Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published
Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published

Null Null

Romance


2.2  

Null Null

Romance


ঋণ

ঋণ

8 mins 16.4K 8 mins 16.4K

ঘন ঘন হাতঘড়ি দেখছে সুকান্ত । কি গো তোমার সেই কলীগ তো এখনো এসে পৌঁছালো না, ট্রেন ছাড়ার সময় তো হয়ে এলো !

-এসে পড়বে নিশ্চই । হালকা ভাবে জবাব দেয় দীপশিখা ।

-একবার ফোন করে দেখো না আসছেন কিনা উনি । সুকান্তর গলায় স্পষ্ট উদ্বেগের ছাপ ।

সুকান্তর দিকে যেন একটু গভীর ভাবেই তাকিয়ে ছিল দীপশিখা । সুকান্তর সাথে চোখাচোখি হতেই চোখটা নামিয়ে নেয় ।

-করেছিলাম,ধরলো না। হয়তো ট্যাক্সিতে আছে,শুনতে পায়নি ।

তুমি টেনশন করো না , এসে যাবে ।

-ট্রেন ছাড়তে আর মাত্র পাঁচমিনিট বাকী , এখনো টেনশন করবো না ? যদি উনি না আসেন,কি করবে !-- কি আর করবো ? একটা রাতের তো ব্যাপার,ঠিক চলে যাব ।

-একা যাবে ?

-একা কৈ !ট্রেনে কতো লোক আছে বলো তো । হালকা হেসে ছোট লাগেজটা নিয়ে ট্রেনে উঠতে যায় দীপশিখা ।

-কোনভাবেই কি ট্যুরটা ক্যানসেল করা যায় না ? আগে তো কখনো একা কোথাও যাওনি , বড্ড চিন্তা হচ্ছে ।

একবার যেন চমকে সুকান্তর দিকে তাকায় দীপশিখা । মানুষটা সত্যিই ভীষণ ভালোবাসে দীপশিখাকে । তবু পরিস্থিতি মানুষটাকে কেমন যেন অসহায় করে দিয়েছে ।

কেন যে এমনটা হলো !বেশ তো ছিল দীপশিখা-সুকান্ত ,ওদের একমাত্র ছেলে দিগন্তকে নিয়ে। সুকান্তর যা রোজগার ছিল তাতে স্বাচ্ছন্দ্য না থাকলেও অভাব তো ছিল না !

হঠাৎ সেই যে দুবছর আগে সুকান্তর কোম্পানি লকআউট হলো , আজ খুলবে-কাল খুলবে করেও এখনো অবধি খুললো না । জমানো টাকাও তো তেমন ছিল না । আর টিউশিনি পড়িয়ে কটা টাকাই বা পায় সুকান্ত , তা দিয়ে সংসার চলে !

সুস্থ ছেলেটা দিব্যি খেলাধূলো-পড়াশুনো করছিল । হঠাৎ করে কি যে হলো !

বাচ্চাদের এমন জ্বর-পেটব্যথা-বমি তো হামেশাই হয় ,প্রথমটা তেমনি মনে করেছিল ওরা । তখন কে জানতো যে ভেতর ভেতর এতোটা গভীর ক্ষত বাসা বেঁধেছে ঐ এগারো বছরের শরীরটাতে ।

ডাক্তার-টেস্ট-রিপোর্ট.অবশেষে ডাক্তারবাবুরা পেটের টিউমারটাকে বাদ দিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন । যত তাড়াতাড়ি অপারেশন করা যায় ততই মঙ্গল । 

কিন্তু সত্তর হাজার টাকা !সুকান্তর পক্ষে জোগাড় করা প্রায় অসম্ভব । সরকারি হাসপাতালে অত বড়ো অপারেশনের রিস্ক নিতে চাইছেন না ডাক্তারবাবুরা । আত্মীয়স্বজন-বন্ধুবান্ধবের কাছে ধারদেনা করেও হাজার পঁচিশের বেশি জোগাড় হলোনা । এখনো অনেকগুলো টাকার দরকার ।

সুকান্ত-ই কথাটা বলেছিল , দেখো না তোমার অফিসের বসকে বলে যদি টাকাটার কিছু একটা ব্যবস্থা হয় ।

সংসারের প্রয়োজনেই কমাস হলো একটা চাকরিতে ঢুকেছে দীপশিখা । 

-নতুন চাকরি , এখনি কি অতগুলো টাকা চাওয়া ঠিক হবে ? যদি চাকরিটাই চলে যায় !

-প্রয়োজনটা একটু বুঝিয়ে বলেই দেখো না , উনিও তো একজন মানুষ । মানবিকতা বশতও যদি টাকাটা অ্যাডভান্স দেন ।

সুকান্তর কথা মতোই পরেরদিন অফিসে গিয়ে মৈনাকদাকে কথাটা বলেছিল দীপশিখা ।

ইন্টারভিউএর দিন-ই বসের চেয়ারে মৈনাকদাকে দেখে চমকে উঠেছিল দীপশিখা । 

খুব প্রয়োজন না থাকলে চাকরিটা নিতো না দীপশিখা । 

পাড়ার ডাকাবুকো মস্তান টাইপের মৈনাক যেদিন স্কুল থেকে ফেরার পথে প্রেমপত্র দিয়েছিল দীপশিখাকে,ও সত্যিই ভীষণ ভয় পেয়ে গিয়েছিল । বাড়িতে কাউকে বলতেও পারেনি ভয়ে , শরীর খারাপের দোহাই দিয়ে স্কুল কামাই করে বসে ছিল বাড়িতে । পাড়ার একটা বাচ্চা ছেলেকে দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছিল আবার । ছোটকার হাতে সেই চিঠি চলে গিয়ে সে কি কেলেঙ্কারি !মৈনাকদাকে কিছু বলার সাহস ছিলনা কারো , তাই দীপশিখাকে ঐ ছেলের কুনজর থেকে বাঁচাতে মামারবাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হলো । পুরনো বন্ধুবান্ধব , স্কুল , মা-বাবাকে ছেড়ে সে যেন এক নির্বাসন । নতুন স্কুলে মন বসাতে অনেকদিন সময় লেগেছিল দীপশিখার । বহুবছর পরে একবার পাড়ায় দুর্গাপুজোর প্যান্ডেলে মৈনাকদা সবার চোখ এড়িয়ে মৃদুস্বরে বলেছিল , আমি সত্যি তোকে ভালোবেসেছিলাম । তুই চাইলে আমি ভালো হয়ে যেতাম । তাই বলে তুই পালিয়ে গেলি !

সেদিন কোন উত্তর দিতে পারেনি দীপশিখা । মাথা নীচু করে দাঁড়িয়ে আনমনে আঙুলে নিজের ওড়না পাকাতে পাকাতে একবার চোখ তুলে তাকিয়েছিল মৈনাকের দিকে । সত্যি এতোটা ভালোবেসেছিল ওকে !মৈনাকদার কথাটা সুকান্তকে আর বলেনি দীপশিখা । ও যা ভীতু মানুষ , এখনি হয়তো চাকরিটা করতে বারণ করবে । চাকরিটা যে ভীষণ দরকার ওদের.

ট্রেনের হুইসিলের শব্দে ভাবনার জালটা ছিঁড়ে যায় দীপশিখার ।

শেষবারের মতো একবার শক্ত করে চেপে ধরে সুকান্তর হাতটা । 

-চিন্তা কোরো না , আমি খুব তাড়াতাড়ি ফিরে আসবো । তুমি দিগন্তকে দেখে রেখো । ওষুধগুলো দিও সময়মতো । 

আরো হয়তো কিছু বলতো , ততক্ষণে ট্রেনটা চলতে শুরু করেছে । প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে হাত নাড়ছে সুকান্ত । কি অসহায় লাগছে মানুষটাকে.

নিজেকেও ভীষণ অসহায় লাগছে দীপশিখার । এইভাবে নিজেকে শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে কি ভুল করলো !নাহলে তো বাঁচাতে পারতো না ছেলেটাকে । নিজেকে শেষ করার যন্ত্রণাটুকু নাহয় দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করে নেবে দীপশিখা , তাতে ছেলেটার রোগ যন্ত্রণাটুকু তো লাঘব হবে ।

চিরকাল দ্বিতীয় শ্রেণীর কামরায় সফর করেছে । এই প্রথমবার বাতানুকূল প্রথম শ্রেণীর কামরায় । প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকার সময়েই আজ রাতে দীপশিখার সহযাত্রী মৈনাকদাকে ট্রেনে দেখেছে দীপশিখা । লম্বা প্যাসেজ ধরে এগিয়ে যায় নির্দিষ্ট কুপের দিকে । হালকা ঠেলা দিতেই খুলে যায় কুপের দরজা ।

"ক্ষমা কোরো সুকান্ত , তোমাকে মিথ্যা বলে আসতে হলো আজ আমাকে । সত্যিটা জানলে কখনো আমাকে আসতে দিতে না তুমি " মনে মনে কথাকটা বলতে বলতে ভেতরে ঢোকে দীপশিখা ।

সেদিন টাকার কথাটা বলতেই দিতে রাজি হয়ে গিয়েছিল মৈনাকদা । শুধু নিউইয়ারের দিন এলাহাবাদে ক্লায়েন্ট মিটিংটায় দীপশিখাকে আসার অনুরোধ করেছিল দীপশিখাকে । দু তারিখ ফিরে এসেই পঞ্চাশ হাজার টাকা দিয়ে দেবে বলেছে ।

যাতায়াতের ব্যবস্থা সব কোম্পানীই করবে ।

সব ইঙ্গিতটুকু বুঝেও না বোঝার ভান করে সম্মত হয়েছে দীপশিখা ।

একটা ফাইলে চোখ বোলাচ্ছিল মৈনাকদা । মাথা তুলে হালকা হেসে স্বাগত জানায় দীপশিখাকে ।

নীল শিফন শাড়ি পরা বছর চল্লিশের দীপশিখাকে যেন চোখ দিয়ে মেপে নেয় মৈনাক ।

জানলার ধারটা ফাঁকা , নিশ্চই দীপশিখার জন্য । 

দীপশিখা নিজের জায়গায় গিয়ে বসতেই,মৈনাক উঠে গিয়ে কুপের দরজাটা লক করে দেয়। লক করার সামান্য আওয়াজেই বুকের মধ্যে যেন রক্ত চলকে ওঠে দীপশিখার ।

মৈনাক ফিরে এসে আবার ফাইলে ডুবে যায় । উফ্ নীরবতাও যে এতোটা অস্বস্তিকর জীবনে প্রথমবার অনুভব করছে দীপশিখা।চোখ ফিরিয়ে কাচের ওপারে রাখলো দীপশিখা । ওপারে আবছা চাঁদের আলো মোড়া পৃথিবী । সামনে কি পূর্ণিমা ! মনে করতে পারছে না । গতির কোন শব্দ নেই , শুধু অনুভবে বোঝা যাচ্ছে ট্রেন এগিয়ে চলেছে গন্তব্যের দিকে আর দীপশিখা চলেছে অজানার উদ্দ্যেশে । 

-চা খাও তো ?

সামান্য কথাতেই চমকে ওঠে দীপশিখা । 

ওর সম্মতির অপেক্ষা না করেই ফ্লাস্ক থেকে চা ঢেলে এককাপ এগিয়ে দিয়েছে দীপশিখার দিকে ।

চা খেতে খেতে কথা বলে চলেছে মৈনাক । সেই পুরনো দিনের কথা । গুন্ডামি-মস্তানি ছেড়ে কিভাবে ধীরে ধীরে জীবনটাকে গুছিয়েছে সেই গল্প । একটা বখে যাওয়া ছেলের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প । হাসতে হাসতে দীপশিখার প্রেমে পড়া , ওকে চিঠি দেওয়া ,ভয় পেয়ে দীপশিখার মামারবাড়ি চলে যাওয়ার কথাগুলোও বলছে ।

কিছুতেই তবু যেন সহজ হতে পারছে না দীপশিখা । একটা চোরা ভয় শিরদাঁড়া বেয়ে ওঠানামা করছে সমানে ।

''তুমি এখনো সেই আগের মতোই সুন্দর আছো । চেহারাটা বেশ ধরে রেখেছ এতোগুলো বছর পরেও.''

কথাটা শেষ হওয়ার আগেই বাইরে থেকে দরজায় টোকা। উঠে গিয়ে দরজা খোলে মৈনাক । প্যান্ট্রিকারের একটা ছেলে খাবার দিয়ে চলে যায় ।

খাবারটা দু-আঙুলে নাড়াচাড়া করছে দীপশিখা । মৈনাকের শেষ কথাগুলোয় কেমন একটা নেশানেশা ভাব ছিল , দুচোখে কেমন একটা আগুন । ঐ আগুনে বুঝি আজ রাতেই দীপশিখার ভস্ম হওয়ার পালা ।

ছেলেটা চিকেন খেতে বড্ড ভালোবাসে । খাবার কিছুতেই গলা দিয়ে নামতে চাইছে না দীপশিখার । হঠাৎ পেটের ভিতর থেকে কেমন যেন গুলিয়ে ওঠে শরীরটা । কুপের দরজা খুলে সোজা টয়লেটের দিকে হাঁটতে লাগে । মাথাটাও কেমন যেন ঘোরঘোর লাগছে । বেসিনের কলটা খুলে দিয়ে বেশ কয়েকবার জলের ঝাপটা দেয় চোখেমুখে । সামান্য নোনতা জল ছাড়া কিছুই উঠে আসে না মুখ দিয়ে । সামনের আয়নায় নিজেকে একবার দেখে দীপশিখা । কোমরে গোঁজা রুমালটা দিয়ে মুখটা মুছে , এলোমেলো চুলগুলো ঠিক করে নেয় আলতো ভাবে ।

ফিরে এসে দেখে মৈনাক শোয়ার ব্যবস্থা করে ফেলেছে ।

-কি হলো শরীর খারাপ করছে ?

- না ঠিক আছি ।

-ওষুধ লাগলে বলতে পারো , টুকটাক কিছু সঙ্গে রাখি ।

মৈনাকের কথার জবাব দেয়না দীপশিখা । কেমন যেন অস্বস্তি করছে । তেমন শীত নেই , তবু যেন সারা শরীরে জ্বরের মতো কাঁপুনি । আবার পরমুহুর্তেই যেন ঘাম ঘাম লাগছে শরীরটা ।

হঠাৎ খেয়াল করলো মৈনাক অবাক চোখে দেখছে ওকে । সারা শরীরটায় একটা লোভাতুর স্পর্শ অনুভব করে দীপশিখা ।

পরিস্থিতিটাকে একটু স্বাভাবিক করতেই সাহস করে বলে , আমরা পৌঁছাবো কটায় ?

-পৌনে তিনটে ।

মোবাইলে দুটো পনেরতে অ্যালার্মটা দিয়ে রাখে দীপশিখা । সুকান্তর থেকে এই অ্যালার্মের অভ্যাসটা পেয়েছে ।

-একটু শুয়ে নিলেই শরীরের অস্বস্তিটা কেটে যাবে ।

- ড্রেস চেঞ্জ করবে না ?

সাধারণ কথা , তবু যেন কেঁপে ওঠে দীপশিখা ।

কম্বলটা টেনে নিয়ে শুয়ে পড়ে দীপশিখা ।

আলোটা নিভিয়ে হালকা নীল আলোটা জ্বালিয়ে বেরিয়ে যায় মৈনাক । 

তবু একটা হাত চোখের ওপর চাপা দিয়ে শোয় দীপশিখা ।

অনেকক্ষণ হলো , ফিরছে না তো মৈনাক । হয়তো করিডোরে দাঁড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছে ।

ভাবতেই ভাবতেই ফিরে আসে মৈনাক । 

হাতের আড়াল থেকেই মৈনাককে খেয়াল করছে দীপশিখা । শার্টটা খুলে ঝুলিয়ে দেয় ব্র্যাকেটে । আবছা আলোতেও গেঞ্জির ওপর থেকে মৈনাকের পেশিবহুল শরীর আর চওড়া রোমশ বুকটা চোখে পড়ে দীপশিখার ।

হালকা আলোটাও নিভিয়ে দেয় মৈনাক । অন্ধকারেও মৈনাকের নিঃশ্বাস পতনের শব্দ অনুভব করছে দীপশিখা । অন্ধকারে কি জানি কি করছে মৈনাক,বুঝতে পারছে না কিছুই । লক্ খোলার মৃদু শব্দে বুঝতে পারে মৈনাক আবার বাইরে বেরলো ।

সময় যাচ্ছে , মৈনাক তো ফিরছে না । চোখটা বোধহয় লেগে গিয়েছিল দীপশিখার । 

অ্যালার্মের শব্দে হুড়মুড় করে জেগে ওঠে । চলন্ত আবছা নীল আলোয় ধাতস্থ হতে একটু সময় লাগে ওর । মৈনাক কি এখনো ফেরেনি ? যদি না ফেরে তো নীল আলোটা কে জ্বালালো ? উঠে আলোটা জ্বালাতেই খেয়াল করে কুপের দরজাটা খোলা । তারমানে মৈনাক আবার বাইরে গেছে ।

হঠাৎ-ই খেয়াল করে মৈনাকের ছোট সুটকেশটাও নেই।অজানা ভয়ে চমকে ওঠে দীপশিখা । তখনি দেখে জলের বোতল চাপা দেওয়া কাগজটা ।

ভেবেছিলাম সেই চব্বিশ-পঁচিশ বছর আগে তোমার প্রত্যাখানের জ্বালাটা পঞ্চাশ হাজার টাকার বিনিময়ে মিটিয়ে নেব । অর্থ আর বাহুবলে ছিনিয়ে নেব তোমার সব দৌলত । কিন্তু পারলাম না । আজো মনে হয় মনে মনে তোমাকে ভালোবাসি । কাউকে ভালোবাসলে বোধহয় তার থেকে জোর করে কিছু ছিনিয়ে নেওয়া যায় না । 

আমি মোগলসরাইতে নেমে যাচ্ছি । তুমি এলাহাবাদ থেকে ফিরে এসো । রিজার্ভেশন নেই বলে হয়তো একটু অসুবিধা হবে তোমার , সেটুকু একটু ম্যানেজ করে নিও । পঞ্চাশ হাজার চেকটা রেখে গেলাম । ছেলের অপারেশনটা করিয়ে নিও । আরো কিছু দরকার হলে আমাকে বলতে কুন্ঠা করো না । এটাকে দান ভেবে সংকোচ কোরো না । আমার কোম্পানীতেই তো আছো , চাকরীর মাইনে থেকে একটু একটু করে শোধ করে দিও ।

চিঠির নীচেই রাখা চেকটা আর পাঁচশো টাকার কয়েকটা নোট , হাত বাড়িয়ে তুলে নেয় দীপশিখা । এক নির্বোধ অনুভূতি যেন আচ্ছন্ন করে রেখেছে মাথাটা ।

কোচ অ্যাটেনডেন্স এসে বলে গেলেন , এলাহাবাদ আসছে । লাগেজটা নিয়ে দরজার দিকে এগোয় দীপশিখা ।

ট্রেন থেকে নেমে পড়ে । সম্পূর্ণ অজানা ঘুমন্ত স্টেশনে একা দীপশিখা । 

এখান থেকে ফেরার ব্যবস্থা করতে হবে এবার ।

অন্ধকার সরে আর কিছু পরেই দিনের আলো ফুটবে । নতুন সকাল , নতুন বছরের শুরু । নতুন করে পথচলা শুরু হবে দীপশিখা-সুকান্ত আর দিগন্তর জীবনে । অপারেশনটা করালেই সেরে উঠবে ছেলেটা । হয়তো সুকান্তর কোম্পানীটাও আবার খুলবে । শুধু এই একরাতের সফরে মৈনাকের করুণার কাঁটাটা খিঁচখিঁচ করবে দীপশিখার বুকের মাঝটাতে । মৈনাকের ঋণ এজন্মে শোধ করা সম্ভব নয় দীপশিখার পক্ষে ..


Rate this content
Log in

More bengali story from Null Null

Similar bengali story from Romance