Click Here. Romance Combo up for Grabs to Read while it Rains!
Click Here. Romance Combo up for Grabs to Read while it Rains!

Anirban Halder

Crime Thriller


2  

Anirban Halder

Crime Thriller


খোলস - পর্ব ১

খোলস - পর্ব ১

6 mins 513 6 mins 513

" A man wants to be free flying in the emptiness of the universe . He thinks he means something in the endlessness of nature . A man wakes up being only a dust . "

- Asper Blurry , Train to the Edge of the Moon


রাত তখন প্রায় দেড়টার কাছে হবে। নিউ আলিপুর এর এই দিকটিকে অভিজাত এলাকা হিসেবেই চিহ্নিত করা হয়। যদিও সম্ভবত সেটা সেখানকার বাসিন্দাদের অর্থ এবং প্রাচুর্যের নিরিখে মাপা হয়। এলাকাটি তে বাঙালি অপেক্ষা অবাঙালির সংখ্যাই বেশি। বড় রাস্তা থেকে অপেক্ষাকৃত সরু লেন ধরে একটি মেরুন রংএর জাগুয়ার সেডান ঢুকে এলো।

কিছুটা এগিয়ে গিয়ে গাড়িটিকে থামতে হল।এখানকার বেশিরভাগ বাড়িতেই এক অথবা একাধিক গাড়ি রয়েছে কিন্তু প্রতিটি বাড়িতে যে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা আছে সেরকম নয়। অনেকেই রাস্তার ধারে সার দিয়ে থাকা পার্কিংয়ে গাড়ি রাখে। আজ এই গাড়িটি কিন্তু পার্কিং করার জন্য থামেনি। গাড়িটি থেকে একজন বছর পঞ্চাশ এর ব্যক্তি নেমে এলো। চেহারা ও পোশাক তার গাড়ির সাথে মানানসই। তার হাতে থাকা আইফোনটা একনাগাড়ে বেজে চলেছিল। লোকটি ফোনটা রিসিভ করতে যাওয়ার আগেই তার কল কেটে গেল। হিন্দিতে একটা অশ্রাব্য গালি দিয়ে সে যখন গাড়িতে উঠতে গেল, ফোনটা আবার বাজতে শুরু করল। একরাশ বিরক্তি নিয়ে এবার সে কল রিসিভ করতে বাধ্য হল।


" হ্যালো .. হ্যালো .. হ্যাল .."


অপর প্রান্ত থেকে কোনো রকম উত্তর নেই। কিছু সেকেন্ডের নিস্তব্ধতা। তিনবারের বার সে এবার নিজেই ফোন কেটে দিল। অতঃপর সে আবার গাড়িতে ওঠার উদ্যোগ নিল। যখন সে সবে গাড়ির দরজার দিকে ঘুরলো, উল্টো দিকের একটি রাস্তার ল্যম্পপোস্ট এর পিছনের অন্ধকার চিরে আবির্ভাব ঘটলো আর একটি ব্যক্তির। আলো ছায়ায় তার মুখ যদিও স্পষ্ট ছিল না, তবে সে অবশ্যই প্রথম ব্যক্তির থেকে লম্বা এবং কম বয়সী ছিল। স্যুট পরিহিত ব্যক্তির হাতটি ভেস্ট পকেট থেকে চকিতে বের করে আনলো একটা নাইন এমএম এর পিস্তল। পরমুহূর্তেই রাতের নিস্তব্ধতাকে খান খান করে গর্জে উঠলো তার হাতের সেই অস্ত্র। ঘটনার আকস্মিকতা এত বেশি ছিল যে পিঠে গুলি বিদ্ধ হয়ে দরজার কাছেই লুটিয়ে পড়ার এবং কিছু বোঝার আগেই অনুভব করা যে আততায়ী তার একদম কাছে চলে এসেছে, এসব কিছুই পলকের মধ্যে ঘটে গেল। এবার আততায়ী তার পিস্তল তাগ করল প্রথম ব্যক্তির একদম মাথা লক্ষ্য করে। পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক থেকে আর একবার পিস্তলটা গর্জে উঠলো। একরাশ রক্ত আর ধূসর পদার্থে গাড়ির একপাশ মাখামাখি করে নিথর হয়ে গেল প্রথম ব্যক্তিটি। আততায়ী ধীরে ধীরে নিজের পকেটে থেকে একটা ফোন বের করে ডায়াল করতে শুরু করল। এতকিছু যে ঘটে গেল রাতের শহরে এক অন্যতম বর্ধিষ্ণু এলকার বুকে অথচ আশেপাশের বাড়িগুলোর কেউ জানতেও পারলো না।মাঝে মাঝে এই শহর হঠাৎ করে খুব নির্মম , খুব প্রাণহীন হয়ে পড়ে। আজকের রাতটা সেরকমই ছিল।


**********


প্রায় তন্দ্রা এসে গেছিল অরাত্রিকার। ফ্লাইটে বসে আজকাল এটা খুব বেশিই হচ্ছে তার। জেট ল্যাগ বোধহয়। তাই কি ? ডোমেস্টিক ফ্লাইটে কি সেটা সম্ভব ? এরকম ও নয় যে সে মাসের কুড়ি দিনই বিমান সফর করে। তবে ? সেকি তাহলে নিজের কাজে বা নিজের ওপর বীতশ্রদ্ধ হয়ে যাচ্ছে ? নিজেকেই প্রশ্ন করল সে। না, সে নিজের কাজে যথেষ্ট খুশি এবং সফলও বটে। অরাত্রিকা পাঠক, এসিপি, দিল্লী ক্রাইম ব্রাঞ্চ তার পোশাকি পরিচয়। শুধু কি এটুকুই ? না তার আর একটা পরিচয় আছে, সে হচ্ছে একজন সিরিয়াল কিলিং এক্সপার্ট। অর্থাৎ ধারাবাহিক খুনের প্যাটার্ন ও তার খুনীকে ধরা হল তার কাজ। সম্ভবত দেশের কনিষ্ঠতমা। কারণ সে মাত্র ছাব্বিশ প্লাস।

" আর ? "

আত্মমন্থন এ বিরতি পড়ল বিমানসেবিকার কোলকাতায় অবতরন করার ঘোষণায়।



**********


কোলকাতার সাথে অরাত্রিকার কোনো প্রকার সম্পর্ক নেই বললেই চলে। সে হচ্ছে পুরোদস্তুর প্রবাসী বাঙালি। গোয়ালিয়র এর মেয়ে সে। উপরন্তু অন্য প্রবাসীদের মতো কোলকাতায় কোনো আত্মীয় স্বজনও নেই তার। কোন ছোটবেলায় শুধু একবার সে শান্তিনিকেতন এসেছিল মা, বাবা আর দাদার সাথে। ব্যস ওইটুকুই। তারপর এই প্রথম সে কোলকাতায় এলো।



একটা বিচিত্র কেস দিয়ে তাকে কোলকাতায় পাঠানো হয়েছে। কেস টার একটা ব্রিফ তাকে দেওয়া হয়েছে।লালবাজার এর দিকে যেতে যেতে নিজের আই প্যাডে সেটাই দেখছিল অরাত্রিকা। সত্যি বিচিত্রই বটে ! চারটে খুন হয়েছে বিগত সাত মাসে। চারটে সম্পূর্ণ ভিন্ন মানুষ তারা, যাদের নিজেদের মধ্যে কোনো লিংক নেই। খুনীরা ধরাও পড়েছে, বা বলা ভাল নিজেরা ধরা দিয়েছে। খুনীরাও সকলে আলাদা, সম্পর্কহীন ব্যক্তি। তাদের অতীত ক্রাইম রেকর্ড নেই বা থাকলেও সেটা ভয়ংকর মানের কিছু নয়। শুধু একজনকে ছাড়া। এখন ব্যাপার হল কয়েকমাস ধরে ইউ টিউব এবং সোশ্যাল নেটওয়ার্ক জুড়ে বিষয়টা কিছু লোকে ভাইরাল করে দিয়েছে। তাদের মত অনুযায়ী এই ঘটনাগুলি স্বাভাবিক নয়। খুনীদের কেউই নাকি ধরা দেওয়ার চব্বিশ ঘন্টা পর থেকে নিজেদের করা অপরাধ এবং সেই সম্পর্কিত কোনো কিছু মনে রাখতে পারেনি। তারা নাকি সম্পূর্ণ ক্ল্যু লেস। অবশ্য পুলিশ রিপোর্ট বলছে খুনীদের প্রত্যেকেই আর কিছু হোক বা না হোক প্রথম শ্রেণীর নেশাখোর ছিল। মানে তাদের এই বিষয়ক পাস্ট রেকর্ড আছে। অরাত্রিকা এটাকে একটা যোগসূত্র যুক্ত কেস ভাবতে পারেনি। কোন অপরাধী ই বা সহজে ধরা দিতে চায় ? বা দোষ স্বীকার করতে চায় ? নিজেদের ধরা দেওয়া টা একটা ট্রিক হতে পারে, পুলিশকে বিপথে চালিত করার।

নিজেকে নিজে বোঝায় অরাত্রিকা। আসলে এই কেসটা হওয়ারই কথা ছিল না। ধরা পড়া চারজন খুনীদের মধ্যে একজন হচ্ছে রাজীব খেমখা। বিখ্যাত শিল্পপতি রোশনলাল খেমখার একমাত্র ছেলে, বা বলা ভালো একমাত্র বখাটে ছেলে। এর কুকর্মের লিস্ট লম্বা। এই রোশনলাল হলেন বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের অত্যন্ত স্নেহভাজন। তিনি রাজ্য পুলিশের ওপর ভরসা রাখতে না পেরে কেন্দ্রে চাপ আনেন আর তারই ফলস্বরূপ অরাত্রিকার এই কেস এ আগমন। তার ওপর একরকম চাপিয়ে দেওয়া হয় কেসটা, থ্যাংকস টু তার উজ্জ্বল কেরিয়ার রেকর্ড। রাজীব, রাজীব এই নামটা তাকে ভীষণ বিচলিত করে দেয়। ভালো ভাবে কিছুটা, আর বেশিটা খারাপ ভাবে। শেষ কিছু বছর ধরে এভাবেই চলছে।



অরাত্রিকা একটু হোমওয়ার্ক করেছিল কেসটা নিয়ে। যাতে সে জানতে পারে, এই যে পুরো ব্যাপারটা ভাইরাল হয়েছে, এর শুরু কোলকাতার একজন অফিসার এস আই সমীরণ মাজী-র থেকে। সমীরণ নিজে চারটের মধ্যে কোনো একটা কেস এ যুক্ত ছিল। সেই প্রথম এই ঘটনাগুলো পরস্পর লিঙ্কড্ এরম প্রস্তাব আনে। তার এই অদ্ভুত তত্ত্ব কেউ মেনেছিল না প্রথমে। যদিও কনস্পিরেসি থিয়োরিস্ট্ রা কিন্তু ব্যাপারটা ফেলে দেয়নি। তারা এই তথ্য ব্যবহার করে।ফলে বিষয়টা নিয়ে তৈরি হওয়া ভিডিও প্রথমে অনলাইন আর তারপরে মিডিয়াতে ভাইরাল হয়ে যায়। তাই মাস দুয়েক আগে সমীরণ মাজীকে সাময়িক ভাবে সাসপেন্ড করাও হয়েছিল মিডিয়ার কাছে স্পর্শকাতর তথ্য প্রদানের জন্য।



আচমকা গাড়ি ব্রেক কষে। অরাত্রিকা প্যাড থেকে মুখ তুলল।


' লালবাজার '



**********


কমিশনারের এসি ঘরে বসেছিল অরাত্রিকা। তার হাতে আগের ইনভেস্টিগেশন এর একটা প্রিলিমিনারি ফাইল দিলেন কমিশনার পরিমল সেনগুপ্ত। ফাইলে একবার চোখ বুলিয়ে নিল অরাত্রিকা। আই প্যাডে দেওয়া তথ্যেরই একটু ডিটেইল এ পুনরাবৃত্তি রয়েছে তাতে। মৃদু কেশে গলা পরিষ্কার করে কমিশনার সেনগুপ্ত বললেন -


" দেখো ... তোমাকে তুমিই বলছি। অরাত্রিকা আমি তোমার রেকর্ড দেখেছি। ইউ আর ব্রিলিয়ান্ট..."


" থ্যাংক ইউ স্যার " বলে অরাত্রিকা ।


" সি, আমি জানি এই কেসটা তোমার মেরিটের নয়। বিশেষ করে হরিয়ানার মাস মার্ডার কেস ওয়াজ এ টাফ ওয়ান। কি করব বলো ? আমাদেরকে মাঝে মাঝে সরকারের চাপে পড়ে এরকম অনেক কিছু করতে হয়। আমি নিজেও মনে করি এটা জোর করে জুড়ে বানাতে চাওয়া একটা কেস। আমি চাই যারা এটাকে একটা কেস বানাতে চাইছে, ইউ জাস্ট প্রুভ দেম রং.."

এতটা বলে থামেন পরিমল সেনগুপ্ত ।


" আই উইল ডু মাই বেস্ট স্যার " উত্তর দেয় অরাত্রিকা।


" আই নো ইউ উইল। আমি ব্যক্তিগত ভাবে এই ফাইলে বেশ কিছু অফিসারস রেফার করেছি। তুমি এদের মধ্যে যেকোনো কাউকে চুজ করতে পারো। সে তোমাকে এই কেস এ অ্যাসিস্ট করবে..."

অরাত্রিকা একবার লিস্ট এর দিকে চোখ বুলিয়ে তারপর কমিশনার সেনগুপ্ত কে অবাক করে দিয়ে বলল -



" এস আই মাজী, সমীরণ মাজী...... "


( ক্রমশঃ )


Rate this content
Log in

More bengali story from Anirban Halder

Similar bengali story from Crime