সূর্যকান্ত মণি-চন্দ্রকান্ত মণি
সূর্যকান্ত মণি-চন্দ্রকান্ত মণি
দক্ষিণভারতীয় গুরুদেব গিরিজানন্দ স্বামীকে তাঁর শিষ্য একদা তাচ্ছিল্য করে প্রশ্ন করছেন -
শিষ্য- আপনার ভগবান বড়ো একচোখে বিচার করেন কেন?
গুরুদেব-তুই একথা বলছিস কেন?
শিষ্য- আপনি বলছেন জপ ধ্যান কর, স্মরণ- মনন কর, আমি কিছুই পারি না। যখনই চেষ্টা করি বিভিন্ন চিন্তা মাথায় আসে। জগতে দেখতে পাই কারোর পাতে অন্ন নেই, কারোর অন্ন নর্দমায় ফেলতে হয়। কারোর অর্থ নেই তো কারোর অর্থ অপচয়েই চলে যায়। কারো বাড়িতে জল পড়ে আবার কারোর বাড়ি তৈরীতে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ হয়। সাধারণ মানুষ অন্যায় করলে শাস্তি পায়, বড়লোক পার পেয়ে যায়। কারোর সারাটা জীবন দুঃখে কাটে, কারোর ঠিক উল্টো। চারদিকে এত বৈষম্য কেন? ঈশ্বরই তো সব করছেন বলে একটা পাতাও তাঁর ইচ্ছা ছাড়া নড়ে না, ধর্ম ধর্ম করেন অধর্ম কোথায় নেই? গুরুদেব হয়ে বসে আছেন-সব ফালতু না ?
গুরুদেব -তোর সবকথা বলা শেষ হয়েছে। তবে এক কাজ কর, আমার সঙ্গে চল।
শিষ্য- (রেগে গিয়ে) কোথায় যাবো?
গুরুদেব – আয় না, একটু ঘুরে আসি।
গ্রীষ্মের দুপুর, পাহাড়ী রাস্তা, মাটি প্রচণ্ড উত্তপ্ত। এমন সময় গুরু-শিষ্য বাইরে বেরিয়ে আসেন কিছুটা দূর যাবার পর গুরু একটা গোল পাথর দেখিয়ে শিষ্যকে বললেন- ওই পাথরটা স্পর্শ করে আয়।
শিষ্য- গুরুদেব, পাথরটা প্রচণ্ড উত্তপ্ত, ছুঁতে পারছি না, একটা পাতা পাথরের উপর পড়ে পুড়ে ছাই হয়ে গেল। এটা যেন আগুনের গোলা, আমি হাত দিলেই পুড়ে ছাই হয়ে যাব।
গুরুদেব- চলে আয়।
এবার গুরুদের উল্টোদিকের একটা গোল পাথর দেখিয়ে বললেন- ওই পাথরটা ছুঁয়ে আয়।
শিষ্য গুরুদেবের প্রতি বিশ্বাস হারানো মন নিয়ে ভাবলেন গুরুর কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে। এই গরমে ওই পাথরটা ছুঁতে পারলাম না। আবার একই আবদার... যাইহোক গুরুর আদেশ, অনিচ্ছা সত্ত্বেও গেল দ্বিতীয় পাথরের কাছে। স্পর্শ করল। শিষ্য স্তম্ভিত হয়ে গেল। এ পাথরটা বরফের মতো ঠাণ্ডা। এত আরাম যে দু-হাত দিয়ে পুরো পাথরটা শিষ্য জড়িয়ে ধরেছে। চিৎকার করে শিষ্য জানাল- গুরুদেব এ পাথরটা বরফের মতো ঠাণ্ডা।
গুরুদেব- চলে আয়।
শিষ্য - চিৎকার করে বলছে- আমি যাব না, আপনি যান।
গুরুদের ধমক দিয়ে শিষ্যকে ডেকে নিয়ে আশ্রমে ফিরে গেলেন।
গুরুদেব – আচ্ছা বলতো। মাথার উপর একই সূর্য কিরণ দিচ্ছে, একটা পাথর গরম কেন? অন্যটাইবা ঠাণ্ডা কেন? শিষ্য নিরুত্তর- ভেবে কূল পাচ্ছে না।
গুরুদেব- ওই দুটো সাধারণ পাথর নয়, ও দুটো মণি-
একটার নাম সূর্যকান্ত মণি, অন্যটার নাম চন্দ্রকান্ত মণি। প্রথমটা সূর্যের তাপে গরম হয়। দ্বিতীয় পাথর দিনে ঠান্ডা রাতে গরম হয়। একই সূর্যের কিরণে দুটি বস্তুর দু'রকম ধর্ম প্রকাশ পাচ্ছে। এটা বস্তুর গুণ। অণু বা পরমাণুর সমন্বয়ে গঠিত যে কোন বস্তু ভিন্ন ভিন্ন ধর্ম লাভ করে। ঈশ্বর প্রত্যেকের উপর সমানভাবে তাঁর কৃপা বর্ষণ করেন। প্রারব্ধ, কর্মফল, মানসিক গঠন, দৈহিক গঠন ইত্যাদির প্রভাবে মানুষ বিভিন্ন ফল লাভ করে। এতে ঈশ্বরের কোন দোষ নেই। তাই তুই বৃথা ঈশ্বরকে দোষারোপ করছিল।
তামা বা কপার হল ধাতু। তামার তড়িৎ পরিবাহিতা ধর্ম আছে। গন্ধক বা সালফারের রং হলুদ, তারও ভিন্ন প্রকৃতির ধর্ম - আছে। অক্সিজেন হল গ্যাসীয়, তারও ভিন্ন ধর্ম । এরা যখন কপার সালফেট বা তুঁতে তৈরি করে তখন তার ধর্ম কপার, সালফার বা অক্সিজেনের মতো নয়। বৈশেষিক দর্শন বলছে উৎপত্তিক্ষণে বস্তু ধর্মহীন হয়, উৎপন্ন হলে তার বিশেষ ধর্ম বা বৈশিষ্ট্য লাভ হয়। আমাদের দেহও অনু-পরমাণুর সমষ্টি ছাড়া কিছুই নয়। লোহা, জিঙ্ক, ক্যালসিয়াম, কার্বন, ইত্যাদি কত কত রকমের পরমাণু যুক্ত হয়ে আমাদের এই দেহ। এরও বিশেষ ধর্ম আছে। মানুষ জাতি হিসাবে এক হলেও কোন দুটি মানুষ এক নয়। তাদের চিন্তা, বিচার, অনুভব করার ক্ষমতা, সংস্কার, আবেগ, বিশ্বাস, দৈহিক গঠন, রুচি সবই ভিন্ন প্রকৃতির। একজন ঈশ্বর বিশ্বাস করে তো, একশজন ঈশ্বর বিশ্বাস করে না। কেউ রাজনীতিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে, কেউ পড়াশোনাতে, কেউ চাষবাসে তো কেউ বাড়ি তৈরিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। কেউ স্বাধীনভাবে বাঁচতে চায়। কেউ কেরানী বা দাস বা চাকুরি করতে পছন্দ করে। কেউ ইচ্ছানুযায়ী সব পায়, কেউ নিরস্তর লড়াই করেও কিছু জোটাতে পারে না। কেউ বিশ্বাস করে জগৎটাই মায়া, কেউ বিশ্বাস করে যা দেখছি এটাই বাস্তব এর বাইরে ভাবার দরকারই কী। কারুর সহজেই পরোক্ষ অনুভূতি হয়, কারুর সারাটা জীবন চলে যায় ধর্ম ধর্ম করে। কারোর মনে হয় ধর্ম হল আফিং, কারোর মনে হয় ধর্ম ছাড়া মানুষ বাঁচতেই পারে না। কেউ পুনর্জন্মে বিশ্বাস করে, কেউ বিশ্বাস করে না- এই জীবনটাই সব, এর আগে বা পরে কিছু নেই।
দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণ প্রসঙ্গে কেউ প্রতিবাদ করেছিল কি? এই প্রশ্নে শ্রীশ্রী ঠাকুর বড়মাকে ডেকে জিজ্ঞেসা করতে বলেছিলেন। বড়মা উত্তর দিয়েছিলেন দুর্যোধনের ভাই বিকর্ণই একমাত্র ওই ঘটনার প্রতিবাদ করেছিলেন। বিশ্বাস করলে প্রমান হয় পুনর্জন্ম আছে, ঈশ্বরের লীলা আজও চলছে, একই পুরুষোত্তম আবার দেহ ধারণ করেছেন। অবিশ্বাস করলে সবই সাজানো বলে মনে হবে-- কাল্পনিক যুক্তি বলে মনে হবে।
বিজ্ঞানে একটা নিয়ম হল ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এরা সমান ও বিপরীতমুখী। এটাকে কর্মফল ভাবতেই পারি। যে কোন কর্মের একটা ফল অবশ্যই উৎপন্ন হবে। ভাল কাজের ভাল ফল। খারাপ কাজের খারাপ ফল। কেউ এই কর্মফল খণ্ডন করতে পারে না। শ্রীকৃষ্ণ বলছেন – আমি সময় মতো কেবল ফল দান করি আমরা কখনো ভাল ফল পেয়ে উৎফুল্ল হই, কখনো কষ্টে ডুবে যাই। ভাবি কোন কর্মের জন্য আমার এই ফল ভোগ হল ? জগতের সব কিছুই বিশ্বাস করে এমন লোক নেই বললেই চলে, আবার সব কিছুই আবিশ্বাস করে এমন লোকও নেই বললেই চলে। অবার আজকের বিশ্বাস কালকে অবিশ্বাসে পরিণত হতে পারে আবার অবিশ্বাস থেকে বিশ্বাসে পরিবর্তনও অসম্ভব নয়। জগতের সাথে নিয়মিত আমাদের দেওয়া-নেওয়া, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া চলে—এই দেখা, ক্রিয়ার মাধ্যমে বিশ্বাসের দৃঢ়তা অথবা পরিবর্তন হতে পারে। একটা ছোটো ঘটনা একজনের সারা জীবনের বিশ্বাসের ভিত নাড়িয়ে দিতে পারে।
হাইজেনবার্গের একটা নীতি হল অনিশ্চয়তা। বিজ্ঞানে এর ব্যাপক প্রয়োগ। একটা বিড়ালকে একটা বাক্সের মধ্যে রেখে - বাক্সটা না খুলে বলা যাবে না বিড়ালটা মৃত না জীবিত। এটাই অনিশ্চয়তা। আমাদের জীবনে সবকিছু নিশ্চিত এমন নয়। কাল কী হবে, কাল আদৌ বাঁচব কিনা এ নিশ্চয় করে বলা যায় না। সবচেয়ে আশ্চর্য হচ্ছে মানুষ জন্মেই প্রতিদিন একটু একটু করে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে একজন খুঁজছে জীবনের উদ্দেশ্য কি? আর একজন ভাবছে বেশ আছি - পরে যা হয় হবে ভেবে লাভ কি? ধর্মবিলাসী ভাবছে জীবনের উদ্দেশ্য হল ঈশ্বর প্রাপ্তি, অধার্মিক ভাবছে ওসব ভণ্ডামি, খেয়ে পরে বেঁচে থাকাটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
'আমি' যদি দেহ হই তবে দেহের অবসানে সব শেষ। 'আমি' যদি দেহ এবং মন হই তবে দেহের অবসানে মনের ক্রিয়া থাকে কিনা আমাদের ভাবতে হবে। আবার 'আমি' যদি দেহ, মন এবং আত্মা হই তবে দেহের অবসানে মন ও আত্মার অবস্থিতি কেমন আমাদের ভাবতে হবে। আত্মা যদি কেবল একবারই এক দেহের সাথে যুক্ত হয় তবে ভাবনা একরকম। যদি তা না হয় তবে ভাবনা অনেক গভীরে চলে যায়। যাদের অনুভূতি আছে যদি তাদের কথা বিশ্বাস করি তবে বলতে হয়, দেহটা একটা খোলস মাত্র – আত্মা বার বার বিভিন্ন দেহ আশ্রয় করে জীবনধারণ করে। দেহের জন্ম আছে।
আত্মার কখনই জন্ম আর কবেই বা মৃত্যু তা স্পষ্টভাবে অনুভব করা শক্ত। পরমাত্মাই কি? তার সাথে আত্মার সত্যিই যোগ আছে কিনা তা কেবল যোগযুক্ত হলেই অনুভব করা সম্ভব নতুবা বৃথা তর্ক চলে আসবে। ঈশ্বরের সাথে, পরমাত্মার সাথে যোগযুক্ত হওয়াকে কেউ কেউ ভাবেন ধর্ম। বাইবেলে বলছে "know thyself", গীতায় বলছে "আত্মানং বিদ্ধি"। কেউ বলছে নিজেকে জানো- কেন? কিভাবে? কার দ্বারা? কোন্ পথে?
জেনেই বা কি লাভ, না জেনেই বা কি ক্ষতি? জানতে আমি বাধ্য, না কি সবটাই উদ্দেশ্য প্রণোদিত? এসব গভীর প্রশ্ন? অবতাররাই বা বারবার আসেন কেন? কাদের জন্য, একই কথা বিভিন্নভাবে বলেন কেন? প্রাচীন যুগ আধুনিক যুগেও এদের বলা কি প্রাসঙ্গিক ? মন যখন প্রবৃত্তিমুখী চলে তখন আমাদের ভাল লাগে, বিবেক অনুসরণ করলে আমরা বিরক্ত হই কেন? ভাল ও মন্দ দুটিই যদি রাস্তা কেবল সবাই ভালদিকে চেষ্টা করলেও যেতে পারিনা কেন? ন্যায় ও অন্যায়; ধর্ম ও অধর্মের লড়াই কি ঈশ্বরের লীলা? জগতের উদ্দেশ্যই বা কি? এসবই আমরা সযত্নে এড়িয়ে চলতে চাই, এ সব না ভাবলেও আমাদের চলে যায় কিন্তু সবাই এড়াতে পারে না-কেন? আমরা কি সবাই বেকুবের মত জন্মাব আর মরবো? মানুষ যদি চেতনা সম্পন্ন জীব হয় তবে কবে আমাদের চেতনা হবে? চৈতন্যের স্বাদ কি কেবল গুটিকয়েকের জন্য বরাদ্দ?
আপনার আমার প্রত্যেকের জীবনটা মূল্যবান মনির মত। বিভিন্ন উপাদানে তা দৈহিক হোক, মানসিক হোক বা আত্মিক হোক আমাদের দেহ বা আমি তৈরী। কেউ কেউ বলে মৃত্যু কার ভাব পরবর্তী দেহধারণে সহায়তা করে। তাহলে ভাবতে হয় একটা সূক্ষ্মভাব যা মানসিক, আত্মাকে আশ্রয় করে থাকে এবং পরবর্তী দেহ বাবা-মার মিশন পর্যন্ত অপেক্ষা করে সন্তান হিসাবে পৃথিবীতে জন্ম নেয়। এক্ষেত্রে ওই বংশের ধারা এবং ওই ব্যক্তির দৈহিক ও মানসিক বৈশিষ্টই হল তার সংস্কার, যা নাকি তার আত্মাকে আশ্রয় করে থাকে। এই সংস্কারই তাকে ভাবায়, এক ভাবকে সমর্থন করে আর এক ভাবকে অবিশ্বাস করে। ছোটবেলায় কেউ সাধু হয়ে সংসার ত্যাগ করে, আবার কেউ সারাজীবন অশেষ দুঃখ-কষ্ট ভোগ করেও সংসারকে সারবস্তু এবং জীবনের চরম উৎকর্ষের স্থান ভেবে কাটিয়ে দেয়। কিছু সংস্কারকে আমরা ভাল বলি - যা আপেক্ষিক, কিছু সংস্কারকে বলি কু-সংস্কার- তাও আপেক্ষিক। প্রকৃত কারণ না জেনে অনেক বিষয়কে অবৈজ্ঞানিক আখ্যা দিই, আবার বিজ্ঞান সব ব্যাখ্যা করতে পারে কি? এর উত্তরে নীরব থাকি। একজনের কাছে যা কুসংস্কার আর একজনের কাছে তাই পরম বিশ্বাসের বস্তু, আবার উল্টোটাও সত্যি। এই আপেক্ষিক ব্যাপারটাই একজন থেকে আর একজনকে দূরে সরিয়ে রাখে। আসলে কোনটি ঠিক, এর উত্তর আমাদের আংশিক জানা, আংশিক অজানা।
বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক। বিপ্লব আমাদের সবার প্রিয় বিষয়, কৃষিবিপ্লব, শিল্পবিপ্লব, প্রযুক্তিবিপ্লব সবারই দাবি চিরন্তন- এ সকলের ভিত্তি হল মানুষ। মানুষের জন্য, মানুষকে কেন্দ্র করে, মানুষের দ্বারা কোন আদর্শ বা সত্য বা তত্ত্বের প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা। এ সবের জন্য মানুষের দুটো বিষয় খুবই জরুরী, এক নিজে বেঁচে থাকা আর দুই নিজের বেঁচে থাকাটা উত্তর উত্তর বৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাওয়া। তাই জীবনবিপ্লবই হল আসল বিপ্লব। ভাল সংস্কার সম্পন্ন মানুষের দ্বারা সমাজের ভাল করার চেষ্টাই হল প্রকৃত বিপ্লব। অক্ষম, হীনবুদ্ধি, দুর্বল, শঠ, প্রবঞ্চক, বিবেকহীন, ভ্রান্ত প্রতিশ্রুতি দেয় এমন লোকের দ্বারা বিপ্লব কখনই হতে পারে না। যদি এদের দ্বারা কোন সংগঠিত প্রচেষ্টা কখনো হয় তাহলে তাতে সমাজের প্রকৃত মঙ্গল কখনোই হতে পারে না। কিছু দিন পর তা অচল হয়ে যাবে। ব্যক্তি যদি ঠিক ঠিক মত নিজের ভাল বুঝতে শেখে তবে সমষ্টি তা আপনা থেকেই শিখবে। কারণ ব্যক্তির দ্বারাই সমষ্টি, ক্রমে রাষ্ট্র তা লাভ করতে পারে। তাই আদর্শ মানুষ হওয়ার চেষ্টা আমাদের সকলকে করতে হবে এবং তা আমাদের সকলের স্বার্থেই নতুবা আমরা সবাই শেষ হয়ে যাবো। আদর্শ পুরুষই আমাদেরকে দেখায় কিভাবে আদর্শ মানুষ হতে হবে। তা আদর্শ পুরুষকে আমাদের সর্বাগ্রে অনুসন্ধান করতে হবে। তাকে কেউ লিডার বলতে পারে, কেউ সদ্গুরু বলতে পারে, কেউ অবতার বলতে পারে, হতে পারে তিনি পুরুষোত্তম। কি কি বৈশিষ্ট্য থাকলে তাঁকে আদর্শ পুরুষ বলব তা আমাদের সবাইকে জানতে হবে- এড়িয়ে গেলে চলবে না। গুরু বা আদর্শপুরুষ ছাড়া আদর্শ মানুষের কল্পনা সোনার পাথরবাটির মতই হবে। পরিবেশ এবং জন্মগত সংস্কার, এই দুই-এর সার্থক প্রয়োগে তৈরি হবে আদর্শ মানুষ; আদর্শ নাগরিক। ভাল করা, ভাল আশা করা, ভাল ব্যবহার যা কিছু ভাল, চাইলেই কি আমরা পাবো ? আমাদের গভীরভাবে ভাবতে হবে।
আধুনিক কালে ‘বিয়ে টা আমাদের কাছে খেলনার পর্যায়ে চলে এসেছে। পাশ্চাত্যের অশান্ত জীবনের উত্তাপ আমাদের জীবনে প্রতি রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করেছে। 'বিয়ে'র উপর ভিত্তি করে ব্যক্তি, সমাজ এবং শেষে রাষ্ট্র উপরে উঠতে পারে অথবা অধঃপাতে নেমে যেতে পারে। মানুষ জন্মানোর সামাজিক পদ্ধতি বা প্রথা হল বিয়ে। এটা যদি সঠিক না হ্যা, ভাল Germany কোড যুক্ত জাইগোট তৈরী হবে কিনা আমার বা অন্যকারুর সদিচ্ছা বা গোঁড়ামি বা আবদারের উপর নির্ভর করে না। এক্ষেত্রে জীবনবিজ্ঞান বা জেনেটিক বিজ্ঞান বা কোষ বিভাজনের নীতি প্রযোজ্য হবে। এখানে মানুষ কিছুই করতে পারে না। থ্যালাসেমিয়া যুক্ত সন্তান, সিকলসেল অ্যানিমিয়া যুক্ত সন্তান আপনি চান না কিন্তু জেনেটিক নিয়মে তা আসতে পারে, তখন কপাল চাপড়ালে বা এর-তার দোষ দিয়ে বা তাদের হাতে ছেড়ে দিলেই কি আপনি রেহাই পাবেন? কাজেই আমাদের বিজ্ঞানকে বুঝতে হবে। কখন, কিভাবে, কেন ভাল ছেলে জন্মাতে পারে কিভাবে চললে তার উল্টোফল হতে পারে ভাবতে হবে। হাম-হাম তুম-তুম করে লেগে পড়লুম আমাদের ভোগে কোন ঘাটতি নেই, পরে যা হয় হবে, দেখা যাবে- এভাব আমাদেরই সর্বনাশের পথে নিয়ে যাবে। সমাজের একটা ক্রিমিনাল হাজারটা লোকের ঘুম কেড়ে নিতে পারে। আবার একটা ভাল লোকের দ্বারা চট করে খারাপ কাজ হাতে পারে না। কাজেই 'বিপ্লব' এর আসল বীজ কোথায় তার অনুসন্ধান আমাদের করতে হবে। একদল Noisy impotent patriot দ্বারা কি দেশে বিপ্লব আসবে? আমাদের অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হবে না। কি? সব কিছুর মূলেইতো 'আমি' কিভাবে ভাল থাকব? তাহলে আমাদের যা আমার ভাবনাটাও সঠিক হতে হবে এতো বাস্তব সত্য। বিজ্ঞান ভাল মানুষের হাতে পড়লে আশীর্বাদ অন্যথায় অভিশাপ হতে কতক্ষণ !
অতীত ভারতবর্ষের দিকে তাকান, এখান থেকেই ভাল আদর্শ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছিল। আর্যজাতির পুনরুত্থান ছাড়া পুনরায় তা সম্ভব নয়। আমাদের জেগে ঘুমোনোর দিন শেষ হয়ে গেছে। চারদিকে শুধুই হাহাকার-অশান্তি আমাদের নিত্যসঙ্গী। Silent relvolution বা নীরব বিপ্লবে আমরা সবাই অংশগ্রহণ করি ভারতবর্ষকে সবার উপরে তুলে ধরি এই আমাদের শপথ হোক। সূর্যকান্ত মনি-চন্দ্রকান্ত মনির মতই আপনার জীবন বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। আমার-আপনার জীবন অত্যন্ত মূল্যবান, এ জীবনটা ব্যর্থ হতে দেবেন না। নিজেকে জানুন, ঈশ্বরকে জানুন, ঈশ্বরের কৃপা আপনার জীবনে আসুক। অন্ধকার থেকে আলোর দিকে মুখ ঘুরিয়ে তাকান। জীবন্ত আদর্শ আলোর দিশারী হয়ে আমাদের ডাকছেন। জীবন উৎসর্গ করার জন্য। নিজের প্রবৃত্তিমুখী চলন ছেড়ে একবার নিজের স্বরূপের দিকে তাকাতে চেষ্টা করুন। দেখবেন আপনি একটি জীবন্ত মণি- কেবল আলো দেওয়াই আপনার কাজ। আপনিই জীব, আপনিই শিব।
