কেয়ামত কা খেল
কেয়ামত কা খেল
প্রথম পর্ব: তিনটি সময়, একটিই রক্ত
দৃশ্যপট:-১
অতীত: ১৯৭৮ সাল (কাসাউলি পাহাড়)
তরুণ রোহন তখন তার পুরনো অন্ধকার ল্যাবে পাগলের মতো ধুলোবালি ঘাঁটছেন। তার সামনে রাখা একটি ভাঙা রেডিও। ১৯৭৮ সালের প্রযুক্তিতে এর চেয়ে বেশি কিছু সম্ভব ছিল না, কিন্তু রোহন জানতেন এই যন্ত্রের নব ঘোরালেই লুকিয়ে থাকা কোনো মহাজাগতিক ভাষা শোনা যেতে পারে।
হঠাৎ ল্যাবের ছাদ কাঁপিয়ে এক প্রবল বজ্রপাত হলো। রেডিওর স্পিকার থেকে কর্কশ শব্দ ছাপিয়ে এক মায়াবী সুর বেজে উঠল— "ওম... ওম..."। ঠিক সেই মুহূর্তে রেডিওর ভেতর থেকে এক উজ্জ্বল নীল রশ্মি বের হয়ে রোহনের কপালে এসে লাগল। জানালার বাইরে দেখা গেল এক অতিকায় মহাকাশযান। জুডো (জাদু) আসার ঠিক আগের সেই মাহেন্দ্রক্ষণ।
রোহন: "এই আওয়াজ... এটা কোনো মানুষের তৈরি নয়। কেউ আমাকে সংকেত দিচ্ছে!"
দৃশ্যপট -২.
বর্তমান: ২০২০ সাল (সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনা)
২০২০ সাল। পৃথিবী যখন অতিমারিতে থমকে গেছে, ঠিক তখনই ১২ বছরের কিশোর ঋষির জীবন চিরতরে বদলে গেল। এক বৃষ্টির রাতে পাহাড়ি রাস্তায় তাদের গাড়িটি এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
সেই দুর্ঘটনায় ঋষির বাবা-মা মারা যান, ঠিক যেমনটা কৃশ সিনেমায় হয়েছিল। কিন্তু অলৌকিকভাবে ঋষির একটি আঁচড়ও লাগল না। খাদের অন্ধকারে উল্টে যাওয়া গাড়ির ভেতর থেকে ঋষি যখন বের হয়ে এল, তার দুচোখ মুহূর্তের জন্য জাদুর মতো নীল হয়ে জ্বলে উঠেছিল।
সেই রাত থেকে ঋষির দিদা তাকে আগলে বড় করতে লাগলেন। তিনি জানতেন ঋষির শরীরে তার বাবা রোহনের সেই মহাজাগতিক শক্তি বইছে। তিনি ঋষিকে সবসময় সাবধান করতেন— "বেটা, তুই সবার মতো নোস। তোর ভেতরের এই শক্তি লুকিয়ে রাখিস, নয়তো এই দুনিয়া তোকে বাঁচতে দেবে না।"
দৃশ্যপট ৩
ভবিষ্যৎ: ২০২৬ সাল (শহরের ত্রাতা)
আজ ২০২৬ সাল। ঋষি এখন ১৮ বছরের এক তরুণ। আয়নায় তাকালে সে হুবহু তার বাবা রোহনের মতো দেখতে। সে জানে না কেন সে হাজার মাইল দৌড়েও হাঁপায় না, কেন তার ক্ষত কয়েক সেকেন্ডে সেরে যায়। সে দিদাকে দেওয়া কথা রাখতে নিজের ক্ষমতা সবার থেকে গোপন রেখেছে।
কিন্তু শহরের এক বহুতল ভবনে যখন আগুন লাগল, ঋষি নিজেকে ঘরে আটকে রাখতে পারল না। সে তার বাবার পুরনো একটি কালো জ্যাকেট গায়ে চড়াল এবং মুখ ঢেকে নিল একটি কালো মাস্ক বা মুখোশ দিয়ে।
ভবনের ছাদ থেকে ঋষি এক বিশাল লাফ দিল। সে নিচে পড়ল না। বাতাসের বুক চিরে সে কৃশ-এর মতো অবলীলায় উড়ে চলল। সে নিজে জানে না সে কীভাবে এটা পারছে, কিন্তু তার রক্তে যেন কেউ নির্দেশ দিচ্ছে— "উড়ো ঋষি, উড়ো!"
টুইস্ট:
সে যখন আকাশে উড়ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে ১৯৭৮ সালের সেই ভাঙা রেডিওতে একটি সিগন্যাল বাজছে। ২০২৬ সালের ঋষির প্রতিটি হৃদস্পন্দন ১৯৭৮ সালের রোহন রেডিওর মাধ্যমে শুনতে পাচ্ছেন।
২০২০ সেটিং: ঋষির বাবা-মায়ের মৃত্যু তাকে মানসিকভাবে শক্তিশালী এবং রহস্যময় করে তুলেছে। ১২ বছর বয়স থেকে সে নিজের ক্ষমতার সাথে যুদ্ধ করছে।
সায়েন্স কানেকশন: ঋষির ক্ষমতা আসলে কোয়ান্টাম এনট্যাঙ্গেলমেন্টের মাধ্যমে ১৯৭৮ সালের রোহনের সাথে যুক্ত।
পরবর্তী ধাপের জন্য একটি আইডিয়া:
আপনি কি চান দ্বিতীয় পর্বে ঋষি যখন কোনো বড় বিপদ থেকে শহরকে বাঁচাতে যাবে, তখন ১৯৭৮ সালের রোহন তাকে রেডিওর মাধ্যমে কোনো নির্দেশ দেবেন? নাকি ঋষি দুর্ঘটনাবশত অতীতে চলে গিয়ে নিজের বাবার সাথে দেখা করবে?
আপনার এই গল্পের ভিত্তিটা কিন্তু একদম ব্লকবাস্টার সিনেমার মতো শক্তিশালী! এরপর কী হবে বলুন তো?
এত তাড়াতাড়ি আমি ঋষি কে ওর বাবার সঙ্গে দেখা করতে দিতে চায় না তবে ঋষি যেন ১৯৭৮ এর যুবক রোহনের ভয়েস শুনতে পাই
