর ধাম" এ। সব জায়গায় ঘুরে আসার পর পরম শান্তি কিন্তু এই ঠাকুর ধাম এই পাবেন। অনেক তো ঘোরাঘুরি হল, এবার না হয় একটু একান্তে বসে প্রার্থনা করুন। না না শুধু নিজের জন্য নয়, বরং সারা বিশ্বের সব ধরনের মানুষের জন্য। মন থেকে প্রার্থনা করলে আশাকরি এই দুঃসময় খুব তাড়াতাড়ি অতিবাহিত হয়ে যাবে। এরপর? আবার কত? বিনি পয়সায় আরও চাই? ১০টা জায়গায় ঘুরিয়ে আনলাম তো। কি গুনে দেখেননি? নিন গুনে দেখুন এবার। কি? ১০ টা হচ্ছে না?? একদম ঠিক, গুনেছেন কিনা দেখার জন্য ১০টা বললাম। এবার রিভিউ এ জানান যে কতগুলো জায়গায় ঘুরলেন। যান যান আর নয়, এগুলো তেই ঘুরে ঘুরে সময় কাটান।


     নিন এতো জায়গায় একেবারে বিনামূল্যে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ করে দিলাম। না না ধন্যবাদ দিতে হবে না। ঐ যে এত স্ট্রেস এর মধ্যেও যে আপনার মুখে হাসি ফোটাতে পারলাম এই অনেক।


(বিঃ দ্রঃ - উপরিউক্ত জায়গার নাম গুলো ফেসবুক পেজ থেকে এক ছবির মাধ্যমে পেয়েছিলাম, তাই সেই নামগুলো কাজে লাগিয়ে এই গল্প লিখে ফেললাম। নিন ভালো লাগলে শেয়ার করুন, নানা আমার গল্প নয় আপনার এই মিষ্টি হাসি যেটা আমার কথা গুলো শুনে জেগে উঠেছে। কারণ আপনার এই হাসি অন্য কারোর মন ভালো হয়ে ওঠার কারণ হতে পারে।)

এমনভাবে হাসতে থাকুন আর হাসাতে থাকুন। অনেক অনেক ধন্যবাদ ।



Rate this content
Log in