কাফের
কাফের
- আজ থেকে তোর নামাজ রোজা সব বন্ধ, ফের যদি নামাজ পড়তে দেখেছি তোর হাত ভা ভেঙে ঘরে বসিয়ে রাখবো।
- আপনি এইভাবে কেন বলছেন?
- আপনি কি চান না আমি আল্লাহর এবাদত করি?
- নাহ, চাই না। একদম চাই না।
- কি?
আপনি এই কথাটা কিভাবে বলছেন, তাছাড়া আপনি নিজে তো একজন আলেম। কোরআন হাসিদের সংস্পর্শে যার বড়ো হয়ে ওঠা সে এতোটা সৃষ্টিকর্তা বিরোধী কি করে হয়?
- আর একটা কথা বললে আমার হাত কিন্তু একেবারে জায়গামতো চলে যাবে বলে দিলাম।
- কি করবেন, মারবেন আমায়।
- লজ্জা লাগে না তোমার, স্বামীর মুখে মুখে কথা বলো।
(জয়নব বেগম একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে)
- সারাটাজীবন আপনার পায়ের নিচে থাকার ইচ্ছা নিয়েই এই বাড়িতে এসেছিলাম একদিন, কিন্তু আপনার ব্যবহার আমাকে আপনার বিরুদ্ধে........ কথাটা শেষ না হতেই তাজবীর সাহেব তার বেগম জয়নবকে একটা ধাক্কা মেরে মেঝেতে ফেলে দিলো।
- খুব চোপা হয়েছে তাই না, তোমার এই চোপা বন্ধ করার ওষুধ খুব ভালোই জানি আমি। দেখো আজ রাতে কি করি আমি তোমার?
কথাগুলো বলে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো তাজবীর আহমেদ, শুধু তাজবীর সাহেব না, আলেম তাজবীর সাহেব!
জয়নব বেগম খুব ভালো করেই জানেন তার জন্য কি শাস্তি অপেক্ষা করছে, তার স্বামী তাকে কিসের ভয় দেখিয়ে গেলেন। প্রতিরাতে জয়নবের দেহটাকে নিংড়ে খায় তাজবীর সাহেব। তার শক্ত সামর্থ্য দেহ যেন পিসে মারে জয়নবকে। জানোয়ারের মতো নিজের স্ত্রীকে ভোগ করে সে। স্ত্রীর শত অনুনয় বিনয়, তার অস্বস্তি ,অসুস্থতা সবকিছু উপেক্ষা করে সে তার নিজের স্বার্থ নিজের লালসা চরিতার্থ করে। এতো নিত্য নৈমিত্তিক ব্যপার, প্রতিরাতে অত্যন্ত একঘন্টার জন্য দোজখের যন্ত্রণা ভোগ করার জন্য প্রস্তুত থাকে জয়নব। আর যেদিন তাদের দুজনের ভেতরে ঝগড়া হয় সেদিন তাজবীর সাহেব নিজের রাগের ঝাল সুদে আসলে পূরন করেন।
কষ্ট আর যন্ত্রনার সীমা পরিসীমা থাকে না জয়নবের। যতক্ষন না পর্যন্ত তাজবীরের শরীর ঘেমে বিছানার চাদর ভিজে একাকার হয়ে যায় ততক্ষণে মুক্তি মেলে না জয়নবের। সব ঠিক আছে। তাজবীর সাহেব তার স্বামী, স্বামীর অধিকার আছে স্ত্রীর ওপরে। হয়তো সে অনেকটা বাড়াবাড়ি করে ফেলে, সেটাও এখন সময়ের সাথে মেনে নিয়েছে জয়নব। আর এই ব্যপারটা খুব অস্বাভাবিক ও নয়, বাস্তবে এমন অনেক মানুষ আছেন। কিন্তু একজন আলেম মানুষ, এতো মিটিং, মাহফিল করেন, হুজুর মাওলানাদের সাথে যার সারাক্ষণ অন্তরঙ্গতা। এমন একজন মানুষ নামাজ রোজা রাখা পছন্দ করে না, নিজেও কখনো পালন করা দূর, স্ত্রী পালন করলেও তাকে শাস্তি দেয় এটা ক িকরে সম্ভব? একজন শাস্ত্রবিশারদ আলেম মানুষ সব জেনে আল্লাহর বিরুদ্ধাচারন করে কিভাবে। কোনো মুর্খ, ধর্মজ্ঞানহীনরা এমন আচরন করলে মানা যেত।
কিন্তু তাজবীর আহমেদ উনি এমন কেন হলেন, ওনার কথাবার্তা বাইরের লোকজনদের সাথে আচার ব্যবহার দেখে বোঝার উপায় নেই লোকটার ভেতরে ভেতরে কি চলে, খোদার আর তার নিয়মকানুনের প্রতি কিসের এতো রাগ তার? কি এর রহস্য?
জয়নব বেগম মেঝে থেকে উঠে বিছানার ওপরে বসলেন। এদিকে সন্ধ্যা হয়ে গেছে, মাগরিবের নামাজটা সেরে নিতে হবে। তাজবীর সাহেব এসে দেখলে আবারো নিশ্চয়ই কোনো ঝামেলা করবে। তার আগে নিজের কাজ চুপিসারে সেরে নেওয়া দরকার। আর যাই হয়ে যাক আল্লাহর এবাদাতে কোনোরকম গাফোলতি করা যাবে না, তাতে যতো অত্যাচার নেমে আসুক জয়নব বেগমের ওপরে।
জায়নামজটা বিছিয়ে তাড়াতাড়ি নামাজটা সেরে নিলো সে। এদিকে মনে সবসময় একটা অজানা ভয় লেগেই থাকে, আবার কখন না কখন তাজবীর সাহেব বাসায় ঢুকে পড়ে। জয়নব বেগমের দুচোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়তে লাগলো। তার এখনো স্পষ্ট স্মরনে আছে, বিয়ের পরে ভোররাতে ফজরের নামাজ পড়তে উঠতে খুব সমস্যা হতো, তাজবীর সাহেব তাকে ডেকে তুলতেন।
একদিন উঠতে একটু দেরী হলে কতোই না বকাবকি করতেন একসময়ে, আবার কোরান হাদিদের ব্যাখা দিয়ে বুঝিয়ে বলতেন। বিয়ের পরে একটা পূর্ণাঙ্গ ইসলামিক জীবনে প্রবেশ করে জয়নব, যার পুরো কৃতিত্ব তার স্বামী তাজবীর আহমেদের। সময় করে কোরআন শরীফ, হাদিস পাঠ করা, নামাজ পড়া, রোজা রাখা এগুলো তার স্বামীর ইচ্ছাতেই সে আয়ত্ত করেছে।
অযচ সেই একই ব্যক্তি আজ আল্লাহর এবাদাতে কথা শুনলেও রেগে যায়, সে এগুলোকে ঘৃনার চোখে দেখে। তাজবীর সাহেব যে জিনিসগুলো তার স্ত্রীকে অভ্যাসে পরিণত করে দিয়েছেন এখন তার জন্যই সেগুলো ত্যাগ করতে হচ্ছে, এটা ভাবতেই বুকটা কেঁপে ওঠে জয়নব বেগমের। আল্লাহর দরবারে দুহাত তুলে আর্জি জানায় সে। তার স্বামীর এই পরিবর্তনের কারন কি, সে নিজেও জানতে চায়। না জানি, এর উত্তর আদৌ কোনোদিন মিলবে কিনা। কিন্ত প্রতিক্ষা করা ছাড়া আর কি উপায় আছে? আজকে তাওরীদ সাহেব আজকে একটু দেরী করেই বাসায় আসলেন। সাধারনতো সে বাসায় ফিরতে এতোটা লেট কখনো করে না। - কি ব্যাপার, আজ এতো দেরী হলো যে? - একটু কাজ ছিলো বাইরে। - কাজ ছিলো, কি এমন কাজ ছিলো আপনার? - সে কৈফিয়ত কি তোমাকে দিতে হবে। আর যদি দিতেই হয় আজ বলার সময় নেই। খুব ঘুম পাচ্ছে আমার। - ঘুম পাচ্ছে মানে, আমি খাবার বেরে দিচ্ছি। আগে খেয়ে নিন। - না, খাব না। খিদে নেই। ঘুমাবো আমি। - খাবো না বললেই হয় খেয়ে নিন। আপনার পছন্দের কলিজা ভূনা রান্না করেছি। - আচ্ছা, এক কথা কতোবার বলবো, আমি খাবো না বলছি তো। বড্ড ঘুম পাচ্ছে আমি শুয়ে পড়লাম।
জয়নব বেগমের ব্যপারটা বেশ অদ্ভুত লাগছে, তাজবীর সাহেবের আচরণে আজ রুক্ষতার পরিণাম তুলনামুলক অনেক কম, তাছাড়া এতো তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ার মানুষ সে নয়। না, আজ ঘুমালে চলবে না। এমনিতেই জয়নবের মনে হাজারো প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, সে নিজেও তার স্বামীর এমন অদ্ভুত ব্যবহারে বিচলিত। আজ রাতে জেগে থাকতে হবে, তারপর দেখতে হবে ঠিক কি হয় তার স্বামীর সাথে।
জয়নব বেগম জানে না কি হবে, আদৌ কিছু হবে কিনা, পুরোটাই তার আন্দাজ।। তবে এমন অদ্ভুত ব্যবহারের পেছনে কোনো না কোনো কারন তো আছেই, এসব ভাবতে ভাবতে ঘুমন্ত স্বামীর পাশেই শুয়ে পড়লো সে। নিজে চোখ বুজে ঘুমানোর ভান করে শুয়ে রইল। এভাবে বহু সময় অতিবাহিত হয়ে যায়। কোথাও কিছু হচ্ছে না, তাজবীর সাহেব দিব্যি ঘুমুচ্ছেন, কোথাও কোনো অসংলগ্ন ব্যপার লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
এদিকে জয়নব বেগমের দুচোখ ঘুমে ভেঙে আসছে। অর্ধেকটা ঘুমের ঘোরে চলেও গেছে সে, হঠাৎ তার মনে হলো কেউ একটা তার পাশ থেকে উঠে গেলো। চোখ জোড়া খুলে দেখতে পান তার স্বামী বিছানা থেকে চুপি চুপি নেমে সামনের দিকে এগিয়ে গেলো। আজব ব্যপার তার পুরো শরীরটা চাদর দিয়ে ঢাকা, অন্ধকারে সে হেঁটে চলছে আপন মনে। জয়নব বেগম পা টিপে টিপে তার পিছু নিলেন। জয়নব বেগমের চোখ জোড়া নিচের দিকে যায়। নিজের হাত দিয়ে মুখ চেপে আতকে উঠলো সে!
ইয়া আল্লাহ, জয়নব এটা কি দেখছে সে নিজের চোখে!? তাজবীর সাহেবের পা দুটো কোনো সাধারণ মানুষের মতো নয়, শেয়াল কুকুর জাতীয় জন্তুর পায়ের মতো তার পা জোড়া, সারা দেহো চাদরে ঢাকা শুধু পায়ের নিচের অংশটুকু দেখা যাচ্ছে। এমন ভয়ানক আর বিভৎষ দৃশ্য কোনোদিন দেখেনি জয়নব বেগম! তাজবীর সামনে এমন অদ্ভুত পায়ে ভর করে হাঁটতে হাঁটতে ছাদে উঠেলেন, তার পেছনে পেছনে জয়নব।
এরপর যে ঘটনা ঘটলো জয়নব বেগমের পায়ের তলার মাটি আর স্থির থাকলো না। তাজবীর সাহেব ছাদ থেকে দেয়াল বেয়ে নিচের দিকে হেঁটে হেঁটে নামতে লাগলেন। একটা জলজ্যান্ত সুস্থ মানুষ খাড়া দেয়াল বেয়ে এইভাবে হেঁটে হেঁটে নিচের দিকে নামছে কি করে?
এটা মানুষ নাকি অন্য কিছু?
ভয় আতংক আর বিষ্ময়ে জয়নব বেগমের বুক শুকিয়ে গেলো, মনে হচ্ছে সে এক্ষুনি জ্ঞান হারাবে। তাজবীর সাহেব বিল্ডিং বেয়ে নিচে নেমে গেলেন। কিন্তু জয়নবের পক্ষে তার স্বামীর মতো অতিপ্রাকৃত কাজ করা সম্ভব নয় কিছুতেই। সে দ্রুত হেঁটে বিল্ডিং এর গ্রাউন্ড ফ্লোরে গেলো। রাত তখন দেড়টা বাজে, এতো রাতে কোথায় যেতে পারে তাজবীর সাহেব, আর কিসের জন্যই বা যাচ্ছেন।
বিল্ডিং এর পেছনের দিকের রাস্তা দিয়ে তাজবীর সাহেব এগিয়ে চলছেন। জয়নব বেগম তাকে লক্ষ্য করতে পারে নি, এতো রাতে নিজের স্বামীকে কোথায় খুঁজবে সে। তার স্বামী এভাবে গায়ে চাদর জড়িয়ে কোথায় বেরিয়ে গেলো আর কিসের জন্য বেরিয়ে গেলো?
এই প্রশ্নের উত্তর তো জানা দরকার। অন্ধকারে কিছুই ভালোভাবে ঠাওর করতে পারছে না জয়নব বেগম। রাস্তায় দাঁড়িয়ে এদিক ওদিক তাকাতে থাকে সে, কোথাও তাজবীর সাহেবের চিহ্ন টুকু নেই। হঠাৎ একটা কন্ঠস্বরে জয়নব বেগম চমকে উঠলো। - তুমি জয়নব না মা, এতো রাতে রাস্তার মাঝে কি করছো?
জয়নব বেগম তাকিয়ে দেখে একটা রিকশায় তার পরিচিত এক মামাজান বসে আছেন। উনি এই রাস্তা দিয়েই যাচ্ছিলেন। - মামাজান আপনি। আসসালামুআলায়কুম, কেমন আছেন আপনি? - আরে আমার কথা রাখো এতো রাতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কি করছো তুমি? কোনো সমস্যা হয়েছে কি?
জয়নব বেগম ইতস্ত করতে থাকে, সে কি উত্তর দেবে নিজেও জানে না। - কি হলো, চুপ কেন মা বলো। আচ্ছা, তাজবীর কোথায়? সে ঠিক আছে তো? - আমি তাকে খুঁজতেই..... - তাকে খুঁজতে মানে? কি হয়েছে তার?
ইস ভুল করে মুখ থেকে কথাটা বেরিয়ে গেলো, এবার আর কোনোকিছু লুকানোর মানে হয় না। তাছাড়া জয়নবের মামাজান দ্বীন, ধর্মপ্রান, হুজুর মানুষ, তাকে বললে কোনো না কোনো লাভ হতে পারে। আর দেরি না করে জয়নব তার মামাজানকে সবটা খুলে বলে। জয়নবের মুখের কথাগুলো শুনে মামাজান বিষ্মিত হলেন। সত্যি ব্যাপারগুলো অবাক করার মতো। জয়নব বেগম ছোটবেলায় তার জুনায়েদ মামার ব্যপারে অনেককিছু শুনেছে। সে নাকি নিজের সাথে জ্বীন পরীদের পালন করে, জ্বীনদের নিজের বশ করে রাখে ইত্যাদি ইত্যাদি অনেক কিছুই।
সেই তিন বছর আগে বিয়ের পরে আজ মামাজানের সাথে দেখা হলো। জুনায়েদ মামা নিজের চোখ বন্ধ করে রইলেন খানিক ক্ষন। জয়নব বেগম তার মুখের শব্দের প্রতিক্ষায় আছে।কখন মামা মুখ খুলবেন, তারপর কিছু বলবেন।
- বিল্ডিং এর পেছন দিকে একটা রাস্তা আছে তাই না? - হ্যাঁ, আছে তো মামাজান, কিন্তু আপনি? আপনি কি করে? - আমি কি করে জানলাম সেটা এখন না জানলেও চলবে তোমার, এখন আমার সাথে চলো। - ঠিক আছে, চলুন।
জুনায়েদ সাহেব রিকশাওয়ালাকে বিদায় জানিয়ে জয়নবকে নিয়ে বিল্ডিং এর পেছন দিকে আসলেন। - হ্যাঁ, এটাই তো সেই রাস্তা? - কী আছে এই রাস্তায়? - এখন কথা না বাড়িয়ে চল আমার সাথে? নয়তো দেরি হয়ে যাবে?
জয়নব বেগম আর তার মামা জুনায়েদ সাহেব অন্ধকার রাস্তা দিয়ে দ্রুত এগোতে লাগলেন। এই রাস্তা দিয়ে খুব একটা গাড়ি চলে না, আর রাতের বেলা তো একেবারেই না। টর্চের আলোয় পথ চিনে চিনে দুজনে ছুটে চলছে। জয়নব তার মামার কর্মকাণ্ড দেখে অবাক হচ্ছে, সে এটা কোথায় নিয়ে যাচ্ছে তাকে? আর মামা এতো কিছু জানলোই বা কি করে?
ছুটতে ছুটতে দুজনে একটা পুরনো বাড়ির সামনে এলো। ঠিক বাড়ি নয়, ভাঙ্গাচোড়া কতগুলো দেয়াল সবকিছু ভেঙে তছনছ হয়ে আছে। বাড়িটার পেছন দিকে একটা বড়ো দেয়াল, দেয়ালের ওপাশের দৃশ্য কিছুই দেখা যাচ্ছে না। জুনায়েদ সাহেব জয়নবকে উদ্দেশ্য করে বললেন : - চলো, এই দেয়ালের পেছনে চলো। আর একটা কথা, যা কিছু ঘটে যাক একদম ভয় পাবে না নিজেকে শক্ত রাখো।
জয়নব বেগম মাথা নাড়লো, তারপর দুজনে একটা ভাঙ্গা দরজা দিয়ে দেয়ালের ওপাশে যায়। দেয়ালের ওপাশে গেলেই একটা বড়ো সিঁড়ি, সিঁড়িটা নিচের দিকে গেছে। তারা সিঁড়ি বেয়ে নিচের দিকে নামতে থাকে। জুনায়েদ সাহেব সামনে আর জয়নব তার পেছনে পেছনে। দুজনের চোখেই বিষ্ময় আর আতংকের ছাপ। সিড়ি বেয়ে নিচে নামতেই আঁতকে উঠলো জয়নব বেগম।
জুনায়েদ সাহেব পেছন ফেরে ওর মুখটা চেপে ধরলেন। দুজনেই ভয়ে ঘেমে একাকার, চোখগুলো বড়ো করে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। একটু দূরে সামনেই তাজবীর আহমেদ সে আড়ালে কারো একজনের সাথে কথা বলছে। সেই ব্যক্তির চেহারা দেখা যাচ্ছে না, কিন্তু হালকা চাঁদের আলোয় তার ছায়ার দৃশ্য দেখে ভয়ে মরো মরো অবস্থা জয়নব বেগমের। জুনায়েদ সাহেব নিজেকে সামলে নিয়েছেন অনেকটা।
সেই অদেখা বস্তুটার ছায়া কোনো উঁচু নারিকেল বা তাল গাছের মতো দীর্ঘ। এতো দীর্ঘ অবয়ব কোনো মানুষের তো হতেই পারে না। তবে কে সে? আর তার সাথে তাজবীরের সম্পর্ক টাই বা কি?
- মামাজান এটা কে, উনি কার সাথে কথা বলছেন?(কাঁপা গলায় জয়নবের প্রশ্ন!) - জ্বীন
এটা কি বলছেন আপনি মামাজান? - হ্যাঁ, আমি একেবারেই ঠিক বলছি। - কিন্তু আমাদের এখন কি করা উচিত? - এখন কিছু করা যাবে না, আমরা এখন এই জ্বীনের সাথে কিছুতেই পারবো না। যা করার বুদ্ধি আর যুক্তি দিয়ে করতে হবে। - আমি কিছু বুঝতে পারছি না মামাজান, আমার ভয়ে হাত পা কাঁপছে! - নিজেকে শক্ত রাখো মা, এক্ষুনি ধৈর্য্য হারালে চলবে না।শুধু দেখে যাও কি হয়।
তাজবীর সাহেব সেই অবয়ব টার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। এরপর একটা অদ্ভুত কান্ড ঘটলো। সেই ছায়াটা আস্তে আস্তে ছোট হতে থাকে, তারপর ধীরে ধীরে একপর্যায়ে তাজবীর সাহেবের শরীরের ভেতরে প্রবেশ করে। এর আগে তাজবীরকে ভয়ার্ত মনে হলেও এখন আর সেই ভাবটা নেই তার ভেতরে। বোঝাই যাচ্ছে, তাকে এখন জ্বীনটা নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী পরিচালনা করছে।
জয়নব বেগম আর তার মামা সরে যায়। তাজবীর সাহেব হনহন করে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে গেলো। তারপর বাড়ি থেকে সোজা রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে। একটু পরে জুনায়েদ সাহেব জয়নবকে নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন। তাদের একটু দূরেই তাজবীর, সে রাস্তা দিয়ে আপন মনে হেঁটে যাচ্ছে। পেছনে পেছনে জয়নব আর জুনায়েদ সাহেব! - এখন তো কিছু বলুন মামাজান, কী করবো এখন আমি? - দেখো মা, আমি একটা জিনিস খুব ভালো করেই বুঝতে পারছি তোমার স্বামীকে কোনো বদজ্বীন ভর করেছে।
আমি বুঝতে পারছি না, এই বদজ্বীন আসলো কোথা থেকে কিন্তু ওর উদ্দেশ্যে একেবারেই ঠিক নয়। - তার মানে বদজ্বীনটার কারনে, তার প্রভাবে তাজবীর সাহেব নামাজ রোজা, আল্লাহর এবাদত এসব ঘৃনা করতেন।
এতোদিন মাটির মতো মানুষকে শুধু শুধু ভুল বুঝেছি আমি তওবা, তওবা, তওবা! ক্ষমা করো খোদা, ক্ষমা করো আমায়।
- দেখ মা, তুমি সত্যি কোনো গুনাহর কাজ করো নি। তুমি তোমার স্বামীকে বাধা দিলেও সেটা পরোক্ষভাবে ঐ বদজ্বীনটাকেই বাধা দেয়া হয়েছে।
যে কিনা খোদার আইন মানে না, তাকে বিশ্বাস করে না। আমাদের যাই হয়ে যাক কোনো পরিস্থিতিতেই আল্লাহর বিরুদ্ধে যাওয়া ঠিক নয়, তুমি অন্ত্যত সঠিক কাজ করেছো। কোনো স্বামী যদি তার স্ত্রীকে সৃষ্টিকর্তার এবাদতে বাধা দেয় সেই স্বামীকে ত্যাগ করা গুনাহের কাজ নয়। আর এটা শুধু আমাদের ইসলাম ধর্মে না, প্রত্যেকটা ধর্মই এক কথা বলে।
- কিন্তু, উনি তো কোনো দোষ করেন নি, আমি সত্যি ভুল বুঝেছি তাকে? - হ্যাঁ, তবে তুমি যা করেছো নিজের মনের অজান্তে করেছো?
আমি শুধু ভাবছি এই বদজ্বীনটার উদ্দেশ্য কী,কি চায় সে? তাজবীরের সাথে কি সম্পর্ক তার? - আমিও সেটাই ভাবছি, আমার স্বামীকে এই বাজে অবস্থা থেকে বের করে আনার কি কোনো উপায় নেই। আমি ওনার দূর্দশা দেখতে পারছি না।
- একটা উপায় আমার জানা আছে।
তবে আজকে কিছু করা যাবে না। তুমি বরং কালকে কিছু কাজ করো, আমি ঠিক যা বলবো তাই করবে? - কি কাজ মামাজান, এই মূহুর্তে আপনাকে ভরসা করা ছাড়া আর কি করার আছে আমার। খোদার কাছে অশেষ শুকরিয়া উনি আপনাকে ঠিক সময়ে আমার কাছে পাঠিয়ে দিলেন। - দেখো কাল শনিবার কাজটা কালকেই করতে হবে। আমার কিছু জিনিসপত্র জোগাড় করার আছে। আমি কাল সন্ধ্যার পরে এশার নামাজের সময় তোমাদের বাসাতে ঢুকবো। যা করার তারপর করতে হবে। - বুজলাম, কিন্তু আমার কাজটা কি মামাজান? - হ্যাঁ শোন, বদজ্বীনটা নামাজ আদায় করা অপছন্দ করে তাই তো? - কাল তুমি তাজবীরকে দেখিয়ে দেখিয়ে এশার নামাজ পড়বে, আমি জানি ও বাঁধা দিতে চাইবে। তারপরো তুমি নামাজটা আদায় করবে। - বুঝতে পারলাম, কিন্তু তারপরে কি হবে? - তারপরে কী হবে সেটা আমি বুঝে নেবো।
কাল এই বদজ্বীনকে চরম শিক্ষা দিতে হবে, আর এটাও জানতে হবে ও কেন এসেছে, কি উদ্দেশ্য ওর, আর তাজবীরকেই বা ও ভর করলো কিকরে! যতদূর মনে হচ্ছে ওটা একটা জ্বীন, তাজবীর জ্বীনের সাথে কথা বলছে।
পরের দিন সন্ধ্যা বেলা! তাজবীর সাহেব সন্ধ্যার পরে বাসায় ফিরে দেখলেন তার স্ত্রী এশার নামাজ পড়ছে। এই দৃশ্য দেখে তার আর মাথা ঠিক রইল না। প্রচন্ড রেগে যায় সে নিজের স্ত্রীর ওপর চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে। - তোর এতো বড়ো সাহস, আবার নামাজ পড়তে বসেছিস?
আজ শেষ করে ফেলবো তোকে, জয়নব তাজবীর সাহেবের কথায় ভ্রুক্ষেপ না করে নিজ মনে নামাজ আদায় করতে লাগলো। সে ভালো করেই জানে কথাগুলো তাজবীর সাহেব বলছে না, তার ভেতরে থাকা জ্বীনটা এই সব করাচ্ছে তাকে দিয়ে। - কি বলছি, আমার কথা কানে যায় না?
এক্ষুনি জায়নামাজ থেকে উঠ বলছি নয়তো, জয়নব তখনো নির্বাক। স্ত্রীর এই আচরণ আরো বেপরোয়া করে তোলে তাজবীর সাহেবকে। - ওহ! তার মানে আমার কোনো কথাই মানবে না তুমি তবে রে, আজ এমন শিক্ষা দেবো তোকে।
কথাটা বলেই নামাজরত জয়নবকে লাথি মারার জন্য পা টা বাড়ালো। ঠিক তক্ষুণি ঘরের ভিতর জুনায়েদ সাহেব ঢুকে পড়ে। - শান্ত হও....শান্ত হও।
একদম বাড়াবাড়ি করো না আমি বলছি। তাজবীর জুনায়েদ সাহেবকে দেখে খানিকটা অবাক হয়ে যায়। - কে আপনি...আপনি কিভাবে এলেন, আর কেন এলেন? - আমায় চিনতে পারছো না, আর চিনবেই বা কি করে। আমি জানি তুমি আসলে তাজবীর নও। তাজবীরের দেহের খোলসে একটা বদজ্বীন তুমি।
তাজবীর সাহেব জুনায়েদ সাহেবের মুখের কথাগুলো শুনে ঘাবড়ে যায়। - কি যাতা বলে চলছেন আপনি, সাকার্স হচ্ছে এখানে সাকার্স।
আমি বুঝতে পারছি এটা নিশ্চয়ই এই বেশরম মহিলার কাজ, ও ডেকে এনেছে এই লোকটাকে এখানে আজ ওকে উচিত শিক্ষা দেবো আমি। - চুপ কর, চুপ কর শয়তান।
এক নারীকে আল্লাহর এবাদতে বাধা দিস কাফের, তোর এতো হিম্মত হয় কি করে? দেখ আজ কি করি আমি। ইতিমধ্যে জয়নবের নামাজ পড়া শেষ, জুনায়েদ সাহেব পকেট থেকে একটা বোতল বের করে তার ভেতরের পানি ছিটিয়ে দিলেন তাজবীর সাহেবের ওপরে। - বিসমিল্লাহ হির রহমানির রাহিম, লাই ইলাহা ইল্লালা হু মোহাম্মাদূর রাসুলউল্লাহ। হে খোদা রহম করো, রহম করো খোদা সহায় হও।
অমনি তাজবীর মাটিতে পড়ে গড়াগড়ি দিতে থাকে, - আহহহ! কি করলে এটা আমার সাথে, কি করলে এটা? - উফফফ কি যন্ত্রনা, জ্বলে গেলো সারা শরীর জ্বলে গেলো। - এ তো সবে শুরু, আগে সবটা স্বীকার কর ভালোয় ভালোয় নয়তো কষ্টের সীমা থাকবে না। - ছাড়ো আমায়, ছেড়ে দাও বলছি! - এতো সহজে তো ছাড়া যাবে না তোকে, আগে সব স্বীকার কর। বল কেন তাজবীর সাহেবের শরীরে আস্তানা গেড়েছিস কি উদ্দেশ্যে তোর? - আমি কিচ্ছু বলবো না ছেড়ে দাও আমায়।
জুনায়েদ সাহেব তাজবীরের গালে কষিয়ে একটা থাপ্পড় মারে, এই দৃশ্য দেখে আঁতকে উঠলো জয়নব বেগম। - বলবি না, তুই বলবি না তোর ঘাড় বলবে। চিনোস আমারে একেবারে বন্দী করে বোতলে ভরে রাখবো।
তাজবীর সাহেব একটা তাবিজ বের করে তাজবীর সাহেবের গলায় পড়িয়ে দেয়। আবারো চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে সে। - এবার বলবি নাকি আরো কিছু.... - থামো, আমি বলছি। তার আগে এই তাবিজটা সরাও....সরাও বলছি, আমি সহ্য করতে পারছি না এটাকে। - ঠিক আছে, সরিয়ে নিলাম এবার বল। আর একদম মিথ্যা বলার চেষ্টা করলে কিন্তু কপালে দুঃখ আছে। - না। আমি কিচ্ছু মিথ্যা বলবো না। - দেখো আমার নাম আইকারুস জ্বীন। আর আমি ইচ্ছা করে আসিনি এখানে! - তো কে এনেছে তোকে। - তাজবীর সাহেব আমায় ডেকে এনেছে, তবে উনি ইচ্ছে করে আমায় ডেকে আনেননি আমায়। - তুমি নিশ্চয়ই জানো জ্বীনদের বশ করার জন্য একটানা একমাস বিশেষ সুরাহ পাঠ করা প্রয়োজন। - হ্যাঁ, জানি। আর এটাও জানি সেই সুরাহ পাঠ অন্ত্যত পাক শরীরে শুদ্ধভাবে করতে হয়। - আমি জানি, কিন্তু ত্রিশতম দিনের দিন তাজবীর সাহেব একটা চরম ভুল করে বসে। - ভুল, কিসের ভুল? - ঐদিন উনি জ্বীনদের আহ্বান করার সময়ে নাপাক শরীরে ছিলেন অথচ উনি সেটা নিজেও জানতেন না। - বুঝতে পারলাম না, কি বলতে চাইছো তুমি? - জয়নব বেগম সাহেবা খুব ভালো জানেন সেদিন রাতে তাজবীর সাহেব গোসল করে ঘুমিয়ে পড়ার পরে উনি তার সাথে অন্তরঙ্গ আচরণ করেন। আর উত্তেজনার বশে তাজবীর সাহেবের শরীর নাপাক হয়।
উনি নিজেও জানতেন না সেটা, ঘুমিয়ে উঠে উনি শুধু ওজু করেই জ্বীনসাধনায় বসেন। কিন্তু সেই মুহুর্তে ওনার গোসল করার বিশেষ প্রয়োজন ছিলো। সেই ভূলের কারনে কোনো ভালো এবং নেকজ্বীনের পরিবর্তে আমার দৃষ্টি পড়ে তার ওপরে। আমি একজন কাফের জ্বীন, আমার প্রজাতির কেউ আল্লাহর আনুগত্য স্বীকার করি না আমিও করি না। আমি তাজবীর সাহেবের শরীরের ভেতরে থেকে এতোদিন জয়নব বেগমের সাথে শারীরিক সম্পর্ক উপভোগ করেছি। ওনার এবাদতগিরি একদম ভালো লাগতো না আমার তাই আমি তাকে সবসময় বাঁধা দেবার চেষ্টা করি।
জয়নব বেগম আর জুনায়েদ সাহেব দুজনেই নির্বাক। জয়নবের চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়তে লাগলো, নিজের ভুলের কারনে অত্যন্ত লজ্জিত ও অনুতপ্ত সে। - তো এখন কি করতে চাস তুই? - আমায় ছেড়ে দাও, আমি চলে যাচ্ছি। আর কখনো আসবো এখানে আসবো না আমি। - সত্যি, বলছিস না। নিজের মত পাল্টাবি না তো আবার? - নাহ! আমায় মুক্ত করে দাও দয়া করে, আমি আমার কর্মফলের শাস্তি পেয়ে গেছি এবার ছেড়ে দাও আমায়। - ঠিক আছে যা, ছেড়ে দিলাম। আর কখনো তাজবীর সাহেবের ধারে কাছেও আসার চেষ্টা করিস না।
মুহূর্তেই তাজবীর অজ্ঞান হয়ে ঢলে পড়লো, তার মানে জ্বীনটা সত্যি সত্যি ছেড়ে দিয়েছে তাকে। - আপনি ওকে ছেড়ে দিলেন মামাজান? - আমি কি আর ছাড়বো ওকে, ও এমনিতেও আর বেশি নেই। - মানে? বুঝলাম না। - মানে কিছুই না। বদজ্বীনটা আমার আঘাত সহ্য করতে পারে নি, আর যাই হোক আর কখনো মানুষের ক্ষতি করতে পারবে না ও। কারন আমি ওর থেকে সেই শক্তিটাই কেড়ে নিয়েছি।
এটাই ওর কৃতকর্মের উপযুক্ত শাস্তি, যতদিন বেঁচে থাকবে অথর্ব হয়ে বেঁচে থাকতে হবে। রাত দশটার দিকে তাজবীর সাহেবের জ্ঞান ফিরলো, এখন সে মোটামুটি সুস্থ। জুনায়েদ মামাও নিজের বাসায় ফিরে গেলেন। বিল্ডিং এর ছাদে বসে জয়নব বেগম আর তার স্বামী তাজবীর সাহেব। নিজের স্বামীর কাঁধে মাথা দিয়ে আছে সে। - আমায় ক্ষমা করুন, আমার একটা ভুলের কারনে এতো বড়ো শাস্তি পেতে হলো আপনাকে! - আচ্ছা, কষ্ট কি আমি একা পেয়েছি তুমি পাও নি?
তুমি বরং আমার থেকে বেশি কষ্ট পেয়েছো, না জানি জ্বীনটা কি না কি ব্যবহার করেছে তোমার সাথে! - ও আমায় আল্লাহর এবাদত করতে দিতো না কখনো, ও কখনো চাইতো না আমি তাঁর এবাদত করি। - বদজ্বীনরা এমনই হয়। - হ্যাঁ, আর ঠিক ওর কারনে আপনার বিরুদ্ধে যেতে হয়েছে আমাকে। - তুমি একদম ঠিক কাজ করেছো জয়নব, আমি অত্যন্ত খুশি তোমার এই কাজে। - কি বলছেন আপনি এটা? - কেন, ভূল কিছু কি বললাম। দেখো আমি যে আজ তোমার স্বামী হিসেবে আছি, তুমি আমার স্ত্রী হিসেবে আছো। আমাদের দুজনের জীবনে এতো সুখ ও আনন্দ।
এগুলো কখন সম্ভব হয়েছে? সৃষ্টিকর্তা তোমায় আমায় এতো সুন্দর করে সৃষ্টি করে এই পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন বলেই তার পরেই না সম্ভব হয়েছে। উনি আমাদের ওপর দয়া না করলে কখনোই কিছু সম্ভবপর হয় না যে। ঠিক সেই কারনে যদি কেউ তোমাকে সেই পরম করুণাময়ের উপাসনা করায় বাধা দেয়, হোক সে তোমার স্বামী, অথবা বন্ধু, অথবা বাবা, অথবা মা, যেই হোক না কেন, তখন তাদের বিরুদ্ধে যাওয়াটা কোনো অন্যায় নয়।
আমাদের সৃষ্টিকর্তার এবাদতের জন্য কারো সাথেই কোনো কিছুর সাথেই আপোষ করা ঠিক নয়। একটা কথা জেনে রাখবে সৃষ্টিকর্তার ওপরে কেউ হয় না, আমার সবকিছুর আগে তাকেই প্রাধান্য দেয়া উচিত। এটা শুধু আমাদের ধর্মের কথা না, পৃথিবীর সকল ধর্ম এই একি কথা বলে। অথচ দেখো আজকাল আমরা কি করি, নিজেদের স্বার্থের জন্য, হোক সেটা রাজনৈতিক, পারিবারিক, বা ব্যক্তিগত ধর্মকে বলি দিয়ে দেই, ধর্মকে ছোট করে হলেও নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির চেষ্টা করি, যা কখনোই উচিত নয়।
জয়নব বেগম তার স্বামীর কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনে চলছে, বৃষ্টির কয়েকটা ফোঁটা এসে পড়ে ওদের গায়ে। একটু পরে ঝির ঝির করে বৃষ্টির ধারা বইতে লাগলো, কিন্তু তারা কেউ এতটুকু নড়লো না জয়নব আনন্দে তার হাতদুটো ওপরের দিকে বাড়িয়ে দিলো।
আহ!!
কি আনন্দ, এইতো তো জীবন আর কি চাই জীবনে। একটু বিশ্বাস, একটু ভালোবাসা, একটু নিরাপত্তা আর কতগুলো বিশুদ্ধ নিশ্বাস!

