শেষ ইচ্ছা
শেষ ইচ্ছা
আমি নীলাশা রায় নীশা। আমার বাবা ভিতরে ডাক্তার কাকার সাথে কথা বলছে। একটু পরে আমিও যাই। আমি ডাক্তার কাকাকে বলি.....
নীশা: কাকা আমি বাঁচব তো???
ডাক্তার: তুমি বাঁচবে না এমন না ।। বাঁচবে কিন্ত অনেক কষ্ট সহ্য করতে হবে । অনেক সময় লাগবে। আশা যশ কোথায়???
আশা হলো একজন নার্স। যে আমাক বোনের মতো দেখে। গত দুবার এসে আলাপ হয়েছে।। আর যশ হচ্ছে ডাক্তার কাকার ছেলে।। সবে মাত্র ডাক্তারি পাশ করেছে।। আশা দিয়ে আর ডাক্তার কাকা ছেলে একসাথে পড়াশোনা করেছে।।
আশা: স্যার যশ এসেছ।
ডাক্তার:তোমাকে না বলেছি স্যার বলবেনা।
যশ: আসবো বাবা??
ডাক্তার: হুম আয়।
যশ দা চলে আসলো আমার পাশের চেয়ারে বসলো তারপর রিপোর্ট দেখতে লাগলো এবং বলল
যশ :বাবা এটা তো...
ডাক্তার: হুম তুই যেটা দেখছিস সেটাই
যশ :বোন তোমার নাম??
আমি :নিলাশারায় নিশা।
যশ :নিশা খুব ভালো নাম ।তোমার বড় দাদা আছে?
আমি :না।
যশ :আমারও কোন বোন নেই আজ থেকে তুমি আমার বোন আর আমি তোমার দাদা আমাকে যশ দা বলে ডাকবে।। কি বলবে??
আমি: যশদা।
যশ: হুম আর আজ থেকে আমি আমার বাবা আশা তোমার ট্রিটমেন্ট করব এই কাজে তোমার হেল্প সব থেকে বেশি জরুরী করবে তো???
আমি: হুম।
যশ: আশা ওকে নিয়ে যাও।
আমাকে আশা দিন নিয়ে গেল ।গিয়ে দেখি আমার এক দিদি আসছে। তার সাথে কথা বলতে লাগলাম আশা দিয়ে উনার কাছে রেখে ভিতরে গেল ।ভেতরে বসে নিশার বাবা যশ যশের বাবা কথা বলছিল। তখন আশা আসে যশ বলে
যশ :নিশা কার কাছে??
আশা: ওর এক দিদি আসছে তার কাছে ।
যশ :ও ।আঙ্কেল আপনি বুঝতে পারছেন তো??
নিশার বাবা :হুম
ডাক্তার :আমরা মেয়েটাকে তো বলতে পারব না আপনি ওর বাবা আপনাকে তো জানাতেই হবে
নিশার বাবা: তা তো ঠিক। কিন্তু কত কি খরচ হবে??
ডাক্তার: যশের কাছে শোনেন যশ বল
যশ:আঙ্কেল আমরা এখানে কোন টাকার কথা বলিনি ।।আপনিও টাকার কথা বলবেন না আমি যদি বোনকে বাঁচাতে পারি এতেই খুশি।। আর কিছু না আর এখন থেকে বোনের সব খরচ সব দায়িত্ব আমার।।
আশা: আংকেল আমিও ওর দায়িত্ব নিতে চাই।।
নিশার বাবা: কিন্তু??
ডাক্তার: কোন কিন্তু না ওরা যেটা বলছে সেটা হবে। ওদেরকে এই কাজটা করতে দেন। এই যে ছেলেকে দেখছেন ওর মাকে হারিয়েছে এই রোগের জন্য ।আমি ডাক্তার হয়েও পারিনি বাঁচাতে। আমি যখন জানতে পারি তখন অনেক দেরি হয়ে গেছিল।কিন্তু নিশাকে বাঁচানো সম্ভব প্লিজ আমাদের এই কাজটি করতে দেন। আমি আপনার মেয়েকে বাঁচাবো।
যশ:আঙ্কেল আমি বোনের হাসিটা আনবো।
আশা:আংকেল এটা যদি আপনার ছেলে মেয়ে বলতো পারতেন মানা করতেন???
নিশার বাবা :আচ্ছা তোমরা যখন বলছ তখন তোমরাই দেখো।
যশ:আঙ্কেল ওকে কিছুদিন হাসপাতালে থাকতে হবে চলেন আমরা বাইরে যাই।
আমি দিদির সাথে কথা বলছিলাম একটু পরে যশ দা ,আশা দি ,বাবা বাইরে এলো বাবা বলল....
নিশার বাবা: মা তোমাকে এখন থেকে হাসপাতালে থাকতে হবে।। আমার তো অনেক কাজ আমি থাকতে পারবো না তোমার দাদা দিদি থাকবে।।
আমি :বাবা কতদিন??
যশ:আরে বেশিদিন না বোন।
আশা: আরে বোন কিছুদিন মাত্র।।
আমি: ও
(মনে মনে আমি বুঝতে পারছি অনেকদিন লাগবে মনে মনে বললাম।)
তারপর বাবা চলে গেল সাথে ওই দিদিটা। আমাকে একটা কেবিনে নিয়ে আসে। হাসপাতাল টা যশদার বাবার। আমাকে যশ কথা অনেক বলেছে দিদি। কেবিনে একটা বেড, একটা সোফা, একটা বাথরুম ,আছে রান্না করার মত জায়গাও আছে টুকটাক রান্না ।।

