ছুটির কাজ
ছুটির কাজ
ছুটির কাজ বলতে প্রথমেই মনে পরে যায় সেই সুমধুর ছোটবেলার কথা গুলো। প্রতি বার প্রাইমারী স্কুলে গরমের সময় একমাস করে ছুটি পড়তো । ছুটিতেও কিন্তু আমাদের পড়াশোনা বন্ধ থাকতো না স্কুল থেকে ছুটির আগের দিনই একগাদা করে ছুটির কাজ দিয়ে দিত । বাংলার স্যার দিত কুড়ি পৃষ্ঠা বাংলা হাতের লেখা সুন্দর ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ভাবে লেখা চাই।
ইংরেজি স্যার দিত পনেরো পৃষ্ঠা হ্যান্ড রাইটিং আর যে না লিখে আনবে তাকে রোদে মাঠে দাড়িয়ে থাকতে হবে । এটা শুধু আমাদের ভয় দেখানোর ও মুখে কথা ছিল বাস্তবে কোনদিনও স্যার এমনটা করে নি ।
এরকমই প্রতিটি বিষয়ের জন্য আলাদা আলাদা কাজ থাকতো । গরমের ছুটিতে বাড়িতে বসে স্কুলের ছুটির কাজ করতে ইচ্ছে না থাকলেও বাড়ির লোকের বকুনি খাওয়ার ভয়ে চট করে সব লিখে ফেলতাম । আর মনে মনে ভাবতাম একবার বড় হয়ে যাই তারপর আমিও টিচার হবো । কিন্তু আমি আমার ছাত্র ছাত্রীদের একটুও কাজ দেবো না শুধু খেলতে বলবো। একটুও বকবো না ,,আর বাড়ির লোকদের একবস্তা টাকা দিয়ে বলবো এই নাও টাকা আর আমাকে কেউ কিচ্ছু বলবে না।
সময়ের সাথে সাথে আমরা বড় হয়ে গেছি ঠিকই কিন্তু নিজেদের স্বপ্ন তো পূরণ করতে পারি নি। বাড়ির লোকের কাছে হয়ে উঠেছি বোঝা ,,যারা আগে গরমের দিনে স্কুলের ছুটির কাজ করার জন্য বারবার বকাবকি করত এখন তারাই সংসারের কাজ শেখাতে ব্যস্ত । আজ খুব মিস করি সেই ছোট বেলাকার দিন গুলোকে । মিস করি সেই গরমের দিনে বাড়িতে বসে স্কুলের কাজ করা গুলোকে । আগে যদি বুঝতে পারতাম যে বড় হয়ে গেলেও পরিবারের চোখে বোঝা হয়ে দাঁড়াতে হবে তাহলে কোনোদিনও বড় হতে চাইতাম না। চাইতাম না বড়ো হতে।
সমাপ্ত
