Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published
Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published

Aziza Nasrin

Romance


2.5  

Aziza Nasrin

Romance


রিয়্যাকশন

রিয়্যাকশন

8 mins 891 8 mins 891

সবারই নিজের নিজের হবি থাকে ,আমারও আছে | সবার টা সবার মত ,আমারটা আমার মত | আমি ভালোবাসি মানুষের বিভিন্ন পরিস্থিতিতে মানুষের নিজস্ব প্রতিক্রিয়া গুলোকে পর্যবেক্ষণ করে নিজের ডায়েরির পাতায় লিপিবদ্ধ করতে | আরেকটু ভালো করে বোঝাই| 

যেমন ,স্যাম্পল নাম্বার ১,

 আমাদের বাগানে কাজ করে ,মফিজ | কিছুটা লোক লোক দেখতে আবার কিছুটা ছেলে ছেলে | এককথায় "লোক" এবং "ছেলে" কে গ্লাইন্ডার এ দিলে যা পাওয়া যাবে মফিজ তাই | আমি অবশ্য মফিজ ভাইয়া বলি | তাকে কাকু কিংবা ভাইয়া বলা যায় ,তবে মানুষ নিজেকে ছোট ভাবতেই পছন্দ করে তাই তাকে বয়স কমিয়ে ভাইয়া ডাকি |এতে মনে হয় সে ভালোই খুশি | তাকে গত পরশু বিকালে বাগানে জল দিতে দেখে ,কাছে গেলাম | যথা সম্ভব গলাটা দু:খী করে ,শান্ত করে বললাম " মফিজ ভাইয়া ,আজ ঠাম্মা বাথরুমে পা পিছলে পড়ে গেছে ,খুব খারাপ কন্ডিশন , এখন থেকে এক সপ্তাহ হয়ত তোমাকে আর ঠাম্মা কে ইভিনিং ওয়াক এ নিয়ে যেতে হবে না | " বলেই আমি আমার পঞ্চ ইন্দ্রিয় সজাগ করলাম , মফিজ ভাইয়া কেমন রিয়্যাকশন দেয় দেখার জন্য | প্রথমে সে শুনেই সত্যিই ভীষণ দু:খিত হল ,প্রায় সাথে সাথে ঠাকুমা কে দেখতে যায় আর কি ,আমি তাকে থামালাম | কয়েক সেকেন্ড পরেই সে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে একটু হলেও সুখী হল মনে হয় | বলল " খুব খারাপ লাগছে এখন, রোজ ঠাকমা কে নিয়ে ঘুরতে যাই বেশ ভালোই লাগে ,ইসস এখন কবে যে ঠাকমা সুস্থ হবে কে জানে ! এখন তো আর বেশ কিছুদিন যেতেও পারবেন না " বলেই একটু মুখ চুক চুক করল | আমি ভালোভাবে তার মনের "স্বস্তি ভাব" লক্ষ্য করলাম | আমি জানি ভাইয়া তার গার্ল্ফ্রেন্ড মুনিয়া এর সাথে ঘুরতে পায় না বিকালে ঠাম্মার জন্য | আবার বেচারা ঠাম্মা কে "না"ও করতে পারে না |সুতরাং ঠাম্মা পড়ে যাওয়ায় সে প্রথমে দু:খিত হলেও পরে নিজের সুবিধার দিক টা খুঁজে একটু সুখ বোধ করেছে | সুতরাং আমার কনক্লুশন হল ,মানুষ প্রথমে দু:খ এর খবর পেলে প্রথমে নিয়ম অনুযায়ী এবং তার তীব্রতা অনুযায়ী দু:খের রিয়্যাকশন দেয় , ঠিক তার পরেই কিছু সময় অর্থাৎ কিছু সেকেন্ড পর তার মস্তিষ্ক এই ঘটনায় নিজের সুবিধা অসুবিধার ব্যাপার জড়িয়ে আছে কিনা তার অনুসন্ধান চালায় | ব্যস হয়ে গেল | এটা এবার আমার ডায়েরিতে লিখে ফেলব চট পট | তারপরেও অবশ্য আমাকে খুব তৈরি থাকতে হবে যখন ভাইয়া শুনবে ঠাম্মার কিছুই হয়নি তখন তার কেমন রিয়্যাকশন হয় দেখার জন্য | তাই আমি এখন মফিজ ভাইয়ার আশে পাশেই ঘোরা ঘুরি করব যতক্ষন না ঠাম্মার ডাক পড়ে | 

_____________________________________

এরকম করে আমার ডায়েরিতে এখন স্যাম্পল নাম্বার ৩৬ চলছে | সব সময় যে আমি বানিয়ে কথা বলি তা নয় ,বেশিরভাগই সত্যিকার সিচুয়েশনের রিয়্যাকশন আমি কালেক্ট করি |তবে মাঝে মাঝে কাউকে কাউকে বাজিয়ে দেখতে হয় ,আসলে দরকার পড়ে | 

সেদিন মনা মাসি ফোন করেছিল আমাদের বাড়ি আসবে বলে ,অথচ সেদিন মায়ের খুব শরীর খারাপ,মা বলল "পরশু আয় মনা ,আজ শরীর টা খুব খারাপ" | মনা মাসি পরশু তো আসেই নি উল্টে নিলু মাসিকে বলেছে মা নাকি পরোক্ষ ভাবে মনা মাসিকে নিষেধ করেছে আমাদের বাড়িতে আসতে ,ওসব অসুখ বিসুখ বানানো কথা! এর থেকে আমি কনক্লুড করলাম ,মানুষ নিজে যখন যা চায় ,তা যদি তখন কেউ করতে বারণ করে তাহলে মানুষ দ্বিতীয় ব্যক্তির বারণ করার কারণ অনুসন্ধান করে, এবং তাতে দ্বিতীয় ব্যক্তির ফায়দার রঙ ছাড়া সে কিছুই দেখতে পায় না ,তা সে সত্যি হোক বা মিথ্যা| 

এরকম চলতেই আছে | এক এক সময় মানুষের এইসব রিয়্যাকশন এর গল্প গুলো আমি পড়ি ,অনেক জ্ঞান অর্জন হয় | আমি ভেবেছি ১০০ টা রিয়্যাকশনের পর আমার "ওয়ান হান্ড্রেড" নামে একটা কপি বের করব |মানুষ পড়বে ,আমার মনে হয় মজাও পাবে আর নিজেকেও খুঁজে পাবে এগুলোর মধ্যে | তা সে পরে দেখা যাবে |

__________________________________

আমি এত মানুষের রিয়্যাকশন observe করে বেড়াই অথচ যাকে মনে মনে এতদিন পুষে রেখেছি তার রিয়্যাকশন এখনও জানতে পারিনি | ডিপার্টমেন্টের থার্ড ইয়ারের বাবান দা | কি যে দারুণ একটা ছেলে | খুব যে হ্যান্ডু ছেলে তা নয় |

বাবানদা খুব ভালো আবৃত্তি করে,নিজে কবিতা লেখে | তবে চেহারায় কবি কবি ভাব নাই | এক্কেবারে কাঠিন্যতায় মোড়া | আমাকে দেখলে তো মনে হয় পাথর হয়ে যায় | এক্কে বারেই যা তা ,তাও আমি তার প্রেমে পড়েছি ,বারংবার পড়ি , যতবার তাকে দেখি ,ততবার পড়ি |প্রথমে মনে হয়েছিল আমি তার কবিতার প্রেমে পড়েছি ,কিন্তু পরে দেখলাম তা নয় | কোনদিনই আমার কবিতা টবিতার প্রতি ইন্টারেস্ট ছিল না , এখনো নাই | তবে সে যদি কোনদিন হাতে হাত রেখে কখনও শোনায় আমার কানে, তাহলে সেটা অন্য ব্যাপার |

 | তাকে দেখলেই আমার কিরকম যে রিয়্যাকশন হয় ভিতরে আমি বলে বোঝাতে পারব না | আগেই বলেছি প্রেম পেয়ে যায় | মনে হয় আমি সব কিছু ভুলে যাচ্ছি ,কেমন একটা ভয় ভয় লাগে |একদিন ওর সাথে ধাক্কা খেয়েছিলাম | কি যে দারুণ অনুভূতি বলে বোঝানো যাবে না | তারপর সরি টরি বল্লাম ,এমন ভাবে আমার দিকে তাকাল,ভীষণ ভয় খেয়ে গেলাম | মুখটা এমন ছিল যে তার মুখের রিয়্যাকশন আমি ধরতেই পারলাম না | তার মানে আমি লিখতে পারতাম আমার প্রতি তার কোন রিয়্যাকশনই নাই | কিন্তু এত ফালতু কথা লিখতে ইচ্ছা করল না | আরেকদিন ক্যান্টিনে বসে আছি , একটা টোস্ট অর্ডার করেছি | বাবানদা ঢুকল ,এদিক ওদিক তাকাল | বাকি টেবিলগুলো ভর্তি ,আমার টেবিল টা ফাকা আছে |চাইলেই আমার টেবিলে এসে বসতে পারত| কিন্তু সে এমন ভাব করল যেন আমাকে দ্যাখেই নি |সুনন্দাদের আমার টেবিলে ট্রান্সফার করে দিয়ে নিজে ওদের টেবিলে বসল |  |হু:| এর থেকে বোঝা যায় বাবানদার আমাকে নিয়ে কোন রিয়্যাকশন নেই | এটাও আমি খাতায় লিখিনি | এসব ভালোগোছের রিয়্যাকশন নয় | আসলে আমার চাই একটা কাপলিং রিয়্যাকশন |


____________________________________________


এখন আমি গতকাল কলেজে এস আর স্যারের একটা রিয়্যাকশন লিখব ভাবছি | কালকের ব্যাপারটা নিয়ে যা পর্যবেক্ষণ করেছি তা মনে মনে ভালো করে গুছিয়ে নিতে চেষ্টা করছি | মোবাইলটা বাজছে | সিম্পি ফোন করছে | মেয়েটা কে আমি বেশ ভালোই লক্ষ্য করেছি যখনই আমি কিছু নিয়ে ভাবতে চেষ্টা করি তখনই সে ফোন করে আমার ভাবনার ব্যাঘাত ঘটায় | অর্থাৎ সে আমার ভাবনার জগতে ইনহিবিটর হিসাবে কাজ করছে | এর থেকে কিছু কনক্লুশন তার সম্পর্কে টানতে পারি কিনা দেখব | এখন ফোনটা রিসিভ করি |

- বল

- শোন কাল তুই আমাদের বাড়িতে একটু আসিস না প্লিজ, বি এম স্যারের খাতাটা নিয়ে |

- কেন ,তুই কলেজ আসবি না?

- না সেজন্যই তো বলছি ,আমার আজ খুব জ্বর এসেছে ,অথচ সামনের সপ্তাহেই তো ইন্টারনাল এক্সাম আছে | প্লিজ |

- আচ্ছা |

ফোনটা কেটে দিলাম | কি যে বিরক্ত লাগে | সিম্পি মাঝে মাঝে কলেজ কাটে, কিন্তু মিথ্যা জ্বর এর অযুহাতে | কাল গিয়ে হয়ত দেখব বাটিতে আচার নিয়ে বারান্দায় বসে মহা আনন্দে খাচ্ছে | কলেজের কাছেই বাড়ি অথচ খালি কামাই করে | নেহাতই আমার বেস্টু, তাই, নাহলে ওর বাড়িতে খাতা বইয়ে দিয়ে আসা আমার বয়েই গেছে | কালকেই বলে দেব এবার থেকে আমার বাড়ি গিয়ে নিয়ে আসবি | যত্তসব | 

_____________________________________

বিকাল ৪:৩০ |আমি এখন সিম্পিদের গেটের সামনে |যা ভেবেছিলাম তাই | পাঁজিটা সাজগোজ করে বেরিয়ে আসছে হাসিমুখে | কিছু মানুষ সবসময় মিথ্যা বলে নিজের কাজ হাসিল করে | সিম্পি তাদের মধ্যে একজন |দেখেই বুঝতে পারছি এখনই বলবে ," আসলে আমার আজ একটু বেরতে ইচ্ছা করছিল,তোকে বললে তো তুই আসতিস না | তাই আর কি |" এসব বলেই এই গোত্রীয় মানুষেরা একটা নির্লজ্জ্বের হাসি দেয় | সিম্পিও দিল | প্রায়ই ও এরকম করে থাকে তবে ,বেশ কিছুদিন পর পর, যাতে মিথ্যাচারের রেশটা কেটে যায় ভালোভাবে | আমার এসব ঘুরে বেড়ানোর থেকে বাড়িতে বসে ল্যাদ খেতে বেশি ভালো লাগে | যাই হোক আমরা বেরলাম | বেশ খানিকটা হেঁটে এসে গঙ্গার ধারে এসে শরীর জুড়ে বয়ে যাওয়া ঘাম শুকাতে লাগলাম | উফফ এরকম বেড়ানোর কোন মানে হয় ? তার থেকে " বসে খান " রেস্টুরেন্টে বসে এক প্লেট চাউমিন খাওয়াও ভালো | তাতে মনে বেশ ফুরফুরে গোছের রিয়্যাকশন হয়|আচ্ছা ওরা এত ভেবে রেস্টুরেন্টের নাম " বসে খান " কেন রেখেছে সেটা নিয়ে আমার মনে অনেক question জাগে | ওরা কি ভাবে যে অন্য জায়গায় সবাই দাঁড়িয়ে খায়?এটা ওদের জিজ্ঞেস করতে হবে এইবার গেলে | 

বললাম " চল কিছু খাই " | 

-দ্যাখ পম্পা , আমি তোকে এখানে নিয়ে এলাম তার কারণ আছে | বাবানদা আমাকে একটা লাভ লেটার দিয়েছিল তোকে দেওয়ার জন্য | তোকে নাকি ওর ভালো লাগে |তুই নাকি কেমন পাগল পাগল | হি হি হি | অন্যদের থেকে আলাদা | হি হি হি | রাগ করিস না ,এসব বাবান দা বলেছে |আমার কথা নয়| লাভ লেটার দেখে আমি উত্তেজনার বশে বলে দিয়েছি তুইও ওকে লাইক করিস | ব্যস | তারপর ভাবলাম লাভ লেটার দিয়ে কি হবে একেবারেই তোদের দেখা করিয়ে দিই | বাবান দা রাজী হয়ে গেল |তোরা বুঝে নে তোদের ব্যাপার | "


আমি সিম্পির কথা গুলো শুনছিলাম আর আজ প্রথম নিজের রিয়্যাকশন গুলো অবজার্ভ করতে চেষ্টা করছিলাম | সম্ভবত সন্ধ্যা ৬টা বাজতে চলেছে | পশ্চিম দিকে সূর্য ঢলে পড়েছে | আমার পেট গুড় গুড় করছে ,মাথা ঝন ঝন করছে | এ আবার কেমন রিয়্যাকশন?এসব আবার ডায়েরিতে লেখাও যায় না,লোকে হাসবে | আজ আমার মনে হচ্ছে আনন্দ জিনিস টা পেটে থাকে,যেন পেট থেকে উঠে আসছে | শরীর হালকা লাগছে | কেউ আমাকে পছন্দ করে ,ভালোবাসে ব্যাপারটা ভাবলেই এক্কেবারে নতুন অনুভূতি এসে ধরা দিচ্ছে | অর্থাৎ আমার মধ্যে যে রিয়্যাকশন গুলো হচ্ছে সেগুলো এতদিন আমি বাবানদা কে ভালোবেসে কোনদিন অনুভব করিনি | তার মানে আমি কনক্লুশন দিতে পারি মানুষ অন্যকে ভালোবেসে যতটা না সুখী হতে পারে তার থেকেও বেশি সুখী হয় যখন সে বুঝতে পারে অন্য কেউ তাকে ভালোবাসে | সুতরাং , এর থেকে চিত্তাকর্ষক আর কিই বা হতে পারে |

__________________________________

আমার হাতটা বাবানদা থুড়ি দীপকের হাতের মধ্যে | আমরা একটাও কথা বলিনি|হাঁটছি .....হাঁটছি ...শুধুই হাঁটছি | হাঁটার মধ্যেও যে আনন্দ আছে তা আমি আজ টের পাচ্ছি | সূর্য পুরোপুরি ডুবে গেছে ,তবে তার আলোর রেশ এখনও আকাশে রেখে গেছে | গঙ্গার ধারের হাওয়া এসে লাগছে আমাদের গায়ে | আমি ওর মুখের দিকে তাকাতে পারছি না ,ওর পায়ে পা মিলিয়ে শুধু হাঁটছি | তাই মুখের রিয়্যাকশন টা দেখতে পারছি না | কিন্তু আমাকে যে দেখতেই হবে | আমরা এখন ও কেউ কাউকে বলিনি "ভালোবাসি" , বলার প্রয়োজনও বোধ করছি না|,কথা বললেই মূহুর্তের সৌন্দর্যটা নস্ট হবে|তাই চুপ আছি দুজনেই | হয়ত আমরা চলতেই থাকব ,সারা সন্ধ্যা ,সারা রাত,সারা বছর ,সারা জীবন ...হাঁটতেই থাকব ...আবার হয়ত কোথাও ও আমাকে থামাবে ,কানে কানে বলবে ,

তোমার হাতে হাত রেখেছি 

আগলে ভীষণ রেখো

সময় পেলেই , হৃদয় জুড়ে

আমার ছবিই এঁকো |

........................

.....................

অনেকটা এগিয়ে এসেছি ,চাঁদটা এবার স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে ,চাঁদের আলো আর স্ট্রীট লাইটের আলো মিশে অদভুত দেখাচ্ছে চারিদিক | এত আলো তবুও আমি তার মুখ এখনো দেখতে পাচ্ছি না ,দেখতে সাহস হচ্ছে না,তবে তার বুকের বাঁ দিকে ঘটে যাওয়া রিয়্যাকশন গুলো বেশ অনুভব করতে পারছি | হ্যা ,এই প্রথম কোন রিয়্যাকশন আমি পর্যবেক্ষণ করছি না ,জাস্ট অনুভব করছি |করেই চলেছি | 

(সমাপ্ত)


Rate this content
Log in

More bengali story from Aziza Nasrin

Similar bengali story from Romance