STORYMIRROR

Manab Mondal

Abstract Fantasy Inspirational

3  

Manab Mondal

Abstract Fantasy Inspirational

ঘন্টেশ্বরী মা

ঘন্টেশ্বরী মা

2 mins
160

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় প্রচুর পুরাকীর্তির নিদর্শন রয়েছে, যেগুলির ঐতিহাসিক মূল্য অপরিসীম । ধর্মীয় সংস্কৃতির আড়ালে আমাদের অনেক ইতিহাস বেঁচে থাকে।যেমন ভাইওর মায়ের থান ভাইওর ঘাটুল এ খ্রিষ্টীয় একাদশ শতকে প্রতিষ্ঠিত ১৮ হাত বিশিষ্ট ভৈরবী মূর্তি আছে। স্থানীয় অঞ্চলে মায়ের থান নামেই পরিচিত। তবে বাসন্তী মাতা বা ঘন্টেশ্বরী মাতা নামে বেশি জনপ্রিয়।মূর্তিটি কালী নাক দুর্গার মূর্তি তা নিয়ে বিতর্ক আছে। অনেকে মনে করেন ১৮টি হাত দৃশ্যমান তাই দেবীদুর্গা বলেই ধরে নেওয়া হয় এখানে। দেবী মূর্তিটি তিনটি খণ্ডে খণ্ডিত। দেবীর পদতলে শোয়ানো মূর্তিটি শিব নাকি অসুর তা নিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না ,বলে এখানে দেবী দুর্গারই পূজা হয়। বৈশাখ , জৈষ্ঠ ,আষাঢ়, শ্রাবণ মাসের প্রতি শনি ও মঙ্গলবার পুজা হয়। জ্যৈষ্ঠ মাসের চতুর্থ সপ্তাহের মঙ্গলবার বাৎসরিক বড় পুজা ও মেলা হয়। ঐদিন দূর-দূরান্ত থেকে লক্ষাধিক ভক্তের ভিড় হয়। ঐ পূজার দিন ৫০০-৬০০ পাঁঠাবলি দেওয়া হয়। বলি দেন যারা মানত করের তারা। শোনা যায় আগে মহিষ বলি প্রথা প্রচলন ছিল । মায়ের কোন মন্দির ছিল না, উঁচু ঢিবির মধ্যে টিনের ছাউনির তলে মায়ের অবস্থান। বর্তমানে মন্দির নির্মাণ করা হয়েছে। তবে মন্দির এর আশেপাশে পাথর ও ইটের ধ্বংসাবশেষ দেখে অনুমান করা যায় বহুকাল পূর্বে মন্দির ছিল। কথিত আছে, মুসলিম যুগে অর্থাৎ পঞ্চদশ শতকের শেষার্ধে ধর্মান্তরিত কালাপাহাড় দ্বারা মন্দির ও মূর্তি ভেঙেছে। কেউ বলেন যে মুসলিম যখন বাংলার ক্ষমতা দখল করল তাও বকতিয়ার খলজি এই মূর্তিটি দ্বিখণ্ডিত করেছিলেন আসলে তিনি মূর্তিটি নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কোন অলৌকিক কারণে নিয়ে যেতে পারেন নি। আর তখন থেকে স্থানীয় লোকজন এই মায়ের আরাধনা করে। ভায়োরের ঘাটুল গ্রামে প্রতিষ্ঠিত মন্দিরে সন্ধ্যার পরে এই জায়গা তে যাওয়া নিষেধ । লোককথা অনুযায়ী মা এই নির্জন বনে ঘোরা ফেরা করেন, সন্ধ্যার পর এই স্থানে কেউ যান না।

তথ্য সূত্র -দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার প্রাচীন স্থাপত্য ইতিহাস -শুভঙ্কর রায়


రచనకు రేటింగ్ ఇవ్వండి
లాగిన్

Similar bengali story from Abstract