মাৎস্যন্যায়
মাৎস্যন্যায়
মাৎস্যন্যায়
মানিক চন্দ্র গোস্বামী
হায় রে আমার অভাগী বাংলা মা,
বন্ধ চোখটি খুলে একবার দেখে যা,
সন্তানে তুই কেমনে করিস লালন?
সুখের ঘরে উঁকি দেওয়া বর্তমানে বারণ।
দুঃখ, দৈন্য ভরা কষ্টের বেদনায়,
জর্জরিত জীবন নিয়ে বেঁচে থাকা দায়।
কোনোমতে ধিক ধিক জ্বলছে জীবন দীপ,
হঠাৎ ঝড়ে নিভছে শত জ্বলন্ত প্রদীপ।
ব্যর্থতার সাগর জলে নিমজ্জমান গৌরব,
প্রকৃতিও সরিয়ে দিয়েছে সৌজন্যের অবয়ব।
ফি বছরে দ্বিমুখী আক্রমণ,
জ্বালাময়ী খরার পরে অবিরাম বর্ষণ।
জ্বলে পুড়ে শেষ হলো, বাড়লো দাব-জ্বালা,
ভেসে গেলো ঘর বাড়ি, নিভলো জীবন-আলা।
ধরণীর বুকে সযত্নে রোপিত ধান,
পুড়লো, ডুবলো, স্বপ্নের অবসান।
দুষতে পারি না খেয়ালি প্রকৃতিকে,
দুষছি মোদের পোড়া কপালটিকে।
সন্তান তোর বিপথে গেছে মা রে,
অসৎ তারা, ঝোপ বুঝে কোপ মারে।
শোষক শ্রেণী উঠছে ফেঁপে ফুলে,
ঠান্ডা ঘরে দিন কাটে অবহেলে।
আমোদ প্রমোদে মত্ত রয়েছে তারা,
বেজায় কষ্ট পাচ্ছে সর্বহারা।
অর্থ পিশাচ বাড়িয়ে চলেছে ঐশ্বর্য্যের ভান্ড,
দেখছে না চেয়ে গরিবের জীবন লণ্ডভণ্ড।
উচ্চপদে প্রতিষ্ঠিত, তবু মন রয়েছে নীচু,
আরো পাবার আশায় তারা ছুটছে টাকার পিছু।
তোর চোখে মা বয়ে চলেছে অফুরান জলধারা,
মনস্তাপে মমত্ববোধ জ্বলে পুড়ে হলো সারা।
