Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published
Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published

নন্দা মুখার্জী

Inspirational


2  

নন্দা মুখার্জী

Inspirational


ভুল যখন ভাঙলো

ভুল যখন ভাঙলো

10 mins 686 10 mins 686

   ঘরে ঢোকার আজ তার আর কোনো অধিকার নেই ; সে অধিকার বছর আটেক আগেই হারিয়েছে |তাই সে পর্দার আঁড়ালেই দাঁড়িয়ে তার শ্বাশুড়ীকে দেখছিলো | আগে অবশ্য সে জেঠিমা বলেই ডাকতো | কিন্তু ঈশ্বরের অপার কৃপায় শান্তিদেবী আজ তার শ্বাশুড়ি | পর্দার আঁড়ালেই দাঁড়িয়ে তার মনে পড়তে লাগে অতীত দিনগুলির কথা | মা কাজ করতেন মিলনদের বাড়ীতে | মায়ের যেদিন শরীর খারাপ হতো সেই আসতো মায়ের বাসনমাজা ,ঘর মোছার কাজগুলি করতে | জেঠিমা তাকে খুবই স্নেহ করতেন | মাধ্যমিক পাশ করে বিদিশা টাকার অভাবে পড়াশুনা বন্ধ করে দিয়েছিলো | জেঠিমা তাকে অনেকবার বলেছিলেন ,"তুই পড়াশুনাটা আবার শুরু কর ,আমি তোর সব বইপত্র কিনে দেবো ,তোর মায়ের মাইনেটাও বাড়িয়ে দেবো |" কিন্তু বিদিশা রাজী হয়নি | সে একটা সেলাই স্কুলে ভর্তি হয়ে সেলাই শিখতে শুরু করে | ছ'মাসের কোর্স দেখতে দেখতে ছ'মাস কেটে যায় | সেলাই শিখে প্রথম প্রথম দোকান থেকে ব্লাউজ এনে হেম দেওয়া ,হুক লাগানো ইত্যাদি করতে শুরু করে | অভাবের সংসারে কিছুটা হলেও তাতে উপকার হতে লাগে |               বিধবা শান্তিদেবীর বড় ছেলে মিলন রাজ্য সরকারের উচচপদস্থ কর্মচারী |বলতে গেলে খুব কমই দেখা হত বিদিশার সাথে মিলনের |মিলন সকাল আটটা নাগাদ বেড়োতো আর ফিরতো রাত আটটা নাগাদ | যে সময়ে বিদিশার মা তাদের বাড়িতে কাজে যেতেন সেই সময় মিলন ঘরে থাকতো না | মায়ের শরীর খারাপ হলে বিদিশা যখন নিজে কাজ করতে যেত ;তখন সে মায়ের কাজের সময়টাকেই অনুসরণ করতো | হয়তো মিলন কোনোদিন অফিস যায়নি বা তার ছুটির দিনে যদি বিদিশা কাজে যেত,  তখন হয়তো মিলনের সাথে তার দেখা হত | কিন্তু কথা হত খুব কমই | বিদিশা গরীবের মেয়ে হলে কি হবে , তার চেহারা দেখে কেউ সেটা বুঝতে পারবে না | বড়, বড় টানা টানা দুটি চোখ ,কোমর অবধি ঘন কালো চুল ,গায়ের রং ফর্সা - নাকটা ততটা সুন্দর না হলেও মুখের সাথে মানিয়ে গেছে | এক কথায় বিদিশাকে সুন্দরী বলা চলে | মিলন সেভাবে বিদিশাকে কোনোদিনও দেখেনি ; সামান্য চোখাচোখি যা হয়েছে আর তার ধীর ,স্থির স্বভাবটি মিলনের খুব ভালো লাগে | মিলনও খুব শান্ত প্রকৃতির ছেলে | কিন্তু তার ছোট ভাই মলয় ঠিক তার বিপরীত | সে মাঝে মধ্যেই বিদিশাদির পিছনে খুব লাগতো | দুজনের ভিতর চিৎকার ,চেঁচামেচিও হত | শান্তিদেবী মাঝে মাঝে বলতেন ," তোরা দুটোতে যা কান্ড করিস ,আমার মনে হয় তোরা যেন পিঠাপিঠি ভাইবোন |" শান্তিদেবী বিদিশাকে বড্ডো ভালোবাসতেন | কিন্তু তিনি স্বপ্নেও ভাবেননি ,মিলন তার মাকে এমন একটা প্রস্তাব দেবে |       মিলনের মা যখন তার বিয়ের জন্য মেয়ে দেখতে শুরু করেন মিলন সরাসরি তার মাকে যেয়ে বলে বিদিশার কথা | মা এ কথা শুনে ছি ! ছি ! করতে লাগেন | একটা কাজের মহিলার মেয়ের সাথে বিয়ে ? না - এটা কিছুতেই তিনি মানতে পারবেন না | মিলন তার মাকে অনেক বুঝানোর চেষ্টা করে | মিলন তার মাকে বলে যে অভাবের জন্য তারা লোকের বাড়িতে কাজ করে ; খারাপ কোনো কাজ তো করেনা |আমিও তো কাজ করি বিনিময়ে টাকা পাই ; ওরাও তো তাই | তাছাড়া বিদিশা লেখাপড়া জানে ,দেখতেও মন্দ নয় | চেনাজানা একটি মেয়ে - অসুবিধাটা কোথায় ? শুধু ও কাজের মাসির মেয়ে বলে ? শান্তিদেবী কোনো কিছুতেই মিলনের যুক্তি মানতে রাজী নন | কিন্তু এই যে ছেলের ইচ্ছা আর মায়ের অমত - এসব কিছুই বিদিশা বা তার মা জানতেন না | মিলন তার সিদ্ধান্ত থেকে সরবে না বুঝতে পেরে তার মা তাকে জানিয়ে দেন ; বিদিশাকে যদি বিয়ে করতেই হয় , এই বাড়িতে তাদের থাকা চলবে না | বিদিশাকে তিনি কোনোদিনই মেনে নেবেন না |  পরেরদিন যখন বিদিশা কাজে আসেন শান্তিদেবী তাকে শান্ত ভাবেই কাজ থেকে ছাড়িয়ে দেন | অপরাধ কি জানতে চাওয়ায় তিনি নিশ্চুপ থাকেন | অনেক কাকুতি মিনতি করেও তিনি জানতে পারেন না তার অপরাধটা ঠিক কোথায় ? পয়সাকড়ি যা পাওনা ছিলো তাও মিটিয়ে দেন | সেদিনই সন্ধ্যায় অফিস থেকে ফেরার পথে মিলন বিদিশাদের ছোট্ট ভাড়া করা বাড়িটায় যেয়ে উপস্থিত হয় | সকল ঘটনা খুলে বলায় তারা মা ,মেয়ে দুজনেই হা হয়ে যায় | বিদিশার মায়ের অনুমতি আছে কিনা মিলন জানতে চায় | তিনি মিলনের দু 'হাত ধরে অঝোড়ে কাঁদতে থাকেন ; তার মেয়ের সৌভাগ্যের কথা ভেবে |কিছুটা ধাতস্থ হয়ে ঘর থেকে বেড়িয়ে যান | মিলন বুঝতে পারে বিদিশার সাথে কথা বলার সুযোগ করে দেন তিনি | মিলন বিদিশার মত জানতে চাইলে সে তাকে জানায় - " মা যা বলবেন তাই হবে | কিন্তু জেঠিমার আশীর্বাদ না পেলে কি সুখী হবো ?" মিলন বলে , " সেটাও আমি ভেবেছি | তবে আমি জানি মা একদিন ঠিক মেনে নেবেন |"  বিদিশাকে রেজিষ্ট্রি করে বিয়ে করে মিলন ভাড়া বাড়িতে যেয়ে ওঠে | অভিমানী শান্তিদেবী কোনো কিছুতেই আর বাঁধা দেন না | ছ'মাসের মাথায় মিলন বদলী নিয়ে শিলিগুড়ি চলে যায় | ভায়ের সাথে ফোনে যোগাযোগটা থেকেই যায় | ভায়ের কাছ থেকেই মিলন মায়ের খবরাখবর নিত | দেড় বছরের মাথায় তাদের একটি পুত্র সন্তান হয় | ছোট ছেলের মারফত শান্তিদেবী তার নাতি হওয়ার খবরটাও পান | মিলনের বিয়ের বছর চারেক বাদে মলয়ের বিয়ে দেন তার মা | ভালো বংশ ,মেয়ে উচচ শিক্ষিত ,গান জানা মেয়ে নিজে পছন্দ করে বেশ ঘটা করে ছোট ছেলের বিয়ে দেন |  গোলটা বাঁধে তখন থেকেই | মলয়ের বৌ রীনা সংসারের কোনো কাজই জানে না | শান্তিদেবী অনেকবার নিজে হাতে করে তাকে রান্না বান্না শিখাতে গেছেন | কিন্তু সে রান্না ঘরে ঢুকতেই নারাজ | এদিকে তাঁরও বয়স হয়েছে | রান্নার লোক ,কাজের লোক - সবই মলয় রাখতে বাধ্য হয়েছে | কিন্তু তারা সপ্তাহে চারদিন আছে তো তিনদিন আসেনা | সেই সময় শান্তিদেবীকে একা হাতেই সব সামলাতে হয় | এই ভাবে বছর খানেক চলার পর শান্তিদেবী হঠ্যাৎ একদিন বাথরুমের ভিতর পরে যেয়ে কোমরে খুব চোট পান | একেবারেই শয্যাশায়ি তখন | কিন্তু রীনা সংসার আর তার শ্বাশুড়ির যাবতীয় কাজ করতে অস্বীকার করে | মলয়ের সাথে এই নিয়ে ঝামেলা করে সে বাপের বাড়ি চলে যায় | অনোন্যপায় মলয় তার দাদাকে সব জানায় | দু 'দিনের মধ্যেই ছেলে আর বৌকে নিয়ে মিলন কলকাতা চলে এসে এক বন্ধুর বাড়িতে ওঠে | মালপত্র সেখানে রেখেই সে বিদিশার কাকুতি মিনতিতে তাদের নিয়েই মায়ের কাছে আসে |এত বছর পরে মায়ের কাছে এসে সে মায়ের এই অবস্থা দেখে নিজেকে ধরে রাখতে পারে না | হাউ ,হাউ করে কাঁদতে লাগে | শান্তিদেবী তাকে শান্তনা দিতে দিতে বলেন ," আরে কাঁদছিস কেনো ? আমি তো এখনো বেঁচে আছি রে ! তুই কেমন আছিস ?" কথা বলতে বলতে দেখেন একটি ছোট ছেলে এসে মিলনের গা ঘেসে এসে দাঁড়িয়েছে | পর্দার আড়ালে বিদিশা তার ছেলের হাত ধরেই দাঁড়িয়ে ছিলো | অন্যমনস্কভাবে পুরানো দিনের কথা ভাবতে ভাবতে খেয়ালই করেনি কখন ছেলে হাত ছেড়ে দিয়ে বাবার কাছে চলে গেছে | শান্তিদেবী মিলনের কাছে জানতে চাইলেন ," এটা তোর ছেলে না ?" "হু" বলেই মিলন মিলন ছেলের দিকে তাঁকিয়ে বললো ,"তুমি ভিতরে এসছো কেন ? যাও মায়ের কাছে যাও "| শান্তিদেবী কথাটা শুনলেন ;কিন্তু একটি হাত বাড়িয়ে দিলেন তার নাতির দিকে | ছোট্ট দীপ হাতটি ধরে বললো ," তোমার কি হয়েছে ঠাকুমা ?"দীপের মুখে ঠাকুমা ডাকটি শুনে শান্তিদেবী খুব খুশি হলেন | আনন্দে তার দু'চোখ দিয়ে অশ্রুধারা বইতে লাগলো | তিনি তার নাতিকে বললেন ,"আমি যে তোমার ঠাকুমা ,এটা তোমায় কে বললো?" " কেন মা-ই তো তোমায় দেখিয়ে বললো ,ওই দেখ ওই যে তোর ঠাকুমা | মার কাছে তোমার কত গল্প শুনেছি | তুমি খুব ভালো রান্না করতে পারো , ভালো ভালো গল্প জানো | আচ্ছা ঠাকুমা তুমি কবে আমায় রান্না করে খাওয়াবে ?" "আমি যে উঠতেই পারিনা ভাই !কি করে রান্না কোরবো ?" " জানো ঠাকুমা আমার মা না খুব সুন্দর রান্না করে ,তুমি খেলেই সুস্থ্য হয়ে যাবে | কিন্তু মা বাইরে দাঁড়িয়ে থেকে কেঁদেই চলেছে | ভিতরে আসছে না | আমাকেও শক্ত করে ধরে রেখেছিলো | কিন্তু আমি তোমার কাছে পালিয়ে এসছি |" মিলন ছেলেকে এক তাড়া দিয়ে বলে ," চুপ করো ,কথা একবার শুরু করলে আর শেষ করো না | যাও এবার মায়ের কাছে যাও | " দীপ বাবার তাড়া খেয়ে মুখ নিচু করে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে | শান্তিদেবী কিছুক্ষন চুপ করে থেকে দীপকে বলেন ," ভাই ,আমি তো উঠতে পারি না ; তুমি আমার হয়ে একটা কাজ করে দাওতো | বাইরে যেয়ে মায়ের হাতটা ধরে জোড় করে আমার সামনে এনে দাঁড় করাও |" ব্যাস বলার অপেক্ষা ; দীপ এক ছুটে মায়ের কাছে যেয়ে মায়ের হাত ধরে টানাটানি শুরু করে দিলো | বিদিশা কথাটা শুনতে পেয়েছিলো ; সে ছেলের হাত ধরে ভিতরে এসে দাঁড়ালো | শান্তিদেবী এবার তাকে বললেন ,"তুই তো এত অবাধ্য ছিলিনা , এতো দূরে দাঁড়িয়ে কেন ? আমার সামনে আয় বলছি | কতদিন তোকে দেখিনা | এখন কেমন দেখতে হয়েছিস , দেখি কাছে আয় |" বিদিশা এসে শান্তিদেবীর পায়ের কাছে মাথা রেখে কাঁদতে লাগে | তিনি তাকে বলেন ," কাঁদছিস কেন রে বোকা ! তুই তো কোনো অন্যায় করিস নি | অন্যায় তো আমি করেছি | আমার ছেলে মোহরটা ঠিক চিনেছিল | আমিই বুঝতে পারিনি মা | আয় আমার সামনে আয় | তোদের তিনজনকে একটু একসাথে দেখি | আজ বুঝতে পারি রে - বংশমর্যাদা ,কৌলিন্য এসব বিচার না করে যদি সাধারণ একটা মেয়ে হিসাবে তোকে দেখতাম ; তাহলে মনেহয় আমার এই পরিণতি হত না |"  শান্তিদেবীর কথামতো সেদিন রাতেই মিলন যেয়ে তার বন্ধুর বাড়ি থেকে মালপত্র নিয়ে আসে |তারা তিনজনেই সেদিন থেকে ওই বাড়িতেই থেকে যায় | বিদিশা একা হাতেই রান্না ,শ্বাশুড়ির সেবা যত্ন করতে করতে শুরু করে | রান্নার লোকও ছাড়িয়ে দেয় | কিন্তু কাজের মাসিকে মলয় কিছুতেই ছাড়াতে দেয় না | বলে ," তুমি একা হাতে কিছুতেই পেরে উঠবেনা ; এরপর তুমি অসুস্থ্য হয়ে পড়লে আমরা না খেতে পেয়ে মারা যাবো |" বলেই হাসতে শুরু করে | মলয়কে বলে বলে তাকে পাঠিয়ে রীনাকে তার বাপের বাড়ি থেকে নিয়ে আসতে বাধ্য করে |খাবার গুছিয়ে রীনাকে খেতে ডাকলে সে এসে খেয়ে যায় | বিদিশা কিছু বললে 'হু' অথবা 'না'- বলে উত্তর সারে | দেখতে দেখতে শান্তিদেবীও কিছুটা সুস্থ্য হয়ে ওঠেন | এখন তিনি বিদিশার সাহায্য নিয়েই খাটের উপর উঠে বসতে পারেন |  এদিকে মিলনেরও ছুটি শেষ | ছেলের স্কুল কামাই হচ্ছে | সে মায়ের কাছে ফিরে যাওয়ার অনুমতি চায় | শান্তিদেবী বেশ রাগত স্বরেই তাকে বলেন ," যেতে হলে তুমি চলে যাও ; দীপ আর তার মা আমার কাছেই থাকবে |" "কিন্তু মা ,দীপের পড়াশুনার ক্ষতি হচ্ছে |" "এখানে কোনো ভালো স্কুলে ওকে ভর্তি করে দাও | আর শোনো মায়ের কথা না শুনে যেমন চাকরীতে বদলী নিয়ে চলে গেছিলে ; ঠিক সেই একই ভাবে এবার মায়ের কথা শুনে বদলী নিয়ে মায়ের কাছেই চলে এসো | একা যাও , অফিসের কাজ সেরে খুব তাড়াতাড়ি বদলী নিয়ে চলে এসো | একবার যে ভুল আমি করেছি ,এবার তা সংশোধন করবার সুযোগ এসছে | এ সুযোগ আমি কিছুতেই হাতছাড়া কোরবোনা |" মা ও ছেলের কথপোকথনের মধ্যে বিদিশা এসে হাজির হয় | সে মিলনকে বলে ,"আমি মায়ের এই অবস্থায় কিছুতেই তোমার সাথে যেতে পারবো না | মা যতদিন না ভালোভাবে হাঁটা চলা করতে পারছেন ততদিন আমি এখানেই থাকবো | " মিলন অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করে ,"কিন্তু দীপের স্কুল,পড়াশুনা ?" শান্তিদেবী ওদের কথার মাঝখানেই বলে ওঠেন ,"বললাম তো ওদের আমি যেতে দেবোনা | আর ভুল করতে চাইনা | দীপকে এখানেই কোনো ভালো স্কুলে ভর্তি করে দে | লক্ষ্মী বাবা আমার ; আমার কথাটা শোন | একদিন যে কথাগুলি তুই আমাকে বলেছিলি সেদিন আমি গো ধরে বসে না থেকে যদি তোর কথাগুলি আমি বোঝার চেষ্টা করতাম , তাহলে আমার সংসারটা আজ সোনার সংসার হত |"তিনি হাত বাড়িয়ে বিদিশাকে ডেকে বালিশের তলা থেকে চাবির গোছাটা বেড় করে বিদিশার হাতে দিয়ে বললেন ," আজ থেকে তুই এই সংসারের কর্ত্রী | পরিবারের ভালো মন্দ সব তোর হাতে |" বিদিশা হাত পেতে চাবিটা নিয়ে কিছুক্ষন চুপ করে থেকে শ্বাশুড়ির বালিশের তলায় রাখতে রাখতেই বলতে লাগলো ,"এত বড় দায়িত্ব তুমি যতদিন আছো আমি নিতে পারবো না | এটা এখানেই থাক | সংসারের সব দায়িত্ব আমি মাথা পেতে নিলাম | কিন্তু এই সংসারের কর্ত্রী তুমি মা | তুমি যেটা বলবে আমি সেটাই পালন করবো | কিন্তু মা ,ওই চাবির ভার আমায় দিওনা | আমার ভুল, ভ্রান্তিগুলি শুধরে তোমার মনের মত করে নিও |"


শান্তিদেবী আঁচল দিয়ে চোখ মুছতে মুছতে বললেন,"আমি মানুষ চিনতে ভুল করেছিলাম রে মা ! তার ফল আমি পাচ্ছি |" বিদিশা এগিয়ে যেয়ে শ্বাশুড়ি মায়ের হাত দু'টি ধরে বলে ,"আর কখনো তুমি পুরানো কথা মুখে আনবে না | আমি তো ভুলেই গেছি এখানে আসার পর সে সব কথা |" শান্তিদেবী বিদিশার মাথায় হাত রেখে আশীর্বাদ করেন |




মাস চারেকের মধ্যে মিলন পুনরায় বদলী নিয়ে কলকাতায় চলে আসে | দীপকে একটা ভালো স্কুলে ভর্তিও করিয়ে দেয় | বিদিশার অশেষ সেবা যত্ন ,আর ঘড়ির কাটা ধরে ওষুধ খাওয়ানোর ফলস্বরূপ কয়েক মাসের মধ্যেই শান্তিদেবীও হাঁটাচলা শুরু করেন | এখন বিদিশাকে যেন তিনি চোখে হারান | আর তার মলয়ের বৌ ,যাকে তিনি ভালো বংশ দেখে নিজে পছন্দ করে ঘরে তুলেছিলেন ; তার সাথে দেখা দিনে দু থেকে তিনবার মাত্র হয় , সে যখন খেতে নীচুতে নামে | বিদিশার হাতে সংসারের যাবতীয় দায়িত্ব তুলে দিয়ে পরম নিশ্চিন্তে তিনি তার দাদুভায়ের সাথেই সময় কাটান | বিদিশাও তার শ্বাশুড়ি মায়ের দেওয়া সকল দায়িত্ব সতত মুখে হাসি রেখে পরম নিষ্ঠার সাথে পালন করে ।


Rate this content
Log in

More bengali story from নন্দা মুখার্জী

Similar bengali story from Inspirational