নারী
নারী
আজকের নারী আমি, আমি স্বাধীনচেতা-মুক্তমনা,
আমি মরু-পাহাড়-গ্রাম-শহরের ললনা।
একদিন ছিলাম সমাজের
বিধিনিষেধের শৃঙ্খলে আবদ্ধ,
আমার জন্য বহির্জগতের দ্বার ছিল রুদ্ধ।
নিয়মের বেড়াজালে আমায় আষ্টেপিষ্টে বেঁধে রেখেছিল এ সমাজ।
শিখিয়েছিল ‘গৃহকর্ম আর পতির সেবা করাই আমার পরম ধর্ম-কাজ।’
আমার চারিদিকে দিয়েছিল তুলে অজ্ঞানতার উঁচু প্রাচীর-
‘মেয়েদের এ কাজ করতে নেই’-এই মন্ত্রে
দীক্ষিত করেছিল আমার হৃদয় কে।
যুগ যুগ ধরে আমি জীবন কাটিয়েছি অন্ত:পুরে।
সন্তানের জন্মদান আর তার লালন পালন করে।
পর্দানশীন ছিলাম আমি,
ছিল না বাইরে যাবার অধিকার-
অন্দরমহল ই ছিল আমার জীবন-
অন্ত:পুরই ছিল আমার সংসার।
কত বীর,প্রতিথযশা সন্তানের জন্ম দিয়েছি
অবলীলায় হাসি মুখে জ্ঠরজ্বালা সয়েছি।
আমার ছিল না বলার-
পড়ার-শেখার অধিকার।
আমি ছিলাম কুসংস্কার
আর কুপ্রথার শিকার।
আমার উপর চাপিয়েছিল বাল্যবিবাহ
থেকে সতীদাহর মতো কু-প্রথা-
ছিলেন যাঁরা সমাজপতি-সমাজের মাথা।
আমি প্রতিবাদী হলেই জোটে
কপালে লান্ছনা-গন্জনা,
সইতে হয় সমাজের হাজার
অবহেলা-অবমাননা।
যুগ যুগ ধরে আমি দ্রৌপদী-আমি সীতা-
আমি মীরা- আমিই খনা।
আমায় নিয়ে লেখা হয় কত গৌরব গাঁথা,
আমার মূর্তির পূজা হয় সদা-সর্বদা।
গল্প-উপন্যাস-প্রতিমাতেই আবদ্ধ আমি-
আমার কষ্ট জানে শুধু আমার অন্তর্যামী।
আজ সেই বেষ্টনি একটু একটু করে কাটছি
সেই শৃঙ্খল কেটে বাইরে বের হচ্ছি।
কিছু উন্নতমনা মানুষের সহযোগিতা ,
কিছু উদার মানুষের উদারতা,
কিছু মহানুভবের সহমর্মিতা,
আর আমার নিরলস প্রচষ্টা ।
হয়েছে অনেক বাদ-প্রতিবাদ,তর্ক-বিতর্ক,
অনেক আলাপ আলোচনা ,
বয়েছে সমালোচনার ঝড় - বিদ্রোহ।
অবশেষে এসেছে জোয়ার-ভেঙেছে বাঁধ,
তবুও এখনও বাকী পার হওয়া বহু পথ।
চলছে লড়াই পেতে সমানাধিকার
বিশ্বাস রাখি একদিন হবে জয়জয়কার।
আজকের নারী আমি, আমি স্বাধীনচেতা-
মুক্তমনা-
আমি মরু-পাহাড়-গ্রাম-শহরের ললনা।
