সন্ধিপুজো
সন্ধিপুজো
শেষ সন্ধ্যার আলো নামে
ঘরের দুয়ারে, উঠোনের কোণে;
ধূপের ধোঁয়ায় মিশে যায়
আগামীর পদধ্বনি।
আজ পিতৃপক্ষ বিদায় নেয়,
আজ দেবীপক্ষ ডাক দেয়—
“মা আসছেন, মা আসছেন,
তোমরা মন খুলে রেখো।”
প্রদীপের শিখায় কাঁপে
পুরোনো দুঃখের ছায়া;
শঙ্খের সুরে ভেঙে যায়
অন্ধকারের বারান্দা।
সন্ধিপুজো মানে কেবল
নতুন পঞ্জিকার পাত নয়;
সন্ধিপুজো মানে মনের ভেতরে
পুরোনো ক্ষতের ওপর
নতুন আশার প্রদীপ জ্বালানো।
যে বছর হারিয়েছি কাউকে,
যে বছর হেরে গেছি অনেকবার,
সে সব ক্ষতকে নিয়ে আজ
দাঁড়াই মায়ের দুয়ারে—
বলি, “মা, এসো;
আমার ভাঙা ভেতরটাকে
তোমার ভালোবাসায় জোড়া লাগাও।”
ঢাকের সুরে কাঁপে রক্ত,
কাশফুল নড়ে হাওয়ায়;
আকাশ জুড়ে লেখা হয়—
অন্ধকার যতই থাকুক,
শেষে জয় হবে আলোর।
সন্ধিপুজোর এই ক্ষণে
আমার প্রার্থনা—
মা এসে দিন সবার মনে
সাহস, শান্তি ও করুণা;
ভাঙা সংসারে দিন সম্প্রীতি,
ক্ষুধার্তের ঘরে অন্ন,
আর প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে
জাগুক তোমারই শক্তি।
