বোধন
বোধন
শরৎ আসে নদীর জলে,
আসে কাশফুলের সাদা ডানায়;
আকাশ জুড়ে মেঘের ভেলায়
ভেসে আসে মা’র ডাক—
“আমি আসছি, তোমরা রেখো যেন
ঘরের চৌকাঠ ভালোবাসায় খোলা।”
বোধন মানে শুধু প্রতিমা গড়া নয়,
শুধু ঢাক-ঢোল, আলপনা নয়;
বোধন মানে মনের ভেতরে
ঘুমন্ত আশাটুকু জাগানো।
যে বছর হারিয়েছি বহু কিছু,
যে বছর কাঁদতে শিখেছি নীরবে,
সে বছরের ভাঙা পথে আজ
প্রদীপ জ্বালাই একটি—
বলি, “মা, এসো;
আমার ভেতরের অন্ধকারটুকু
তোমার আলোয় মুছে যাক।”
মাটির গন্ধ, ঢাকের ছন্দ,
শাড়ির লাল-সাদা ছায়ায়
ফিরে আসে শৈশবের উঠোন;
যেখানে মা বলতেন—
“ভয় পেয়ো না,
যার মনে ভালোবাসা আছে,
তার সঙ্গে দেবী থাকেন।”
তাই আজ আমি বোধন করি
শুধু কাঠ-ছিলিংয়ের দেহ নয়,
বোধন করি নিজের ভেতরের
সেই সত্যিকারের মাকে—
যিনি ক্ষুধার্তের মুখে ভাত দেন,
ভয়ার্তের চোখে সাহস দেন,
আর ভাঙা মনের ভেতরে
নতুন সূর্যোদয়ের বার্তা দেন।
মা, তোমার আগমনের শুভেচ্ছায়
আমার সংসার হোক নিরাপদ,
আমার দেশ হোক সুখী,
আর প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে
জাগুক তোমারই শক্তি—
ভালোবাসা, সাহস ও করুণা।
