Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published
Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published

Null Null

Tragedy


2.5  

Null Null

Tragedy


দিনান্তে দেখা

দিনান্তে দেখা

9 mins 9.6K 9 mins 9.6K

বড়ো লোহার গেটটার সামনে এসে থমকে দাঁড়ায় সোহিনী । সানগ্লাসটা খুলে নেমপ্লেটটা একবার ভালো করে দেখে নেয় । জলে-রোদে আবছা হয়ে এলেও নামটা পড়তে অসুবিধা হচ্ছে না । "দিনান্তে" 18, বিনোদ সরকার সরণী , বর্ধমান । যদিও সদ্য পূর্ব বর্ধমান হয়েছে , তবু এখনো বর্ধমান লেখাটাই থেকে গেছে । 

একটু এদিক-ওদিক দেখে সোহিনী । নাহ্ কাছেপিঠে তো কাউকেই দেখছে না , নিজেই ঢুকে পড়বে কি তবে ! গেটটা ঠেলতেই ধাতব আওয়াজে তার বার্ধক্য ধরা পড়ে । একটু সন্তর্পনেই গেটটা বন্ধ করে হাঁটতে থাকে । চওড়া লাল মোরাম বাঁধানো রাস্তার দুপাশে ফাঁকা জমিতে ঘরোয়া ভাবেই সবজি চাষ হয়েছে । কচি কচি লঙ্কা , লতানে গাছে কুমড়ো, আরও এটা সেটা সবজি ধরে আছে গাছগুলোতে । দোতলা এল প্যাটার্নের সবুজ বিল্ডিংটার সামনে ছোট ফুলের বাগান , পিছনে বেশ কিছু বড়ো বড়ো গাছও রয়েছে । সব মিলিয়ে বেশ মনোরম পরিবেশ । 

সবুজ দোতলা বিল্ডিংটার একতলায় টানা লম্বা বারান্দা । বারান্দার কোলে পরপর ঘর । দেওয়ালের সবুজ রঙের ওপর কালো আর সাদা রঙ দিয়ে অফিসঘর লেখাটা দেখেই বোঝা যাচ্ছে সামনের ঘরটাই অফিসঘর । বারান্দায় দু-তিনটে কাঠের চেয়ার আর একখানা বেঞ্চ পড়ে আছে অনাদরে,ওগুলোতে ধূলোর ছাপ স্পষ্ট । আশ্চর্য! এখনো কোনো মানুষের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না । অথচ এখানে নাকি পঁয়ত্রিশ-চল্লিশ জন বৃদ্ধা আবাসিক থাকেন । এতো বছরের প্রতিষ্ঠান যখন , নিশ্চয় সরকারি সাহায্য পায় । তারপর নানা এনজিও,ব্যক্তিগত ডোনেশন এসব তো থাকেই । তাতেও নিরাপত্তার এই অবস্থা !এ তো যে কেউ নির্দ্বিধায় ঢুকে যে কোন অপকর্ম ঘটিয়ে দিয়ে চলে যেতে পারে৷নাহ্ প্রত্যেকটা গাফিলতি এবার জনগণ আর সরকারের নজরে এনে ছাড়বে সোহিনী । কর্তৃপক্ষের টনক নড়বে তবে ।

একটু অসহিষ্ণু ভাবেই অফিসঘরের দরজা ঠেলে ভেতরে ঢোকে সোহিনী৷যাক্ এতক্ষণে একজন মানুষের দেখা পেয়েছে । সোহিনীকে দেখে ল্যাপটপ থেকে জিজ্ঞাসু চোখে তাকালেন এক মধ্যবয়সিনী ভদ্রমহিলা । কিছু জিজ্ঞাসা করার আগেই সোহিনী হাতজোড় করে নিজের পরিচয় দেয়।''সোহিনী মজুমদার,'দৈনিক জনরব' সংবাদপত্র থেকে....''সোহিনীর কথা শেষ হওয়ার আগেই চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন মধ্যবয়সিনী । ''হ্যাঁ হ্যাঁ, বাদলবাবু বলেছিলেন আপনার আসার কথা । বসুন আপনি।''

একটা চেয়ার টেনে বসতে বসতে একটু মজা করেই প্রশ্নটা করে সোহিনী । ''বাদলবাবু কে ? আমাকে উনি চিনলেন কি করে ?''

একটু অপ্রস্তুত ভদ্রমহিলা । ''না না আপনি আসবেন বলেননি । বাদলবাবু এখানকার সেক্রেটারী । উনি আজ সকালেই ফোন করে বললেন যে, কলকাতার কোন এক সংবাদপত্রের অফিসের রিপোর্টার আসবেন৷''

''ম্যাডাম অনেকদূর থেকে আসছেন । কি আনাবো বলুন আপনার জন্য চা না কোল্ডড্রিঙ্ক ?''

সত্যি এতটা এসে বেশ কাহিল সোহিনী , আর তারমধ্যে যা গরম পড়েছে । একটু ঠাণ্ডা কোলড্রিঙ্ক পেটে গেলে শরীরটাও ঠাণ্ডা হবে । কোলড্রিঙ্ক-ই দিন কথাটা বলতে গিয়েও নিজেকে সামলে নেয় সোহিনী । আলগোছে দেখে নেয় নিজেকে । এই সেদিন অফিসে মৌ,পৌলমী,তথাগত,প্রশান্তরা ওকে ছেঁকে ধরেছিল । ওকে দেখে নাকি মনে হচ্ছে ও কনসিভ্ করেছে । উফ্ কিছুতেই ওদের বিশ্বাস করাতে পারছে না যে ওসব কিছু না । বাড়ি ফিরে আয়নায় নিজেকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখেছিল সোহিনী । সত্যিই মোটু হয়ে যাচ্ছে , ভুঁড়িটা যেভাবেই হোক্ কমাতে হবে । গত পরশু থেকে ভোরের আরামের ঘুমটাকে ত্যাগ করে সিঞ্চনের সাথে হাঁটতে বেরোচ্ছে । সবে মেদ ঝরানোর সাধনায় নেমেছে , এখন কিছুতেই কোল্ডড্রিঙ্ক চলবে না । হালকা হেসে জবাব দেয় সোহিনী , ''চা,চিনি ছাড়া'' ।

ভদ্রমহিলা অন্য একটা দরজা খুলে বাড়ির ভেতরে গেলেন , সম্ভবত চায়ের ব্যবস্থা করতে ।

এই সুযোগে সোহিনী একবার চোখ বুলিয়ে নেয় সারা ঘরটাতে । বেশ বড়ো ঘরটা । একটা ঢাউস মাপের টেবিলের চারপাশে গোটা আষ্টেক কাঠের চেয়ার । টেবিলে নানারঙের কিছু ফাইল আর একটা ল্যাপটপ । চেয়ার-টেবিলে বেশ আভিজাত্যের ছোঁয়া । তিনখানা আলমারি পাশাপাশি রাখা । একটা দেওয়ালের পুরোটাই কাচের দেওয়াল আলমারি , আর তাতে সারি সারি বই সাজানো । নিশ্চয় আবাসিকাদের জন্য ছোট্ট লাইব্রেরী । দেওয়ালে ঝুলছে অনেকগুলো বাঁধানো ফটো , হয়তো বিশেষ কোন অনুষ্ঠান বা মুহুর্তের ছবি । সব মিলিয়ে গোটা ঘরটাই বেশ সাজানো-গোছানো ।

''ম্যাডাম আপনার চা....''

একটা বাইশ-তেইশ বছরের মেয়ে চা আর প্লেটে দুটো সিঙারা এনে রেখেছে টেবিলে ।

সোহিনীর দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে কি যেন দেখছিল মেয়েটা । সোহিনীর সাথে চোখাচোখি হতেই আঙুলে শাড়ির আঁচল জড়াতে জড়াতে চলে যায় ঘর থেকে ।

সেই ভোর সাড়ে পাঁচটাতে বেরিয়েছে বাড়ি থেকে । মামণি বারবার টিফিন দিতে চেয়েছিল , সোহিনী আনতে রাজি হয়নি । খিদে পেলে কিছু খেয়ে নেবে বলেছিল , কিন্তু খাওয়া আর হয়নি । এখান থেকে কাজ সেরে বেরোতে ঘণ্টা দুই-তিন তো লাগবেই,তারপর কিছু খাওয়া৷ ডায়েটিং ভুলে সিঙারায় কামড় দেয় সোহিনী ।ইস্ বর্ধমান পৌঁছে একটা ফোন করতে বলেছিল সিঞ্চন , সেকথা একদম ভুলে মেরে দিয়েছে সোহিনী । মামণি নিশ্চয় এতক্ষণে টেনশন শুরু করে দিয়েছে ।

সাত মাস হলো বিয়ে হয়েছে । এরমধ্যেই মামণি ভীষণ আপন করে নিয়েছে সোহিনীকে । সোহিনীর তো মাঝে মাঝে মনে হয় মামণি বুঝি ওর শাশুড়ি নয় ওর নিজেরই মা । আসলে মা'কে তো মনে পড়েনা সোহিনীর । যখন সোহিনী খুব ছোট তখন নাকি মা সংসার ছেড়ে অন্য কারো সাথে ....

আর মায়ের কথা মনে করতে চায়না সোহিনী । যদিও রুমা মাসি মায়ের অভাব কখনো বুঝতে দেয়নি সোহিনীকে , তবু মা তো নয় । মা কে কখনো ক্ষমা করতে পারবে না সোহিনী । শুধু কি সোহিনীর জীবনটা !বাবার জীবনটাও শেষ হয়ে গেছে মায়ের জন্য । বাবা তো নিজের সুখের কথা ভেবে আর নতুন করে সংসার করেনি । বাবাও যদি নিজের সুখের কথা ভাবতো , কোথায় ভেসে যেতো সোহিনী ! এক অদ্ভুত কৃতজ্ঞতায় বাবার জন্য মনটা কেমন করে ওঠে সোহিনীর । কতদিন বাবার কাছে যায়নি । নেক্সট যেদিন সিঞ্চনের ছুটি থাকবে বাবার কাছে যাবে দুজনে । বাবাকে কিছু না বলে গিয়ে একেবারে চমকে দেবে ।

রুমালের কোণ দিয়ে চোখের কোণটা মুছে চায়ে চুমুক দেয় সোহিনী । ইস্ একেবারে ঠাণ্ডা হয়ে গেছে ।

মধ্যবয়সিনী ভদ্রমহিলা ফিরতেই কথা শুরু করে সোহিনী ।

''এবার কাজের কথাতে আসা যাক্ । আপনার পরিচয়টাই তো জানা হলো না এখনো''।

''আমি জয়ন্তী রক্ষিত , দিনান্তের সুপারিন্টেডন্ট'' ।

''আপনাদের এখানে কতজন স্টাফ্ আছেন ?''

''খাতায় কলমে দশজন হলেও , আরো দুজন ক্যাজুয়াল স্টাফ আছেন।''

''আপনাদের এটা কি সরকারী....''

কথাটা শেষ হওয়ার আগেই বলতে শুরু করেন জয়ন্তীদেবী ,'' না সরকারি সাহায্য তেমন আর কই পাই ?যা পাই তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম ।'' 

''তাহলে এখানকার খরচ চলে কিভাবে ?''

''এখানে যাঁরা আছেন তাঁরা প্রত্যেকেই একটা অঙ্কের টাকা জমা রাখেন । সেই টাকাগুলোর ইন্টারেস্টেই চলে মূলত । মূল টাকাটার অর্ধেক মৃত্যুর পর তাঁদের বাড়ির লোককে ফিরিয়ে দেওয়া হয় । তবে অনেকেই মৃত্যুর খবর পেয়েও আসেন না , টাকাও ফেরত নেন না । এছাড়াও কিছু এনজিও সাহায্য করে ''...

''আপনাদের এখানে কতজন আবাসিকা আছেন ?''

''এখন সাঁইত্রিশজন , গত সপ্তাহেই একজন মারা গেছেন৷''

''আপনাদের এই 'দিনান্তে' কতো বছর হলো ?

''1987তে চালু হয়েছিল । তখন অবশ্য অন্য একজায়গায় ভাড়া বাড়িতে ছিল।''

''এখানে কতদিন হলো ?''

''1993 থেকে এখানে'' ....

''এই জায়গাটি কি সরকারি সাহায্যে ....''

''না না এটা একজন দান করেছিল 'দিনান্তে'কে । তাঁর পৈত্তৃক জায়গা ছিল এটা । তবে বিল্ডিং তৈরির সময় সরকারি সাহায্য পাওয়া গিয়েছিল ।'' 

''যিনি এই জায়গাটি দিয়েছিলেন , তিনি নিজেও এখানেই থাকেন আজ সাতাশ-আটাশ বছর ধরে ।''

''তাই !'' বেশ অবাক হয় সোহিনী ।

''বাবা মারা যাওয়ার পর নিজেকে সমস্ত আত্মীয় পরিজনের থেকে সরিয়ে নিয়ে এখানেই আছেন তিনি । হয়তো কোন ঘটনা তাঁকে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছিল !'' একটু যেন বেশিই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ছেন ভদ্রমহিলা ।

প্রসঙ্গ পাল্টাতে সোহিনী জিজ্ঞাসা করে ,'' আপনি তাহলে সেই প্রথম থেকেই আছেন এখানে ?''

''না না এসব আমার শোনা কথা । তবে নয় নয় করে আমি এখানে আছি সতের-আঠারো বছর তো হয়েই গেলো ।''

আরো কিছু বলতে যাচ্ছিল সোহিনী ।

এমন সময় যে মেয়েটা চা দিয়ে গিয়েছিল সে জয়ন্তীদেবীর কাছে এসে ফিসফিস করে কিছু বলে ।

''ম্যাডাম আপনি যদি সবার সাথে কথা বলতে চান তো চলুন আগে ঘুরে আসি । নাহলে এরপর আবার ওনারা লাঞ্চ করে একটু বিশ্রাম করেন । যতই হোক্ বয়স্ক মানুষ তো ...''

ইস্ এটা তো সোহিনীর-ই মাথায় রাখা উচিত ছিল ।

অফিস ঘর থেকে বেরিয়ে ডানদিকে উপরে উঠার সিঁড়ি । নীচের মতোই ওপরটা । চওড়া বারান্দার কোলে সারি সারি ঘর । বারান্দায় কোনো গ্রিল নেই । এতো যে কেউ রেনপাইপ দিয়ে বা অন্য কোনো ভাবে ওপরে উঠে পড়তে পারবে । না না এখানকার নিরাপত্তার অভাবটা বেশি করে নজরে আনতে হবে । বয়স্কা মানুষগুলোকে বাড়ির মতো নিরাপত্তা দেওয়াই এঁদের কর্তব্য ।

''আসুন ম্যাডাম , আমরা হলঘরে গিয়ে বসি ।''

জয়ন্তীদেবীর পিছু পিছু যেতে গিয়ে খোলা দরজাগুলো দিয়ে ঘরের ভেতরগুলো খেয়াল করে সোহিনী । সব ঘরেই তিনটে করে বিছানা , তারমানে তিনজন করে থাকেন একটা ঘরে ।

টানা বারান্দার শেষে হলঘরটা বেশ বড়ো । টিভি রয়েছে ঘরে । মেঝেতে সতরঞ্চি পাতা । এককোণে একটা সিঙ্গল খাট । আর দশ-পনেরটার ও বেশি চেয়ার ছড়ানো ছিটানো । টিভিতে কোনো বাংলা সিরিয়াল হচ্ছে , ভলিউম বেশ জোরে দেওয়া রয়েছে , একেবারে গমগম করছে গোটা ঘর । একজন খাটে শুয়ে , কেউ চেয়ারে-কেউ সতরঞ্চিতে বসে একমনে সিরিয়াল দেখছেন ।

''এই দেখুন ইনি এসেছেন আপনাদের সাথে দেখা করতে ,'' বেশ জোর গলাতেই কথাটা বলেন জয়ন্তীদেবী ।

সবাই টিভি থেকে চোখ ফেরান । কেউ একজন সাউণ্ডটা কমিয়ে দেন ।''ম্যাডাম একটা সংবাদপত্র থেকে এসেছেন । আচ্ছা আপনারা কথা বলুন , আমি একটু পরে আসছি ।''

জয়ন্তীদেবী চলে গেলেন । একটা চেয়ারে বসেছে সোহিনী । কিভাবে এনাদের সাথে কথা শুরু করবে ভাবছে । বড্ড অস্বস্তি লাগছে সোহিনীর , সবাই যেন কি মনোযোগ দিয়ে দেখছে সোহিনীকে ।

অস্বস্তিটাকে আর বাড়তে না দিয়ে কথা শুরু করে সোহিনী ।

সবথেকে বয়স্কা একজন বৃদ্ধাকে দিয়েই কথা শুরু করে ।'' আচ্ছা মাসিমা আপনি কতদিন আছেন এখানে ?''

''তা 12-13 বছর তো হলোই .''

''বাড়ির কথা মনে পড়ে না ?''

''বাড়ির কথা কি আর ভোলা যায় !''একবুক দীর্ঘশ্বাস ফেলে কথাটা বলেন তিনি ।

ততক্ষণে সবাই বলতে শুরু করেছে । বাড়িতে বৌমার সবসময় খিটখিটিনির থেকে ভালো আছেন এখানে । আবার কেউ বলছেন যত ভালোই থাকুক এখানে বাড়ি তো নয় । কেউ এখানে এসে সমব্যথীদের পেয়ে নিজের দুঃখ ভুলেছেন , কেউ এখনো পারেননি ভুলতে । এখনো বাড়ির কথাতে চোখ জলে ভরে উঠছে । এরই মাঝে একজন বলে ওঠে,''তোমাকে দেখতে একদম আমাদের স্বপ্নার মতো ।''

হেসে ওঠে সোহিনী ।'' তাই !স্বপ্না কে ? তাঁকে তো দেখছি না।''

''ও ওর ঘরেই থাকে বেশি সময় , আমাদের মতো টিভি দেখার নেশা নেই ওর ।''

''ডাকুন না ওনাকে একটু এখানে , ওনার সাথে একটু কথা বলি ।''

''আসুন আমি আপনাকে ওনার ঘরে নিয়ে যাচ্ছি ।''

জয়ন্তীদেবী কখন যে আবার এঘরে ফিরে এসেছেন খেয়াল-ই করেনি সোহিনী ।

সবাই যেতে যাচ্ছিল ওদের সাথে । জয়ন্তীদেবী ইশারায় থামিয়ে দিলেন সবাইকে ।

''স্বপ্নাদির কথাই বলছিলাম আপনাকে , উনিই দিয়েছেন এই জায়গাটা ।'' 

দরজাটা ভেতর থেকে ভেজানো ছিল । কড়া নাড়ানোর প্রায় সাথে সাথেই খুলে গেলো দরজাটা ।

চমকে ওঠে সোহিনী । মায়ের কোন ফটোও সোহিনী কখনো দেখেনি । তবে সবাই বলে সোহিনী নাকি ওর মায়ের মতো দেখতে হয়েছে । তবে স্বপ্না নামটা অজানা নয় সোহিনীর । 

প্রবল ঘৃণা আর অভিমানে দরজা থেকেই ফিরে আসছিল সোহিনী ।

কিন্তু "ভিতরে এসো" ডাকটাকে কেন যেন অগ্রাহ্য করতে পারলো না ।

টুকটাক কিছু কথা । কিছু ব্যক্তিগত প্রশ্ন করতেই পারতো , যেন স্বাচ্ছন্দ্য পাচ্ছে না সোহিনী । তবে উনি যে প্রবল অভিমানী সেটা ওনাকে দেখেই বোঝা যায় ।

''এবার উঠতে হবে ,'' বলেই উঠে পড়ে ।

''আবার এসো পারলে....''

ঘর থেকে বেরোতে গিয়েও পিছন ফিরে তাকায় সোহিনী ।

সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে জয়ন্তীদেবী কত কথা বলে চলেছেন । স্বপ্নাদি যে বয়স থেকে এখানে আছেন , সে বয়সে কতজন নতুন করে সংসার করে । ধন্য মানুষ বলিহারী স্বপ্নাদির বরটা,এমন মানুষকেও মিথ্যা বদনাম দিয়ে ঘরছাড়া করে ! জানেন কোলের মেয়েটাকে অবধি আটকে রেখেছে নিজের কাছে ।

আরো চমকে ওঠে সোহিনী ।

''আচ্ছা আপনি এই সমস্ত কথা তো শুনে বলছেন , কোন প্রমাণ আছে আপনার কাছে ?''

''প্রত্যেকের নামে নিজস্ব ফাইল আছে ম্যাডাম । সেখানে জীবনের সব ঘটনার বয়ান লিখতে হয় এখানে থাকার আগে ।''

''সে তো কেউ মিথ্যা লিখতেও পারে ।''

একবার পিছন ফিরে তাকান জয়ন্তীদেবী ।

''তা লিখতেও পারে ।তবে কিছু সত্যি তো চোখের দেখাতেও বোঝা যায় ।''জয়ন্তীদেবী কিছু কি ইঙ্গিত করলো সোহিনীকে !

''আচ্ছা আমাকে স্বপ্নাদেবীর ফাইলটা একটু দেখতে দেবেন ?''

''না ম্যাডাম এটা সম্ভব নয় ।''

জয়ন্তীদেবীর হাতদুটো চেপে ধরে সোহিনী , ''প্লিজজজ.''

কি জানি কি ভাবলেন মুহুর্তকাল । ''আচ্ছা বসুন , আমি বাদলবাবুর সাথে কথা বলে দেখি ।''

মাথার ওপর বনবন করে ফ্যান চলছে , তবুও ঘামছে সোহিনী । এখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সবার সামনে তুলে ধরতে চেয়েছিল । কিন্তু এ কি সত্যি উঠে এলো ওর সামনে !অসম্ভব নিরাপত্তাহীনতা কুড়েকুড়ে খাচ্ছে সোহিনীকে । তবে কি বাবা আর রুমা মাসিই ....


Rate this content
Log in

More bengali story from Null Null

Similar bengali story from Tragedy