এ কেমন করে সম্ভব?
এ কেমন করে সম্ভব?
সেদিন ছিল মঙ্গলবার। সকাল থেকেই ভ্যাপসা গরম। অরুণের একটা শখ হলো যে কি শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা প্রত্যহ বিকেল বেলা মাঠে খেলতে যায়। সেই দিনও সে মাঠে খেলতে গিয়েছিল।
তার বাড়ি থেকে খেলার মাঠ বেশি দূরে নয়। খেলা যখন প্রায় শেষের মুখে তখন সারা মাঠের ধুলো উড়িয়ে ঝড় উঠলো। আরো কিছুক্ষণ তারা খেলত। কিন্তু ঝড় আসার কারণে খেলা বন্ধ হয়ে গেল।
চারপাশের গাছপালাগুলো ঝড়ের দাপটে শোঁ শোঁ শব্দ সৃষ্টি করছে।
অরুণ তাড়াতাড়ি বাড়ির দিকে রওনা হলো। বাড়িতে তার মা একা রয়েছে। ও যে জায়গায় থাকে সেখানে লোডশেডিংয়ের খুব বহর। একটু ঝড় বৃষ্টি হলেই কারেন্ট অফ হয়ে যায়। তাই সে তাড়াতাড়ি বাড়ির দিকে দৌড়াতে থাকলো।
বলতে গেলে বাড়ির অনেকটাই কাছে চলে এসেছে সে। এমন সময় ও দেখল তার মা হন্তদন্ত হয়ে ছুটে আসছে তার কাছে। সে প্রায় হাঁপাতে হাঁপাতে বললো, "তুমি এখানে কেন এলে মা বাইরে এত ঝড় শুরু হয়েছে। আমিই তো আসছিলাম"।
মা বলল, 'তোর আসতে দেরী হচ্ছে দেখে আমি চলে এলাম।'
অরুণ বললো আচ্ছা ঠিক আছে মা আমি তাড়াতাড়ি ঘরে যাচ্ছি তুমি আস্তে আস্তে এস।
এই বলে অরুণ তাড়াতাড়ি বাড়ির দিকে রওনা দিল।
ততক্ষণে লোডশেডিং হয়ে গেছে। সারা এলাকা অন্ধকার ঘুরঘুট্টি করছে। আর তেমনি ঝড় হচ্ছে। সাথে একটু একটু বৃষ্টিও শুরু হয়েছে।অরুণের বাড়িটা ঠিক যে জায়গায় অবস্থিত তার চারদিকে অনেক বড় বড় গাছ রয়েছে। ঠিক পিছনে একটা বড় আম গাছ রয়েছে। অরুণ মনে মনে ভাবছে এই ঝড়ে মনে হয় অনেক গাছের ডালপালা রাস্তায় পড়ে থাকবে। ঠিক সেটাই হয়েছে। সারা রাস্তা জুড়ে ছড়িয়ে আছে বড় বড় গাছের ডাল পাতা ইত্যাদি।
এবার ও বাড়ির মধ্যে ঢুকলো। বাড়িময় অন্ধকার। ও মনে মনে ভাবল এই ঝড়ে নিশ্চয়ই অনেক আম পড়বে ওদের ছাদে কারণ কিছু নেই যেহেতু আমগাছ রয়েছে। ও কোন কিছু না দেখে আগে উপরে উঠলো।
কিন্তু ছাদের দরজা খোলার পর যা দৃশ্য দেখল সেটা সে জীবনেও ভাবতে পারেনি। তার সারা শরীর কাঁপতে লাগলো। সারা ছাদ জুড়ে ছড়িয়ে আছে বড় বড় ডাল। এক একটা ডাল তো হাত দিয়ে তোলা যাবেনা। সে দেখল একটা নারী দেহ ছাদের মধ্যে উল্টানো অবস্থায় শুয়ে আছে। মাথার দিকটা পুরো থেঁতলে গেছে। সেখান থেকে গল গল করে তাজা রক্ত এখনও বেরিয়ে পড়ছে। একটু কাছে গিয়ে সে নারী দেহটাকে চিত করলো। এইবার যা দৃশ্য দেখলো তার জন্য সে জীবনে আর প্রস্তুত ছিল না। এসে কি দেখছে! এই যে তার মা।
তার মায়ের মাথাটা পুরো থেঁতলে গেছে। আম গাছের একটা বড় এবং শক্ত ডাল এসে পড়েছে তার মায়ের মাথার উপর একেবারে।
সে একেবারেই হতভম্ব হয়ে গেল। সে যে আর নিজেকে বিশ্বাস করতে পারছে না। তাহলে একটু আগে যে সে কাকে দেখলো?
এইতো একটু আগে মা তার সাথে কথাও বললো রাস্তায়। তাহলে সে কে ছিল?
তাহলে কি যে অরুনের সাথে একটু আগে রাস্তার মধ্যে কথা বলল সে কি কোনো রক্তমাংসের মানুষ নয়? সে কি আসলেই এক প্রেতাত্মা? শেষবারের মতো তার মায়ের আত্মা অরুণের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিল?
এই সব ভেবে ভেবে ছাদের দরজাটা ধরে সে ধপ করে মাটিতে বসে পরলো। আর কথা বলার শক্তি নেই তার। বুকের ভেতরটা প্রচন্ড ধুকপুক ধুকপুক করছে।

