STORYMIRROR

Rubiath Sharmin

Horror Thriller

3  

Rubiath Sharmin

Horror Thriller

পুরান বাড়ির অতৃপ্ত আত্মা

পুরান বাড়ির অতৃপ্ত আত্মা

3 mins
303

আমি নিলাশা। শহরের ব্যাস্ত জীবনে একটা বেসরকারি অফিস এ কাজ করি। জীবন টা যেনো কেমন বোরিং হয়ে গেছে।একদিন অফিস এ বসে মনে মনে ভাবছিলাম একটা ব্রেক এ যাওয়া দরকার। হটাত আমার কিছু কলিগ মিনার, জাহান, অলি, অদিতি ফাল্গুনী এলো।বলছে জানিস বস আমাদের ১ সপ্তাহ ছুটি দিয়েছে।কি করা যায় বলতো।খুশিতে আঠতোহারা হয়ে কোথায় যাবো না যাবো ভাবতে লাগলাম। হটাৎ মিনার বলে উঠলো চল আমরা হাতিমতলা যাই।শুনেছি ওখানে অনেক interested place আছে দেখার মত।আর পুরনো অনেক প্রাসাদ আছে দেখার মত।আমার আবার পুরোনো জিনিস আগ্রহ অনেক বেশী।তাই দেরি না করে সবাই রাজি হয়ে গেলাম।পরের দিন সকাল এ একটা গাড়ি নিয়ে সবাই বেরিয়ে পড়লাম ৩ দিন থাকার উদ্দেশে। জাহান আগে থেকেই থাকা খাওয়া ব্যাবস্থা করে রেখেছিল।পৌসে গেলাম গন্তব্যে।তবে যাওয়ার পথ এ রাস্তা টা কি অদ্ভুত।গায়ে কাঁটা দিয়ে উৎসিল।শুধু গেছে ঘেরা জঙ্গল। অলি হাসির ছলে বলেই ফেলে ভুত টুথ নাই তো আবার। গাড়ি থেকে নামতেই এক বয়স্ক লোক এলো আমাদের ওয়েলকাম করতে।আমরা চেকিং করে রুম এ ফ্রেশ হওয়ার জন্য রওনা দিলাম।হটাত আমার ব্যাগ টা কে যেনো পিছন থেকে টানছে এমন মনে হলো।ঘুরে দেখি সেই বয়স্ক লোক টা।একটি পূরণ বাড়ি দেখিয়ে বললো সাবধান।ওখানে বাদে সব জায়গায় জেও।কিন্তু ওখানে না।ব্যাপার টা খুব অদ্ভুত লাগল।আমরা রুম a চলে আসলাম।ফ্রেশ হয়ে লাঞ্চ করার পরে সবাই রুম এ বসে আছি।হটাত ফাল্গুনী বলে উঠে লোক টা আমাদের এসব বললো কেনো ।নিশ্চই ওখানে গুপ্তধন আছে তাই ভয় দেখালো।ওর আবার কোনো ভয় নেই বললেই চলে।কেনো জানি আমি ও ফাল্গুনীর কথায় হা মেলালাম । আর ঠিক করলাম আমরা ওখানেই যাবো।কিন্তু বাকিরা রাজি হলো না ।তাই আমি আর ফাল্গুনী যাওয়ার প্রস্তুতি নিলাম। রাত তখন ১২ টা ছুঁই ছুঁই।বেরিয়ে পড়লাম গায়ে চাদর মুড়ি দিয়ে।আমরা হেঁটে যাচ্ছি বাড়িটার দিকে।মনে হচ্ছে কে যেনো পিছনে হাঁটছে।একটু দাড়িয়ে পিছন ফিরে দেখি ।কেউ নেই। আবার হাঁটা শুরু করলাম।বাসার দরজায় তালা ঝুলয়ে রেখেছে। ফাল্গুনী একটা ইট খুঁজে এনে তালা ভাঙলো।দরজা টা খুলতেই অদ্ভুত আওয়াজ হলো। আর বেরিয়ে এলো অনেক বাদুর।কিছুটা ভয় লাগা শুরু হলো। ফাল্গুনী একটু ও ভয় না পেয়ে এগিয়ে গেলো সামনে। তার যেনো সব ই চিনা এখানে।আমায় সব দেখিয়ে বলছে এই দেখ কত সোনার জিনিস। এই দেখ এখানে কত আলোর প্রদীপ । ওকে খুব অদ্ভুত দেখাসিল। আমি ওকে ভয় পেয়ে বলি চল আমরা চলে যাই। ও জানায় চলে যাওয়ার জন্য তো আসি নি।ফাল্গুনী গয়না গুলো নিয়ে পড়তে শুরু করে আর অদ্ভুত হাসি দিতে লাগে।ওকে দেখে এবার আমি বেশ ভয় পেয়ে যাই।ওর কাছে গিয়ে ওর গায়ে যেই হাত দেই ডাকার জন্য ওর মাথা টা ঘুরে আমার দিকে নিয়ে আসে আর শরীর অন্য দিকে।আমি ভয় দূরে সিঁটকে পড়ি।আর আমার সামনে পড়ে উপরে ঝুলে থাকা ঝাড়বাতি টা।ফাল্গুনী তার অদ্ভুত আকৃতির চেহারা নিয়ে আমার সামনে এসে দাড়ায় আর আমায় বলে তোকে তো এমনই এমনি আনি নি এখানে।অনেক বছর ধরে একা আছি।এবার তোকেও আমর সাথে রাখবো বলে অট্টহাসিতে ফেঁটে পরে।আমি ভয় ঘেমে ওখান থেকে দৌড়ে যেতে ধরি আর ফাল্গুনী তার অদ্ভুত শক্তি দিয়ে আমায় আটকে ধরে জোরে সুরে দেয়।আমি অনেক টা আহত হয়ে হোটেল রুম এ চলে আসি।কিন্তু এসে দেখি ফাল্গুনী বিছানায় শুয়ে আছে। আমি অবাক হয়ে তাদের কাছে যাই আর সবাই কে ডেকে সবটা জানাই।ঠিক তখন ঐ বয়স্ক লোক টা আসে আমাদের জানায়।ওখানে থাকে একা এক অতৃপ্ত আত্মা। ও একা থাকতে চায় না আর তাই একটা সংগী খুঁজছে।আর তোমার বন্ধুবির রূপ নিয়ে তোমায় নিয়ে গিয়েছিল ।আমি আগেই নিষেধ করেছিলাম।তোমরা শুনো নি।আমি তখন ও যেনো এক ট্রমার মধ্যে ছিলাম।আমরা আর দেরি না করে শহরের উদ্দেশে রওনা হলাম।এমন লোমহর্ষক রাত আমার জীবনে এক মানসিক অসুস্থ তা নিয়ে আসে যা থেকে আমি আজও বেরোতে পারি নি।


Rate this content
Log in

Similar bengali story from Horror