ফাঁসির দড়ি
ফাঁসির দড়ি
ফাঁসির দড়ি নয় কেবল কালো সুতো,
নয় কোনো দেওয়ালের লোহার বাঁধন—
সে তো মানুষের অপরাধের ভার,
সমাজের ক্ষমাহীন নিষ্ঠুর প্রশ্ন।
যে হাতে ছুরি তুলেছিল একদিন,
সে হাতে কি ছিল না ভয় ও বেদনা?
যে চোখে দেখেছিল রক্তের ছায়া,
সে চোখে কি ছিল না ভাঙা স্বপ্নের ধারা?
দড়িটি ঝুলে আছে নীরব ঘরে,
তার ছায়ায় নাচে দেওয়ালের আলো;
সে জানে না কার গলায় লাগবে আর,
সে জানে না কার শেষ রাতের ভাবনা।
আমরা বলি—ন্যায় হল আজ,
আইনের তরবারি ছুঁয়েছে ভুল;
কিন্তু যে মানুষটি সেখানে ঝুলল,
সে কি কেবল অপরাধী ছিল?
তার পেছনে ছিল না কি ক্ষুধার্ত বাড়ি,
না কি ছিল কোনো ভাঙা বিশ্বাস?
না কি তার ভেতরে লুকিয়ে ছিল
একটি শিশুর মতো ভয়ার্ত আকাঙ্ক্ষা?
ফাঁসির দড়ি কাঁপে হাওয়ায়,
যেন সে-ও ভয় পায় মানুষের শেষ দিনে;
যেন সে জিজ্ঞেস করে—
“তোমরা কি শুধু মৃত্যু দিয়েই ন্যায় বাঁচাবে?”
আমাদের ন্যায়বিচারের মুখোমুখি দাঁড়ায়
একটি প্রশ্ন, নীরব ও গভীর—
মৃত্যুদণ্ড কি সত্যিই ন্যায় করে,
নাকি আরেকটি ক্ষত বাড়ায় সমাজের?
যে দিন মানুষ শিখবে
ভালোবাসতে অপরাধীকেও,
তখনই হয়তো ফাঁসির দড়িটি
হারাবে নিজের অস্তিত্ব।
ততদিন সে ঝুলবে দেওয়ালে,
নীরব সাক্ষী হয়ে আমাদের বিচারের—
আর আমরা জিজ্ঞেস করব বারবার,
“ন্যায় কি সত্যিই মৃত্যুতেই জাগে?”
