STORYMIRROR

md mohobbot alli

Abstract Romance Inspirational

4  

md mohobbot alli

Abstract Romance Inspirational

সৎ মায়ের সংসার

সৎ মায়ের সংসার

25 mins
20

আমার বাবার দুপক্ষ ছিল

আমার বাবা যখন বিয়ে করে

তখন আমার বড় মা অর্থাৎ বাবার আগের পক্ষ বড় পক্ষ

সে ভারী অসুস্থ থাকায়

যার কারণে বাবা আমার মাকে নিকা করলো

আর সেই ঘরে আমি একটা সন্তানই জন্মেছিলাম

আর আগের পক্ষে

দুইটা মেয়ে ছিল বাবার

আমার দুইটা বোন কখনো আমি সৎভাবে দেখিনা

আপন ভাবে দেখি

কিন্তু ওরা ২ বোনের মধ্যে

বড় আপুর নাম হচ্ছে কাজল আর ছোট আপুর নাম হচ্ছে রেখা

কিন্তু কাজল আপু

সে কখনো

আমাকে ভাই বলে মেনে নেয় না

আর সে ইতিপূর্বে রাজি ছিল না যে তার বাবা

দ্বিতীয় কাজ করুক

কারণ

বাবা দ্বিতীয় কাজ আমার মাকে করার পরে

বড় আপু সবসময় সেদিন থেকে

তার বাবাকেও আর বাবা বলে ডাকে না

সেদিন থেকে সে বাবার উপরে

একটু অখুশি নারাজ

এটা আমি যখন বড় হলাম তখন বুঝতে পারি আজ পর্যন্ত

সে তার বাবাকে বাবা বলে ডাকে না অথচ আমিও বাবা বলে ডাকি

ছোট আপু রেখা সেও বাবা বলে ডাকে

হঠাৎ এভাবে কাজলাপুর পড়াশোনা

শেষ দিকে তার বিয়ে হয়ে যায়

আমি তার বাড়িতে যাব কি করে

সে তো আমাকে ভাই হিসাবে কখনো চোখেই দেখে না

সে আমাকে মেনে নিতে চায় না

অথচ আমি তাকে আপন আপন করি

একই বাবার জন্ম

মা দুইটা হতে পারে

এটা পরিস্থিতির শিকার

কারণ আমার বড় মা অসুস্থ থাকার কারণেই তো

বাবা আমার মাকে নিকা করে

আর যার কারণেই তারও তো চলতে হবে

কিন্তু

বড় আপু এটা কোনদিনও মেনে নিল না

খাজল আপু

সে কখনো এটা আজ পর্যন্ত মেনে নিল না

আর আমাকে তো কখনো ভাই হিসেবে গণ্যই করে না

কিন্তু রেখা আপু

সে খুব ভালো মানুষ

সবসময় সে আমাকে নিজের ভাই চোখেই দেখতো

যে কোন কিছু হলে আমার সাথে শেয়ার করত

বড় আপুর বিয়ে হয়ে যাওয়ার পরে

কত ইচ্ছে করে

আপুর বাড়িতে

আমি বেড়াতে যাব

কিন্তু গেলে

কখনো আদর আপন পেতাম না

তেমন একটা কিছু আমাকে এলাও করতো না

আমি যে তার ভাই

এদিকে তার কোন ইয়েই ছিল না

মানে আমাকে কোন পাত্তাই দিত না সবসময়

পরপর ভাবতো

মনের কাছে খুব কষ্ট লাগতো

তারপরে ১ যায় দূর যায় যখন বড় অপর ঘরে একটা সন্তান হলো

একটা ভাগনা হলো অর্থাৎ আমার

তার বয়স যখন ৪ বছর

ঠিক ওই সময়

দুলাভাই বিদেশ পাড়ি দেয়

দুলাভাই বিদেশ যাওয়ার পরে

বড় আপুর বাড়ি

গাড়ি মানে সংসার যেন সবকিছু আলাদা করে দিয়ে গেছে

বড় আপুর মত বড় আপু থাকে

কিন্তু এই বাড়ি থেকে

আসা যাওয়া করার মতো একমাত্র আমিই তো একটা ছেলে

কারণ বাবার বড় পক্ষের মাত্র দুইটা মেয়ে

কিন্তু রেখাপাথ তো আর সেখানে যেতে পারে না

সেও কলেজে পড়াশোনা করে যুবতী হয়ে উঠছে

আর আমি রাহুল

আমিও কলেজে পড়াশোনা করি

কিন্তু ইচ্ছে করে

যে আমি

কাজল আপুর বাড়িতে যাব বেড়াইতে

তাকে আমি সবসময় আপন আপন করি

কিন্তু সে তো আমাকে আপন চোখে আজ পর্যন্ত দেখলো না

মনের কাছে এটা আমার খুবই কষ্টদায়ক খুবই দুঃখজনক

তারপরে

দুলাভাই যখন বিদেশ চলে গেল

হঠাৎ একজন একদিন

কাজল আপু মাকে ফোন করলো

অর্থাৎ বড় মাকে ফোন করে বলল যে মা

রাহুলকে আমাদের বাসায় একটু পাঠায় দাও

কিছু কেনাকাটা করতে হবে

ছোট একটা দেওর আছে খুব দুষ্টু

ওকে বললে ও শোনে না

আর ওকে মার্কেটে নিয়ে গেলে

ওর জন্য আলাদা বাজেট করতে হয় ওকে

কিনে কেটে এটা ওটা দিতে হয় ওর দাবি আমি পূরণ করবো

না আমি আমার সংসারের কাজ করব

এজন্য বলতেছি

রাহুলকে একটু আমাদের বাড়িতে পাঠায় দাও

ওই ১ ২ দিন থেকে যা

কি করে যে কাজল আপুরে এত দয়া হলো

হঠাৎ বুঝতে পারলাম না

বড় মা আমাকে বলল রাহুল

দেখ তোর কাজল আপু বলে তোকে ভালোই বাসেনা

তুই এত আক্ষেপ করে বলিস কথাটা

আমার খুব খারাপ লাগে রে

কিন্তু বোন কখনো পর হয় না

আজকে তোর কথা

ভীষণ মনে পড়েছে ওর

আমাকে ফোন করে বলছে

তোকে ওখানে যেতে এবং দুদিন তিনদিন সময় হাতে করে যেতে

ওখানে থাকা লাগবে নাকি তোর

ওর সংসারে কিছু কেনাকাটা আর কিছু কাজ করে আছে

তোর দুলাভাই তো আর বাড়িতে নেই

প্রবাসে আছে

ওর একটা ছোট দেবর আছে সে নাকি ওর কোন কথাই শোনে না

তখন আমি বললাম

ঠিক আছে বড় মা

কাজল আপু এতদিন পরে যেহেতু আমাকে

ডাক দিছে

তাহলে তো যেতেই হবে এটাতো খুশির খবর

তারপরে

আমি

পরের দিন বেশ আয়োজন করে

কাজল আপুর বাড়িতে চলে গেলাম

যাওয়ার পরে কাজল আপু আমাকে বেশ আদরপূর্ন করলো

মানে আগে কখনোই আমাকে এভাবে এলাউ করেনি

আমি যে তার ভাই অর্থাৎ ১ বাপেরেই তো জন্ম

মা হয়তো দুইটা হতে পারে

কিন্তু সে কখনোই আমাকে এটা মেনেই নেয়নি

আর সে থেকেই

বাবাকে ও বাবা বলে ডাকে না বাবার মনে অনেক কষ্ট

যা হোক কাজল আপুর মনে খুব দয়া হলো মনে হয়

তারপরে আমাকে সে কি যে ভজন সাধন মানে ভাবনায় করা যায় না

তারপরে

আমার জন্য বলতেছে এটা কি খাবি তুই বল

এতদিন পরে আসলি

আসলে ভাই দেখ তুই আমাদের বাড়িতে এর আগেও আসছিস

তখন একসাথে সংসার ছিল

আর তোর দুলাভাই থাকতে আসছিস

তোকে আমি বেশি কিছু করে আপ্যায়ন করতে পারিনি

মানে নিজের দোষটা সে যেন একদম এড়ায়ে চললো

আমি এটা বুঝতে পারলাম

নতুন করে সে আমাকে সবকিছু ভুং ভাং বুঝিয়ে

ভালো সাজলো

তবুও তো কাজল আপু সে আমাকে ০১:১২ হয়তো

ভাই বলে ডেকেছে

বা ভাই বলে

তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে গেল বা আপপায়ন করতেছে

এটা আমার জন্য একটা দারুণ পাওয়া

কারণ তাকে আমি যথেষ্ট সম্মান করি ভালোবাসি

হাজার হলো

আমার ১ বাপেরই তো জন্ম

সে আমার বড় আপু

তাকে তো সম্মান করতেই হবে

তারপরে

বড় আপু আমাকে বলল

রাহুল ২ ৩ দিন থাকতে হবে রে ভাই

চিন্তা করিস না বাড়িতে বলে আসছিস তো

আমি বললাম যে হ্যাঁ

বড় মাকে বলছি আব্বুকেও বলে আসছি

তা আমি তো এই দিনের অপেক্ষায় ছিলাম আপু

কারণ আমার মনের মধ্যে খুব কষ্ট

তোমার বাড়িতে ইতিতে পূর্বে যাই আসছে

কখনো তুমি আমাকে ভাই বলে এলাও করোনি

যাইহোক আজকে তুমি তোমার বাড়িতে আমাকে আহ্বান করাতে

আমি যেন চরম খুশি হয়েছি

আপু আপু কথাটা শুনে মুচকি হেসে দিয়ে বললো তাই নাকি রে

আরে ভাই

মানুষ সবসময় কি একরকম থাকে

দেখনা তোর দুলাভাইয়ের ভাগনাটা হওয়ার পরে

৪ বছরের সন্তান দেখিয়ে যে প্রবাসে গেছে

তার যাওয়া আজ একটা বছর হয়ে আসলো

সংসারের খুটি নাটিয়ে এটা ওটা

ওদের যদি কোন কিছু কিনতে দেই ওরা ১/২ টাকার হিসাব দেয় না

এজন্য ভাবলাম যে

তোকে ডেকে নিয়ে এসে এটা ওটা কেনাকাটা করব

সংসারের অনেক কাজ পড়ে গেছে

তাছাড়া আমার একা আলাদা বাড়ি

কে দেখবে এগুলা

তাই চিন্তা করলাম যে তোকে ডেকে ২

তিনদিন দেখে সব কাজ সেরে নেব

আমি বললাম ঠিক আছে আপু

চিন্তা করো না ৩ দিনের জায়গায় যদি ৫ দিনও লাগে

আমি তোমার বাড়িতে থেকে

তোমাকে একটু আমি সহযোগিতা করতে চাই

তুমি চিন্তা করো না

বলো আমাকে কি করতে হবে আপু

তখন

আপু বলল

শোন

আপাতত আজকে আর কিছু করতে হবেনা

আজকে তোর ভাগনা টাড়ে নিয়ে

একটু এদিক সেদিক ঘুরে ফিরে করে আয়

আমার হাতে আপু পাঁচশো টাকার একটা নোট ধরিয়ে দিল আর বলল

তোর যা মন চায়

কিনে খাস আর একটু ঘুরে ঘুরে

আয় তোর ভাগ্নে তারে নিয়ে কেউ কখনো বেড়াতে যায় না

সে কবে নাগাদ

ওর বাবা বিদেশ চলে গেছে

ওর কাকারা তো ওদের একটুও আদর করেনা ভালোবাসে না

আলাদা বাড়ি বলে কথা কেউ খোঁজই নিতে চায় না

নিজের প্রয়োজনে যদি কাউকে ডাকি

হয়তো আসে নাইলে আসেনা

ব্যাস আমি আমার তো আমি মেয়েছেলে মানুষ

সংসারের জন্য আর কতটা করব বল

তারপরে আপুকে আমি বললাম আপু চিন্তা করো না

আমার কাজল আপু সে দেখতে শুনতে

ভারী বিজয় উঁচু লম্বা বেশ মোটাসোটা

দারুন দেখতে সুন্দরী

তবে শ্যামলা বর্ণিত

আপু চেহারা গঠনপ্রণালি আগে পড়ে থেকেই

আর তার মুখের আকৃতির জন্য একটু রাগান্বিত

আমি ছোট মানুষ তো

তার অনেক জুনিয়র ছোট ভাই

মানে তাকে দেখলে আগে পরে থেকেই

আমি ৭ ঘাটের পানি একসাথে খাই খুব ভয় পেতাম

আর আপুকে এখনও আমি খুব রিস্পেট করি খুব সম্মান করি

আপুর একটা কথা আমি অমান্য করতে পারি কি তাই

আমি বেশ ভাগ্নার হাত ধরে

বাইরে এদিক সেদিক একটু ঘোরাফেরা বিকেলে ঘোরাফেরা করে যাক

দিনটা পার করে দিলাম

রাত হল খাওয়া দাওয়া সেরে

আমাকে আপু

আলাদা আলাদা একটা রুমে ঘুমাইতে দিল

তারপরে সে রুমে টিভি ছিল না

বড় আপুর রুমে টি টেলিভিশন ছিল

বড় আপু গুলো রাহুল

যদি ঘুম না ধরে

তাহলে আসি এই রুমে এসে বস

সোফাতে বসে একটু টেলিভিশন দেখ একটু সময় চলে যাবে

আর তোর ভাগ্নাটা ঘুমাইছে আয় কথায় কথায় একটু সময় কাটবে

আমি আপুর পাশে এসে বসে পড়লাম

আপুর সাথে একথা সে কথা

নানান কথায় ১ পর্যায়ে অনেক রাত হয়ে গেল

প্রায় রাত বারোটা বেজে গেছে

আমার হাম আসছিল বারবার গালে

তারপরে আপুকে আমি বললাম

বড় আপু

রাত তো বেশ হলো

আর অনেকদিন পরে তোমার সাথে প্রাণ ঢেলে কথা বলতে পেরে

আমার বড্ড ভালো লাগতেছে

আপু জানো

ছোটবেলায় মাকে হারিয়েছি সে ৪ ৫ বছর বয়সে

মা আমাকে রেখে মারা গেল

আমি বড় মার হাতে

নিজের সন্তানের মতই আদর যত্ন নিয়েই এত বড় হয়েছি

কিন্তু আপু

একটা কথা কি জানো

তোমাকে কখনো আমি সৎ বোন বলে ভাবিনি

আমি আপন মায়ের পেটের বোন বলেই জানি

কিন্তু তুমি আমাকে আগে পরের থেকে যে দেখতে পারো না

এটা আমি বেশ ভালো করে জানি

আমার যখন বুদ্ধি হলো

তখন থেকে আমি বেশ বুঝতে পারি

আপু মুচকি হেসে দিয়ে বললো

এসব কথা ভুলে যা তো রাগ তো রাহুল এসব কথা

দিন বদলে গেছে

মানুষের পরিবর্তন

আজ আছে তো কাল নেই রে দুনিয়াটা দুদিনের

কি এসব ভেবে লাভ কি

ছাড় এসব কথা

দেখ না ভাই তোর দুলাভাই

আজ একটা বছর প্রবাসে গেল

আমি যে কি কষ্টের মধ্যে আছি

তুই ছোট ভাই তোকে কি করে যে বলি

তুই কাউকে কিছু বলবি না তো

আমি বললাম

না না কি কাকে বলবো

কি এমন কথা আপু

বলে ফেলো তো

তখন

কাজল আপু বলল

রাহুল সত্যি করে আমার দিকে তাকিয়ে বল

কোনদিন কাউকে কিছু বলবি না তো

প্রমিস কর

আমি

যেন একটু ভয় পেলাম আপুর কথায়

কেমন যেন

আমার মধ্যে একটা টেনশন কাটছে

যে আপু আবার কি এমন নিষেধ করবে

তারপরে বললাম ঠিক আছে আপু

আমি কোনদিনও কাউকে বলব না

তুমি আমার সিনিয়ার আমার বড় আপু

তুমি ছোট ভাইকে একটা আদেশ করলে

তোমার কথা কি আমি না রেখে পারি

বলো আপু

কি এমন কথা

বলতেছে

দেখ ভাই

আসলে

আমি তোকে কি বলবো

আমি ভীষণ কষ্টের মধ্যে থাকি

তোর দুলাভাই

সে চারদিন ৫ দিন পর একদিন ফোন করে

শুনেছি স্বামীরা প্রবাসে গেলে

প্রতিনিয়ত

স্বামী সন্তানাদি

এদের সাথে বউ

সন্তানা দিয়ে এদের সাথে ফোন করে যোগাযোগ করে কথা বলে

তোর দুলাভাই অতটা আগ্রহ নেই জানিস

মানুষ প্রবাসে গেলে এতটা পরিবর্তন হয়ে যায়

টাকা পয়সা ঠিকই সে ইনকাম করতেছে

মাসে মাসে আমার অ্যাকাউন্টে বেশ টাকা লাগিয়ে দেয়

কিন্তু

তার সাথে সবসময় আমার যোগাযোগ করতে ইচ্ছে করে

তাছাড়া আমি অনেক কষ্টের মধ্যে আছি রে

তোর দুলাভাইটা আজ একটা বছর যাওয়া হয়ে গেল

কি বুঝিস না এখন তো তুই কলেজে পড়াশোনা করিস

আমি বললাম

না আপু আমি ঠিক এখনো

তোমার কথা বুঝতে পারিনি

হ্যাঁ দুলাভাই তো প্রবাসে গেছেই

তাতে কি হয়েছে

মানুষের স্বামীরা কি বিদেশ যায় না

তুমিও আল্লাহ আল্লাহ করো

সে বিদেশ থেকে ফিরে আসলে দেখবা সব ঠিক হয়ে যাবে

তোমার সুখের জন্যই তো সে প্রবাসে গেছে

আপু আমাকে ধমক দিয়ে বলো

ধুর গাধা

তুই তো আমার কোন কথাই বুঝলি না

তুই এখনো

ছোট আছিস রে তোর বুদ্ধি হয় নাই

কথা বোঝার মতো তোর বয়স হয় নাই

আমি হেসে দিয়ে বললাম

না আপু আসলে

আমি ব্যাপারটা ঠিক বুঝতে পারিনি

তুমি আমার বড় আপু তো

তাই আসলে কি বলতে চাইছো আমি এখনো বুঝতে পারিনি

একটু ক্লিয়ার করে বলতো আপু

তখন খাজল আপু বলল

আরে গাধা

তোকে আমি এটা বলছি নাকি

তোকে বলছি

যে আমি তো দুলা ভাইরে ছাড়া ভীষণ কষ্টে আছি

তাছাড়া আমার সংসারের যখন যেটা প্রয়োজন হয়

আমি মেয়েছেলে মানুষ মার্কেটে যেয়ে

এগুলা কেনা আমার জন্য একদম অসাধ্যকর ব্যাপার

আমার একটা ছোট দেওর খুব দুষ্ট

তাকে একটা কথা বললে একদমই শোনে না

তুই এখন থেকে যখনই তোকে ডাকবো

তুই সাথে সাথে আমার এখানে চলে আসবি

আর দুদিন সময় হাতে করে আসবি ভাই

আমার এখানে থাকবি

এখান থেকেও তো ২ একদিন কলেজ করলে পারিস

তোর বড় আপু

কি

তোর উপরে এতটাই অবিচার করেছে তুই কি আমার উপর রাগ করেছিস

আমি বললাম না না আপু

আমি কখনোই তোমার উপরে রাগ অভিমান কিছু করিনি

আমি একদম ঠিক আছি

তুমি এখন থেকে

আমাকে যা বলবে আমি তোমার কথা অক্ষর অক্ষরে পালন করবো

বলো আমাকে কি করতে হবে

এই বললাম তখন আপু বলল

তোকে আমি কি বোঝাবো

শোন আমার পিঠটা একটু চেপে দে তো ভীষণ পিঠটা ব্যথা করছে

এ বলে আপু সোফার ওপরে যেন এলিয়ে একটু কাথ হল

আমাকে বলছে আমার পিঠের এদিকে ওদিকে

কেমন যেন খুব ব্যথা ব্যথা করছে

আমার আবার একটু ভাত আছে তো

আমি বললাম ঠিক আছে আপু ব্যাপার না ভাই বোনের ব্যাপার

আমি অতটা কিছু মনে করিনি

যাই হোক

একটু মেসেজ করতেই আপু বলল এখানে না ওখানে

একথা সে কথা বলতে

আমার হাত টা যেন সে

অন্য অন্য জায়গায় একটু ঘোরাঘুরি করতে লাগল

আমি তখন চাষ করে উঠে একটু লজ্জা মুখে বললাম আপু

আমার ভীষণ ঘুম পাচ্ছে

আমি ঘুমাবো তুমি ঘুমিয়ে পড়ো

রাত সাড়ে বারোটা বেজে গেছে কথায় কথায়

কালকে আবার সকালে উঠতে হবে

তোমার সাথে শহরে যে

তোমার নাকি সংসারের কত কেনাকাটা আছে সেগুলো করতে হবে না

তখন আপু বলল

আরে গাধা

ওর চিন্তা তোর নেই একটু দেরি করে গেলেও সমস্যা নেই

তোকে আসলে

যে কারণে ডাকছি

তুই আমার ব্যাপারটা আসলে ঠিক বুঝে উঠতে পারিস নি

কিন্তু একটু সময় লাগবে তোকে বোঝাতে

আরে গাধা আস্তে আস্তে তুই দেখবি সবই বুঝতে পারবি

কেবল তো আসছিস

আমি ঠিক আপুর কথা

তখনও ক্লিয়ার বুঝতে পারিনি

তারপরে

আমি বললাম আমি যাই এখন

আমি যেন পাশের রুমে ঘুমানোর জন্য ব্যস্ত হয়ে গেছি

আমার ভীষণ ঘুম পাচ্ছে

আপু যেন আমাকে

যেতেই দিচ্ছে না

এখন এ কথা তো আরেক কথা আমাকে আটকিয়ে ফেলছে

তারপরে এককথা দু কথায়

আপুর মুভমেন্ট ভাববোনে আমার কাছে কেমন যেন মনে হল

তারপরে

হঠাৎ করে আপু যেন মনের মত কি একটা রং লাগলো

সে ১ গ্লাসের সামনে গিয়ে

হঠাৎ করে সাজুগুজু করা শুরু করলো

আর আমাকে বলছে রাহুল

দেখতো ভাই

এরকম সাজ আমি কতদিন সাজিনি

তোর দুলাভাই বিদেশে যাওয়ার পরে আমি কাকে সেজে দেখাবো

আজকে তুই আসছিস না

দেখতো আমাকে এরকম রূপে কেমন লাগে

আমি হেসে দিয়ে বললাম

হ্যাঁ আপু তুমিতো শ্যামলা হলেও এমনিতেও সুন্দরী

তাছাড়া একটু সাজুগুজু করলে আরো সুন্দরি লাগে

ভীষণ ভালো লাগছে তোমাকে

আপু হেসে দিয়ে বললো

তাহলে চলে যাচ্ছিস কেন

একটু সুন্দরী বোনের পাশে বস আরো দুইটা কথাবার্তা বলি

কতদিন কারো সাথে এরকম গল্প গুজব করিনা

বেশ বড়ই তো হয়ে গেছিস তুই

আর তাছাড়া উপযুক্ত হয়ে গেছিস কিন্তু

তোর এখনো বুদ্ধি হলো না রে তুই আর বুঝবি কবে

যা আজকের মত

যে গিয়ে ঘুমিয়ে পর তোর যখন এতটাই ঘুম পাচ্ছে

আপুর কথা

আমার মাথার মধ্যে যেন ঢুকলো না

আমি ১ নিমিষের জন্য দরজা খুলে

পাশের রুমে যাইয়া শুয়ে পড়লাম আপু বলল

মাঝে মাঝে রুমের দরজাটা আটকাস না

আমার আবার ও ঘরে এটা ওটা নিতে যাওয়া লাগে

কখন কি নিতে হয়

তুই শুয়ে পড়

আমি মশারি টানিয়ে

বেশ

অঢালে ঘুমিয়ে পড়লাম

খুব ভোর বেলায়

আপু দেখি আমার পাশে গিয়ে বসলো

আমি গভীর ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে ছিলাম

ওদিকে রাত সাড়ে বারোটা একটা বেজে গেছিল ঘুমাইতে ঘুমাইতে

হঠাৎ করে

আমি ঘুম চোখে আলসেলসার চোখ মিলে দেখি

আপু আমার পাশে বসে আছে

আমি বললাম কি হয়েছে আপু

এই ভোর রাত্রে তুমি

তুমি কি নামাজ কালাম পড়বে আপু বলল

হ্যাঁ তাতো পড়তে হবে যেন টানা সুরে বলল

কিন্তু আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বলছে

তোর যে কবে বুদ্ধি হবে

তুই কখন যে এই সমস্ত কিছু বুঝবি রে

আসলে আমার কষ্টটা তুই বুঝলি না রে রাহুল

আপুর এই টানা সুরে কথা

আমার মনের মধ্যে অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন করলো

আমার ঘুমটা ভেঙে গেল

আমি ওকাত ফিরে শুয়ে

আপুর ০০:০১ কথা যেন

ভারী ওজনের

আমি কথা এনালাইসিস করতে লাগলাম

আপু এমন করে কথা বলছে

আসলে আমার বুদ্ধি কি

আমি এমন বুঝতেছিনা যা আপু কি বলতে চাইছে

নাহ যাহোক হাজার হলে সে আমার বড় আপু

আমি তাকে কোন কিছু বলতে পারছি না

তারপরে আবারও বলছে থাক তুই

শুয়ে থাক

যাক আমি রান্নাবান্না কাজটা শেফ ছাড়তে গেলাম

রান্না হলে তোকে ডাক দেবো

একথা বলে

আপু আমার রুম থেকে বের হয়ে রান্নার কাজে ব্যস্ত হয়ে গেল

আপু সকাল সকাল রান্না বসিয়ে দিল

তারপরে নয়টার মধ্যে খাওয়া দাওয়া সেরে

আমি যাইহোক

শহরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত নিলাম আপুও

বেশ সাজুগুজু করে বের হলো

বলছে রাহুল

তুই কি নিবি বল

তোর জন্য কিছু কেনাকাটা করবো

তোকে নাকি আমি ভালোই বাসি না

তুই এমন করে বলছিস

আজকে তোর জন্য আগে মার্কেট করবো

বল ভাই কি নিবি তুই

আমি হেসে দিয়ে বললাম

না আপু তুমি খুশি করে ছোট ভাইকে যা দিবে

বাস এতোটুকুই আমি আর কি বলবো

আপু বলো

আচ্ছা ঠিক আছে আগে চল গিয়ে দেখি

তোর যেটা পছন্দ হয় তোকে সেটাই কিনে দেবো

তারপরে

ভাগনার হাত ধরে ৪ বছরের ভাগনা ছিল একটা

ওর হাতটা ধরে আপুকে নিয়ে আমি রিক্সা চড়ে শহরে গেলাম

বাসা থেকে শহরের ভাড়া মাত্র কুড়ি টাকা

শহরে গিয়ে

আমার জন্য হাপো শার্ট প্যান্ট

দের গেঞ্জি

আরো এটা সেটা কিনতে লাগলো

বল এটা নিবি নাকি ওটা নিবি নাকি

আমি আপুর কথায়

বেশ

কিছু বলছিলাম না

কারণ বড় আপু তো তাকে আমি এমনিই খুব সম্মান করি

কোনটা না বলবো কোনটা হাঁ বলবো

তার মুখের উপরে তো আমি কথা বলার সাহস নেই আমার

আপু যা বলছে

আমি শুধু হাউ করে সেটা নিয়ে যাচ্ছি

বেশ কয়েকটা

পোশাক আশাক আমার জন্য কিনলো

তারপর আপুর জন্য

বেশ কিছু কসমেটিকস আর কিছু কেনাকাটা

আগ্নার জন্য কিছু পোশাক আশাক কেনাকাটা

তারপরে

হঠাৎ করে আপু ব্রা কিনতে গেল

আমাকে বলছে রাহুল চয়েস করত কোন কোন কালার ভালো লাগে

আমার তখন

ভীষণ লজ্জাবোধ করতে লাগল

সে আমার বড় আপু

আমি কেমন করে এটা চয়েস করে দিব

আমি ওদিকে না তাকায়ে

বলছি আপু

তোমার যেটা ভালো লাগে সেটা নাও তো

ওটা আর আমি কি বলবো

আপু যেন

একজন ডজন ধরে আমার সামনে ছুরি মেরে বলে

আরে গাধা দেখতো একটু

কোন কোন কালার ভালো লাগে তুই যেটা চয়েস করবি

আমি সেটাই নেব

আমি বাধ্য হয়ে

বললাম যে খয়রি কালার কালো কালার

আর এই কালারটা নাও বেশ কয়েকটা কালার

আমি তাড়াহুড়ো করে লজ্জা চোখে তাকে বলে দিলাম

তারপরে বলল ৬ পিস এটা দিয়ে দেন

আপুর জন্য আপু ওটা নিল

তারপর আমাকে বলল কিরে লজ্জা পাচ্ছিস নাকি

আরে এই সমস্ত লজ্জা পেয়ে কি

আজকাল যা মানে একটু ফ্রি না হলে হয়

দোকানদারের কাছে এসে আমি চেয়ে নিতে পারি

আর তুই এটা শুনলে তোর লজ্জা কিসের

এটা কোন ব্যাপার না

কারণ আমি বাড়ি থেকেও তো তোকে রিসিভ ধরাই দিলে

তোকে তো একটা কিনে নিয়ে যেতে হতো

যাই হোক আপুর কথা আমি বুঝতে পারলাম

আসলে ডিজিটাল দুখের ছেলেমেয়েরা তো

আসলে আমার মত অতটা আদরের আধুনিকতায় আসেনি

ছোটবেলায় মাকে হারিয়ে

বেস

মায়ের সংসারে বড় মার সংসারে বাবার হাতে

বড় আদবের সাথে শাসনে বড় হয়েছি

তাই

লেখাপড়া ছাড়া আর আদার্স কিছু আমার মধ্যে আসে নাই

আমি কলেজেই পড়ি বটে

কিন্তু এমনি আউট নলেজ আমার একটু কম

তাছাড়া আপু যেভাবে আমাকে ইঙ্গিত করে কথাগুলো বলছিল

আসলেই আমার মাথার মধ্যে এটা পরে কাজ করলো

কিন্তু আমি তার কথার অবাধ্য হতে পারছি না একপর্যায়ে

যাক শহরের কেনাকাটা সবকিছু সেরে যখন বাড়িতে ফেললাম

তখন আপু বলল

রাহুল

ভাগনাকে নিয়ে

একটু বাইরে ঘুরে ফিরে আস

আমি রান্না বসিয়ে দেবো দুপুরে খানা খাবি

তারপরে আপু দুপুরে রান্না বসিয়ে দিলো

আমি দোকানপাট এ ভাগনাকে নিয়ে একটু ঘুরে ফিরে আসলাম

এ ফাকে আপু রান্নার কাজটা সেরে নিলো

তারপরে বাসায় ফিরলাম

দুপুরে খানা খেলাম খেয়ে

তারপরে আপু বললো রাহুল

আমার আসলে প্রতিদিনের অভ্যাস

দুপুরে খানা দানার পরে একটু ঘুমানো

ঠিক বিকেলে তিনটা চারটা বাজে আবার উঠে পড়বো

প্রতিদিনের রুটিনে

কিন্তু তোর কি অভ্যাস আছে

দুপুরে খাওয়ার পরে একটু ঘুমানো

আমি বললাম আপু আসলে

আমি বাড়িতেই একলা ছেলে মানুষ তো

ওই বাবা মায়ের কখন কি দরকার হয়

বড় মা একটা আদেশ করে বাবা একটা আদেশ করে

ওই ঠিকমতো ঘুমানো হয় না

তাই

এই ঠিকমতো এরকম অভ্যাস হয়ে ওঠেনি

তোমাদের বাড়িতে তো আর আমার কোন কাজ নেই

তাই খাওয়ার পরে একটু বিশ্রাম নিব

এ বলে খাওয়া দাওয়া ছেড়ে

আপু আপুর রুমে ঘুমিয়ে পড়লো

আর আমাকে বলছে রাহুল

ওর রুমে যাস কেন

আয় না তুই আমার ছোট ভাই না

এই রুমে ঘুমায়

আয় কথায় কথায় একটু ঘুমিয়ে পড়বো

বিকেল হলে তোর সাথে একটু বেড়াইতে যাব

আপুর যেন মনের মধ্যে

দারুন ভালো লাগা

আর অনেক খুশি সে আমাকে পাওয়ার পরে

তার মনের মধ্যে অনেক রোমান্টিকতা আমি দেখতে পাচ্ছি

তারপরে

আমি তার পাশে শুয়ে কথা শেখাতা নারায়ণ কথায়

দুনিয়ার প্যাচাল পারতে পারতে

১ পর্যায়ে আপু বলল

কিরে শুধু কথাই বলে যাবি ঘুমাবি না

আমি চুপ হয়ে গেলাম ওদিকে ফিরে

বললাম ঠিক আছে আপু ঘুমিয়ে পড়ো

তারপরে আসলে অভ্যাস নাই তো

চেষ্টা করতে করতে

কোন রকম চোখে ঘুমের ভাব আসলো

একপর্যায়ে

আপন চোখেও দেখি হাসাহাসি ঘুমের ভাব

ঘুমের মিতালে

অনেক সময় বাদে

আপুর একটা হাত

আমার গায়ের উপরে পড়ল

আমি বুঝতে পারলাম হাতটা আস্তে করে সরিয়ে দিলাম

আপনজন তার ঘুমের ভানে আবারও হাতটা আমার গায়ের উপরে রাখল

এবং তার অজান্তেই কি জানার জানে

জেনে শুনে এটা করলাম জানিনা

হঠাৎ করে

সে আমাকে হাতটা দিয়ে ঝটকা টান দিয়ে তার কাছে টেনে লিছে

আমি তখন

বললাম আপু

তুমি ঘুম আসো নাই

আপু তখন বলল

ওহ রাহুল

আসলে

তোর দুলাভাইয়ের পাশে থেকে এরকম অভ্যাস তো

তাই হয়তো ভুল হয়েছে আচ্ছা

ঠিক আছে তুই তোর মত শোয়ার

আরে এমন করিস কেন হাতটা পড়লে একটু কি হয়

তখন আমি বললাম ঠিক আছে আপু

তারপর যেন

আবার ঘুমিয়ে পড়লাম

আবারও আধা ঘন্টা পরে

সে একটা পা একটা হাত

আমার দিকে ছুড়ে দিল

যাহোক আমি তখন আর নিষেধ করলাম না

তারপরে একপর্যায়ে এভাবে থাকতে থাকতে

আমার কেমন যেন ঘুম আসছিল না আপুকে বললাম আপু

আমার আর ভাল লাগছে না

আমি বাইরে যাব আমার ঘুমানোর অভ্যাস নেই

হটাৎ করে উঠে পড়লাম

আপু বলছে কিরে

এভাবে এখানে তোর ঘুম আসছে না

তো ও রুমে গিয়ে ঘুমায়

আমি বললাম না আপু

তুমি ঘুমাও

আমি একটু বাইরে ঘোরাফেরা করি

আসলে শোয়ার অভ্যাস নাই তো

যাহোক আপু বলছে আরে গাধা শোক

শুয়ে একটু ঘুমানোর অভ্যাস কর

ভালো লাগবে বিকেল হলে বেড়াতে যাবো

এখন দুপুর বেলা কত রোদ্র বাইরে এখন কোথায় যাবি

আমি নড়ে স্যারের জন্য বিরক্ত বোধ করছিলাম

আবারো শুয়ে পড়লাম

১ কথায় ২ কথায়

সে যেভাবে আমাকে

মানে এভাবে ডাকাডাকি করতে লাগলো

একথা সে কথা

আমি বুঝতে পারলাম

তার কথার তো অবাধ্য হতে পারি না আমি

তারপরে

যখন বিকেল চারটা বাজলো

তখন আপু আর আমি

ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে

আপুর আদেশে

বাইরে বাইরে একটু বেড়ানোর জন্য

প্রস্তুত নিচ্ছিলাম

আপনাকে কতদিন বেড়ায় না

কেউ তাকে একটু ঘুরতে নিয়ে যায় না

তার দেবর রাজ্যে তার কথা শোনে না

আর এদিকে দুলাভাই তো প্রবাসে আছে

কে তাকে বাইরে নিয়ে যাবে

কতদিন বাদে

আপু আমাকে সৎ ভাই থেকে আপন ভাইয়ের মত করে চোখে দেখছে

যাক আপু যেহেতু আমার সাথে বেড়াতে যাবে

তাই আমি রেডি হয়ে খুশি মনে প্রস্তুত নিচ্ছিলাম

তারপরে আপু বেশ সাজুগুজু করে

আমার ভাগনাটার হাত আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললো রাহুল চল

আজকে ওই নদীর পাড়টায় যাবো

দেখবি বিকেলবেলা নদীর পাড়ে

ওই ঝিরিঝিরি বাতাসে

আর লোকজনের কোলাহলে বেশ ভালো সময় কাটবে

আমি বললাম আপু

এদিকে অতটা আমি চিনি না

চলো

আপুর সাথে

আমি ওদিকে গেলাম

নদীর পাশটায় বেশ ঘুরে ফিরে এদিক সেদিক

হিমেল হাওয়া আসছিলো ঠান্ডা

বেশ ভালো লাগছিলো

আর আপুর ফুরফুর ও মেজাজ

বেশ রোমান্টিকতা দারুন কথা সাফতে লাগলো

মনে হচ্ছিলো

কতদিন

যেন সে এভাবে কারো সাথে তার নিজের কথা শেয়ার করে না

আমি যে তার ছোট ভাই

সে নিজের অজান্তে মনে হয় ভুলেই গেছে

তার আবেগের মন

যেন একদম খুলে গেল

সেই নানান রকম কথাবার্তা তার আবেগে মন ভরা কথাবার্তা যেন

কবির ভাষার মত করে আমার সামনে বলতে লাগল একের পর ১

আমি শুনে মুচকি হাসি দিতে লাগলাম

সে আমার বড় আপু

যদি আবার আমার বেয়াদবি হয়

সে যদি আবার আমাকে কিছু বলে

যাই হোক

তাকে আমি খুব সম্মান করতাম

আর আপুর কথার অবাধ্য হবো এমন কোন কাজ আমি করব না

আপু যা বলে আমি তাতেই হুমহা বলে যাই

একপর্যায়ে আপু বলল রাহুল

চল অনেক সময় বেড়ানো হয়ে গেছে

এখন ওই চায়ের রাস্তার মোড়ে যেয়ে ফুচকা খাবো

আপুর সাথে

বেশ ৪ রাস্তার মোড়ে আসলাম

ওখানে চটিয়ে মজা করে ফুচকা খেলাম

তারপরে

সন্ধ্যা ঘুমিয়ে আসলো

বাসায় ফিরলাম

আপু রাত্রের খাবার আয়োজন করেই রেখেছিল

কারণ তার প্ল্যান ছিল সে আমার সাথে বিকেলে ঘুরতে যাবে

রাত্রে রান্না করাটা তার কাছে একটু ঝামেলা মনে হচ্ছিল

একটু দুপুরের রান্নাটা ধরেই রান্না করে রাখছিল

যাই হোক

রাত্রের খাওয়া দাওয়া আসে রে

আপু বলল

রাহুল

আমার শরীরটা ভীষণ খারাপ করছে

তাছাড়া মনটাও খুব একটা ভালো না রে

আমি আজকে একটু সকাল সকাল ঘুমিয়ে পড়বো

আর তোর যদি ঘুম না আসে

তুই বসে বসে

আখনার সাথে একটু খেলাধুলা করার টেলিভিশন দে

দেখবি সময় চলে যাবে

সময় হলে তুই তোর রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়বি

আমি বললাম

ঠিক আছে আপু

তারপরে

আপু আপুর মতো করে ঘুমিয়ে পড়লো

ঘুমানোর চেষ্টা করলো কিন্তু ঘুম আসছে না

কিছু সময় বাদে বাদে আমাকে বললো রাহুল

আমার মাথা ভীষণ যন্ত্রণা করছে

এই পাশটা খুব ব্যথা করছে

দেখতো

তোর হাতটা দিয়ে একটু মাথায় মালিশ করে দিতে পারিস কিনা

আমি বললাম হ্যাঁ আপু

আমি জানি তো

আমার যখন মাথা বেশ করতো

ওইযে রেখা আপু বাড়িতে

সরিষার তেল আর রসুনের কোষ গরম করে

মাথা একটু ডলে দিলে

মাথা ব্যাথা দূর হয়ে যায়

মুহূর্তে

আমি কি দেবো

আপু বললো হ্যাঁ রে তাহলে বসে আছিস কেন

কেউ তো আমার সেবা যত্ন করে না

তুই একটু ওটা করে নিয়ে আয় না

আমি আপুর রান্নাঘরে ঢুকে

একটু সরিষার তেল আর রসুনের কোষ এড়িয়ে

হালকা মেদু গরম করে

আপুর মাথার ১ কনে

সুন্দর করে মেসেজ করে দিতে লাগলাম

আপু বড্ড আরাম পাচ্ছিল

কিছু সময়

বাদে আব্বু আমার দিকে ফ্যালফ্যাল করে ১ নজরে

তাকিয়ে আছে

বলছে রাহুল

দেখ ভাই আসলে

আমার মা অসুস্থ তাই

বাবা তোর মাকে নিশা করে আমাদের সংসার নিয়ে আসলো যেদিন

সেদিন থেকে আমি বাবাকে একদম

বাবা বলে ডাকি না

বাবার উপর আমার একটু

কেমন যেন

মানে আচরণ

খুব খারাপ হয়েছিল

এতদিন যাবত আমি বাবাকে বাবা বলে আর ডাকি না

খুব অপরাধী আমার কাছে মনে হচ্ছিল

আর তুই যে তার ছেলে

তোকে আমি ভাই বলে কখনো এলাও করি না

কিন্তু আসলে

দুনিয়াটা দুদিনের যে রাহুল

কে কার পাশে এসে দাঁড়ায়

তোর হাতের ছোঁয়া এত মধুর

ভীষণ হারাম লাগছে আমার

আর কিছু সময় মাসাজ করে দেনা

তাই বলে হাতটা নিয়ে

তার বিভিন্ন জায়গায় সে স্পর্শ করে মাসাজ করাতে লাগলো

আমি একটু লজ্জায় মুখটা ওদিকে ফিরিয়ে নিলাম

কিছু সময় বাদে

আপু বলছে কিরে রাহুল

ওদিকে চাইছিস কেন

তুই আমার দিকে ফের

কি লজ্জা লাগছে

আরে ভাই

ভাই তো বোনের সেবা করবে

তো এমন করছিস কেন

আচ্ছা বলতো তুই কলেজে পড়াশোনা করিস

তোর জ্ঞান হবে কবে

তুই শুধু হাতে পায়ে বড় হয়েছিস

আদারস কোন বুদ্ধি তোর হলো না

আজ দুইটা দিন হয়ে গেল তুই আমাদের বাড়িতে আসছিস

তোর দুলাভাইস একটা বছর হলো প্রবাসে গেছে

আমি তোর বোন কত কষ্টে আছি

তুই কি কিছুই বুঝিস না

তোকে কত কথার মাধ্যমে

কত কিছু বোঝানোর ট্রাই করেছি

কিন্তু তুই কিছুই বুঝিস না

তুই ভাই বলে কথা

তোকে তো আমি সৎ ভাইয়ের মতো দেখছি না রে ভাই

তবে বুঝিস না কেন

তোকে কি সবকিছু ভেঙেচুরে বোঝাতে হবে

আমি তখন আবর্জনায় বেশ সব বুজতে পারলাম

আসলে তো আমি কলেজে পড়াশোনা করা ছেলে

সব বুঝতে পারি

কিন্তু সে আমার বড় আপু

তার কথা কেমন করে আমি সঠিক অনুমান করব

যা হোক ক্লিয়ার হয়ে গেলাম

তারপরে তার কথার তো আর আমি অবাধ্য হতে পারি না

কারণ

সেই ছোটবেলায় মা আমাকে রেখে মারা গেছে

তারপর থেকে বড় মার কাছে আমি বড় হয়েছি কোনদিনও

বড় আপু আমাকে ভাইসাবে মানিয়ে নেয়নি

সে আজ পর্যন্ত

আমার মাকে নিকা করার কারণে বাবাকে বাবা বলে ডাকে না

সে আপু যেহেতু আমাকে

তার কাছে একটু ঠাঁই দিছে

কি করে তার কথার অবাধ্য হবো

এই ভেবে

যা হোক আপু আমাকে ভালো বলুক আর মন্দ বলুক

তার কথার অবাধ্য আর হবো না সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম

বললাম আপু

তুমি চিন্তা করো না

তুমি আমাকে যা আদেশ করবে

আমি অক্ষর অক্ষরে তা পালন করব

আমি সব বুঝতে পারি

কিন্তু তুমি আমার বড় আপু বলে কথা

এই জন্য বুঝলেও হয়তো তোমাকে আমি বুঝেই

তোমার কথায় সাড়া দিচ্ছিলাম না

বলো আমাকে কি করতে হবে

আমার কোন সেবাটা করতে হবে

আপু তখন

মৃদু হাসিমুখে আমার দিকে তাকিয়ে বলছে

হ্যাঁ রে ভাই

এতক্ষণ পরে তাহলে তুই বুঝলি

তোর দুলাভাই তো

একটা বছর বিদেশ গেছে ভালো করে আমার খবরই নেয় না

তোর আপু কি দেখতে শুনতে কম

তাছাড়া তোকে তো কাল রাত্রে

আমি সাজুগুজু করে দেখালাম দেখ না

আমি কি রূপবতী কম রে

আমি বললাম না আপু একদম না

তুমি শ্যামলার উপরে

বেশ উঁচু লম্বা দারুন সুন্দরী

কে তোমাকে অসুন্দরী বলছে

আমার কাছে তো ভীষণ ভালো লাগে

তাছাড়া

এত সুন্দরী

এত রূপচর্চা এটা স্বামীকে দেখাতে হয় আপু

তুমি আমাকে দেখালে

আপু তখন হেসে দিয়ে বললো

কবে তোর দুলাভাই আসবে

সেই প্রতীক্ষা গুনতে গুনতে

ধৈর্যের বাধ হারা হয়ে গেছি আমি

আর ভালো লাগেনা জানিস

ইচ্ছে করছিল

কালকে ভোররাত্রে তোর বিছানার পাশে তোর শিহরণে যখন বসলাম

গিয়ে

তোকে দুইটা কথা বলব

একটা নিয়ত করে তোর পাশে গিয়ে বসছিলাম

কিন্তু তুই যখন আমার ভাষা বুঝলি না

কি আর করার

মনটা ভার করে উঠে চলে আসলাম

আজকে যখন বুঝতে পারছিস

তাছাড়া আমার মাথার যন্ত্রণাটাও গেছে

কারণ বাইরে একটু ঘোরাফেরা করছে তো

খোলা বাতাসের খোলা বাইরের আবহাওয়া

সব মিলে

আমার মাথাটা একটু যন্ত্রণা করছিল

এখন ভীষণ আরাম পাচ্ছি

তোর সেবা যত্নে একদম পরিপূর্ণ সুস্থ হয়ে গেছি আমি

রাহুল

তোর ভাগনাটা এখন ঘুমিয়ে পড়ছে

চল না ভাই

একটু একটু ওর রুমে যাই বসি

আমি বললাম আপু

ওর রুমে তো টেলিভিশন নাই

তোমার রুমে তো টেলিভিশন

ওর রুমে গিয়ে কি করবো

বলছে না না

তোর সাথে জোরে কন্ঠে কথা বললে

ওর ভাগ্নার ঘুম ভেঙে গেলে সে আবার ঘুমাবে না

এ আমার সে আবার জমিদার

ভাগনার ওসিলা করে আপু

আমার রুমে ওই পাশের রুমে গিয়ে বসলো

আমার আগেই বলছে রুমে আয়

হ্যান্ড স্যারে যখন আপু বসলো

আমিও ওর রুমে গিয়ে আপুর পাশে বসলাম

বললাম আপু

এ রুমে আসলে কেন

বলছে কেন

এ রুমে তো নিডি বিলি

ওই রুমে তো ওর ভাগনা শুয়ে আছে না

ও কাঁচা

ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে আছে

তোর আর আমার কথার জোরে আওয়াজে

ওর ঘুম ভেঙে গেলেও সহজে ঘুমাবে না রে

নিজেও ঘুমাবে না

আমাকেও ঘুমাতে দেবে না

তাই এরমই আসলাম

তোর সাথে পাঁচটা কথা বলি

আমি বললাম ঠিক আছে

বলছি দেখ তো

তুই শহর থেকে

মার্কেট এ গেলে তোর জন্য যা কিছু নিয়ে আসলাম

এগুলা কালকে পড়বি

আর আমি তোর পছন্দ অনুসারে

যেগুলো কিনে নিয়ে আসলাম তুই তো আমাকে ০১:১২ পড়তে বললি

না

আমি তখন লজ্জায় মুখটা মাথাটা নিচু করে

বললাম আপু

তুমি যেগুলো নিয়ে আসছো আমি কি করে ওটা পড়তে বলবো

ওটা তোমার দুলাভাই তোমাকে আদেশ করলে তুমি পড়বা

আপু বললো না রে

তুই বললেই হবে বলনা আমি কোন কালারটা ব্যবহার করবো

আমি

মাথাটা আবারও ওদিকে নিচু করে বললাম আপু

ওই গারক হয়নি কালার

ওইটা আমার কাছে বেশ

ফেভারিট লাগে

তাছাড়া তুমি শ্যামলা মানুষ

আপু যেন ঝট করে দাঁড়িয়ে পড়ল

ওগার থেকে ওটা নিয়ে এসে

সে যেন লজ্জাহীন অবস্থায় আমার সামনে ওটা পরিধান করল

আমি মুখটা ফিরাতে এসে আমার থুতনার দিকে উঁচু করে ধরে বলছে

এদিকে আমার দিকে চেয়ে থাক দেখতো কেমন লাগে

তারপরে আমি নির্লজ্জভাবে তার দিকে তাকিয়ে বললাম

খুব ভালো লাগছে

এই বলে মুখটা আবারও ফিরিয়ে নিলাম

আপু বলছে

আরে পাগল

এই ৪ ডালের মাঝে আমি আর তুই ছাড়া আর কি আছে

আর একটা পোশাক কিনে আসলাম

সেটা ভালো লাগা না লাগা এটা বলবি না তুই

পোশাকটা পরের রুচিতে পড়তে হয় দেখ না কেমন লাগে

আমি বললাম

হ্যাঁ

ভীষণ ভালো লাগছে

তো বলছে

পিছনের বোতামটা লাগিয়ে দে তো

তখন

আমি আসলে জীবনে তো কোনদিন এটা

বোতামটা লাগিয়ে দেই নি কারোর

যাহোক

কোন রকম ভাবে আপুর আদেশ

আমাকে তো পালন করতেই হবে ভতামটা লাগিয়ে দিলাম

তারপরে

সেই অবস্থায় আমার পাশে বসলো

তারপরে

বলছে ভীষণ গরম লাগছে

লাল বাতি তো

লাইটটা নিভিয়ে দি

এ বলে আপু লাইটটা নিভে

ফ্যানটা জোরে ছেড়ে

বলছে দেখি তোর ভাগনা ঘুম আসছে কিনা

ও আবার একবার যদি ঘুম ভাঙ্গে

সহজে আবার ঘুমাবে না কান্নাকাটি করবে

এই বলে ওই রুম থেকে ভাগ্নাকে একটু দেখে

আপু আবার ওই পাশের রুমে চলে আসলো

তারপরে

সে আমাকে যা আদেশ করলো

আমি অক্ষর অক্ষরে তা পালন করতে বাধ্য হলাম

সেদিন যা হয়েছিল

বন্ধুরা কি বলবো

আসলে

সে আমার বড় আপু

তার কথা তো আর আমি অমান্য করতে পারিনা

দুলাভাই প্রবাসে আছে

তার মনের শখ শান্তি

মনের চাওয়া পাওয়া

তার মনের মধ্যে অনেক কষ্ট জমে ছিল

সেজন্য আমাকে হাতে নাগালে পেয়ে আকাশের চাঁদ হাতে পেয়েছে

আমাকে যেন পুতুলের মত

যেখানে যেভাবে রাখছে আমি যেন তাই থাকছি

কারণ আমি তাকে যথেষ্ট সম্মান করি

তাছাড়া আগে পড়ে থেকে সে আমাকে ভালোবাসতো না

এখন সে একটু ঠাঁই করছে ঠাঁই দিছে আমাকে তার কাছে

কি করে তার কথার বা অবাধ্য হবো

তাই সে যাই বলছে আমি তার কথায়

অক্ষর অক্ষরে পালন করছি

সেদিন

আমার ভীষণ ভালো লাগছিল

আর আপুর এতটাই ভাল লাগলো

আপু পরে উঠে আমাকে বলছে রাহুল

বাবাকে ফোন করে বলে দিবি কালকে

আপনি কলেজেও দু একটা দিন পরে যাবি

একটা সপ্তাহ তোকে এখানে থেকে যেতেই হবে

আমি বললাম কেন আপু

তুমি তো ৩ দিনের কথা বলছো আমি ভাবছি

কালকের দিনটা থেকেই বাড়িতে চলে যাব

আপু বলছে আরে না না

তুই যদি প্রথম দিনেই আমার কথা শুনতি

তাহলে হয়তো তোকে আগামীকালকে চলে যাওয়ার অনুমতি দিতাম

সবেমাত্র আজকে শুরু করলি

আমার সময়টা জানিস

খুব ভালো যাচ্ছে

তুই যে আমার মনের কষ্টটা বুঝতে পেরেছিস

এই জন্য তোকে অসংখ্য ধন্যবাদ

পুরো এই স্বপ্নটা তুই ঠিকে যাবি ভাই

আমি বললাম ঠিক আছে আপু

তুমি একটু মাকে বলে দিও

আপু বাড়িতে ফোন করে বাবার সাথে কথা বলে বললো

রাহুল এই সপ্তাহটা থেকে যাব

ওর এখানে কাজ আছে

আব্বু বলল

ঠিক আছে

যেহেতু তুমি একলা মানুষ জামাই বাবা বাড়িতে থাকে না

ও থাকতে থাকতে তোমার সমস্ত কাজ তুমি সেরে নাও

আব্বু বলল ঠিক আছে

তারপরে

আপু দুপুর হলে

হই প্রতিদিনের ন্যায় সে যা লোভ পেয়ে গেল

সে পুরো সাতটা দিন যেন

খুব চটিয়ে মজা করে আনন্দ উল্লাস করে

আপুর প্রত্যেকটা কথা শুনে এবং আপুর ভালোলাগা

সব মিলে যেন সুন্দরভাবে দিনগুলো কেটে গেল

এরপরে আমি বাড়িতে চলে আসব

আগামীকাল বাড়িতে চলে আসব ঠিক আগের রাত্রে আপু বলছে

আজকে সারারাত তুই আমার পাশেই থাকবি

নানান রকম কথা বলবি

গল্প শোনাবি আর তাছাড়া তোর কথাবার্তা তোর আধুনিকতা

তোর রোমান্টিকতার সবকিছু যেন

আমার মন ছুঁয়ে যায় ভীষণ ভালো লাগেরে ভাই

তুই আমার সৎ ভাই হলো তোকে ওইভাবে আমি মনে করি না

তাছাড়া তুই যে আমার কথা অক্ষর অক্ষরে পালন করছিস

আমাকে যে এতটা সম্মান করিস

এজন্য তোকে আমার ভীষণ ভালো লাগে

তাছাড়া রাহুল

তুই তো এখন হাতে পায়ে বড় হয়ে গেছিস

বেশ দেখতে হ্যান্ডসাম একটা সুদর্শন ছেলে হয়েছিস

তোর জন্য

ভালো একটা ভবিষ্যতে

পাত্রী দেখে তোকে বিয়ের সম্বন্ধ করবো রে

আমি আমি তোর ব্যবস্থা করে দেবো চিন্তা করিস না

আমি বললাম আপু

তোমার মতই যেন উঁচু লম্বা হয়

তাছাড়া তোমার মতই যেন গোল ভরা হাত ভরা হয়

আপু হেসে দিয়ে বললো তাই

আমাকে তোর এতটাই ভালো লেগেছে

আমি বললাম

হ্যাঁ আপু

সত্যি আসলে কখনো বুঝিনি তো

তোমার বাড়িতে আসার পরে তুমি আমাকে নতুন

আসলে এই ব্যাপারটা বুঝিয়ে দিলে

ইচ্ছে করতেছে

যে আমি যেন খুব দূরত্বই সংসার জীবনে যাই

কিন্তু

এখনো রেখা আপু আছে

ওর বিয়ে হবে

তারপরে তো আমি

যাহোক আপু বলল চিন্তা করিস না

আরে বিয়ে করার দেরি আছে তোর তুই পড়াশোনা শেষ কর

আর ততদিনে তুই এবার গেলে

বাবাকে বলে তোকে

আমাদের বাড়িতে নিয়ে এসে রেখে দে বলে

তুই এখান থেকে কলেজ করবি

কারণ তোর দুলাভাই যতদিন প্রবাসে থাকবে

বাড়িতে না আসে ততদিন তুই এখানে থাকবি

আমার সংসারের যাবতীয় কেনাকাটা এটা ওটা

খুটিনুটি একটা

পুরুষ ছেলে মানুষ আমার বাড়িতে নেই

একটা গার্জিয়ান তো দরকার

তাছাড়া আমি এই তোর ছোট ভাগ্নে টারে নিয়ে

একটা যুবতী বউ মানুষ এই বাড়িতে একলা থাকি

আমারও একটু গা টা ছমছম করে রাত হলে জানিস

ভালো লাগেনা

আমার কাছে থাকার মতো

কেউ নাই

আমি আপুর কথায়

যেন বুঝতে পারলাম

কারণ আপু যে আমার কাছ থেকে

যেটা আসলে আমার ভালো লাগা ব্যাপারটা

আপুজি না আমাকে ছাড়তেই যাচ্ছে না

তার খুব ভালো লেগেছে নাকি

তারপরে আমি বাড়িতে চলে আসলাম

তারপরে

হঠাৎ করে

০৪:০৪ দিন যেতে না যেতেই আপু বাবার কাছে ফোন করলো

আমাকে ও বাড়িতে যাওয়ার জন্য

আর আমি নাকি ওখানে থেকে পড়াশোনা করবো

বাবা বলছিল যে

মা কাজল

আসলে রাহুল এ সংসারের

যাবতীয় সংসারের দেখাশোনা খুঁটিনাটির কাজ করে

আমি তো এখন মুরুব্বী হয়ে গেছি

তো ও যদি তোর প্রয়োজনের সময় দু একটা দিন যেতো

তখন

আপু বলছিল নানা

ওর দুলাভাই যতদিন প্রবাস থেকে না আসে

ও অতদিন আমাদের এখানে থেকে

লেখাপড়া করবে

বাড়িতে তো একটা ছেলে মানুষ নেই

আমারও তো একটা গার্জেন দরকার

এই বলে যেন বাবাকে ম্যানেজ করে

আপু আমার পুরো গার্টিগুটি নিয়ে ওখানে যেতে বলল

আমি একটা সপ্তাহ থেকে

আবারো আপুর বাসায় চলে গেলাম

আমারও ভীষণ ভালো লেগেছিল

আপুর আচার ব্যবহার

আর

এত দুষ্টামি

এত রকম মানে হাসি ঠাট্টা

বেশ সময়টা ভালো কাটতো

তাছাড়া তোমরা তো বুঝতেই পারছ

দুলাভাই প্রবাসে আছে

আপুর মনের মধ্যে

অনেক কিছু আসলে সে মনের মধ্যে চাপা রেখে আছে

চাইলেই ১ জায়গায় ঘুরতে যেতে পারে না

চাইলেই একটা কিছু করতে পারে না

তাছাড়া সেও একটা যুবতী মেয়ে তার মনের মধ্যে

অনেক কষ্ট চাপা পড়ে আছে

আমাকে পাওয়ার পরে যেন

তার সমস্ত কষ্ট নিবারণ হল

আমি ও বাড়িতে যাওয়ার পরে

আপু বলল

শোন রাহুল

তোর দুলাভাই

এখন যদি ১০ বছরও প্রবাসে থাকে আমার আর চিন্তা নেই

তোর মত এরকম একটা হ্যান্ডসাম ছেলে

অর্থাৎ তুই এরকম আমার বাড়িতে থাকলে

আমি কিসের চিন্তা করবো রে

আমি হলাম কেন আপু হঠাৎ এত খুশি

বলছে কেন

গত ৭ দিন তুই আমার বাড়িতে থেকে গেলি কেন

আমার সমস্ত কিছু তোর ভালো লাগেনি

আমি হলাম হ্যাঁ আপু

তোমার কথাবার্তা বিকেল হলে ঘুরতে যাওয়া

আর এই যে হাত খরচা টাকা দেওয়া আমার আমার বিভিন্ন

জায়গায় ঘুরতে ফিরতে এই সমস্ত ভালো লাগে

বাবা আমাকে হিজাব করে কয়েকটা টাকা দিতো

অতি আমার হয় না

আর আমি চেতামও না

যাই হোক আপু বলল

তুই চিন্তা করিস না তোর দুলাভাই বিদেশ থেকে ফিরলে

তোকে একটা বাইক কিনে দেবো

কিন্তু অতদিন ভাই

আমার দিকে একটু সোনোস ও রাখিস

আমি বললাম ঠিক আছে

তুমি আমার বড় আপু

আমি কি কখনো তোমার কথার অবাধ্য হতে পারি

এভাবে দুলাভাই যতদিন বিদেশ থেকে না আসলো

ঠিক কতদিন

আপনজনে মন ভরে আমার সাথে

এইভাবে দিনকাল

কাটাচ্ছিল ঘুরতে যাওয়া

মার্কেটে যাওয়া আর রাত আসলে

কত মজা আনন্দ উল্লাস করে সময় কাটানো

আপুর জন্য কোন কিছু দুলাভাইয়ের যে অভাব

সেটা যেন সে আমার সাথে

একদম

মানে তার সবকিছু পূরণ হয়ে যেত

সেও খুশি

আর আমারও ভীষণ ভালো লাগতো

হয়তো সে আমার বড় আপু

আমি তার সৎ ভাই হলেও আমি তাকে মনে করিনি

কিন্তু তার আদেশটা অমান্য করতে পারিনা

আপোর দায়িত্ব নিয়ে সেই সংসারে থাকতে থাকতে

১ পর্যায়ে পাঁচটা বছর যখন পেরিয়ে গেল

দুলা ভাই প্রবাস থেকে বাড়িতে আসলো

সত্যিই

দুলা ভাই আমাকে যথেষ্ট ভালোবাসলো

আগে পরের থেকেই

কারণ আমি বাবার আদর্শে আগে পরের থেকে খুব সুন্দর

আদর্শ মানুষ হইছি

তারপরে দুলাভাই আমাকে শখ করে আপু

বলে কয়েকটা বাইক কিনে দিলো

আমার লেখাপড়া শেষে আমারও একটা সরকারি জব হয়ে গেল

আপু দুলাভাই

সবাই মিলে আমার জন্য একটা ভালো পাত্রী দেখে

আমার বিয়ের বন্ধ ব্যবস্থা করে দিলো

যেহেতু দুলাভাই চলে আসছে

আপুর তো আর এখন আমার প্রয়োজন নেই

আর আপুর তো এতদিন

প্রায় সুখের দিন কাটছে

তোমরা তো বুঝতেই পারছো বন্ধুরা

যাই হোক

একটা সংসারের পুরো দায়িত্ব নিয়ে আমি ছিলাম

তারপরে

আবু রা দুলাভাইয়ের যেন আর সংসার

কোন মানে অশান্তি বা আপার যে ভালো না লাগা

এরকম কোন মুহূর্ত আর গেল না

দুলাভাইও আর প্রবাসে গেল না

এভাবে চলতে চলতে

পরের বছরে

আপুর আর একটা কন্যা সন্তান হল

বেশ আপুর জীবনটা

সুখেই কাটছিল

আমাকেও বিয়ে দিয়ে দিল আমিও সংসার করতে লাগলাম

তারপরে আমিও চাকরি পেলাম চাকরির পোস্টিং হলো দূরে

নতুন বউকে কিছুদিন ওই সংসারে রাখার পরে

আমাকে বাধ্য হয়ে বউকে নিয়ে বাসা ভাড়া থাকতে হলো

বেশ সুখেই দিন কাটছিল

আর আপাতত সুখেই দিন কাটছিল আতর

এদিকে বাবা মা

ছোট বোনটাকে বিয়ে শাদী দিয়ে

তাদেরও সবকিছু হালকা হল

তা হোক বড় মা কে

আমার সে বড় মা হলো

আপন মা না হলেও তাকে মায়ের চোখেই আমি দেখতাম

কখনো কখনো তাকে বড় মা না বলে ইচ্ছা করে মা ডেকে

মা ডাকার অভাবটা আমি মনের কাছ থেকে অভাবটা মিটিয়ে নিতাম

কারণ ছোটবেলায় মাকে হারিয়েছি তো

মনের মধ্যে অনেক চাপা কষ্ট

মা হারার যন্ত্রণা

যাদের ছোটবেলায় মা হারিয়ে গেছে একমাত্র তারাই বোঝে

আর আমি হুকুমের গোলাম

আমি ছোট মানুষ আমি সবার ছোট

বাবা যখন আমার মাকে নিজে কইয়ে নিয়ে আসলো

ওই সংসারে

তখন বড় মায়ের গর্ভে ওই দুইটা মেয়ের সন্তানই ছিল

কাজল আপু

আর রেখা আপু রেখাপু ছোট কাজল আপু বড়

যাহোক তারপর থেকে আমি সম্পূর্ণ

বাবা মায়ের দায়িত্ব নিয়ে নিলাম

মাসে মাসে খরচার টাকা পাত্তাতাম

আরে এসে কিছুদিন থেকে যেতাম

সুন্দর ভাবে আমার দিনটা কাটতে লাগলো

আর বড় আপু

মাঝে মাঝে আমাকে বলতো কিরে রাহুল

দিনকাল তো ভালোই কাটছে

জীবনে তুই যে আমাকে একটা উপকার করছিস ভাই

কখনো ভোলার না আসলে

আগে তোকে আমি এতটা বুঝিনি রে আমার ভুল হয়েছিল

আমাকে ক্ষমা করে দিস

কখনো যদি আবারো সুযোগ হয় তোকে আমি ডেকে নেব

আমি বললাম ঠিক আছে আপু

তুমি আদেশ করলে

আমি তোমার কথা পালন করব

যা হোক বন্ধুরা

আমার জীবনে ঘটে যাওয়া এই ছোটবেলায় মাকে হারানো

আর বড় মায়ের কাছে ছোটবেলা থেকে মানুষ হয়ে

সুন্দর আদর আদব আদর্শে বাবার আদর্শ মানুষ হয়ে

আমি সবার ছোট ছিলাম ওই সংসারে যে যা আদেশ করতো

সবার আদেশ আমাকে শুনতে হতো

বড়দের কখনো অসম্মান করিনি

তো আমার জীবনে ঘটে যাওয়া

এই গল্পটা তোমাদের সাথে শেয়ার করতে পেরে

আমার খুব ভালো লাগছে

বন্ধুরা তোমার কেমন লেগেছে তোমাদের কেমন লেগেছে

যদি ভালো লেগে থাকে

তাহলে

এই নতুন চ্যানেলটিকে অবশ্যই সাবস্ক্রাইব করে দেবে

ভিডিওতে একটা লাইক দেবে

আর তোমার কাছের বন্ধু

বান্ধবকে এই ভিডিওটা শেয়ার করে দেখার সুযোগ করে দেবে

আগামীকাল

এর চেয়ে আরো সুন্দর ভিডিও

তোমাদের সামনে নিয়ে আসার চেষ্টা করছি

ততক্ষণে সবাই অপেক্ষায় থাকবে

ভালো থাকবে

নিজের খেয়াল রাখবে পরিবারের খেয়াল রাখবে

আজ এই পর্যন্তই আল্লাহ হাফেজ


Rate this content
Log in

Similar bengali story from Abstract