অভিশপ্ত
অভিশপ্ত
আমি জন্মেছি এমন এক ঘরে,
যেখানে দেয়ালে লেখা ছিল না স্বপ্ন—
লেখা ছিল কেবল ক্ষুধার হিসাব,
ঋণের চিঠি আর বন্ধ জানালার ধূসর ছায়া।
লোকে বলে, “তুমি অভিশপ্ত।”
কারণ তোমার হাতে সোনার চাবি নেই,
তোমার পিতার নামে বিশাল বাড়ি নেই,
তোমার ভাগ্যে লেখা নেই কোনো সহজ পথ।
কিন্তু আমি জানি—
অভিশাপ তো ভাগ্যের লেখা নয়,
অভিশাপ তো মানুষের দেওয়া নাম;
যে নামে তারা দরিদ্রকে বাঁধে,
নারীকে নীরব করে,
ভিন্নমতকে ভয় দেখায়।
আমি অভিশপ্ত নই,
আমি কেবল সেই পথে হেঁটেছি,
যেখানে প্রতিটি পায়ের ছাপে রক্ত ছিল,
প্রতিটি নিঃশ্বাসে সংগ্রাম ছিল,
তবু চোখে আলো নিভেনি।
যে দিন আমার মা কেঁদেছিলেন চুপচাপ,
সে দিন আমি শিখেছি—
কান্না দুর্বলতা নয়,
কান্না হলো হৃদয়ের ভেতরে
একটি নতুন যুদ্ধের শুরু।
যে দিন আমার পিতা বলেছিলেন,
“ছেলে, আমাদের কিছু নেই—
তবু তোমার সততাই আমাদের সম্পদ,”
সে দিন আমি বুঝেছি—
অভিশাপ ভাঙার প্রথম অস্ত্র
হলো নিজের মর্যাদাকে হারানো না।
আমি অভিশপ্ত নই,
আমি সেই মাটির সন্তান,
যেখানে বৃষ্টি নামে ক্ষুধার্ত ফসলে,
যেখানে রোদ পোড়ায় কিন্তু ফসল দেয়,
যেখানে মানুষ হারায় সবকিছু—
তবু হারায় না আশা।
তাই আজ আমি বলি—
যদি জন্ম নিয়েই আমাকে অভিশপ্ত বলা হয়,
তবে আমি সেই অভিশাপকেই করব আমার শক্তি;
আমার ক্ষুধাকে করব জ্ঞানের ক্ষুধা,
আমার কান্নাকে করব সংগ্রামের সুর,
আর আমার অন্ধকারকে করব
অন্য কারও পথ দেখানোর প্রদীপ।
কারণ কিছু মানুষ জন্মে না সুখ পেতে—
জন্মে সুখ তৈরি করতে;
কিছু মানুষ জন্মে না ভাগ্য বলতে—
জন্মে ভাগ্য ভাঙতে।
