Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published
Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published

SUKANYA SAHA

Tragedy Romance


3  

SUKANYA SAHA

Tragedy Romance


ভালোবাসা ঘরে ফিরে নাই...

ভালোবাসা ঘরে ফিরে নাই...

4 mins 1.0K 4 mins 1.0K

এক অপূর্ব মায়াবী আলো খেলা করছিল মেয়েটির মুখে ... ফর্সা নেপালী ছাঁচের মুখ ; খুদে খুদে  চোখ । চ্যাপ্টা নাক , রংটা বেশ ফর্সা । হলুদ ফর্সা । অরূণাচল প্রদেশের এই প্রত্যন্ত অঞ্চলে,তাওয়াং থেকে প্রায় ৮ কিমি দুরে জঙ্গলের মধ্যে ফরেস্ট গেস্ট হাউস , সেখানেই আমাদের থাকার কথা , জঙ্গলে ঢোকার  আগে একটা ঝুপড়ি চায়ের দোকানে চা খেতে গিয়ে যে কিমের সঙ্গে এভাবে দেখা হয়ে যাবে আমি স্বপ্নেও ভাবি নি ।

চায়ের জল বসিয়ে একমনে ম্যাগি করছিল কিম ; কাস্টমারদের জন্য । এই অসময়ে এত বড় একটা বেড়ানোর দল যে এই রুটে আসবে  তার জন্য আগাম প্রস্তুতি ছিল না এই ছোট্ট চায়ের দোকানের মালিক কিমের । কিমকে আমি চিনি অনেক দিন আগে থেকেই ...  


         আজও মনে পড়ে আট বছর আগের সেই দিনটার কথা , সেবার চলেছি ফালুট ট্রেকিং এ । দার্জিলিং থেকে আমাদের সহযাত্রী হিসেবে দলে যোগ দিয়েছিল মোহন সারদুকপেন আর কিম লিন। আলাপ জমে উঠতে দেরী লাগে নি। মোহন আদতে অরুণাচল  প্রদেশের ছেলে , পেশায় ভারত সরকারের গোর্খা রেজিমেন্টের ৩৪ নং ব্যাটেলিয়ানের সৈন্য আর নেশায় পর্বোতারোহী । আর কিম? দার্জিলিং এর মেয়ে ।যুক্ত দার্জিলিং মাউন্টেয়ারিং ইন্সটিটিউটের সঙ্গে । হিমালয়ের মায়াই তাদের কাছাকাছি এনেছিল। ভালবাসতে শিখিয়েছিল একে অপরকে ।

সুন্দরী ছটফটে উপকারী মেয়ে কিম অল্পদিনেই দলের সকলের  নয়নের মণি হয়ে উঠেছিল। মোহনই বলেছিল আমাদের  যে কিম তার বাগদত্তা । ওরা এও জানত বাড়ি থেকে মেনে  নেবে না ওদের  এই সম্পর্ক । তবু মোহন বলেছিল সামনের ছুটিতে সিয়াচেন থেকে ফিরে বিয়ে করে নেবে কিমকে , দরকার হলে বাড়ির অমতেই রেজিস্ট্রি করে ...


       "বাবু আপনার ম্যাগি ..." কিমের ডাকে  সম্বিত ফেরে আমার । " কেমন আছ কিম ? " আমি শুধাই তাকে । অদ্ভুত  এক ঘোলাটে দৃষ্টি নিয়ে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে কিম। এই আট বছরে কিমের চুলে রূপোলি রেখা , চোখের পাশের চামড়া কুঁচকে  গেছে বেশ। গাল বেয়ে নেমে আসা চুলের গুচ্ছে রুপোলি রং। কিম কি তাহলে  আমায় চিনতে পারে নি ? মৃদু স্বরে আবার জিজ্ঞেস করলাম , " কেমন আছ কিম ? " দেখলাম এবারও উত্তর করল না কিম । আমার গলার কাছে একরাশ প্রশ্ন দলা পাকিয়ে উঠে আসছিল ...

কিম আমায় চিনতে পারছ না ? কিম ? আমি লাহিড়ি দা ... কিন্তু কিমের নিস্পৃহ চোখ দেখে একটা শব্দও বেরোল না গলা দিয়ে ... বুঝতে পারলাম  কিম  আমায় চিনতে পারে নি অথবা খুব আনমনা উদাসীন রয়েছে ... জাগতিক কিছু তাকে  স্পর্শ করছে  না । তাওয়াং এর  এই দূর জঙ্গলের  মধ্যে বেশ ঠান্ডা এখনও ,যদিও ক্যালেন্ডার বলছে  এটা মার্চের  শেষাশেষি ... জায়গাটার নাম ফরেস্ট গেস্ট হাউস । গতকালই আমরা ঘুরে এসেছি শোংগা টিসার লেক , স্থানীয় নামে যা মাধুরী লেক নামেই পরিচিত। তাওয়াং যে কি অদ্ভুত সুন্দর এখানে  না  এলে জানাই হত না , প্রকৃতি এখানে 

উচ্ছ্বল না , শান্ত থির , নিস্তব্ধ, গাছের পাতা পড়ার ঝিরঝিরে শব্দ ও যেন  অনুভব করা যায় , শোনা যায় । নিস্তব্ধ প্রকৃতির ঘোর লাগানো সৌন্দর্য্য এখানে লুকিয়ে  আছে পরতে পরতে ... এখানে  এসে পড়লে জাগতিক কথা একেবারে তুচ্ছ মনে হয়... কোনো কথা বলতে ইচ্ছেই করে না ... নীরবে  প্রকৃতির গান শুনতে ইচ্ছে করে ; আর এই প্রাকৃতিক নিস্তব্ধতাকে উপভোগ করার জন্যই আমি ফিরে ফিরে আসি হিমালয়ের কাছে । তবে  এর আগে বেশ কয়েকবার অরুণাচল প্রদেশে এলেও তাওয়াংয়ের দিকটা এই প্রথম ; ফলে কিমের সঙ্গে  দেখা হওয়ার সুযোগ হয় নি কোনোবারই । এবারে কিমের আমাকে না চিনতে পারাটা তাই মনের মধ্যে খচখচ করছিল কাঁটার মতো...


      তাওয়াংয়ের ওই ফরেস্ট গেস্ট হাউসে  আমাদের একদিন থাকার কথা ... পরের দিন ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে যখন গেস্ট হাউসের বারান্দায় এলাম তখন ও সূর্য ওঠে নি ; চারিদিকে সেই ঝিম ধরানো বন্য সৌন্দর্য্য, অজস্র নাম না জানা পাখির ডাক । চৌকিদার কাম কেয়ারটেকার দীনদয়াল ঝাড় দিয়ে বাংলোর হাতা পরিষ্কার করছিল । আমাদের রুমের জানলার ঠিক নীচে ফুটে ছিল বেগুনী রঙের গুচ্ছ গুচ্ছ অর্কিড । আলাপচারিতার ভঙ্গিতেই জিজ্ঞেস  করলাম দীনদয়ালকে আচ্ছা কাল যো দুকান পে  হম চায়ে পিয়ে থে উসি মালকিন কো পহেচানতে হো ? কিম কো?

অবাক চোখে দীনদয়াল প্রশ্ন করল , কৌন কিম ? ও তো মোহন ভাইয়াকা বিবি ! উসে আপ জানতে হো ? আমি জোর দিয়ে বলে উঠি হাঁ হাঁ ওহি ...কিম লিন ... মোহন সরদুকপেন কি বিবি ... ক্যায়সে হ্যায় মোহন ? 

দীন দয়াল অবাক চোখে উত্তর দিল... মোহন তো কব কা গুজর গ্যায়া বাবুজী ! আপ নেহী জানতে ? মোহনের মৃত্যুর খবর শুনে কেন জানি না মনটা ভীষণ দমে গেল ... এদিকে দীন দয়াল বলে চলেছে শাদি কে বাদ বাদই মোহন নে চলা গ্যয়া সিয়াচেন মে ডিউটি পে ... উস টাইম চায়না বর্ডার পে বহোত বম্বিং হো রহা থা ... একদিন খবর আয়া মোহন দেশ কে লিয়ে শহীদ হো গ্যয়ে লেকিন উসকি বডি নেহি মিলি ... সরকার নে বহোত কোশিস কিয়ে ... শায়দ বরফ পে দফনা গ্যয়া ... লেকিন কিম নে আজ ভি বিশওয়াস নেহি করতি কে মোহন মর গ্যয়া ... স্রিফ তিন মাহিনা শাদী হুয়ে থে , কিম আপনি শ্বশুরাল মে  রহে গ্যয়ে ... বুড়া শ্বশুর শাশুড়ি কো সেবা করতি হ্যায় ... মাইকে কভি নহী গ্যয়া... বহোত 

আচ্ছা লেড়কী হ্যায় কিম ... বহোত ভোলা ... দিল্লি ভি নেহী গ্যয়ে প্রাইজ লেনে কে লিয়ে ... কহেতী হ্যায় জিন্দা ইনসান কো প্রাইজ ক্যায়া ? ও আজ ভি বিশওয়াস করতা হ্যায় কে মোহন জিন্দা হ্যায় ...


       আমার  মুখ দিয়ে আর কোনো কথা বেরোচ্ছিল না ... চুপ করে শুধু জঙ্গলের পাতা ঝরার শব্দ শুনছিলাম। পরের দিন আমাদের যাওয়া আজ রওনা দেব বমডিলার উদ্দেশ্যে ... গাড়ি এসে গেছে । কাল থেকে অনেকবার ভেবেছি যাই একবার কিমের সঙ্গে দেখা করে আসি । কিন্তু কেন জানি না পা ওঠে নি ... মনে হয়েছে আবার যদি চিনতে না পারে ? গাড়ি ছাড়ার সময় দীন দয়াল দৌড়ে এসে আমায় একটা কাগজ হাতে দিল । বলল কিম বেটি নে আপ কো দিয়া হ্যায় । দেখলাম একটা চিঠি । পরিষ্কার হাতের লেখায় শুদ্ধ ইংরাজীতে কিম লিখছে লাহিড়ী দা, আপনি ভাববেন না আপনাকে আমি চিনতে পারি নি । সেদিন দেখা মাত্রই চিনেছিলাম আপনাকে । কিন্তু বলি নি । কারণ আমি এখন সন্ন্যাসীনি লাহিড়ী দা, মোহনের ফিরে আসার তপস্যা করছি ... সবাই বলে মোহন মারা গেছে , সীমান্তে । কিন্তু আমার মন মানে না ...

আচ্ছা  লাহিড়ী দা আপনি বলুন আমাদের ভালোবাসা কি এত ঠুনকো ছিল ? মোহন আমাকে  এভাবে  একা ফেলে রেখে চলে যেতে পারে না ... বলুন লাহিড়ী দা পারে ?


      গাড়ীর সামনের সিটে বসে আমার দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে  এলো ... অস্ফুটে শুধু বল্লাম..."তোমার তপস্যা সফল হোক কিম"...  


Rate this content
Log in

More bengali story from SUKANYA SAHA

Similar bengali story from Tragedy