Amitav Ganguly

Drama Romance

3  

Amitav Ganguly

Drama Romance

কে প্রেমিকা?

কে প্রেমিকা?

10 mins
2.0K



কেমিস্ট্রি ক্লাস শেষ হয়ে যাবার পর যখন বেরোলাম তখন ভাবলাম কাকলি আমার সাথে থাকবে , কিন্তু সে অন্য বন্ধুদের সঙ্গে আমার পাশ কাটিয়ে বেরিয়ে গেলো । অল্প সময়ের মধ্যে ক্লাস ও সামনের দালান খালি হয়ে গেলো । 


একটু দাঁড়িয়ে চিন্তা করলাম, কি করে কাকলির সাথে কথা বলা যায় । মনটা একটু খারাপ লাগছিলো । সে কি জানে না আমার ওর প্রতি কেমন মনোভাব ? আমার প্রেমের একটু আভাস পায়ে না ? আমার ভালোবাসা কি এতই ঠুনকো ও হালকা যে বোঝা মুশকিল? এরকম উপেক্ষা করার কোনো মানে হয়ে না ।


এটা মানতে হবে আমি বড় কষ্টে আছি । কাকলি, আমার মনে সব সময়ে বিদ্যমান । অনেক রাতে  ঘুম হয়ে না । দিনের বেলায় যখন কোনোভাবে ওর সাথে একা থাকার সুযোগ আসে, আমার হৃদয়ে এমন তোলপাড় হয়ে আমি ঠিক ভাবে কথা বলতে পারি না । মাথা গুলিয়ে যায় ।


কাকলির রূপ, কলেজের বহু চর্চিত ব্যাপার! ওর কালো টানা চোখ, নমিত ভুরু, গোলাপি অধর, ফর্সা ত্বক ; তার সাথে লম্বা কোঁকড়া চুল এবং একহারা গঠন দেখলে মনে হয়ে ভগবান যত্ন করে ওর সৃষ্টি করেছেন ! তাছাড়া কাকলির মিষ্টি স্বভাব ও হাস্যোজ্জ্বল মুখ, সবার মন জয় করে ! হয়তো অনেকে সেই সুন্দরী মেয়েটার প্রেমে পড়ছে, কিন্তু মনে হয়ে সর্বাধিক ভালোবাসা আমার !


এই সময়ে আমার ভীষণ মনে হচ্ছিলো তার সাথে দেখা করি ও যা থাকে কপালে, ওকে আমার প্রেম নিবেদন করি ... ওকে নিজের করি । মনে আশা আছে সে আমাকে অস্বীকার করবে না ।


আমি ওর বান্ধবী সুপ্রিয়া কে মোবাইল এ ফোন করলাম , "কাকলি কোথায় আছে বলতে পারো, ওর সাথে আমার দেখা করা খুব জরুরী ।" সুপ্রিয়া আমাকে সবসময়ে সাহায্য করে, সে বললো, " ধীমান, ওর শরীর সামান্য খারাপ, এখন হোস্টেল চলে গেছে । "


এটা আমি জানতাম না , যাইহোক আমি ওর সাথে দেখা করবো, এটা জানিয়ে, কলেজ থেকে বেরিয়ে এলাম! সুপ্রিয়া যদি পারে তাহলে কাকলি কে খবর দিয়ে দেবে । 


আমার মনে দ্বন্দ্ব চলছিল ...কাকলির হোস্টেল এ যাওয়ার উচিত হবে কিনা । কিছু চিন্তা করে মনে হলো এখন গিয়ে চেষ্টা করে দেখি , যদি আমার সাথে দেখা না করতে চায় তাহলে ফিরে যাবো । ওর কাছে এখন যদি না যাবার চেষ্টা করি তাহলে মনটা বিক্ষিপ্ত হয়ে থাকবে । 


নিজের হোন্ডা মোটরসাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম! কাকলির প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে থাকে , শহরের অন্য প্রান্তে ! সময় লাগবে, ট্রাফিক প্রচুর । কে জানে যদি আমার ভাগ্য ভালো হয়ে তাহলে দেখা হয়ে যাবে এবং আমি প্রথম বার আমার হৃদয়ে খুলে প্রেম নিবেদন করতে পারবো ।


যখন কাকলির হোস্টেল পৌঁছলাম তখন বিকেল ৫.৩০ বেজে গেছে । শীতের রোদ প্রায় ক্ষীণ হয়ে এসেছে । ঠান্ডা হাওয়া বেশ জোরে চলছে ; আমার শরীর ও মন দুটোই সামান্য কেঁপে গেছে ; হয়তো আমি বিচলিত ছিলাম । এরকম আমার সাধারণত হয়না কিন্তু আজকের অবস্থা অন্যরকম ।   মোটরসাইকেল, একটু দূরে রেখে আস্তে আস্তে ওর বিল্ডিং এর দিকে এগিয়ে গেলাম।


জানতাম ও ফার্স্ট ফ্লোর এ থাকে । উপর দিকে তাকাতে কাকলির ঘরের জানলা দেখা গেলো, সেটা খোলা ছিল, খোলা পর্দা হাওয়ায় মৃদু ভাবে দুলছিলো, হালকা সূর্য রশ্মি পুরো জায়গা সোনালী রঙে প্রজ্বালিত করছিলো, খুব সুন্দর দৃশ্য, যেমন কাকলির রূপ !


অনেক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলাম সেই ভাবে । অন্যরা হয়তো ভাবছে কেন একটা লোক মহিলার হোস্টেলের বাইরে এভাবে দাঁড়িয়ে আছে । আমি কিন্তু এসব নিয়ে ভাবছি না । মনে তখন কাকলি ছেয়ে আছে ।


দেখছিলাম জানলার কিছু ভেতরে, কাকলি হেঁটে গেলো, তার কিছু পরে আবার উল্টো দিকে গেলো , কয়েক মুহূর্তের জন্য জানলার সামনে দাঁড়ালো , তখন সূর্যের আলোতে মুখটা প্রজ্জলিত হয়ে উঠলো , যেন একটি দেবীর মুখমণ্ডল । সেই মুহর্তে আমার মনের অবস্থা বর্ণনা করা মুশকিল , তবে এটা নিশ্চই বলা যায় আমার দ্রুত বক্ষ স্পন্দন শুনতে পারছিলাম । এই পরিস্থিতি তে আমার কি করা উচিত সেটাই ভাবছিলাম , যখন মনে হলো এখানে আর থাকা উচিত নয়, তখন আমি ধীরে ধীরে কিছু দূরে রাস্তার ডান দিকের পার্কে র দিকে চলতে শুরু করলাম! ওখানে বসে ভাবতে হবে আমার পরের পরিকল্পনা কি হবে ।


কয়েক মিনিট পর পার্ক এ ঢুকে পশ্চিম দিকের এক কোণে একটি খালি বেঞ্চ দেখে এগিয়ে গেলাম । পাশের বেঞ্চে একটি মেয়ে বসে আছে , অন্য দিকে মুখ ঘোরানো, তাতে কিছু এসে যায় না , আমার প্রাইভেসী কেউ নষ্ট করতে পারবে না ! এরমধ্যে শীতের সন্ধে এসে গেছে, অন্ধকার দ্রুত ঘনিয়ে আসছে ।


বসবার পর আমি কয়েক মুহূর্তের জন্য চোখ বন্ধ করলাম, কেন জানি হয়তো চিন্তাধারা সামলাবার জন্য; চোখ মেলে যখন দেখলাম তখন দৃষ্টি গেলো পাশের বেঞ্চের দিকে যেখানে সেই মেয়েটি বসে আছে ।

 

অন্ধকার আরও যেন একটু গভীর, মেয়েটার মুখ বেশ অস্পষ্ট লাগছে, কিন্তু আমি তাকে একটুক্ষণ দেখে একেবারে বিস্ময়ে হতবাক্ হয়ে গেলাম !


এ কে ? কি করে সম্ভব?


এই মেয়েটি তো কাকলি !


তার পরনে গোলাপী সালওয়ার কামিজ , এটা ওর প্রিয় ড্রেস জানতাম ।


আমি উঠে এগিয়ে যেতে, মেয়েটি মাথা নিচু করে ওর খোলা চুল দিয়ে মুখটা প্রায় ঢেকে দিয়েছিলো , আমি বললাম, " একি, কাকলি, তুমি এখানে ? কিছূক্ষন আগে তো তুমি হোস্টেল এ ছিলে, এর মধ্যে এতো তাড়াতাড়ি এখানে কিভাবে এলে ?"


মেয়েটি কোনো উত্তর দিলো না , নিশ্চল হয়ে বসে ছিল ! 


আমি কি করবো বুঝতে না পেরে তাকিয়ে আছি এমন সময়ে সেই অসম্ভব ব্যাপারটা হলো ! আমার চোখের সামনে , সেই আধা অন্ধকারে, কাকলি ধীরে ধীরে মিলিয়ে যেতে লাগলো .... প্রথমে নিচের শরীর , তারপর মাঝের , শেষে মাথা অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছিলো ... এবং দুটো চোখ সর্বশেষে বিলুপ্ত হবার আগে আমার দিকে তাকিয়ে ছিল , তাতে কোনো সন্দেহ নেই !


এসব দেখে ও উপলব্ধি করে আমার মন ভয়ে কুঁকড়ে গেলো , হৃদয় কম্পিত হতে লাগলো ও মুখ শুকিয়ে গেলো ...খালি বেঞ্চের দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কি করবো বুঝতে পারলাম না ! এটা কয়েক মুহূর্তের জন্য , তারপর আতঙ্কে চারিদিকে তাকালাম ! কেউ কোথাও নেই ! আমি ঘুরে প্রায় দৌড়ে পার্ক এর গেট দিয়ে বেরিয়ে গেলাম ! নিঃস্বাস থেমে থেমে বেরোচ্ছে ও পা তখন কাঁপছে ! একটু এগিয়ে ফুটপাথের উপর একটা বড় পাথর পেয়ে বসে পড়লাম !


সামান্য বসে থাকবার পর নিজেকে একটু সংযম করলাম ! মনে অনেক প্রশ্ন চলছে : কি হলো ? এটা কি একটা ভৌতিক ব্যাপার ? অশরীরী ? কাকলি কি কোনো বিপদে পড়েছে ? এখনই আমার ওর হোস্টেলে গিয়ে দেখা করা উচিত ? সে কি ওখানে থাকবে?


আর সময়ে নষ্ট না করে, মনে জোর নিয়ে ওর হোস্টেলের দিকে এগোলাম । তখন রাত হয়ে গেছে । রাস্তায় আলো জ্বলে উঠেছে , দোকান গুলো ঝলমল করছে , অনেক লোকের আসা যাওয়া, রীতিমতো ভীড় , মনেই হচ্ছে না যে এরকম অবাস্তব ব্যাপার হয়েছে, পাশের পার্কে ।


পৌঁছে, কাকলি কে নিচে ডাকলাম । সে ছিল !



ওকে দেখে মনে হলো না যে কিছু হয়েছে । হালকা মেকআপ । পরনে জিন্স ও সাদা টপ । সেই অশরীরী তো গোলাপী সালওয়ার কামিজ পরেছিলো । সেটা সত্যিই অশরীরী না কাকলি নিজে , আমার কি চোখে ভুল হয়েছে ? এরই মধ্যে তাহলে ড্রেস চেঞ্জ করে নিয়েছে ?


শান্ত ভাবে কাকলি আমাকে জিজ্ঞাসা করলো , " কি ব্যাপার ধীমান ? হটাৎ এ সময়ে ? কখনো তো আমার এখানে আসনি। সব ঠিক আছে তো ? "


আমি নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম , " তোমার সাথে খুব জরুরী কথা আছে , রাস্তার ওপারের কফি শপ এ যাবে ? "


কে জানে, হয়তো আমার চেহারা দেখে এবং গলার স্বর শুনে ও বুঝতে পারলো আমার মানসিক অবস্থা সেজন্য আর কথা না বাড়িয়ে, আমার সাথে বেরিয়ে এলো ।


কফি অর্ডার দিয়ে আমি অনেক্ষন কিছু বলতে পারলাম না । ও বললো , " মনে হচ্ছে তোমার কোনো বিপদ হয়েছে ! কি হলো ? আমার সাহায্য দরকার ? "   


কফি আসবার পর, এক চুমুক দিয়ে আমার গলা একটু খুললো ।

 

"তোমাকে, আধ ঘন্টা আগে নিকটবর্তী পার্কে দেখলাম, তারপর ....তারপর....!" আমার কণ্ঠস্বর যেন আটকে গেলো । 


আবার শুরু করলাম , "তোমার সাথে কথা বলবার আগেই তুমি অদ্ভুত ভাবে খোলা বাতাসে মিলিয়ে গেলে ...সেটা ভয়ানক.. সেটা কি সম্ভব ? তার আগে  তুমি পার্কে কখন ও কেমন ভাবে এলে আমি বুঝতে পারলাম না ! তার মিনিট পাঁচেক আগে তোমাকে হোস্টেলের ঘরে দেখেছি; এরই মধ্যে আমার আগে ওখানে কি করে পৌঁছলে, আমার অজান্তে , যখন একটাই রাস্তা ও আমি তার উপর হাঁটছিলাম ...এটা কি আমার দেখার ভুল, না আমি কি পাগল হয়ে যাচ্ছি?"     


তারপর আর কি বলেছিলাম , তা মনে করতে পারলাম না ! 


এরপর আমি চুপ করে কাকলির দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলাম ।


প্রথমে সে কিছু বললো না তারপর আমার চোখের উপর চোখ রেখে আলতো ভাবে বললো, " প্রথমে জিজ্ঞাসা করি, তুমি আমার হোস্টেলে কেন এসেছিলে ?


আমি ঢোঁক গিললাম, এবার আমার প্রেম নিবেদনের সময়ে এসেছে ; এই অদ্ভুত অভিজ্ঞতা আমার ইচ্ছে কে সামান্য স্থগিত করেছিল ! নিজেকে সামলে মনের কথা বলতে হবে ।


" কাকলি , তুমি বুঝতে পারো তোমার প্রতি আমার কি মনোভাব? "


সে প্রশ্ন করলো , " কি? আমি তো ঠিক জানি না ? তুমি আমাকে এখন বোলো । "


আমার বুকের ধুকপুকুনি আবার শুরু হয়ে গেছে , " কাকলি ...তোমাকে আমি ভালোবাসি ...তোমাকে চাই ... আমি তোমার ... তুমি আমাকে চাও ? প্লিজ "না" বোলো না ! তাহলে আমি শেষ হয়ে যাবো । "


সে আমার দিকে চেয়ে সামান্য হাসলো, " পাগল ছেলে ! তোমার, আমার প্রতি এমনই আবেগ , সবসমই আমাকে দেখছো ... যেখানে দেখা সম্ভব হয়তো না , সেখানেও দেখছো ! " এই বলে কাকলি নিজের কফি শেষ করে উঠে পড়লো , "পরে দেখা হবে । "


আমি কিছু বলতে পারলাম না ; ওর চলে যাওয়া দেখতে লাগলাম । কিন্তু আমার মন খুব খারাপ হয়ে গেলো, সব দিক থেকেই আমার দুর্ভাগ্য , কোনো ব্যাপার ঠিক হচ্ছে না । কাকলি আমার প্রেম স্বীকার করছে না , এরপর সেই অশরীরীর ভয়াবহ অভিজ্ঞতা, যার কোনো উত্তর বা ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না । আমি কি করবো? 


এই সব ভাবতে ভাবতে কফি হাউস থেকে বেরিয়ে, উল্টো ফুটপাথে যাবার জন্য বাজারের বড় রাস্তায় নাবলাম , এমন সময়ে দেখলাম একটি গাড়ি আরেকটি গাড়ি কে rashly overtake করছে এবং আমি সেই চলন্ত গাড়ির সামনে এসে গেছি ।


পুরো ঘটনা যেন কয়েক মুহূর্তের মধ্যে হলো .. আমার মৃত্যু হয়তো অবধারিত .... কিন্তু না, একটা প্রবল ধাক্কা খেয়ে আমি ছিটকে পড়লাম ... মাথায় সামান্য চোট লাগলো , তবে প্রাণে বেঁচে গেলাম ! দুটো গাড়ির ব্রেক এর কর্কশ আওয়াজ ও আশেপাশে লোকেদের চেঁচামেচি আমার মন আচ্ছন্ন করে দিলো ... কয়েক মুহূর্তের জন্য চোখ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, তারপর দেখলাম ভিড়ের মধ্যে দিয়ে একটি মেয়ে হেঁটে দূরে চলে যাচ্ছে ; সে আর কেউ নয় ... কাকলি ...অথবা তার অশরীরী ! ওর পরনে গোলাপী সালওয়ার কামিজ !


কাকলি তো সামান্য আগে জিন্স ও টপ পরেছিলো ! এতো তাড়াতাড়ি আবার ড্রেস বদলালো ?


আর ভাবতে পারছি না ! তবে মনে হচ্ছে সেই মেয়েটা নিশ্চই আমার প্রাণ বাঁচালো ! কিন্তু কেন ?


এ সবের উত্তর কাকলির কাছেই আছে ? এই মুহূর্তে ওর সাথে কথা বলা দরকার । ওকে ডাকতে হবে ।

 

আবার সেই কফি হাউসে ফিরে এলাম । কাকলির আমার সামনে বসে ! আবার দু কাপ কফি আমাদের সামনে ।   


কাকলি কিন্তু এখনো জিন্স ও টপ পরে আছে । এই বিপদের ঘটনা বিস্তারিত ভাবে বললাম; দুটো আলাদা ড্রেস এর ব্যাপারটাও বললাম ।


এবার সে কথা বলতে শুরু করলো !


" ধীমান তুমি জানো না, দু মাস আগে একটা আশ্চর্য পরিবর্তন এসেছিলো আমার জীবনে ! বুঝতে পারলাম একটা ছায়া-মেয়ে আমার ভেতর থেকে বেরিয়ে এসেছে ! সেটা এমন অজানা অনুভূতি , বোঝানো সম্ভব নয় ! দেখতে একেবারে আমার মতো ! সে কখন আবির্ভূত হয়ে, আমি বলতে পারবো না তবে মনে হয়ে যখন আমি কিছু নিয়ে খুব চিন্তা করি, তখন আসে ! সেই সময়ে যদি ভাবি কোথাও যাবো, তখন এই ছায়া -মেয়ে আমার আগে সেখানে পৌঁছে যায় ! কেন বলতে পারবো না ! কখন উধাও হয়ে আমি এখনো বুঝে উঠতে পারিনি !


এই জটিল সমস্যা নিয়ে অনেক ডাক্তার, মানসিক রোগের চিকিৎসক, তন্ত্র সাধক, ইত্যাদি কে দেখালাম, কেউ এটা ঠিক করতে পারলো না ! শেষে এক বিদেশের এক্সপার্ট আমাকে বোঝালো, এর কোনো চিকিস্যা নেই, প্রাণ হানি হয়তো হবে না, তবে এর থেকে নিস্তার নেই ! দরকার মতো ব্যাপারটাকে সামলাতে হবে ! এটাও সম্ভব যে একদিন আমি এর থেকে মুক্তি পাবো !"


একটু নিঃস্বাস নিয়ে কাকলি আবার শুরু করলো, " আজ সুপ্রিয়া খবর দিয়েছিলো তুমি আমার সাথে দেখা করতে চাও । আমি বুঝতে পারছিলাম তুমি আমাকে প্রেম নিবেদন করবে । তোমাকে যখন হোস্টেলের বাইরে দেখলাম তখন ভেবেছিলাম তোমার সাথে পার্কে দেখা করবো । তোমার প্রেম আমি বুঝতে পারি , তোমাকে কি বলবো সেইজন্যে আমার মন চিন্তিত ছিল! এরই মধ্যে আমার ছায়া-মেয়ে পার্কে পৌঁছে গেছে, যাকে তুমি দেখে ছিলে !


তোমার কথা শুনে বুঝতে পারি ওর ড্রেস দেখে ও আমার ড্রেস দেখে তুমি বিভ্রান্ত হয়েছো । এটা মনে রেখো সেই ছায়া-মেয়ে যখন প্রথম আবির্ভূত হয়ে তখন আমি যা ড্রেস পড়েছিলাম, আমার যেমন বিন্যাস ছিল সেটাই নিয়েছে ও সর্বদা রেখেছে । সেই জন্যে তুমি ওকে গোলাপী সালওয়ার কামিজ পরে থাকতে দেখেছো ! আমি ড্রেস বদলালেও ছায়া- মেয়ের ড্রেস বদলাবে না ।"


এইসব আমি অবাক হয়ে শুনছি , " এটা কি সম্ভব ? "


কাকলি উত্তর দিলো , " হাঁ, বহু যুগ ধরে পৃথিবীর নানা জায়গায় এরকম হয়ে থাকে ! Norway দেশ এ ঘটনা ও, ছায়া কে বলে Vardogr ! Germany দেশে এটা "doppelganger " বলে ! ইংল্যান্ড এ "ফেচ" ! এর নানা আকার আছে ! আমার পরিস্থিতিতে আমি যা করতে পারি, physically আর মানসিক ভাবে, ছায়া -মেয়ে সেটা করতে পারে! "

 

এবার আমি সব বুঝতে পারছিলাম । অবিশ্বাস্য কিন্তু সত্য ! তার মানে সেই ছায়া-মেয়ে আমাকে নিশ্চিত মৃত্যু থেকে বাঁচিয়েছে ! এর অর্থ হলো কাকলি, সেই ছায়া -মেয়ের মাধ্যমে, আমাকে নতুন জীবন দান দিয়েছে !


এটা কি আমার প্রেমের উত্তর ?


" তুমি আমাকে ভালোবাসো কাকলি ? " এবার বলতে আমার কোনো দ্বিধা হলো না !  


উত্তরে, সে একটু হেসে আমার হাত নিজের নরম হাতে নিয়ে একটু চাপ দিলো !


আমি অভিভূত!!







Rate this content
Log in

Similar bengali story from Drama