গুজরাট ভ্রমণবৃত্তান্ত : 25/12/2025 - 03/01/2026
গুজরাট ভ্রমণবৃত্তান্ত : 25/12/2025 - 03/01/2026
2025 এর শুরুটা হয়েছিল কাশ্মীর ভ্রমণ দিয়ে , আর ডিসেম্বরের first week এ ঘুরে এলাম গোয়া থেকে , সুতরাং পাহাড় আর সমুদ্র , ইন্ডিয়ার তথাকথিত সবচেয়ে সুন্দর দুটো জায়গাই কয়েকমাসের ব্যবধানে কভার হয়ে গেছে , তাহলে year end disconnect এর ছুটি তে কোথায় যাওয়া যায় ?? প্রায় 10 দিনের ছুটি , অবশ্যই বাড়িতে বসে নষ্ট তো করব না , কিন্তু কোথায় যাওয়া যায় !!! আর বলাই বাহুল্য যেতে হবে এমন কোনো জায়গায় যেটা ধারে ও ভারে এই দুটো জায়গার থেকে বেশি না হোক কম যেন নাহয়!তার মধ্যেই কোনো একদিন , আনন্দবাজার পত্রিকা পড়তে পড়তে হঠাৎ চোখে পড়ল সুদূর Kutch এ রাণ উৎসবের কথা , সঙ্গে একটা ছবি , শ্বেত শুভ্র মরুভূমি ! সে আবার কি, এইরকম হয় নাকি , মরুভূমি টাও আবার সম্পূর্ণ white ! google , না, chatgpt দিয়ে শুরু আর শেষ টা হলো এই ভ্রমণ কাহিনী দিয়ে। গুজরাট ভ্রমণের ইতিবৃত্ত - আজ অবধি এটা আমার করা সবচেয়ে বড় ট্রিপ , 10 দিনে প্রায় 8 টা হোটেল change হয়েছে, টোটাল 7 টা জায়গা কভার করেছি , গাড়িতে ডিসটেন্স কভার হয়েছে 2460 কিলোমিটার , সহজ ছিল না , প্রতিদিন প্রায় 8-10 ঘণ্টা ট্রাভেল করেছি । Hats off to Sohini , শেষের 3 দিন জ্বর নিয়েই যেভাবে ও সঙ্গ দিয়েছে।কিন্তু আজ, 8th Jan , যখন এই লেখা টা লিখছি তখন ভাবছি যে কতটা diverse landscape আমরা কভার করেছি , যত ধরনের প্রাকৃতিক বৈচিত্র ইন্ডিয়া তে এক্সপেরিয়েন্স করা সম্ভব সব কটাই হয়তো এই একটা ট্রিপ এ আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। 25/12/2025: আহমেদাবাদ -এবারের সফরে সঙ্গী ছিল Rajdip Piyali আর ছোট্ট লামু , তবে এই ট্রিপ টা নিয়ে সবচেয়ে বেশি যে excited ছিল সেই শেষ পর্যন্ত যেতে পারল না, এটাই আমার একটা খারাপ লাগার জায়গা রয়ে গেছে এই ট্রিপ টা নিয়ে , Sabyasachi / Nabanita we missed you badly..দমদম বিমানবন্দর থেকে আমাদের flight ছিল দুপুর 12 টায় , একেই ইন্ডিগো তারপর 12 টার সময় দেখি flight delayed , blood pressure বাড়ানোর জন্য এই combo টাই যথেষ্ঠ ছিল , ব্যাক অফ দি মাইন্ড কড়া নাড়ছিল আমাদের কাশ্মীর যাত্রার অভিজ্ঞতা ! যাই হোক , শরীরের কথা ভেবে ইন্ডিগো দয়া দাক্ষিণ্য করে ১ ঘণ্টা লেটে দুপুর ১ ঘটিকায় ফ্লাইট ছাড়ল , আহমেদাবাদ পৌছালাম প্রায় বিকেল 4 টে নাগাদ , হোটেল Volga , main city তে located, প্রথমেই অবাক হলাম যখন আইডি কার্ড চেক করে বলে wife আর হাজবেন্ড এর আধার কার্ড এর address same নয় কেনো , এত জায়গায় ঘুরতে গেছি , এতটা patriarchal attitude কম ই দেখেছি।যাইহোক , checkin করে বেরিয়ে পড়লাম শবরমতি আশ্রম দেখতে ,এখানেই মহাত্মা গান্ধী 1917 থেকে 1930 অব্দি বাস করেছিলেন , এখন থেকেই ডান্ডি মার্চ ( লবণ সত্যাগ্রহ ) শুরু করেছিলেন গান্ধীজি , ইতিহাসের বুক থেকে উঠে আসা এই আশ্রম দেখতে আহামরি না হলেও এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম , সন্ধেবেলা , ইতিহাস কে চাক্ষুষ করে বেরিয়ে পড়লাম অটল ব্রিজ দেখতে , অটল বিহারী বাজপেয়ীর স্মরণে নির্মিত এই ব্রিজটির উদ্বোধন হয় 2022 এ, Sabarmati পূর্ব আর পশ্চিম দিক কে যুক্ত করার জন্য , উল্লেখ্য যে এটা শুধু পদচারীদের জন্য , যানবাহনের জন্য নয়। সন্ধেবেলায় সুন্দর LED লাইটিং তরুণ প্রজন্মের কাছে ফটো তোলার খুব জনপ্রিয়।যাইহোক , ফটো সেশন কমপ্লিট করে আমাদের ডিনার করার পালা , আর veg option বাদে খাওয়ায় কিছু নেই , তার মধ্যেই খুঁজে পেলাম 'Honest ' নামের রেস্তোরাঁ chain, পুরো trip জুড়ে এই রেস্তোরাঁ তাই ছিল আমাদের Savior, veg পোলাউ আর সঙ্গে আলুরদম দিয়ে ডিনার শেষ করে দিনের ইতি টানলাম ।26/12/2025 - রানি কি ভাও - মোধেরা সূর্যমান্দির - ভুজ: আজকে থেকে ম্যারাথন শুরু , বলে রাখি 9 দিনের জন্য Ertiga গাড়ি বুক করেছিলাম আমরা , per day 250km minimum , per km 13 rs , এই হিসাবে গাড়ি বুক করেছিলাম আমরা। সকাল 8.30 তে বেরিয়ে পড়লাম আমরা , আজকে অনেক দূর যেতে হবে , সাইট সিন দেখে ভুজ পৌঁছাতে টোটাল ডিসটেন্স ট্রাভেল করতে হবে প্রায় 550 km, প্রথমেই গেলাম 100 টাকার নোটের পেছনে আঁকা Unesco World Heritage Site (2014) রানি কি ভাও , গুজরাটের আহমেদাবাদ থেকে 130 km দূরে পাটন শহরে অবস্থিত এটা একটা stepwell - ভারতের স্থাপত্য ইতিহাসের এক অনন্য নিদর্শন , 11th Century তে রানি উদয়মতী তার স্বামী রাজা ভিমদেবের স্মৃতিতে এই 7 তলা গভীর কাঠামো টি তৈরি করেছিলেন , জল সংরক্ষণ আর শিল্প দুটোর চমৎকার মেলবন্ধন হলো এই stepwell টা।এটা দেখে বেরিয়ে পড়লাম ১১শ শতকে নির্মিত গুজরাটের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও স্থাপত্য নিদর্শন মধেরা সূর্য মন্দির দেখতে , মন্দির টি এমনভাবে নির্মিত যে বিষুব দিনে ( Equinox) সূর্যের প্রথম আলো সরাসরি গর্ভগৃহে পড়ত। ধর্ম বিজ্ঞান আর শিল্পের অপূর্ব মেলবন্ধন ছিল এই সূর্য মন্দির। এটা দেখে এবার বেরিয়ে পড়লাম গুজরাটের পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত ভুজের উদ্দেশ্যে , প্রায় 400 km যেতে হবে , বিকেল 5 টা প্রায় বাজে , কিন্তু সঙ্গ দিয়েছিল গুজরাটের মসৃণ রাস্তা , 110-120 kmph এ গাড়ি চলল প্রায় 5-6 ঘণ্টা , ডিনার ব্রেক সহ পৌঁছাতে পৌঁছাতে বাজলো রাত প্রায় 1 টা।আজ আর দেরি না করে শুয়ে পড়লাম , কাল ভুজ শহরটাকে explore করতে হবে।27/12/2025- প্রাগ মহল - আয়না মহল - বিজয় ভিলা প্যালেস - ম্যাণ্ডভি বীচ :আজকের দিনটা রেখেছিলাম ভূজের লোকাল সাইট সিন করার জন্য , দিনটা একটু দেরিতেই শুরু করি , সকাল প্রায় 10 টা , দাহী ঢোকলা আর পোহা সহযোগে প্রাতরাশ শেষ করে বেরিয়ে পড়লাম শহরের মাঝখানে অবস্থিত কচ্ছের রাজকীয় ইতিহাসের গর্ব প্রাগমহল আর আয়না মহল দেখতে , আয়না মহল দুপুর 12 তার সময় বন্ধ হয়ে যায় আবার দুপুর 3 তের সময় খোলে তাই আয়না মহল আমরা দেখতে পারিনি , কিন্তু প্রাগ মহলে চাক্ষুষ করলাম ইতালীয় গথিক স্টাইল এর এক অনন্য নিদর্শন , মহারাজ প্রাগমলজি দ্বিতীয় দ্বারা ১৯শ শতকে নির্মিত এই মহলটি থেকে পুরো ভুজ শহরটির পানোরমিক ভিউ এক কথায় অনবদ্য। সেখান থেকে বেরিয়ে আমরা চললাম ' hum Dil de chuke sanam ' সিনেমা খ্যাত 1920 সালে মহারাজা বিজয়রাজজি দ্বারা রাজপরিবারের গ্রীষ্মকালীন আবাসের জন্য নির্মিত প্রাসাদ , বিজয় ভিলা প্যালেস টি চাক্ষুষ করতে । লাল বেলেপাথর ( sandstone ) দিয়ে তৈরি কচ্ছের রাজকীয় জীবন ধারা ও ঐতিহ্যের প্রতীক হলো এই প্যালেস।আমি দুবছর আগেই রাজস্থান ঘুরে এসেছি , সেখানেও অনেক প্যালেস দেখেছি , কিন্তু আরব সাগরের ধারে অবস্থিত এই প্যালেস টা সমূদ্র + ভিলা এর একটা unique feel দেবে যেটা সম্ভবত দেশের অন্য কোথাও নেই।প্যালেসের ওপর থেকে সূর্যাস্ত দেখে আমরা গেলাম বহুচর্চিত মান্ডভি বীচ দেখতে , তখন চলছিল মাণ্ডভি বীচ ফেস্টিভ্যাল , সেই কারণেই হয়তো মানুষের ভিড় উপচে পড়েছিল ওইদিন , খুব একটা উপভোগ করতে পারলাম না যদিও ভিড়ের কারণে , ভুজ উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম এবার ।28/12/2025 - স্বামী নারায়ন মন্দির - Kadhiya Dharo canyon - Rann Utsav Tent city :আজ ছিল ভুজ থেকে রন অফ কচ্ছ যাওয়ার দিন , শুরুটা হলো ভুজ এর স্বামী নারায়ন মন্দির দর্শন দিয়ে ,মূল মন্দির টি ভগবান স্বামী নারায়ন নিজেই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ১৮২২ খ্রিস্টাব্দে , ২০০১ সালে গুজরাটের বিধ্বংসী ভূমিকম্পের ফলে মন্দির টি মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয় , ২০১০ সালে এটিকে পুনর্নির্মাণ করে ভক্তদের জন্য খুলে দেওয়া হয়। সকাল সকাল মন্দির দর্শন করে আমরা বেরিয়ে পরি Kadhiya dhoro River canyon দেখতে, ভুজ থেকে প্রায় 50কেএম দূরে অবস্থিত এই গিরিখাতটিকে ইন্ডিয়ার 'Grand Canyon' বলা হয় থেকে , ২০২১ সালে নিউইয়র্ক টাইমস এটাকে বিশ্বের সেরা 52 টি জায়গার মধ্যে স্থান দেয় , তারপর থেকে এটা ভুঁজের অন্যতম ট্যুরিস্ট ডেস্টিনেশন পরিণত হয়।যারা এই জায়গা টি যেতে চান তাদের জন্য বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য যে এটা যাওয়ার জন্য 4 হুইল জিপসি ভাড়া করতে হয় , আর 30 মিনিটের ride টাকে joy ride না বলে hell of a ride বলাই শ্রেয় , এত খারাপ রাস্তা আর এতটাই চড়াই উৎরাই যেকোনো মুহূর্তে মনে হচ্ছিল গাড়ি উল্টে যাবে । যায় হোক , তারপর যেটা আমরা চাক্ষুষ করি সেটা ইন্ডিয়ার খুব কম জায়গাতেই দেখতে পাওয়া যায় , ইন্ডিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ ক্যানিয়ন হলো এই Kadhiya Dhoro Canyon।সব শেষে , লাঞ্চ করে আমরা বেরিয়ে পরি Rann of kutch এর উদ্দেশ্যে , দুপাশে মরুভূমির মাঝে দিয়ে সেই রাস্তা যেন অসীম , ধু ধূ প্রান্তর , কোনো লোকের দেখা নেই , রাস্তার এপাশ ওপাশ দেখা যায় যায় না , এই ভাবেই এগিয়ে চলি আমরা আমাদের দিনের লাস্ট ডেস্টিনেশন এর উদ্দেশ্যে। পৌঁছাতে প্রায় বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হয় , গুজরাটের কচ্ছ আয়তনের দিক থেকে ভারতের বৃহত্তম জেলা , এখানকার সাদা মরুভূমি বা 'White Desert ' সারা বিশ্বে জনপ্রিয় এর মৌলিক ল্যান্ডস্কেপ এর জন্য , শীতকালে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি প্রযন্ত ধুমধাম করে Rann Utsav celebration হয়, white Desert এর মধ্যে Tent এ থেকে লোকসঙ্গীত আর হস্তশিল্প মেলার অভিজ্ঞতা একইসঙ্গে বিরল ও অদ্ভুত ! আগে পাহাড় , সমূদ্র , জঙ্গল বা মরুভুমি ভ্রমণের অভিজ্ঞতা থাকলেও , White Desert এর মধ্যে রাত্রিবাসের অভিজ্ঞতা বিরল , মনে হয় না পৃথিবীতে অন্য কোথাও এইরকম অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়।যাইহোক , সন্ধ্যে বেলা পূর্ণিমার চাঁদের আলোয় সাদা মরুভূমির রুপোলি আভা চাক্ষুষ করে আমরা ফিরে আসি টেন্ট এ, পরের দিন আবার যেতে হবে white desert এর feel নিতে।29/12/2025 - Rann of Kutch - White Desert - Road to Heaven - Dholavira :আজকের দিনটা ছিল পুরো ট্রিপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর মনমুগ্ধকর দিন।Rann of Kutch : Tent এ রাত্রিবাস করে আজ সকাল বেলা বেরোলাম সূর্যের আলোয় প্রকৃতির হাতে আঁকা এক বিশাল সাদা ক্যানভাস কে প্রত্যক্ষ করতে , এটা আসলে একটা Salt Marsh , বর্ষাকালে আরব সাগরের জল ঢুকে অগভীর সমুদ্রে পরিনত হয় আর শীতকালে জল শুকিয়ে গেলে সাদা লবণের চাদরে ঢাকা পড়ে এই Rann of Kutch।Rann কথার অর্থ হলো Barren বা Desert land , Felmingo ও Pelican সহ অনেক পরিযায়ী পাখির আনাগোনা হয় শীতকালে এই Rann of Kutch এ, ফটোগ্রাফার দের জন্য এই White Desert যেন হাতে পাওয়া একটুকরো স্বর্গ, চারিদিকে যেদিকেই চোখ যায় শুধু সীমাহীন সাদা বরফের ( সল্ট ) আস্তরণ , প্রায় ঘন্টা দুয়েক মনভরে প্রকৃতির এই আশ্চর্য কে চাক্ষুষ করে আমরা বেরিয়ে পড়লাম আরেক manmade অত্যাশ্চর্য 4500 বছরের পুরোনো Harappan Civilization এর ইতিহাস ঘুরে দেখতে।Dholavira - Road to Heaven : গুজরাটের কচ্ছ জেলায় খাদির বেট নামের এক দ্বীপে অবস্থিত ঢোলাভিরা ছিল হরপ্পা সভ্যতার ( Indus Valley Civilization ) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নগর , ১৯৬৭ সালে প্রত্নতাত্ত্বিক JP Joshi ই প্রথম সিন্ধু সভ্যতার এই বিশাল শহরটির প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ খুঁজে বের করেন ।প্রায় ৫০০০ বছর পুরোনো এই সুপরিকল্পিত এই শহরটি মূলত 3 টি অংশে বিভক্ত ছিল :Citadel - এটি ছিল শহরের সবচেয়ে উচু অংশ যেখানে শাসক গোষ্ঠী বসবাস করত। Middle & Lower Town - সাধারণ মানুষের বসবাসের এলাকা ছিল এটা ।প্রায় 2 ঘণ্টা ধরে অবাক হয়ে দেখলাম কীকরে 5000 বছর আগে এক শহর গড়ে উঠেছিল , আর তার উন্নত জল সংরক্ষণ ব্যবস্থা ( water reservoir) , নগর পরিকল্পনা ( Citadel ), পাথরের তৈরি রাস্তা , সিটাডেল, গেট আর বিশ্বের প্রাচীনতম সাইনবোর্ড ( Signboard) আমাদের দিনের শেষ গন্তব্যস্থল ছিল Wood Fossils Park , সমুদ্রের ধারে অবস্থিত এই পার্কটিতে রাখা আছে ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধ্বংসাবশেষ , প্রায় 17 কোটি ( Jurasic age) বছরের পুরোনো ফসিল হয়ে যাওয়া গাছের গুড়ি, বিজ্ঞান আর প্রত্নতাত্ত্বিক দের কাছে এর গুরুত্ব অপরিসীম , দেখতে পুরোপুরি গাছের গুড়ি কিন্তু স্পর্শ করলে বোঝা যায় আজ এটা পাথরে পরিণত হয়েছে ।২০২১ সালে UNESCO World Heritage Site হিসাবে স্বীকৃতি পায় ধোলাভীরা।ও হ্যা , বলতে ভুলে গেছি , Dholavira যাওয়ার রাস্তার ব্যাপারে , Road to Heaven :এটি আসলে কচ্ছের রন এ আরবসাগরের নীল জলরাশির মধ্যে দিয়ে তৈরি 30 km দীর্ঘ একটা হাইওয়ে যা Kutch এর সাথে Dholavira কে যুক্ত করেছে ।Dholavira হলো সমুদ্রের মাঝে একটা দ্বীপ , আগে যেখানে ভুজ থেকে ঘুরে পথে যেতে প্রায় ২৩০ km পথ পারি দিতে হতো আজ সেটা ৩০ km তে নেমে এসেছে। রাস্তার প্রধান বিশেষত্ব হলো এর দুপাশের মাইলের পর মাইল সাদা লবণের মরুভুমি আর অরবসাগরের নীল জলরাশি দেখা যায় , এই রাস্তার যেন শেষ নেই , সোজা দিগন্তরেখায় গিয়ে আকাশের সাথে মিশেছে এই রাস্তা , এই অপার্থিব সৌন্দর্যের কারণে এক বলা হয় The 'Road to Heaven' এই রাস্তায় প্রায়ই আমরা আমাদের গাড়ি দার করিয়ে ছবি তুলে গেছি , Desktop এর wallpaper এর মত সুন্দর ছিল এই রাস্তা , জানিনা ছবি কতটা জাস্টিফাই করতে পারবে এর সৌন্দর্য কে। Dholavira থেকে ভুজ এ ফিরতে ফিরতে প্রায় রাত 11টা বাজলো , পরের দিন আমাদের দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে যেতে হবে Junagarh , তাই আর দেরি না করে শুয়ে পড়লাম। 30/12/2025 - ভূজ -জামনগর - জুনাগড় :আজকে যাবো Junagarh , আগে একবার জুনাগড় গেছিলাম রাজস্থানে , এবার যাবো গুজরাটের জুনাগড়, এর এক অদ্ভুত ইতিহাস ,গিরনার পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত , junagarh এর শেষ নবাব মহম্মদ মহবত খানজী ১৫ আগস্ট ১৯৪৭ , মনে যেদিন আমাদের স্বাধীন হয়েছিল সেদিন ঘোষণা করেন যে তিনি তার রাজ্যকে পাকিস্তানের সাথে যুক্ত করবেন যদিও এটা চারিদিকে ভারতীয় ভূখণ্ড দিয়ে ঘেরা ছিল , নবাবের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে স্থানীয় মানুষ বিদ্রোহ শুরু করে , শেষ পর্যন্ত ১৯৪৮ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি গণভোটের ( Plebiscite ) মাধ্যমে ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয় Junagarh, উল্লেখ্য, পুরো ট্রিপের মধ্যে এখানেই একমাত্র আমরা আমিশ খাবার পেয়েছিলাম । মনঃপূত হয়নি যদিও ফিরে আসি আমাদের ঘোরার কথায় , ভুজ থেকে Junagarh প্রায় ৩৫০ km, যেতে লাগবে ৭-৮ ঘণ্টা , কিন্তু পুরো দিনটাই শুধু গাড়িতে কাটিয়ে নষ্ট করব , নাহ্, ঠিক করলাম জামনগরের লাখোটা প্যালেস / মিউজিয়াম দেখে Junagarh যাবো, সেইমত সকাল সকাল বেরিয়ে পড়লাম জমনগরের উদ্দেশ্যে , পৌঁছাতে প্রায় বিকেল হলো , Lakhota Lake বা Ranmal Lake এ অবস্থিত এই শ্বেতশুভ্র প্রাসাদ টি রাজা জাম রাণমলজি ১৯শ শতকের মাঝামাঝি নির্মাণ করেছিলেন । এটি ছিল একটি দুর্গ যেটা রাজা তার প্রজাদের দুর্ভিক্ষের সময় কাজ দেওয়ার ( Famine Relief ) জন্য নির্মাণ করেছিলেন, আজ এটি একটি মিউজিয়াম রূপান্তর করা হয়েছে যেখানে রাজকীয় অস্ত্রশস্ত্র , ৯ম থেকে ১৮শ শতকের বিভিন্ন প্রাচীন ভাস্কর্যের নমুনা দেখতে পাওয়া যায় ।এখান থেকে সন্ধ্যে ৭ তার সময় বেরিয়ে পড়লাম জুনাগারের রাস্তায় , প্রায় ৩ ঘণ্টার রাস্তা বাকি , এই বেপারে একটু বলে রাখি গুজরাটের রাস্তার বেপারে , অনেক রাস্তা পেয়েছি যেগুলো সত্যি মাখনের মতো মসৃণ , continuously গাড়ি ছুটেছে ১১০-১২০ kmph বেগে , কিন্তু অনেক রাস্তাই আমরা পেয়েছিলাম এবড়ো খেবড়ো , খারাপ , মতের ওপর অভিজ্ঞতা ছিল মিশ্র। রাস্তায় ডিনার করে Junagarh পৌছালাম প্রায় রাত 12 টা নাগাদ। পরের দিনের প্ল্যান অনেক , সারাদিনের ধকলের শেষে হোটেলে এসেই শুয়ে পড়লাম।31/12/2025 - Junagarh Uparkot Fort - Girnar Ropeway - Somnath Temple - Somnath :বছরের শেষ দিন আজ , সকালে উঠে ভাবছিলাম কেমন কাটলো পুরো বছর টা , Job change, কাশ্মীর ভ্রমণ , সোহিনীর পা ভাঙ্গা , অফিস ট্রিপে গোয়া ঘুরে আসা - ভালো খারাপ সব মিলিয়ে কেটেছে বছর টা , দেখা যাক পরের বছরে কি wait করে আছে আমার জন্য।Rann of Kutch / Dholavira যদি ট্রিপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিন হয়ে থাকে , তবে আজ ছিল ট্রিপের দ্বিতীয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন , দিন শুরু Uparkot ফোর্ট দিয়ে , শহরের মাঝে অবস্থিত এই ফোর্ট টি খ্রিস্টপূর্ব ৩১৯ অব্দে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য নির্মাণ করেন বলে অনুমান করা হয় , প্রায় ২৩০০ বছরের পুরোনো এই দুর্গ টি তার বিশাল প্রাচীর আর অন্যান্য স্থাপত্যের জন্য পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। এই দুর্গার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল এর জলব্যবস্থা, প্রায় ৩৫ মিটার গভীর Adi - Kadi Vav ( কুয়ো) , নওগাঁ কুভো ( কুয়ো ) এর অসাধারণ কাঠামোর সাক্ষর বহন করে চলেছে , বেশ কয়েকটা কুয়োর অনেক টা নিচ পর্যন্ত আমরা গিয়েছিলাম , ২৩০০ বছর আগে নির্মিত এই engineering marvel দেখে ভাবছিলাম আমরা এখন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পরে একটা ব্রিজ বানাই আর সেটা কয়েকদিন পর ভেঙে পরে অথচ এত বছর আগে কোনো formal education ছাড়া কি অত্যশ্চর্য স্থাপতকার্য মানুষ বানিয়ে রেখে গেছে।এই ফোর্ট এর পেছনে থেকে দেখা যায় Girnar পাহাড়, এক কথায় অসাধারণ ভিউ । কথিত আছে , এই দুর্গ থেকেই নাকি কোনো গোপন রাস্তা পাকিস্তানে যায় , না বৈজ্ঞানিক evidence কিছু নেই , কিন্তু লোকমুখে চলে আসছে । এবার যাবো সেখানে , যার জন্য মূলত Junagarh আসা, Girnar Ropeway - Asia's longest Temple ropeway , 2020 অক্টোবরে Inaugurated প্রায় 2.3 Km লম্বা এই রোপওয়ে টি 9999+ সিঁড়ির দীর্ঘ রাস্তা প্রায় 7-8 মিনিটে অতিক্রম করে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় 900 মিটার উচ্চতায় অবস্থিত আম্বাজী মাতা টেম্পল টিকে তীর্থযাত্রী দের হাতের নাগালে এনে দিয়েছে এই রোপওয়ে টি , সোজা কথায় বলি , রোপওয়ে journey এর প্রায় শেষ 2-3 মিনিট আমার বেশ ভয় করছিল ,অনেক নিচে শহর টাকে বিন্দুর মতো লাগছে , যেদিকে তাকাই শুধুই পাহাড় , মাঝে আমরা ঝুলে যাচ্ছি , অসাধারণ গা ছমছমে অভিজ্ঞতা । কিন্তু অবশ্যই life time experience....পাহাড়ের চূড়ায় ঘন্টাখানেক কাটিয়ে Ropeway করে আবার ফিরে এলাম নিচে, বিকেল হতে চলল , এবার আমাদের গন্তব্য আরব সাগরের তীরে অবস্থিত সোমনাথ মন্দির, সন্ধ্যে বেলায় লাইট এন্ড সাউন্ড শো হয় রাত 8.30 থেকে , Junagarh থেকে ডিসটেন্স প্রায় 120 km, Driver ও ছিল আমাদের রোবটের মতো , সে Google Map ছাড়া কিছু বোঝে না , আর গাড়ি ছোটানো ওর রক্তে নেই , কিন্তু ওই যে বললাম সে ছিল রোবট , একবার যে instruction দেওয়া হবে সে সেটাই পালন করবে , বললাম 120 km আমাদের next 1.5 hours এ পৌঁছাতে হবে ( gmap বলছে টাইম লাগবে ২.১৫ hours) , শুরু হলো race against time, গাড়ি চলছে ১২০ তে , তার মধ্যেই ড্রাইভার খইনি পিটিয়ে মুখে পুড়ছে দেখছি , একহাতে স্টিয়ারিং আরেক হাতে খইনি , আমাদের হার্ট বুক থেকে মুখে এসে গেছে ।সোমনাথের কৃপায় আমরা জ্যান্ত one piece এ পৌছালাম সোমনাথ টেম্পল , টাও আবার 10 মিনিট আগেই।সোমনাথ টেম্পল সম্পর্কে নতুন করে কিছু বলার নেই, ভারতের দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ এর মধ্যে প্রথম এই মন্দির টি ভারতের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান , সোমনাথ মন্দিরের অগাধ ধনসম্পত্তি ইতিহাসবিদদের কাছে ছিল বিস্ময়ের বিষয় , কথিত আছে প্রায় 200 মন ওজনের সোনার শিকল দিয়ে মন্দিরের ঘণ্টা ঝোলানো থাকতো। আর এই অগাধ সম্পত্তির কারণেই মন্দিরটি বারবার বিদেশি আক্রমণের শিকার হয়েছে , 1024 সালে সুলতান মাহমুদ গজনাভি থেকে শুরু করে 1299 খ্রিস্টাব্দে আলাউদ্দিন খিলজী , শেষে 1712 সালে মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব এই মন্দিরটি ধ্বংস করেন , ইতিহাসের পাতায় লেখা আছে প্রায় 17 বার মন্দির টির ধ্বংস আর পুনর্নির্মাণের ঘটনা , কিন্তু আজও হিন্দু ধর্মের প্রতীক এই মন্দির সমহিমায় বিদ্যমান , 1947 সালে ভারতের স্বাধীনতার পর সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের উদ্যোগে মন্দিরটির আবার পুনর্নির্মাণ হয় এবং 1951 সালে মন্দির টির উদ্বোধন করেন তিনি।মন্দিরের এই ইতিহাস কমবেশি সকল ভারতীয়র ই জানা , ফিরে আসি আমাদের ভ্রমণকাহিনী তে, বছরের শেষ দিন , সন্ধ্যে 8.30 নাগাদ পৌঁছাই সোমনাথ টেম্পল , মানুষের ঢল শ্রীভূমির ভিড় কেও টেক্কা দেবে , শুরু হলো অমিতাভ বচ্চনের কন্ঠে লাইট এন্ড সাউন্ড শো , এককথায় অসাধারণ !! প্রায় 45 মিনিট ধরে গল্পের ভঙ্গিতে বচ্চনের গুরুগম্ভীর কন্ঠে বলতে থাকা সোমনাথ মন্দিরের পৌরাণিক ইতিহাস , বারবার ধ্বংস আর পুনর্নির্মাণের কাহিনী , স্বাধীন ভারতের পর পুনর্জাগরণের ঘটনা বিশ্লেষণ - অবশ্যই এই ট্রিপের অন্যতম সেরা আকর্ষণ ছিল।এইভাবে ইতি হলো 2025 এর শেষ দিন , আর নতুন বছরের শুরুও হলো সোমনাথ টেম্পল দর্শন দিয়ে। 01/01/2026 - সোমনাথ বীচ - সোমনাথ টেম্পল - গির :নতুন বছরের শুরুটা রেখেছিলাম একটু হালকা , সকাল বেলা উঠে গেলাম টেম্পল এর একদম পেছনেই আরব সাগরের নীল জলে পা ভেজাতে। সোমনাথ টেম্পল বোধহয় আরব সাগরের ধারে অবস্থিত একমাত্র তীর্থস্থান যেখানে 'natural beauty , spirituality and magnificent temple architecture come together 'সমুদ্রের ধারে হাঁটতে হাঁটতে সোমনাথ মন্দির দর্শন ; এককথায় অসাধারণ experience....এইসুত্রে বলে রাখি, যেই সময়ের কথা বলছি সেই সময় কলকাতায় Cold Wave চলছিল, কিন্তু পুরো গুজরাট জুড়েই টেম্পারেচার ছিল ২২-২৫ ডিগ্রি এর আশেপাশে , একমাত্র বোধহয় Rann of Kutch এই রাতের দিকে হালকা ঠান্ডা ছিল বাকি পুরো ট্রিপেই কোথাও শীতবস্ত্রের কোনো দরকার পড়েনি , আর মান্ডবী বীচ থেকে সোমনাথ বীচ সবজায়গাতেই ছিল বেশ গরম , রাতের বেলা AC পর্যন্ত ছাড়তে হয়েছে।ফিরে আসি , কাঠফাটা রোদ্দুরে আর বেশিক্ষণ থাকতে পারলাম না বীচে , বেরিয়ে পড়লাম গিরের উদ্দেশ্যে , প্রায় 60-70 km দুরত্ব সোমনাথ থেকে, পৌঁছাতে পৌঁছাতে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলো । এই ট্রিপে এখনো অব্দি আমরা পাহাড় , সমূদ্র , মন্দির , প্রাসাদ , মরুভূমি সব কিছুই কভার করেছি , শুধু বোধহয় বাকি ছিল জঙ্গল, এবার সেখানেই যাচ্ছি । জঙ্গলে সন্ধ্যে বেলা কিছু করার থাকেনা , সামনেই দুয়েকটা Souvenir Shop ছিল, সেখান থেকেই গুজরাট ট্রিপের কিছু স্মারক কিনে ইতি টানলাম দিনটার।02/01/2026- গির ন্যাশনাল পার্ক ( সাসন গির ) - ডিউ :আমাদের ট্রিপ প্রায় শেষের দিকে , আজ Friday, কাল সন্ধ্যে বেলা আমরা ব্যাক করব , কিন্তু most surprise element of the trip বোধহয় এখনো বাকি ছিল !গির হলো পৃথিবীর মধ্যে asiatic সিংহের একমাত্র প্রাকৃতিক আবাসস্থল । প্রায় ৬০০ + সিংহের বাস রয়েছে এই গিরে, সিংহ ছাড়াও রয়েছে চিতাবাঘ , সম্বর হরিণ, নীলগাই এবং 300 এর বেশি প্রজাতির পাখি ।আমাদের সকাল 7 টায় জিপ সাফারি ছিল দেভালিয়া পার্ক এ, প্রায় 6.40 নাগাদ Sinh Sadan এ পৌঁছে গেছিলাম আমরা, বলে রাখি Sinh Sadan হল গির ন্যাশনাল পার্কের প্রধান প্রশাসনিক কেন্দ্র এর পর্যটকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ল্যান্ডমার্ক । এখান থেকেই আর কিছুক্ষণ পর ছাড়বে আমাদের জিপ , গুজরাট যেহেতু দেশের পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত তাই সকাল 7 টার সময়ও আলো ভালোভাবে ফোটেনি , আর সেইরকম ঠান্ডা , যত জ্যাকেট আর সোয়েটার আমরা এনেছিলাম সব বোধহয় এই গিরেই কাজে লেগে গেছিল ।7 তার সময় এলো সেই বহু প্রতিক্ষিত মুহূর্ত , জঙ্গলে প্রবেশ করলাম আমরা , লোহার যালি তে ঘেরা আমাদের জিপসি , গাইড ই আমাদের বলল বেশ কয়েক বছর আগে অব্দি এখানে শুধু covered Canter Bus আসত, জিপ আসার পর সিংহ কিরকম behave করবে তার নিশ্চয়তা নেই সেই কারণেই জিপ গুলো পুরো লোহার যালি দিয়ে ঘেরা , আগেই শুনেছিলাম Devalia park এ সিংহ সাইটিং এর চান্স খুব বেশি থাকে , তার প্রত্যক্ষ প্রমাণ মিলল প্রবেশ করার 5 মিনিটের মধ্যেই , দুটো সিংহ ( সিংহী ) ২০ feet distance এ শুয়েছিল , আর পায় কে আমাদের , continuous 5 মিনিট ধরে সিংহের ফটো সেশন চলল Next 1 hour ধরে এইরকম অনেকবার সিংহীর sighting হল, গাইডএর মুখেই শুনলাম একটা সিংহ এর area হয় প্রায় 30 বর্গ কিলোমিটার , তার মাঝে অনেক সিংহী থাকতে পারে কিন্তু অন্য কোনো সিংহ চলে এলে কোনো একজন কে যুদ্ধে মৃত্যু শিকার করতে হয় , তাই হয়তো বলে জঙ্গলের রাজা একজন ই হয়।যাইহোক , আমাদের luck ভালো ছিল, আমরা কেশর সজ্জিত সিংহের ও দর্শন পেয়ে গেলাম ।Devalia park হল সিংহের 'Interpretation Zone ' যেখানে সিংহের সংখ্যা/ঘনত্ব অনেক বেশি , তাই sighting এর চান্স ও বেশি থাকে , যদিও এরা কিন্তু natural habitat মানে শিকার করেই এদের খাবার খেতে হয় ।আর একটা সাফারি হয় সাসান গির সাফারি , যেটা হয় 3 hours এর, সেখানে সিংহ sighting এর চান্স কম , আমরা দের মাস আগে থেকেই টিকিট খোজ করেছিলাম কিন্তু পাইনি , দেবালিয়া পার্কেরও টিকিট ছিল প্রায় শেষের পথে , তাই যারাই গুজরাট ভ্রমণে যান না কেনো প্রথম কাজ হবে গির সাফারি বুক করা।ডিউ - সকালের সাফারি শেষে বেরিয়ে পড়লাম ডিউ এর উদ্দেশ্য, এটা ইন্ডিয়া র অন্যতম ইউনিয়ন territory মধ্যে পরে, ডিউ এর interesting fact হল 2020 সালের আগে দাদরা এন্ড নগর হাভেলি এবং দমন এন্ড ডিউ দুটো আলাদা Union Territory ছিল, 2020 merge হয়ে গিয়ে এখন একটাই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল , নাম হলো , দাদরা ও নগর হ্যাভেলি এবং দমন ও ডিউ , যার ক্যাপিটাল হলো দমন। এই শহর টায় পা দিলেই বোঝা যায় পর্তুগিজ প্রভাবের আধিক্য , সাদা রঙের দেওয়াল , রঙিন জানলা দরজা , টালির ছাদ , শান্ত রাস্তা ঘাট , সব কিছুতেই যেন পর্তুগিজ ইউরোপীয় টাউনের ছোঁয়া । ডিউ প্রায় 450 বছর পর্তুগিজ শাসনের অধীনে ছিল , শুনলে অবাক হতে হয় যে ভারতের স্বাধীনতা 1947 সালে হলেও ডিউ কিন্তু তখনও পর্তুগিজ শাসনে চলছিল , 1961 সালের ডিসেম্বর মাসে ডিউ ভারতের সাথে যুক্ত হয় ।গির থেকে ডিউ এর ডিসটেন্স প্রায় 110 km, আসতে প্রায় দুপুর 2 টা বেজে গেছিল , গাড়িতে বসে দেখে নিয়েছিলাম ডিউ এর প্রধান দুটি বীচ হল ঘোগলা আর নাগাও , হোটেলে চটজলদি checkin করেই বেরিয়ে পড়লাম Nagoa বীচের পথে , Nagoa হলো North Goa , more happening , night life সমৃদ্ধ বীচ আর Ghogla হলো South Goa, serene vibe এর জন্য perfect....আর হ্যাঁ, ডিউ তে Non Veg ও Hard drinks দুটোই allowed , শেষ প্রায় 10 দিন ধরে Veg খাবার খেয়ে এখানে যেন স্বর্গ পেলাম । Nagoa বীচে Promfret fry, chilli chicken , Prawn Masala, সঙ্গে আর যাযা non veg Rice item হয় সব অর্ডার দেওয়া হল, প্রানভরে চিকেন/ফিশ সহযোগে লাঞ্চ করে এবার বেরোলাম Ghogla বীচের পথে , এটা আবার শহরের অন্য প্রান্তে।ডিউ তে সূর্যাস্ত দেখার সেরা জায়গা হলো গোগলা বীচ , এটি Nagoa বীচ এর তুলনায় অনেক পরিষ্কার । মনোরম শান্ত পরিবেশে sunset এর অসাধারণ ভিউ পাওয়া যায় এই বীচ টা থেকে।Sunset দেখে হোটেল ফিরে এলাম , আমাদের হোটেল ছিল ডিউ ফোর্টের একদম কাছে । সন্ধ্যে ৬ টার ডিউ ফোর্ট বন্ধ হয়ে যায় , কিন্তু এই ফোর্ট টাকে এত সুন্দর লাইটিং দিয়ে সাজায় যে সামনে বসেই অনেক সময় কাটিয়ে দেওয়া যায় । সন্ধ্যে টা ডিউ ফোর্ট এর সামনে কাটিয়ে এবার ডিনার এর পালা , বলে রাখি যখন আমরা প্ল্যান করছিলাম ডিউ তে যাওয়ার তখন ইচ্ছে ছিল ডিউ এর ডিনার টা cruise এ করব , গিয়ে শুনি সেটা নাকি বন্ধ হয়ে গেছে , প্ল্যান করলাম আবার নাগোয়া বীচ যাবো , বীচের ধারের roof top restaurant এ ডিনার করব , পেয়েও গেলাম নাগোয়া বীচ এ রুফ টপ রেস্তোরাঁ, সঙ্গে ছিল cocktail screwdriver , fine dine complete করে hotel ফিরতে প্রায় রাত 12 টা বাজলো , এখানে উল্লেখ্য ডিউ শহর টা খুব ছোট , মাত্র 50,000 লোকের বাস এখানে , রাত 9 তার সময় ই রাস্তাঘাট সুনসান হয়ে যায় । প্রতিটি ছত্রে পর্তুগিজ লাইফ এর অনুভূতি।03/01/2026 - ডিউ ফোর্ট - আহমেদাবাদ এয়ারপোর্ট - কলকাতা :সফরের শেষ দিন আজ , আহমেদাবাদ থেকে রাত 8.30 এ ফ্লাইট , ডিউ থেকে আহমেদাবাদের দূরত্ব প্রায় 360 km , যেতে লাগবে 7 hours , তাই 11 টার মধ্যে বেরোতে হবে। সকাল বেলা হেঁটেই গেলাম ডিউ ফোর্ট দেখতে । সমুদ্রবেষ্টিত এই দুর্গটি পর্তুগিজ স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন। প্রায় ৫০০ বছর আগে ১৫৩৫ খ্রিস্টাব্দে আরোবসাগরের তীরে এক কৌশলগত অবস্থানে তৈরি করা হয়েছিল এই দুর্গটি যাতে সমুদ্র পথে শত্রু আক্রমণ ঠেকানো যায়।দুর্গের বিশাল প্রাচীরের ওপর আজও সারি সারি লোহার কামান সাজানো আছে , এই ফোর্ট এর প্রাচীর থেকে আরব সাগরের দিগন্ত বিস্তৃত নীল জলরাশির দৃশ্য আমাদের মুগ্ধ করেছিল।ছেড়ে আসতে মন চাইছিল না , কিন্তু ফিরতে হবে , আমাদের ট্রিপের শেষ গন্তব্য কে বিদায় জানিয়ে রওনা দিলাম আহমেদাবাদ এয়ারপোর্ট এর পথে ।সন্ধ্যে 8.30 - ফ্লাইট ছাড়বে কলকাতার উদ্দেশ্যে ।বিদায় গুজরাট , kutch এর Rann white Desert থেকে ধোলাভিরার প্রাচীন সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ , জুনাগরের ইতিহাস থেকে সোমনাথের মন্দিরের রোমহর্ষক কাহিনী , গির অরণ্যের নিস্তব্ধ পরিবেশ থেকে ডিউ এর শান্ত ঢেউ এর পা ছুঁয়ে যাওয়ার অনুভূতি , সব কিছুকে মনের মণিকোঠায় সাজিয়ে ফিরে চললাম কলকাতার পথে , আবার আসবো কোনোদিন স্মৃতি গুলো কে ফিরে দেখার জন্য....
