Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published
Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published

SUBHAM MONDAL

Drama


4.9  

SUBHAM MONDAL

Drama


সূচনা

সূচনা

9 mins 900 9 mins 900

- একটা জিনিস খেয়াল করছিস??


- ছেলেটা আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে তাইতো??


- কি করে বুঝলি??


- তোমার চোখে আমি বিশ্বচরাচর দেখি সোনা ...আর কয়েক হাত দূরে দাঁড়িয়ে যে ছেলেটা তোমার দিকে লোভাতুর দৃষ্টি দিচ্ছে আমি তাকে না দেখি কেমনে !? অহনা গাল টিপে দিলো অভিরূপের | "যাই বল, ছেলেটাকে কিন্তু মারকাটারি দেখতে.. মুখ দেখে মন পড়ে ফেলা যায় একদম | অভিরূপ ব্যঙ্গ করলো " তাই?? ভালো তো| তুমি মনলিপি উদ্ধার কর | আমি চলি"| অভিরূপ ফলস পদচালনা করলো | অহনা জড়িয়ে ধরলো "রাগ করে না বাবু.. প্লিজ প্লিজ" বলেই খিল খিল করে হেসে উঠলো | অভিরূপ একবার আড়চোখে চাইলো ছেলেটার দিকে | হাইটে অভিরূপের মতোই.. পুরুষের ক্ষেত্রে যা বিলো এভারেজ | তবে তাক- লাগানো চেহারা স্বীকার করতে হবে | উর্বর চামড়া.. তাতে দাড়ির ফলন ভালো হয়েছে এব্যাপারে সন্দেহ নেই | দাড়ির গুচ্ছ জায়গায় জায়গায় সমানভাবে বন্টিত | টার্মিনাল দুটো ঝুলপির সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে | গোঁফের শাখাদুটো বক্রাকারে এসে মিশেছে দাড়ির সমুদ্রে | বদ্বীপের মাঝখানে একচিলতে ঠোঁট | তার বেশিটাই গোঁফের আড়ালে | " এ একেবারে মডার্ন কার্তিক ! রূপ উথলে পড়ছে ! যাই আমি খানিকটা সংগ্রহ করে আসি |" অহনা চিমটি কাটলো-" ফিলিং জেলাস??" অভিরূপ মুখ ঘুরিয়ে অন্যদিকে তাকালো | অহনা নিজের নাকটা অভিরুপের নাকে একবার ঘষে দিলো। দুজনের কারোরই খেয়াল হলো না যে ছেলেটা নিজের ঘরে ঢুকে গেছে। 


রাতে বিছানায় শুয়ে অহনা বললো " ছেলেটা গায়ে কতকিছু চাপিয়েছিলো খেয়াল করেছিস?? অতটাও ঠান্ডা নেই বল !" অভিরূপ ডেমো দেবার ভংগিমায় অহনাকে গায়ের কাছে টেনে নিয়ে বল্লো "কাঠমান্ডুতে এখন যথেষ্ট ঠান্ডা মাই ডিয়ার | আমরা টের পাচ্ছিনা কারণ আমরা হানিমুন করতে এসেছি .. এখন আমাদের রক্ত গরম , শ্বাস-প্রশ্বাস গরম .. হানিমুন ইটসেলফ একটা গরম গরম হট হট ব্যাপার !!" অহনা ঠেলা দিলো আলতো করে "বেশি নেচো না তুমি! আমার ঘুম পাচ্ছে। আমি এখন ঘুমাবো। গুড নাইট।" আচমকা পরিকল্পনা বাতিল হওয়ায় অভিরূপ অবাক হলো কিঞ্চিত। কলকাতার কাঠফাটা গরমে এমনটা হয়েই থাকে অহনার দিক থেকে। কিন্তু আজ এই মায়াভরা, রেসিস্ট করা যায় না এমন রাতে অহনা পারলো অভিরূপকে ছেড়ে একটা কম্বলের মাঝে উষ্ণতা খুজে নিতে?? হাউ? অহনা এখন থেকে কার্তিক পুজো করতে আগ্রহী হয়ে গেল না তো আবার?? 


এসব পাঁচ সাত ভাবতে ভাবতে ঘুম এসে গিয়েছিল অভিরূপের। হঠাৎ মনে হলো ঘরে বাঘ ঢুকেছে। অহনাকে সাবধান করে দেবে বলে যেই পাশ ফিরতে যাবে খেয়াল হলো বাঘটা নিঃস্বাস ফেলছে ঘাড়ের উপর। চাপা স্বরে যেন ডাকছে ওকে। "খেয়েছে" বলে তড়াক করে খাটের উপর লাফিয়ে উঠে বসলো অভিরূপ। কিন্তু কোথায় বাঘ। পাশে তো অহনা শুয়ে। ঠান্ডায় নাকটা একেবারে সিল হয়ে গেছে বেচারির। অহনা প্রতিরাতেই নাক ডাকে রুটিন করে। ঘুমপাড়ানি লাউড মিউজিক মনে করে অন্যদিন ঘুমিয়ে পড়ে অভিরূপ। লাউড হলেও মেলোডিয়াস হয় মোটামুটিভাবে। কিন্তু আজকের টা বাড়াবাড়ি হয়ে গিয়েছিল। এরপরে আর সারারাত ঘুম আসবে না অভিরূপের। বুকটা এখনো ধড়ফড় করছে। 


অভিরূপ অস্থিরভাবে পায়চারি করছে ব্যাল্কনিতে। রাতটা ঠিক কতটা আনরোম্যান্টিক ছিল হিসাব করে দেখছিল। এমন সময় চোখ গেলো পাশের পাশের ঘরে | আলো জ্বলছে | ছেলেটা তাহলে ঘুমায়নি এখনো | করছেটা কি?? নামতা মুখস্ত করছে নাকি ?? অবশ্য ছেলেটা এখন কি করছে এই ভেবে কোন লাভ নেই।ওটা তার পার্সোনাল ম্যাটার। যদি ঘরে ঢুকে গলা টিপে দিয়ে আসতে পারত তাহলে একটা ব্যাপার ছিল | কারণ ছেলেটার জন্যে অহনা আজকে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়েছে। আর সেটা অভিরূপের খুব পার্সোনাল ম্যাটার! 

অভিরূপ বুক ভরে নিঃস্বাস নিলো। এবার একটু হাল্কা লাগছে। তিতাসের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। অভিরূপ মনে করতে চায় না। তবুও মনে পড়ে যায়। খুব বিশ্রী অতীত ছিল তিতাস। বিনা নোটিশে দীর্ঘ পাঁচ বছরের একটা সম্পর্ক একেবারে ভেংগে গুঁড়িয়ে মাড়িয়ে দিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল। শুধু একটা একটা চিঠি ছেড়ে গিয়েছিল ওর দুর্বোধ্য হাতের লেখার নিদর্শন হিসাবে। " আমি চলি। তোমরা কেউ আমার সফলতা কামনা করবে না জানি। তাই আমি বাধ্য হলাম এই পদক্ষেপ নিতে। ভালো থেকো সবাই।" অভিরূপকে আলাদা করে মেসেজ করেছিল " কোনদিনো ক্ষমা করিস না আমাকে। তোকে দেবার মতো কোনো অজুহাত নেই আমার কাছে। কোনদিনই ছিল না। তুই সবই জানিস। সবই বুঝিস। শুধু বলবো ভালো থাকিস। আমাকে ভুলে যেতে চেষ্টা করিস। চলি।" অভিরূপ দিশেহারা হয়ে গিয়েছিল সেই মুহূর্তে। তিতাস কোথায় যাচ্ছে, কোথায় থাকবে, কীভাবে থাকবে এইসব রাজ্যের দুশ্চিন্তা ওকে জর্জরিত করে ফেলেছিল প্রতিমুহূর্তে । অভিরূপ সেদিন ওর একমাত্র বন্ধু হারিয়েছিল। সেই বন্ধু যার সাথে সব অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া যেত। ভালো খারাপ সোজা ত্যারচা সমস্ত কথা বলা যেত যাকে নির্দ্বিধায়। অভিরূপ একেবারে মেরুদন্ডহীন হয়ে গিয়েছিলো | খেতে পারতো না, ঘুমাতে পারতো না.. পড়াশোনা তলানিতে নেমে গিয়েছিলো | সেই অসময়ে ওর পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল অহনা | আজ অভিরূপ যেটুকু ভালো আছে তার সম্পূর্ণ কৃতিত্ব অহনার একার | ওদের তিন বছরের সম্পর্ক শেষে পরিণতি পেলো গত সপ্তাহে | কিন্তু অভিরূপ ভিতরে ভিতরে নিজেকে আজও অপরাধী বলে মনে করে | অহনার প্রতি ওর ভালোবাসায় কোথায় যেন একটা খামতি থেকেই গেছে | তিতাস কে যেভাবে উজাড় করে দিয়েছিলো অহনাকে কেন সে দিতে পারে না কথা মনে পড়ে যায় | ওকে দেখতে ইচ্ছে করে, জানতে ইচ্ছে করে ও কেমন আছে কোথায় আছে, কী করছে। কিন্তু ওকে ক্ষমা করতে পারেনা আজও।


ব্রেকফাস্ট টেবিলে একা বসে ছেলেটা | অহনা একটা ফাঁকা টেবিল খুঁজছিল | অভিরূপ ফুট কাটলো "ম্যাডাম, ওই দেখুন রূপবান একা বসে পাউরুটি চিবোচ্ছে | যান গিয়ে একটু কোম্পানি দিয়ে আসুন !"অভিরূপের কথা শুনে অহনা পিছন ফিরলো | এইবার ছেলেটাকে দেখতে পেয়েছে | "আহা রে ! একা বসে আছে ছেলেটা | দেখে বড় মায়া হচ্ছে | চল কোম্পানি দিয়ে আসি |" বলে অভিরূপকে টানতে টানতে নিয়ে গেলো | ছেলেটি কিছু বুঝে ওঠার আগেই চেয়ার টেনে বসে পড়ল অহনা | ছেলেটা ভয়ে কিংবা ভদ্রতায় উঠে দাঁড়িয়েছিল। অহনা অভয় দিয়ে বললো "আরে প্লিজ সিট ডাউন। ডোন্ট ওয়ারি। হাই। মাই নেম ইজ অহনা। আর ইউ ইন্ডিয়ান?" ছেলেটা উত্তর দিলো "আমি বাঙালি |" অহনা জিভ কাটল "ইশ। বুঝতে দেরি হয়ে গেল। যাকগে নাইস টু মিট ইউ।" বলে হ্যান্ডশেক করতে হাত বাড়িয়ে দিল আমার ছেলেটার দিকে। ছেলেটা এবার অভিরূপের মুখের দিকে তাকালো।চোখে " আপনার সম্মতি চাই" এমন ভাব। অভরূপ মনে মনে বল্লো "ঢং! জল যে এতদূর গড়িয়েছে তা আমার সম্মতিতে হয়েছে?? অভিরূপ মুখ ঘুরিয়ে নিল অন্যদিকে। আড়চোখে দেখল হাতে হাত। বুকটা ছ্যাঁত করে উঠল। 

ছেলেটার নাম সংকেত | আদি নিবাস কলিকাতা, মানিকতলায় বাড়ি, কর্মসূত্রে লন্ডনে থাকে, সেখানে একটা এড এজেন্সি তে চাকরি করে , মাইনেপত্র খারাপ পায় না , এখানে নিছক বেড়াতে আসা, বিয়ে-থা করেনি, স্টিল ভার্জিন - অভিরূপ বলতে যাচ্ছিল "আই ডাউট"। এমন ছেলের বউ থাকে না, প্রিয় বৌদি থাকে।


ব্রেকফাস্ট শেষে অহনা দারুন একটা প্রস্তাব রাখলো। " সংকেত আপনিও আজকে আমাদের সাথে ঘুরতে চলুন। একা একা হোটেল এ থাকলে বোর হবেন। আমরা দুজন আছি। আপনি গেলে আমাদেরও ভালো লাগবে। " অভিরূপ সব শুনে থ। মেয়েটা বলে কি?? এটা কি ধরণের হানিমুন?? ওদিকে সংকেত ছেলেটা না না করে যাচ্ছে- ব্যাটা চারশোবিশ। আর অহনা অবুঝের মতো ঘ্যান ঘ্যান করে চলেছে। অভিরূপ ব্যাস্ত  

হয়ে উঠল " আরে চলুন। অহনা এতো করে বলছে। আপনি গেলে আমাদেরও ভালো লাগবে। মনে মনে বল্ল "ছাই!"। 


রাজবাড়ী 

--------------


অহনা আগে আগে হাঁটছে, তার পিছনে অভিরূপ, অভিরূপের পিছনে সংকেত | অহনা দেখতে দেখতে অনেকটা এগিয়ে গেছে | পাছে ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে যায় তাই অভিরূপ ভাবলো সংকেত কে ডাকি | পিছন ফিরে দেখল সংকেত হাওয়া | কোথায় গেলো ছেলেটা?? এই তো ছিল! অভিরূপ জনস্রোতের প্রতিকূলে হাটতে শুরু করলো | যতটা এগোয় তার একটু বেশি করে পিছিয়ে যায় | শেষ অবধি এগোলো কি পিছোলো কে জানে দাঁড়িয়ে পড়ল এক জায়গায় | ডানদিকে মুখ ফেরাতে দেখলো এক অদ্ভুত দৃশ্য | দেওয়ালে টাঙানো ফ্রেমবন্দি একটা ছবি...কোনো পর্বতশৃঙ্গের.. সম্ভবত জলরঙে আঁকা | সংকেত ছবিটার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে | অভিরূপ পাহাড় খুব ভালোবাসে | তিতাসও ভালোবাসত | পাহাড়ের নামে জিভে জল এসে যেত তিতাসের ! কোনো পর্বতশৃঙ্গের ছবি দেখলে এইরকম লোলুপ দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে থাকতো | ভবতো কবে যাবে | অহনার আবার সমুদ্র বেশি পছন্দের | অভিরূপ পাশে এসে দাঁড়ালো "আপনি পাহাড় খুব ভালোবাসেন, না??"আচমকা প্রশ্ন হওয়াতে সংকেত চমকে উঠেছিল | নিজেকে সামলে নিয়ে বললো "আমি আঁকাটা দেখছিলাম | খুব ভালো এঁকেছে তাই না??" বলে কোনো উত্তরের অপেক্ষা না করেই চোখ নামিয়ে চলে গেলো | অভিরূপ দীর্ঘনিশ্বাস ফেললো | তার পর্বতপ্রেম ভাগ করে নেওয়ার কেউ নেই | পাহাড় সম্পর্কে দুটো কথা শেয়ার করার কেউ নেই।এমন সময় খেয়াল হলো অনেকটা পিছিয়ে গেছে সে | এবার দৌড় দিলো।


রাজবাড়ির পরে এবার ক্যসিনো তে ঢুকবে ঠিক করলো সবাই। অভিরূপ সবার আগে আগ্রহ দেখিয়েছে- এটাই শেষ সুযোগ, ছেলেটাকে টাইট দিতেই হবে। পয়সাই শেষ কথা। ক্যাসিনোর মধ্যে ছোটবড় সারি সারি জুয়াখেলার মেশিন। তার একটাতে বসলো অভিরূপ। অন্যটাতে সংকেত। " আমি এই পাঁচশো লাগালাম। আপনি কত?" টাকার এমাউন্ট শুনে অহনা এবং সংকেত একসাথে চমকে উঠল। অহনা চোখ পাকালো। " আমি একশো" সংকেত বল্ল। পরের তিন মিনিট ধরে আপ্রান যুদ্ধ করলো অভিরূপ। মাঝখানে অহনা অনেকবার চিৎকার করছিল থেমে যাবার জন্য। কিন্তু অভিরূপ থামেনি। থামতে পারেনি। ওর মন বলছিল আরো একবার। শেষে স্পটবায় এসে ওকে থামিয়ে দিয়ে বলল "সরি স্যার, ইউ লস্ট।". অভিরূপ জিজ্ঞেস করল" মাই ফাইভ হান্ড্রেড রুপিজ? "। ছেলেটা বল্ল " সরি স্যার"। অভিরূপ অহনার দিকে তাকালো। "তুই হেরে গেছিস গাড়ল"। অভিরূপ সংকেত কে জিজ্ঞেস করল " আর আপনার?"। " বেশি না। এই আটশো মতন" টাকা গুনতে গুনতে বল্ল সংকেত। অভিরূপের মনে হলো কোথায় যেন হারিয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। এমন ইনসাল্ট শালা বাপের জন্মে হয়নি। 


অহনা বায়না ধরেছে আইসক্রিম খাবে | অভিরূপের মুখ দেখে মনে হচ্ছে কেউ পকেটসমেত কিডনিটাও  কেটে নিয়ে চলে গেছে | সংকেত হঠাৎ করে বলে উঠলো "চলুন আমি আপনাদের খাওয়াচ্ছি"। অভিরূপ দেখল মামাবাড়ির আবদার পেয়ে গেছে তো ছেলেটা। ওকে হেনস্থা করবার কোনো সুযোগই বাদ দিচ্ছে না। ছোকরার তো ডবল লটারি লেগে যাবে। অভিরূপের পয়সা গেছে। এবার বউটাও যাবে। তড়িঘড়ি বাধা দিল অভিরূপ " না না। আপনি আমাদের গেস্ট মশাই। অতিথির টাকায় খেলে ভদ্রসমাজ কি বলবে।" অহনা জিগ্যাসু মুখে তাকালো। যেন বলতে চায় " আইস্ক্রিম খাওয়ানোর মুরোদ আছে তোমার?" সংকেত ইতিমধ্যে পকেটে হাত ঢুকিয়ে দিয়েছে "না না আমি খাওয়াচ্ছি। এটা ট্রিট।" অভিরূপ আবার কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল কিন্তু বলল না। ভাবলো ছেলেটার হাতে এখন কালো টাকা। ঝেড়ে ফেলতে পারলে বেঁচে যায়। তাই এসব নাটক করছে। সর্বত্র করাপশন। অহনা বেচারি ইনোসেন্ট। এসব বোঝে না। 

হঠাৎ কোথা থেকে একটা চামচে উড়ে এলো ঠোঁটের কাছে অভিরূপ চেয়ে দেখল অহনা ওর মুখে আইস্ক্রিম ধরেছে। আহা। আবেগে ভিজে গেল অভিরূপ। গদগদ হয়ে গিলে নিলো গোটা আইস্ক্রিম। যাকগে অহনা পর হয়ে যায়নি তাহলে। " হানিমুন জিন্দাবাদ"! 


"আঁক" করে উঠল সংকেত | ইঞ্জেকশনের সিরিঞ্জ টা একটু বেশিই জোরে ঢুকিয়ে দিয়েছে | এ আর নতুন কি.....


ডিনার টেবিলে বসে গালে হাত দিয়ে ভাবছিলো অহনা... সংকেত কেন খেতে এলোনা? অভিরূপ বললো "কি ভাবছিস আজকের রাতটা উপোস করবি??" অহনা গাল থেকে হাত নামালো | বেশ চিন্তিত দেখাচ্ছিল | বললো "ছেলেটা এলো না কেন বলতো? শরীর খারাপ নয় তো ? তুই গিয়ে মেরে দিয়ে আসিসনি তো??" অভিরূপ ক্ষেপে গেল "না না। তবে এখন যদি ফ্রি থাকে তো গিয়ে মেরে দিয়ে আসতে পারি |" মনে মনে বললো " সংকেত বাবাজি... ভালোই বশীকরণ করেছো ! আমার বৌ এখন তোমার চিন্তায় বিভোর | তুমি না হয় সাক্ষাত কাত্তিক , ছবিটবি তুলতে পারো, তোমার অনেক গুণ অস্বীকার করছি না। কিন্তু আমার মতো বেগুন কপালগুণে একটা বউ পেয়েছে, তাকেও লক্ষীছাড়া করে ছাড়বে তুমি??

দেখলেন না | পোখরা যাবেন না??" সংকেত বললো " আসলে এবার সময় নিয়ে আসিনি | পরে হয়তো কখনো..." অহনা বললো "কি আর বলবো বলুন | নেপালে এলেন, শুধু রাজবাড়ী ঘুরে চলে গেলেন , যে শুনবে তারই খুব কষ্ট হবে |" অভিরূপ বেজায় খুশি। পেট ভরে ব্রেকফাস্ট করেছে। সংকেত কে লাস্ট মিনিট কম্পানি দেবে বলে অহনা সকালে ঘোরার প্ল্যান ক্যান্সেল করেছিল- তাতেও আপত্তি করেনি। জাস্ট পার্টি মুড এ আছে। সংকেতের ফেয়ারওয়েল পার্টি! 


গাড়ি এসে গেছে | সংকেত উঠে পড়লো | লাগেজ বলতে শুধু একটা রুকস্যাক | অভিরূপ আর অহনা ওকে এগিয়ে দিতে এসেছে হোটেলের গেট পর্যন্ত | অহনা গুডবাই জানালো | সংকেত একবার হালকা করে হাত দেখালো। অভিরূপ অহনাকে জড়িয়ে ধরে বল্ল " ছেলেটা সত্যিই জেন্টল্ম্যান কাত্তিক। মানতে হবে!"


গাড়িতে বসে ল্যাপটপ অন করলো সংকেত | মন্থরগতিতে পাসওয়ার্ড টাইপ করলো "ভীরু" | হোমস্ক্রিনে ভেসে উঠলো অভিরূপের ছবি... ছ-বছর আগেকার | ডক্টর স্যামুয়েলের এপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে | সংকেত, ওরফে তিতাসের sex change procedure চলছে গত তিন বছর ধরে | মেনলি হরমোন থেরাপি। এবার সার্জারির কথা চিন্তাভাবনা করতে হবে। এপয়েন্টমেন্ট করে নিয়ে ল্যাপটপ বন্ধ করলো সংকেত| চোখ মুছে নিয়ে গাড়ির সিটে গা এলিয়ে দিলো | ডক্টর স্যামুয়েল বলেছেন "boys dont cry" 


Rate this content
Log in

More bengali story from SUBHAM MONDAL

Similar bengali story from Drama