Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published
Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published

Sukdeb Chattopadhyay

Inspirational


4.4  

Sukdeb Chattopadhyay

Inspirational


মনের থেকে হারিয়ে যাওয়া এক ছাত্র ( শিক্ষক দিবসের শ্রদ্ধার্ঘ )

মনের থেকে হারিয়ে যাওয়া এক ছাত্র ( শিক্ষক দিবসের শ্রদ্ধার্ঘ )

3 mins 156 3 mins 156

পরম শ্রদ্ধেয় পরমেশ্বরদা,

নরেন্দ্রপুরে স্কুল জীবনে আপনিই ছিলেন আমার প্রথম প্রধান শিক্ষক। প্রথমদিকে ভয়ে আপনাকে এড়িয়ে চলতাম। এক রাশভারী প্রধান শিক্ষকের থেকে যে কোন শিশুই নিরাপদ দূরত্বে থাকতে চেষ্টা করবে, আমিও করতাম। পরে শৃঙ্খলা আর শাসনের গুরুগম্ভীর বাতাবরণের অন্দরে উপলব্ধি করেছি আপনার অসীম স্নেহ। ভয়ও ধীরে ধীরে কিছুটা হলেও কেটেছে। তবে কিছু বেচাল হলে কিন্তু নিস্তার ছিল না। ধমক ধামক তো ছিলই, কপাল খারাপ থাকলে পিঠেও কয়েক ঘা পড়ত। আমার সৌভাগ্য যে আপনার শাসনের নয়, স্নেহের হাতটাই আমার পিঠে পড়েছে। স্নেহের কিছু বিড়ম্বনাও ছিল। বিকেলবেলা মাঠে খেলতে যাওয়ার সময় আপনার সাথে দেখা হলে মাঝে মাঝে পাশে বসে আমার বাবার কর্মস্থল পালামৌ এর গল্প শোনাতে হত। সেদিনের মত খেলার দফারফা।

তখনকার শিশুমনে স্কুল এবং হস্টেলের নিয়মানুবর্তিতার কড়াকড়িটা একেবারেই অপছন্দের ব্যাপার ছিল। পরে বুঝেছি যে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে, বিশেষ করে শিশু বা কিশোরের বেড়ে ওঠার সময় এর কোন বিকল্প নেই।

একদিন স্কুলে সবে দ্বিতীয় ক্লাস শুরু হয়েছে এমন সময় খবর এল যে আপনি আমাকে ডাকছেন। প্রমাদ গুনলাম। চিন্তা করতে শুরু করলাম দু এক দিনের মধ্যে কোন অকাজ করেছি কি না। মনে পড়ল না। তবু আশ্বস্ত হতে পারলাম না। কারণ, আমাদের অকাজের সংখ্যা এত বেশি ছিল যে সবকটা মনে নাও থাকতে পারে। স্কুলে ক্লাশ চলাকালীন সমন এসেছে, তার মানে অন্যায়ের মাত্রাটা বেশ বেশি। কি করেছি জানতে পারলে আত্মপক্ষ সমর্থনের একটা আগাম প্রস্তুতি নেওয়া যেত। যা কপালে আছে হবে ভেবে গুটি গুটি আপনার ঘরে ঢুকলাম।

ভেতরে গিয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেলাম। আপনার সামনের চেয়ারে বসে রয়েছেন আমার বাবা। দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরলাম। হঠাৎই কলকাতায় এসেছেন অফিসের কিছু কাজে। তারই মাঝে সময় বার করে এসেছেন আমার সাথে একটু দেখা করতে। দেখলাম, সরবত, মিস্টি ইত্যাদি দিয়ে ইতিমধ্যেই আপনি অতিথি আপ্যায়ন সেরে ফেলেছেন। বাবা জানতেন যে অভিভাবকদের হস্টেলে দেখা করতে আসার নির্দিষ্ট সময় রবিবার বিকেলবেলা। যেহেতু তাঁকে রবিবারের আগেই ফিরে যেতে হবে তাই ছেলের সাথে একটু দেখা করার বাসনায় অসময়ে এসেছিলেন। অসময়ে এসেছেন, তাই বাবা একটু কুণ্ঠিত ছিলেন। আমার সাথে খানিক গল্প করার পর আমাকে আবার ক্লাসে ফিরতে হবে এই ভেবে আপনার কাছে বিদায় নেওয়ার কথা বলতেই আপনি আপত্তি জানিয়ে বলেছিলেন, ‘বলেন কি মশাই! স্কুল তো রোজই আছে। কত দূর থেকে এসেছেন। ছেলের সাথে গল্প করুন। দুপুর বেলা আমার সাথে খাওয়া দাওয়া করে তারপর যাবেন’। সেদিন দুপুরবেলা আমার বাবাকে আপনি পরম আত্মীয়ের মত পাশে বসিয়ে যত্ন করে খাইয়ে তারপর ছেড়েছিলেন। আপনার ওই আন্তরিকতা কোনদিন ভুলতে পারব না। আপনার মত মানুষই হল আদর্শ শিক্ষক, প্রশাসক এবং এমন এক গুরু যার সান্নিধ্যে জীবন ধন্য হয়ে যায়। শৃঙ্খলা ও নিয়মানুবর্তিতাকে ছাত্রদের প্রাত্যহিক জীবনে বাস্তবায়িত করার ক্ষেত্রে যেমন সচেতন ছিলেন তেমনই প্রয়োজনে তার বাঁধনটাকে আলগা করতেও দ্বিধা করেন নি।  

এরপর আপনি নরেন্দ্রপুর থেকে রামকৃষ্ণ মিশনের অন্যত্র সেবায় নিযুক্ত হন। ব্রহ্মচারী বিভুচৈতন্য থেকে সন্ন্যাস গ্রহণের পর স্বামী উমানন্দ রূপে পরিচিত হন। কেটে গেছে অনেকগুলো বছর। কিছুকাল আগে বেলুড় মঠে গিয়ে অজিত মহারাজের ( স্বামী স্বতন্ত্রানন্দর ) সাথে দেখা হয়। ওনার কাছেই জানতে পারি আপনি আরোগ্য ভবনে আছেন এবং খুবই অসুস্থ। দেখা হল, হাসলেন। নমস্কার করলাম, মাথায় হাত দিয়ে আশীর্বাদ করলেন। অল্প সময়েই বুঝলাম সবটাই অভ্যাসে করছেন কারণ আপনার স্মৃতির সরণির সব আলোই প্রায় নিভে গেছে। ওই অন্ধকারে অনেক চেষ্টা করেও আপনি আপনার ছাত্রটিকে কোথাও খুঁজে না পেয়ে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন। বড় অসহায় সে দৃষ্টি। আপনার সহকারীর থেকে জানলাম যে নিত্য দেখা মুষ্টিমেয় কয়েকজন ছাড়া আপনি কাউকেই আর চিনতে পারেন না। আমি আপনাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘পরমেশ্বরদা, ব্রহ্মচারী বিভুচৈতন্যকে মনে আছে?’

প্রশ্ন শুনে আপনার মুখের থেকে অক্ষম, অসহায় ভাবটা মুছে গিয়েছিল।

একগাল হেসে বলেছিলেন, ‘ বাবা এর তো দেখছি সব মনে আছে’।

আপনার ক্লিষ্ট মুখে ওই হাসি দেখে আনন্দে ভরে গিয়েছিল আমার অন্তর। শৈশবে যার কাছে অনেক কঠিন কঠিন প্রশ্নের সহজ উত্তর পেয়ে বড় হয়েছি তাকে নিরুত্তর দেখলে যে বড় কষ্ট হয় পরমেশ্বরদা।


প্রণাম নেবেন,

ইতি

আপনার মনের থেকে হারিয়ে যাওয়া এক ছাত্র। 


Rate this content
Log in

More bengali story from Sukdeb Chattopadhyay

Similar bengali story from Inspirational