Read #1 book on Hinduism and enhance your understanding of ancient Indian history.
Read #1 book on Hinduism and enhance your understanding of ancient Indian history.

Sanghamitra Roychowdhury

Drama Classics Inspirational


4  

Sanghamitra Roychowdhury

Drama Classics Inspirational


স্বাধীনতার স্বাদ

স্বাধীনতার স্বাদ

8 mins 577 8 mins 577


বিয়ে হয়ে বর্ধমানের অজ গ্রাম থেকে কলকাতায় শ্বশুরবাড়িতে এসেছে শোভনা এইমাত্র কয়েকটা মাস। বাড়ি থেকে সম্বন্ধ করে দেখেশুনে বিয়ে। শোভনাদের গ্রামের পাশের গ্রামেই ওর শাশুড়ির কেমন এক লতায়পাতায় আত্মীয়ের বাড়ি। তাদের মাধ্যমেই সম্বন্ধ। শোভনা দেখতে শুনতে যথেষ্ট সুশ্রী, গৃহকর্মে নিপুণা। আর হবে নাইবা কেন? বাপ-মা মরা মেয়ে। কাকা-কাকির সংসারে অবহেলায় আগাছার মতো বেড়ে ওঠা। কাকির সংসারের জোয়াল শোভনার কাঁধেই... সেই চোদ্দো বছর বয়স থেকেই। ঐ বছরই শোভনার মা মারা যায় সাপের কামড়ে... এমনই এক শ্রাবণের সন্ধ্যায় গ্রামের রাধামাধব মন্দিরে আরতি দেখে ফেরার পথে একদম মা-মনসার বাহনের ঘাড়ে পা। কয়েক মুহূর্ত মাত্র। চারটি বিষদাঁত ফুঁটিয়ে বিষথলি ফাঁকা করে সবটুকু বিষ ঢেলে দিয়েছিলো বোধহয় পায়ের চাপে আঘাতপ্রাপ্ত ক্রুদ্ধ কালাচ। মুখে গ্যাঁজলা উঠে ঘন্টাখানেকেই সব শেষ। হাসপাতালের ডাক্তার বলেছিলেন, "একে কালাচের বিষ, দুইয়ে ভয়... হার্টফেল করেছে পেশেন্ট।" শোভনা একলাটি হয়ে গেলো। বাবা তো সৈনিক ছিলো... ভারতীয় সেনাবাহিনীতে। কী সুন্দর গাঢ় জলপাই রঙের উর্দি পরে ছুটিতে ছুটিতে বাড়িতে আসতো! শোভনা তখন খুব ছোট। আবছা ধোঁয়া ধোঁয়া মনে পড়ে... বাবা এলেই বাবার টুপিটা মাথায় পরে লেফট রাইট - লেফট রাইট করে সারা বাড়ি দাপিয়ে বেড়াতো শোভনা। মা ঠাকুমা ধমকালে... কোলে তুলে চুমোয় চুমোয় ভরিয়ে দিতো বাবা। তারপর একদিন কাকা গিয়ে স্কুল থেকে তাড়াতাড়ি বাড়িতে নিয়ে এলো... ছুটি হবার আগেই। 


বাড়িতে এসে সাত বছরের ছোট্ট শোভনা দেখেছিলো ঠাকুমা অজ্ঞান, দাদু মাথায় হাত দিয়ে কেমন একটা ঘোলাটে চোখে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। আর মা দু'পা সামনে ছড়িয়ে দেওয়ালে হেলান দিয়ে বসে আছে... চোখ দিয়ে অবিরল জল ঝরে পড়ছে... শ্রাবণের ধারার মতো। সেও এক শ্রাবণই ছিলো। স্বাধীনতা দিবসের স্টান্টের মহড়া দিতে দিতে কীভাবে যেন মোটরবাইক সমেত ছিটকে পড়েছিলো বাবা। খুব ভালো বাইকার ছিলো... তাও বৃষ্টি ভেজা পথে বাইকের চাকা স্কিড করেছিলো। মাথায় গুরুতর চোট। ইন্টারনাল হ্যামারেজ। বাঁচানো যায়নি বাবাকে। দু'দিন বাদে বাবার দেহটা বড় একটা কাঠের বাক্সে করে গ্রামের বাড়িতে এসে পৌঁছেছিলো। কয়েকজন সেনাবাহিনীর অফিসার আর পুলিশ মিলে জিপে করে এনেছিলো বাক্সটা। তারপর মায়ের শাঁখা ভাঙা হলো, সিঁদুর মোছা হলো... সাদা থান পরানো হলো মা'কে। ছোট্ট শোভনা বুঝলো ওর মায়ের জীবন থেকে রং হারিয়ে গেলো। তারপর দাদু ঠাকুমাও খুব বেশিদিন আর বাঁচেননি। বড়ছেলের শোক সামলানো কঠিন ছিলো। দু-তিনটে বছর কোনোরকমে। তারপর বাড়ি ফাঁকা। মাও যেন কেমন একটা হয়ে গিয়েছিলো। কাকার সামান্য রোজগার আর বাবার পেনশন দিয়ে সংসারটা কাকা-কাকি টেনে নিয়ে যাচ্ছিলো। মা তো সারাক্ষণ পুজো আর ঠাকুর নিয়েই পড়ে থাকতো। কাকিই সব সামলাতো। তারপর কয়েক বছরের মধ্যেই মাও তো নেই হয়ে গেলো। কাকা-কাকি শোভনার দায়িত্ব ঝেড়ে ফেলেনি ঠিকই, তবে মাথায় করেও রাখেনি। সারাদিন কাজ আর কাজ। কাকা-কাকির সংসারের জোয়াল অলিখিত এক চুক্তিতেই শোভনার কাঁধে উঠে গিয়েছিলো। লেখাপড়াটা তাই আর হয়ে ওঠেনি। ক্লাস নাইনের মাঝপথেই থেমে গিয়েছিলো। কুড়ি পেরিয়ে একুশে পড়তেই এই বিয়ের সম্বন্ধ আর কাকা-কাকিও দু'বার ভাবেনি। ভালো ঘর, ভালো বর... এরকম নিখরচায় কোথায় আর মিলবে? সুতরাং শোভনার বিয়ে হয়ে গেলো জ্যোতিষ্কের সাথে। কলকাতায় শ্বশুরবাড়িতে এসে পৌঁছোলো শোভনা... একবুক স্বপ্ন আর অপরিসীম আশা নিয়ে। এসে কয়েকদিনের মধ্যেই শোভনার কাঁধে উঠে গেলো সংসারের জোয়াল। একই কাঁধ, একই জোয়াল... সংসারটাই শুধু বদল হয়েছে। শোভনার ভবিতব্য যেন ভাত-কাপড়ের বিনিময়ে কাকার বাড়ি থেকে শ্বশুরবাড়ি। শোভনা মানিয়ে নিয়েছে। মানিয়ে নেওয়াই তো ধর্ম তার মতো অশিক্ষিত গেঁয়ো মেয়ের। একথাটা শ্বশুরবাড়িতে কেউ তাকে মুখে না বললেও, তাদের হাবেভাবে শোভনা বুঝেছে।



শোভনার বর খুব বড় চাকরি করে। বিয়ে হওয়া থেকেই দেখছে রোজই হিল্লি-দিল্লি করে বেড়ায়। কদাচিৎ কলকাতার বাড়িতে থাকে। থাকলেও অনেক রাত করে বাড়িতে ফেরে। চুরচুর নেশাগ্রস্ত অবস্থায়। গ্রামে কেউ অমন করলে তার বৌ ঝগড়া করে পাড়া মাথায় করে বরের নেশা ছুটিয়ে দিতো... এমনই দেখেছে শোভনা। তবে কলকাতা শহরে অচেনা পরিবেশে হয়তো সবাইই এমন। শোভনা জানে না। তবে টুঁ শব্দটিও করে না শোভনা। কলের পুতুলের মতো রাতের বিছানায় দাঁত চিপে বরের বীভৎস সোহাগ সহ্য করে। এভাবেই পার হয়ে যাচ্ছে দিন। সারাদিন প্রচুর কাজ থাকলেও সন্ধ্যের পরে তেমন কিছু কাজ নেই। শোভনা বসে বসে সেলাই করে... এটাই তার শখ। খুব সুন্দর সেলাই করে শোভনা। বিয়ের আগেও করতো। কিছু টাকাও পেতো তাতে। কোথা থেকে যেন ওদের গ্রামের পুতুলমাসি কাজ জোগাড় করে আনতো। অনেকেই করতো... তবেই শোভনার হাতের কাজের আলাদা কদর ছিলো। মখমলের মতো মসৃণ সিল্কের শাড়িতে শোভনার সূঁচের ফোঁড়ে রঙীন সুতোয় ফুটে উঠতো সীতার বনবাস, শকুন্তলার তপোবন বা দ্রৌপদীর স্বয়ম্বরসভা। পুতুলমাসি চোখ ফেরাতেই পারতো না। একবার পুতুলমাসির সঙ্গে প্যান্ট-শার্ট পরা এক মেয়ে এসেছিলো... কঙ্কাবতীদি। শোভনার থেকে বেশ খানিকটা বয়সে বড়। শোভনার ছবি তুলে নিয়ে গিয়েছিলো। আর একটা রঙীন কাগজের কার্ড দিয়েছিলো। তাতে কঙ্কাবতীদির নাম ঠিকানা ফোন নাম্বার লেখা ছিলো। কঙ্কাবতীদি কাকা-কাকির কাছে বলেছিলো যে ও শোভনাকে সঙ্গে করে বিদেশে নিয়ে যেতে চায়। ওর হাতের কাজের এক্সিবিশন না কী একটা করতে চায়... অনেক টাকাও পাবে শোভনা তাতে। কাকা-কাকি মুখের ওপর সটান মানা করে দিয়েছিলো। শোভনার বিয়ের ঠিক হয়ে গেছে তখন... সেই কথাটাই রুক্ষভাবে জানিয়ে দিয়েছিলো। শোভনা আর সাহস পায়নি কোনো কথা বলতে। এখন বিয়ের পরে তো আর কোনো প্রশ্নই নেই পুতুলমাসির আনা শাড়িতে মনোরম সব দৃশ্য ফুটিয়ে তুলবে। তবে সূঁচ-সুতোর বাক্সটা এনেছিলো সঙ্গে করে। শোভনা নিজের ঘরে বসে সন্ধ্যের পরে লুকিয়ে লুকিয়ে বসে নিজের বিয়েতে পাওয়া হালকা সাদামাটা শাড়িতে কলকা, মোটিফ করে আকর্ষণীয় করে তোলে। বিছানার চাদরের কোণে, বালিশের ওয়াড়ে, কুশন কভারে... তবে সবটাই লুকিয়ে, সবার চোখের আড়ালে। কখনো কোনো নকশাদার সেলাই কোথাও দেখে ফেলে কেউ কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেও শোভনা জানে না... এমন ভাবই দেখায়।


সেলাই করতে করতে চোখটা লেগে এসেছিলো শোভনার। সারাদিনের পরিশ্রমের ক্লান্তি। তার মধ্যে আজ সন্ধ্যে নাগাদ খুব ভারি বৃষ্টি হয়েছে। ভ্যাপসা গরম থেকে মুক্তি খানিকটা। কলকাতা শহরে বসে কে বলবে শ্রাবণের শেষ এটা? শ্রাবণ মাসটা শোভনার ভালো কাটে না। বাবা মা দুজনেই তো এই শ্রাবণ মাসেই চলে গেছে না ফেরার দেশে... এই এতোবড় পৃথিবীটায় শোভনাকে একদম একলা করে দিয়ে। উদাস হয়ে থাকে শোভনা। ভাবছিলো নিজের এই পরের হাতে তোলা জীবনটা নিয়ে। হাঁফ ধরে আসে। তবুও উপায় নেই। শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই ওর। কী কাজ পাবে ক্লাস নাইন পার না করতে পারা মেয়েটা? ঐজন্যই তো নিখরচায় শোভনার বিয়েটা হয়ে গেলো কলকাতায় বড় ঘরে। আসলে তাদের দরকার ছিলো সাদামাটা গোবেচারা গ্রামের মেয়ে। যাকে হাতের মুঠোয় করে দাবিয়ে রাখা যাবে। সবই বোঝে শোভনা। কিন্তু কিছু করার নেই ওর। তাই পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়েই চলছে। রান্নাবান্না বিকেল বিকেলই সেরে নেয়। আগে তো অর্ধেক দিন শোভনার বর বাড়িতে খেতোই না। এখন অবশ্য লকডাউনের চক্করে বাড়িতে বসেই কাজ করছে। খাবার সময় হলে গিয়ে খাবার সব গরম করে দেবে। ভাবতে ভাবতেই চোখটা লেগে গিয়েছিলো শোভনার। হাতে ধরা সূঁচ-সুতো। হঠাৎ একটা জোরালো কথাবার্তার আওয়াজে তন্দ্রাটা ছুটে গেলো শোভনার। চোখটা ডলে নিয়ে বুঝতে চেষ্টা করলো ব্যাপারটা কী ঘটেছে?



নিজের ঘর থেকে বেরিয়েই কানে এলো জ্যোতিষ্কর গলা, "দাও, দাও, আমাকে দেখি। আরে দাও না তাড়াতাড়ি।" কী দেবে? কী চাইছে? বুঝতে চেষ্টা করলো শোভনা। নির্ঘাত মদের আসর বসিয়েছে ওরা। শোভনার কেমন গা'টা শিরশির করে উঠলো। এইসব রাতে শোভনার মারা পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। থাক, এখন আর নীচে যাবে না। দরকার নেই। খাবার সময় হলেই ওর ডাক পড়বে ঠিক... খাবার গরম করা, বাসন ধোওয়া, টেবিল পরিষ্কার করা... ইত্যাদির জন্য। শোভনা নিজের ঘরে এসে সেলাইয়ের সরঞ্জাম গুটিয়ে রেখে চুপ করে ঘরের আলো নিভিয়ে শুয়ে রইলো। খানিক পরে শোভনার শাশুড়ির গলা, "শোভনা...", ধড়মড়িয়ে বিছানায় উঠে বসলো শোভনা। শাশুড়ির গলার স্বরটা একটু অন্যরকম লাগলো না? "নীচে এসো...", বলেই শাশুড়ি চলে গেলো। শোভনার একটা কেমন খটকা লাগলো। কেমন যেন বেসুরো। শাড়িটা ঠিকঠাক করে গুছিয়ে নিয়ে নীচে গেলো শোভনা। শাশুড়ি খাবার গরম করে ফেলেছে... অবাক হলো শোভনা, সে কী কোনো ভুলভাল করে ফেলেছে? জ্যোতিষ্ক কেমন যেন ভূতগ্রস্তের মতো তার দিকে তাকিয়ে। কই সে তো মদ খেয়েছে বলে মনে হলো না? তবে? শাশুড়ি মোলায়েম করে ডাকলো, "এসো, বসে পড়ো... নাও খেয়ে নাও।" অবাক বিস্ময়ে শোভনা কথা হারিয়েছে। কলের পুতুলের মতোই সঙ্কুচিত হয়ে চেয়ার টেনে বসে পড়লো। বুঝতে পারছে না... কীইবা এমন হলো? আর ওইইবা কী করবে?



রুটিটা ছিঁড়ে চিকেন কারিতে ঠেকাতেই জ্যোতিষ্ক গম্ভীর গলায় বলে, "আমাদেরকে কিছু বলোনি তো তুমি ডিজাইনার শাড়ি বানাও?" শোভনার হাতের রুটি হাতেই ধরা রইলো। বুঝতে পারছে না কী বলবে! ওতো শুধু পুতুলমাসির এনে দেওয়া শাড়িতে ছবির বই দেখে দেখে পেনসিলে এঁকে নিয়ে তারপর সূঁচ-সুতোয় সেলাই করেই নকশা তুলতো। আর কিছু ডিজাইন তো কখনো করেনি শোভনা। আস্তে আস্তে বললো শোভনা তাইই। শাশুড়ি বলে, "ওকেই বলে ডিজাইনার শাড়ি। তোমার হাতে সেলাইয়ের কোন এক শাড়ি... তাতে নাকি সেলাই করে তুমি গোটাটা ভারতের ইতিহাস ফুটিয়েছো... সেটা আমেরিকার একটা এক্সিবিশন থেকে নিলামে উঠেছে। কত ডলার যে দাম উঠবে তার কে জানে? ঠাকুরকে ডাকো একমনে।" শোভনা আবারও অবাক হলো, "সেই শাড়িটার খবর এরা জানলো কী করে?" সন্দেহের চোখে তাকালো শোভনা, মনে পড়েছে... বিয়ের আগে শাড়িটার কাজ শেষ করে পুতুলমাসির হাতে তুলে দিয়েছিলো। নিজের স্কুলের পুরোনো ইতিহাস বইয়ের পাতা থেকে দেখে শাড়িটাতে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ছবি এঁকে নিয়ে সূঁচ-সুতোয় ফোঁড় তুলে ফুটিয়েছিলো... মহাত্মা গান্ধীর চরকা কাটা, নেতাজীর আজাদ হিন্দ ফৌজের সামনে দাঁড়িয়ে অভিবাদন গ্রহণ করা, মাতঙ্গিনী হাজরা গুলি খেয়েও জাতীয় পতাকা সোজা করে ধরে রাখা, ফাঁসির মঞ্চে ক্ষুদিরাম... আরো কত ছবি... যা যা শোভনা ওর ক্লাস নাইন পার করতে না পারা শিক্ষাজীবনের ইতিহাস বইতে দেখেছিলো, তার সবই ফুটিয়েছিলো। স্বাধীনতার ইতিহাস। শোভনার মনে হয় ওর বাবার নামও জড়িয়ে আছে ভারতের স্বাধীনতার ইতিহাসে... বাবাও তো সৈনিক ছিলো। তবে স্বাধীন ভারতের। চোখ ভিজেই আসে শোভনার। ঐ শাড়িটাই ওর শেষ কাজ ছিলো। কিন্তু এরা কী করে জানলো এতো কথা? শোভনার চোখে অপার জিজ্ঞাসা দেখে জ্যোতিষ্ক বলে, "কঙ্কাবতী এক্সক্লুসিভ ডিজাইনার তোমার ছবি সমেত নিউজ আর্টিকেল আর তোমার হাতের কাজের সব ছবি ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম সব জায়গায় প্রোমোট করছে। খুব শিগগিরই কলকাতাতেও এক্সিবিশন হবে এই লকডাউন উঠলেই। আপাতত কঙ্কাবতী আমেরিকায় বসেই এসব করছে। রীতিমতো ভাইরাল হয়ে গেছে। কয়েক মিলিয়ন ভিউস্।" জ্যোতিষ্কের চোখে সম্ভ্রম। শাশুড়ি শোভনার পাতে আরেকটু চিকেন কারি তুলে দিলো। শোভনা উচ্ছ্বসিত হতেও ভয় পাচ্ছে। লজ্জা পাচ্ছে... কিছুটা সঙ্কোচ। শাশুড়ি শোভনার মাথায় হাত রেখে বলে, "তোমার বিছানার চাদরের ফুলতোলা নকশা দেখেই আমার সন্দেহ হয়েছিলো। মিলেই গেলো। আমার গুণী মেয়ে।" সন্ধ্যের পর থেকেই নাকি পরপর খালি ফোনের পরে ফোন আসছে... জ্যোতিষ্ক আর শোভনার শাশুড়িকে শুভেচ্ছা আর অভিনন্দন জানিয়ে। শোভনা তো ফেসবুক-টেসবুক কী জিনিস সেসব জানেই না। ভাবলো, "কঙ্কাবতীদিকে কাল একবার ফোন করে জানবো... সত্যি কিনা এসব!"




রাতে শুতে এসে আজ জ্যোতিষ্ক খুব নরম গলায় বলে, "বাবা, এখনতো মিলিয়নেয়ার বৌ!" তবে ব্যাঙ্গ নয় সমীহ করে। সেটা বুঝলো শোভনা। আলো নিভিয়ে শুতেই জ্যোতিষ্ক জড়িয়ে ধরে কাছে টানে শোভনাকে। শোভনা আলতোভাবে জ্যোতিষ্কর হাত ছুঁয়ে বলে, "আজ ভালো লাগছে না।" জ্যোতিষ্ক হাত সরিয়ে নিলো। তারপর শোভনার কপালে একটা চুম্বন করে নরমগলায় বলে, "ওক্কে! আজ থাক! ঘুমিয়ে পড়ো।" শোভনা ভাবে... যোগ্যতায় নিজেকে প্রমাণ করতে পারলেই কত সহজে স্বাধীনতা মেলে। আজ সে জীবনে প্রথমবার নিজের শর্তে নিজে চলবার স্বাধীনতা অর্জন করতে পেরেছে। এবারে শুধু ধরে রাখা এই স্বাধীনতার স্বাদ!



Rate this content
Log in

More bengali story from Sanghamitra Roychowdhury

Similar bengali story from Drama