ডাকিনী
ডাকিনী
গ্রামের শেষ প্রান্তে,
ভাঙা ইটের চালের নিচে,
সবাই বলে—
“ওখানে ডাকিনী থাকে।”
রাত হলে বাচ্চারা চুপ,
মায়েরা দরজা বন্ধ করে,
আর পুরোনো লোকেরা বলে—
“সে রাতের আঁধারে ঘুরে,
শিশুদের নাম ডাকে।”
কিন্তু আমি জানি—
সে ডাকিনী নয়;
সে এক নারী,
যার স্বামী হারিয়েছে নদীতে,
যার ছেলে মারা গেছে জ্বরে,
যার ঘরে ফিরে আসে না কেউ।
তার চোখে যে আগুন,
তা জাদু নয়—
বহু রাতের কান্নার অবশেষ;
তার চুলে যে এলোমেলো,
তা অভিশাপ নয়—
অনেক ঝড় সহ্য করার চিহ্ন।
লোকে তাকে ডাকে ডাকিনী,
কারণ সে একা,
কারণ সে ভিন্ন,
কারণ সে চুপ করে থাকে,
কারণ সে কারও নিয়ন্ত্রণ মানে না।
একদিন গ্রামে মহামারি নামল,
সবাই পালাতে চাইল;
তখন সেই “ডাকিনী”
রাতভর পানি বয়ে আনল,
জ্বরে পড়া শিশুদের পাশে বসে রইল,
আর ভোরের আলো ফোটার আগেই
নিজের শেষ নিঃশ্বাস ফেলল।
তার মৃত্যুর পর সবাই বলল—
“সে ছিল সাধু।”
কিন্তু সে জীবিত ছিল বলেই
তাকে ডাকিনী বলা হয়েছিল।
কারণ সমাজ ভয় পায়
সেই নারীকে,
যে নিজের ক্ষতকে নিয়ে দাঁড়ায়,
যে নিজের একাকিত্বকে নিয়ে লড়ে,
আর যে নিজের ভেতরের আগুনকে
অন্যের আলো হতে দেয়।
তাই আজ আমি বলি—
ডাকিনী নয়,
সে ছিল এক নারী—
যার নাম ইতিহাস ভুলে গেছে,
কিন্তু যার করুণা
আজও কিছু শিশুর নিঃশ্বাসে বেঁচে আছে।
