STORYMIRROR

Abanti Pal

Classics Inspirational

4  

Abanti Pal

Classics Inspirational

অচেনা অরণ্য

অচেনা অরণ্য

8 mins
307


জৈষ্ঠ্যের প্রখর দাবদাহে মধুগঞ্জের চারদিক খাঁখাঁ করছে। যে অনামী নদীটা একদিন তার ঠিকানা খুঁজে ফিরে হারিয়ে যেত গ্রামের সীমানা দিয়ে, সে আজ অনেকদিন হলো শুকিয়ে গিয়ে নিজের গতিপথ শুধু নয়, নিজের অস্তিত্বটুকুও ভুলতে বসেছে। রঘু ফলওয়ালা তার তালশাঁস, কালোজাম, লিচু নিয়ে আজ সপ্তাহখানেক হলো আসছে না। খবরের কাগজ দিতে আসা বীরুরও দেখা নেই। এতে কারুর কিছু যায় আসে না, একজন বাদে। সেই একজন এখন এই ঘোর গ্রীষ্মের তাপে ছাতা মাথায় হনহন করে হেঁটে চলেছেন গ্রামীণ ব্যাংকে। তিনি প্রৌঢ় অবসরপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার সুশান্ত মল্লিক। সত্তর বছরের ওপর বয়স। মধুগঞ্জের আদি বাসিন্দা।


জনমানবশূন্য রাস্তায় একটাও প্রাণী নেই। স্তব্ধ গাছের পাতা। উত্তপ্ত রোদে সামনের বাতাস থরথর কাঁপছে। সুশান্তবাবু দু'দণ্ড বিশ্রামের আশায় অশ্বত্থ বেদীতলায় এসে দাঁড়ালেন। এখনো অনেকটা পথ বাকি। বাঁধানো বেদীতে বসে ঝাপসা হয়ে আসা চশমাটা ধুতির কোঁচায় মুছলেন। চোখদুটো জ্বালা করছে। একটু জল পেলে ভালো হতো। এমতবস্থায় গাছতলায় বসে থাকলে, শরীর শীতল হওয়ার থেকে নিরুদিত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশী। 


আসন্ন দুর্দিনের আশঙ্কায় আজ তাঁকে বেরোতেই হলো। সুশান্তবাবুর ছেলে সুধীর ব্যাংকে কথা বলে ব্যবস্থা করে দিয়েছে, যাতে বীরু প্রতি মাসে তাঁর মাসিক পেনশন পৌঁছে দেয় বাড়ির ঠিকানায়। অন্তত বছরখানেক এমনটাই হয়ে আসছে নির্বিঘ্নে। বীরু নিজেই এই বন্দোবস্তের কথা সবিস্তারে জানিয়েছিল তাঁকে। এই বিষয়ে লেখা সুবীরের চিঠিপত্র সেই এনে দেয়। কিন্তু মাস দুয়েক হতে চলল, বীরু আর আসে না। গ্রামের কেউ তার খবরাখবর দিতে পারে না। এদিকে ঘরে মাসকাবারির জিনিস বাড়ন্ত। অবসরপ্রাপ্ত বৃদ্ধ মানুষটির প্রয়োজন সীমিত। কিন্তু বছর সাতেক আগে পত্নীবিয়োগ ঘটেছে ক্যান্সারে। চিকিৎসার কারণে মধ্যবিত্ত পরিবারের সুশান্তবাবুর পুঁজি প্রায় শেষের দিকে। এখন ভরসা এই মাসিক ভাতা, নাহলে এখন তিনি সর্বস্বান্ত প্রায়। 


দ্রুতগামী জীবনে কারুর সময় নেই এই বৃদ্ধ একাকী মানুষটার জন্য। ছেলে সুবীর ওকালতি করতে সেই কত বছর আগে অন্য শহরে পাড়ি দিয়েছে। কে আর তাঁর খোঁজ রাখে। এক বীরু ছাড়া। বীরু এককালে তাঁর কাছে পড়তে আসত। সুশান্তবাবুর যেমন ছিল শখে পড়ানো, ছেলেটারও বোধ করি পড়াশোনাটা ছিল শখের। নাহলে এত প্রতিভাবান ছেলে কখনও গ্রামে কাগজ বিলি করতে পড়ে থাকে? অবশ্য বীরুর পূর্বপুরুষদের অগাধ সম্পত্তি। সে সম্পত্তি আজও বইছে। কোনো আয় উপার্জন ছাড়াই সে আরামে জীবনটা কাটিয়ে দিতে পারে। আর এতেই ছিল সুশান্তবাবুর আপত্তি। শ্রম করবে নিজের উত্তরণের জন্য, ব্যাপ্তির জন্য, জনকল্যাণের জন্য, শুধুমাত্র অর্থ উপার্জনের কারণে নয়। পিতৃসম স্যারের সেই কথা রাখতেই বীরুর কিছু খুচরো কাজে নামা। যদিও সে বেশিরভাগ সময় নিজের প্রাসাদসমতুল বাগানবাড়িতেই দিন কাটায়। এইসব ছেলেদের জন্য দেশের আজ এই অবস্থা। মাথার ঘাম পায়ে ঠেলে পরিশ্রম করে উপরি কর দেবে মধ্যবিত্ত জনসাধারণ, অথচ শেষ বয়সে যথার্থ পেনশন না পেয়ে হাঁফিয়ে উঠবে। এদিকে ফুর্তিতে আরাম করবে কিছু বিশেষাধিকার প্রাপ্ত নাগরিক। এই নিষ্কর্মা ছেলের এভাবে একটা বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষের দরকারি চিঠি পৌঁছে দেওয়ার এতটুকু গুরুত্ব জানা নেই? ভীষন রাগে গজরাতে গজরাতে সুশান্তবাবু গরমে নাকাল হয়ে পৌঁছলেন ব্যাংকে।


সেখানে ঢুকে দেখলেন একটা ঢিমেতালে চলা পাখার নীচে একটামাত্র কাঠের টেবিল-চেয়ারে কাগজপত্র ছড়িয়ে বছর চল্লিশেকের কর্মচারী দত্তবাবু কাজ করছেন। জিজ্ঞাসাবাদ করতে জানা গেল এই গরমে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে একজন দুজন করে কর্মচারী আসছেন। এমনিতেও এই গ্রামে খুব একটা ভিঁড় হয়না মানুষের।


সুশান্তবাবু উল্টোদিকের চেয়ার টেনে বসলেন। নিজের প্রয়োজন ব্যক্ত করলেন। দত্তবাবু ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর আর পাসবই চাইলেন। সবকিছু দেখেশুনে ভ্রুকুঞ্চিত করলেন। সুশান্তবাবু ব্যতিব্যস্ত হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন,

'কি ব্যাপার দত্ত, কোনো সমস্যা হয়েছে কি?'


'সমস্যা বলতে আপনার ব্যাংকে আজ পর্যন্ত যা ভাতা জমা পড়েছে, সেইসব আপনার কথা মত সরকার থেকে দেয়নি। তাছাড়া, এই গত দুই মাসে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা ঢোকেনি '


'বলো কি?' অবাক হলেন সুশান্তবাবু। 'আমি এক বছর ধরে এই পেনশন পাচ্ছি। সরকার দেয়নি তো কি ভূতে দিলো?'


দত্তবাবু ধীরস্থির কণ্ঠে বোঝানোর ভঙ্গিতে বললেন, 'সুশান্তবাবু, আপনি বেসরকারি চাকরি করতেন। সরকার এক্ষেত্রে কোনো ভাতা দেয় না, এমনটাই স্বাভাবিক নিয়মে হয়ে এসেছে'


'আমাকে স্বাভাবিক অস্বাভাবিক শেখাচ্ছ দত্ত?' প্রচন্ড রুষ্ট হলেন সুশান্তবাবু। এতদিনের পুঞ্জীভূত সমস্ত ক্রোধ, হতাশা, দুঃখ ঝরে পড়লো গ্রীষ্মের খরতাপের মতো। 'আমি বেসরকারি কেরানী ছিলাম বলে পেনশন পাবো না? জানো এর জন্য আমার ছেলে কত মামলা মোকদ্দমা করেছে? বয়স্ক নিঃস্ব মানুষেরা যারা সারাজীবন দেশের দশের জন্য নিরলস পরিশ্রম করে গেছে, তাদের দেখভালের কোনো দায় কি সরকারের নেই? আগুনের দরে জিনিসের দাম বাড়ছে। আমরা সমস্ত যৌবন জীবন অধ্যাবসায় দিয়ে আমাদের দেশের পরিকাঠামো তৈরি করেছি, টিকিয়ে রেখেছি। আজ আমাদের দিকে কেউ ফিরে তাকাবে না? আমার নাহয় এক ছেলে আছে। কিন্তু ভাবো তো যাদের সন্তান নেই? থাকুক বা না থাকুক, কেন আমরা পরাধীন লতানে গাছের মতন অন্যের কৃপায় বাঁচবো, শুধুমাত্র বয়সের ভারে নুইয়ে পড়ে অকেজো হয়ে গেছি বলে? একসময়ে আমরা না থাকলে আজকের দিনটা, এই বর্তমান থাকতো না, আগামী ভবিষ্যত এত মসৃণ হবে না। অতীতকে সম্মান করতে শেখাটা দরকার। এই কথাটা যেমন তোমায় বললাম, তেমনই বুঝিয়েছিলাম আমার ছেলেকে। সে বুঝেছে আর তারপর অনেক লড়াই করে আমার ছেলে আট বছরের মামলা জিতেছে, আমার জন্য জিতেছে। বেসরকারি কেরানী হয়েও আমি সরকারের থেকে মাসিক ভাতা পাই। আর তুমি কি না বলছো, এসব ভুল?'


একটু থতমত খেয়ে গেলেন দত্তবাবু। এতটা শ্রমসাধ্য লড়াইয়ের কথা জানতেন না তিনি। কিন্তু এটাও তো সত্যি, যে মাসিক টাকাটা ঢোকে একটা অজানা ব্যক্তিগত একাউন্ট থেকে। মনে একটা খটকা লাগলো তাঁর। ন্যুব্জ বয়স্ক মানুষটাকে দেখে ভারি মায়া হলো। উনি বললেন,

'আপনি একবার আপনার ছেলের সাথে কথা বলেন না কেন?' 


অবাক বিস্ময়ে তাকালেন সুশান্তবাবু। 

'তুমি কি কোনো কারণ বলতে পারবে, টাকাটা আসতে দেরী হচ্ছে কেন? আমার ছেলে ভারি ব্যস্ত, তাকে যখন তখন ফোন করা যায় না'


কিন্তু শেষে সেই ছেলেকেই ফোন করতে হলো। দীর্ঘ চার বছর পর ছেলের কণ্ঠস্বরে 'বাবা' ডাক শুনে বিহ্বল হয়ে থমকে ছিলেন, ওপার থেকে কর্কশ কণ্ঠধ্বনি এলো,

'কি হলো বাবা? কিছু বলবে? আমি এখন খুব ব্যস্ত আছি। পরে কথা বললে হয় না?'


ছেলের এই কথায় খড়কুটো আঁকড়ে ধরার মতন চেঁচিয়ে উঠলেন সুশান্তবাবু,

'খোকা, ফোন ছাড়িস না খোকা!'


'বলো কি বলবে। একটু তাড়াতাড়ি বলো' ওদিক থেকে ভেসে এলো সুধীরের ঈষৎ বিরক্তির প্রকাশ।  


এই বাবা ডাকটা যে সুশন্তবাবু কতদিন পর শুনলেন! ছেলে কোলকাতায় ওকালতি পড়তে গিয়ে সেই যে ঘরছাড়া হলো, এই এতগুলো বছরে আর একবারের জন্যও এমুখো হলো না। মায়ের শেষকালেও নয়। সে না কি এখন মস্ত উকিল। তার এমন যখন-তখন পাড়াগাঁয়ে তুচ্ছ ব্যাপারে ওঠাবসা করলে চলেনা। তার কথার ভিত্তিতে জজসাহেব রায় দেন। সে রায়ে মানুষের জীবনের ওঠাপড়া বদলে যায়, এমনই তার ক্ষমতা। কোথায় ফুরসৎ তার সময় নষ্টের? কিন্তু এখন এই বিপদে পড়ে তাকে ফোন করে বিরক্ত করে খুব সঙ্কুচিত বোধ করছিলেন সুশান্তবাবু। তবু মরিয়া হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন,

'খোকা, তোর মনে আছে সেই মামলার কথাটা? যেখানে তুই অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি কেরানীদের মাসিক পেনশন পাইয়ে দেওয়ার কেসটা জিতেছিলি?'


ওপারে নিস্তব্ধতা শুনে তিনি আশ্বস্ত হলেন, ছেলে শুনছে তাঁর কথা। তিনি তাড়াতাড়ি বললেন,

'এদ্দিন তো তোর কথামতই বীরু আমাকে মাসে মাসে ভাতা পৌঁছে দিত ঘরে, আমাকে ব্যাংক অবধি আসতে পর্যন্ত হয়নি। বীরুকে মনে আছে তো? তোর সাথে একই ক্লাসে পড়ত। ছেলেটা বড়ো ভালো জানিস। আমার বাজার দোকান ওই তো করে দিত। কিন্তু এই দু'মাস ধরে সেটা হচ্ছে না। ব্যাংকে আসলাম ভাতার টাকা নিতে, কিন্তু ব্যাংকের লোক বলছে সরকার থেকে কোনদিনই এমন টাকা দেয়নি। কি ভোগান্তি বল দেখি? তুই একবার ব্যাংকের কর্মচারীকে বলে দিবি? আমি নিশ্চিত ওদের কোথাও কিছু ভুল হচ্ছে। আমার টাকাটা আটকে থাকলে যে বড়ো সমস্যা হবে খোকা '


সুধীর এতক্ষন চুপ করে শুনছিল। ব্যাংকের লোকের কথা বলতেই হেই হেই করে উঠল,

'কি বলছো কিছুই বুঝছি না বাবা। কাকে কি বলে দেবো? কোন টাকার কথা বলছো? কে বীরু? আমাদের ক্লাসের বীরু, যে এখনও জীবনে কিছুই করে উঠতে পারলো না? আর কি যে মামলার কথা বলছো আমার তো কিছুই মাথায় ঢুকছেনা। শোনো বাবা, আমি এখন ব্যস্ত আছি, সন্ধ্যার দিকে কথা বলছি। তুমি ঘরে ফেরো। আর যদি ভেবে থাকো অর্থ চাইবে, তাহলে বলবো এখন সেটা আমার দ্বারা সম্ভব হচ্ছেনা। ও নিয়ে পরে কথা হবে'


কট করে ফোনটা কেটে যাওয়ার আওয়াজে চমকে উঠলেন সুশান্তবাবু। সাথেসাথে একটা বুদ্বুদ ফেটে বুঝি উনি বেরিয়ে এলেন এক অলীক জগৎ থেকে। বেরিয়ে এলেন ব্যাংক থেকে। এগিয়ে চললেন বাড়ির অভিমুখে। কিন্তু বাড়ি অবধি যাওয়া হলো না। অশ্বত্থ বেদীতলায় এসে হাঁফিয়ে বসে পড়লেন। স্মৃতিচারণার পাতা ওল্টাতে ওল্টাতে আজ এতদিন ধরে দূরে সরিয়ে রাখা সত্যগুলো জ্বালাময় রোদ্দুরের থেকেও প্রকটভাবে তাঁর চোখে স্পষ্ট হয়ে ধরা দিল। সুধীর তার বুড়ো বাপের সাথে সম্পর্ক রাখেনি। যে তার মায়ের শেষ মুহূর্তেও আসতে পারে না, সে কি না মামলা লড়েছে? ভ্রম, সমস্তটা এক মস্ত মনগড়া রূপকথা। বড্ড ভুল হয়ে গেছে তাঁর। মানুষ গড়তে গিয়ে আদরে আহ্লাদে এক অমানুষ তৈরি করে ফেলেছেন। কিন্তু নিজেকে শুধরানোর সময় এসেছে। এখন নয় তো আর কখন?


দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে গেলেন গ্রামের শেষপ্রান্তে সেই বিশালাকার বাড়িটার সামনে। কত বছর পর এমুখো হলেন, সে নিজেরই মনে পড়েনা আর। সদর দরজার সামনে এসে ডাকলেন,

'বীরু, আছিস না কি?' 


বাড়ির পরিচারক নিমাই এসে দরজা খুলে দিল। তাঁকে দেখে বলল,

'আরে মেসোমশাই, এই গরমের দিনে আপনি? ভেতরে আসুন দেখি, এই হাওয়ায় এসে বসুন' বলে একটা মাচা টেনে দিল।


সুশান্তবাবুর সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই। অবাক হয়ে তিনি দেখছিলেন লম্বা লাল মেঝের পরিচ্ছন্ন বারান্দায় কতগুলো লোক মনোযোগ সহকারে ঝুঁড়ি তৈরির কাজ করে চলেছে। ভেতরের বিশাল হলঘরে বসে মহিলারা ঠোঙ্গা বানাচ্ছে। এক কোণায় কতগুলো বাচ্চাদের পড়াচ্ছে বীরু। কিন্তু তার কালী পড়া চোখমুখ, শীর্ণকায় চেহারা দেখে মনে হয় সে কঠিনভাবে রোগগ্রস্ত।


'এসব কি হচ্ছে বাড়ির মধ্যে?' সুশান্তবাবুর প্রশ্নে নিমাই যারপরনাই অবাক হয়ে উত্তর দিল,

'কেন, দাদাবাবুর এন.জি.ও-এর কাজ হচ্ছে, যেমন হয়ে আসছে বছরের পর বছর। দেখেন না, এই জ্বর গায়েও ভালো করে বিশ্রাম নেয় না আর রোগ সারবে কেমনে? এই মানুষগুলোও অবিশ্যি দাদাবাবুর মুখের পানে চেয়ে বাঁচার আশা পায়। একটা দিনও বিশ্রাম নেওয়া মানে কোন না কোন মানুষকে ফিরিয়ে দেওয়া'


কাগজ বিলি করা আপাত নিষ্কর্মা ছেলেটা এন.জি.ও চালায়? বাড়িতে বসে ফুর্তি করে না? হতবাক সুশান্তবাবু। তিনি এর কিছুই জানতেন না। নব প্রজন্মের এই নতুন মুখ দেখতে পেয়ে এক শীতল অনুভূতি তাঁর মনটা জুড়িয়ে দিল। তাঁকে দেখতে পেয়ে বীরু ব্যস্ত হয়ে কোনমতে উঠে আসলো 

'স্যার, আপনি?' তারপরেই মাথা নত করে বলল, 'আমার শরীর ঠিক ভালো যাচ্ছিল না, তাই আমি বাড়ি থেকে বের হতে পারিনি। খুব দুর্বল হয়ে পড়েছি। তবে মস্ত অন্যায় হয়ে গেছে। আপনার পেনশনের টাকা পৌঁছে দেওয়ার কথা আমার একেবারে মাথা থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল। নাহলে কারুর হাত দিয়ে ঠিক পাঠানোর ব্যবস্থা করে দিতাম। সুধীর জানলে বড্ড রাগারাগি করবে'


'জানিস বীরু, সুধীর একটুও রাগ করেনি। কিন্তু আমি করেছি, নিজের ওপর। যাকে আগাছা ভেবে দূরে সরিয়ে রেখেছিলাম, সে যে কবে অপরিহার্য হয়ে উঠল, সে খবর আমি জানতেই পারিনি। তার চারপাশে বেড়ে উঠছে ছায়াশীতল স্নিগ্ধ অরণ্য। নবপ্রজন্মের এই দূত আদৌ উশৃঙ্খল নয়, বরং সেই এখন সৃষ্টিরক্ষক' দুফোঁটা দিশেহারা অশ্রু সুশান্তবাবুর বৃদ্ধ বলিরেখা বেয়ে হারিয়ে গেল।


সমাপ্ত।।


এই বিষয়বস্তু রেট
প্রবেশ করুন

Similar bengali story from Classics