STORYMIRROR

Manab Mondal

Abstract Romance

4  

Manab Mondal

Abstract Romance

ডিয়ার ফ্রেন্ড

ডিয়ার ফ্রেন্ড

3 mins
268

অরিজিৎ, প্রদীপরা ছোট বেলা থেকেই এক স্কুলে পড়তাম আমরা সবাই । প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক এক সাথে পড়ে আমাদের বন্ধুত্ব খুব গাঢ় হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এ কলেজে তো একসাথে সুযোগ পেলাম না আমরা। তাছাড়া কৌশিক ডাক্তারিতে সুযোগ পেলো। সুপ্রতিম আবার হোটেল মেঞ্জমেন্ট পেলো সবাই ছড়িয়ে ছিটিয়ে গেলাম। দুঃখ হলো সম্রাট জন্য , ও ইংরেজিতে ব্যাক পেলো। তবে সেটা অন্যদিক থেকে ভালো হলো। ওদের রেস্টুরেন্ট আমরা শনিবার রাতে জরো হতাম যে যারা সুযোগ মতো। ফলে বন্ধুত্বটা আমাদের টিকে থাকলো। শুভজিৎ শুধু আসতো না। ও কোলকাতায় কোন কলেজ সুযোগ পাই নি। ও ব্যাঙ্গালোর কোন একটা কলেজ ভর্তি হয়েছিল। কিন্তু প্রতি সপ্তাহে ওর চিঠি আসতো। ও আসলে গায়ক হতে চেয়েছিলো। কিন্তু ওর বাবা চাইতো ও ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করুক।

আসলে এ পিছনে একটা লম্বা কাহিনী আছে। ওরা রয় চৌধুরী। আপনারা নিশ্চয়ই বারাইপুরে জমিদার রায় চৌধুরীদের কথা জানান। ওরা ওদের বংশধর। কিন্তু ওর বাবার বাল্যবন্ধু মানে সহপাঠী বসন্ত রায় চৌধুরী ওদের বংশ লতিকা দেখিয়ে প্রমান করেছিলেন। ওর বাবার বাবা আসলে বসন্ত রায় চৌধুরী দাদুর রক্ষিতার ছেলে ছিলেন। এই অপমান বুকে ওরা কোলকাতায় চলে আসে।বসন্ত রায় চৌধুরী পরে নিজের সম্পত্তি প্রতিপত্তি খুইয়ে কলকাতায় এসে তার প্রতিবেশী হয়। পুরানো ক্ষত এতেই চাগাড় দিয়ে ওঠে। টাকা পয়সা দিক দিয়ে নীচু দেখিয়ে সে বসন্ত রায় চৌধুরীকে নিজের আত্মাকে শান্তি দিতেন। কিন্তু সে চাইতো আর বেশি কিছু। তাঁর ছেলে জেনো ইঞ্জিনিয়ার হয়ে ওর মুখ উজ্জ্বল করে আর বসন্ত রায় চৌধুরীর থোতা মুখ ভোতা হয়ে যায় এই আশায় সে সব কিছু করতে রাজি ছিলেন।

এখানে গল্পটা এতোটা সহজ নয়।।মজার ব্যাপার হলো বসন্ত রায় চৌধুরী মেয়ে আর শুভজিৎ প্রণয় সম্পর্ক ছিলো অনেক আগে থেকেই। বসন্ত রায় চৌধুরী সে বিষয়ে জানতো । কিন্তু শুভজিৎকে তিনি কথাও দিয়েছিলো তার বাবার বিরুদ্ধে গিয়ে সে ওদের বিয়ে দেবে ও ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করলে, কারণ এতে তার প্রতিশোধে নেওয়া হবে ।

কিন্তু আসলে বসন্ত রায় চৌধুরী মানুষটি খুব খারাপ ছিলেন পুরোপুরি বাংলা সিনেমার খলনায়ক চরিত্র।শুভজিৎএর তখন ফাইনাল সেমিস্টার পরীক্ষা বাকি মাত্র সাত দিন। উনি ওনার মেয়ে সোমিকে বিয়ে ঠিক করলেন এক ধনী ব্যবসায়ী সাথে । এবং শুভজিৎ বাবাকে উত্তেজিত করে দিলেন কথার মার প্যাচে। যাতে শুভজিৎ কিছুতেই এ শহরে আসতে না পারে। 

হুঁ বাল্য বন্ধুরা কখন কাজে আসবে শুভজিৎএর। আমাদের বন্ধুদের গ্রুপ টাকা পয়সা জোগাড় করলাম। সোমিকে বিয়ে করে ওকে নিয়ে গিয়ে, ও যাতে ব্যাঙ্গালোর রাখতে পারে ঘর ভাড়া করে।শুভজিৎ ব্যাঙ্গালো গিয়ে পরীক্ষা দিয়ে নিলে হয়ে গেল। মোটামুটি ভাবে তিন মাস সংসার খরচ আমরা জোগাড় করে নিয়ে ছিলাম। ওরা ঠিক নিশ্চিত তিন মাসের মধ্যে চাকুরী জোগাড় করে নিতে পারবে এ বিশ্বাস ছিলো আমাদের। দক্ষিণেশ্বর ওদের বিয়ে দিয়ে আমরা, ওদের বিদায় করলাম।

কিন্তু ঘটনায় এবার টুইস্ট এলো আমরা দেখলাম নির্দিষ্ট দিনে আবার সোমির বিয়ে হলো ধুমধাম করে। শুভজিৎ কোন খোঁজ খবর ছিলো না মাস দুয়েক তিনেক। পরে আবিষ্কার করলাম আমরা শুভজিৎকে ওর বাড়িতে ড্রাগ অ্যাডিক হিসেবে। ওর বাবা আমার বন্ধুরা বোঝালাম অনেক। ও ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াতে চায় নি ও গান গাইতে চায়ে ছিলো । তাই ওকে সেটাই করতে দেও হোক। সোমি চলে যাওয়ায় ও আরো বেশি জেদি হেয়ে গিয়েছিল। ও খুব তারাতারি বড়ো গায়ক পরিনত হয়ে গেলো। গায়ক হিসেবে নাম কামনোতে খুশি হলো কাকু। কারণ বসন্ত রায় চৌধুরী সাথে কোন অজানা কারণে সোমির আর কোন সম্পর্ক নেই।

যাইহোক বছর পাঁচেক পর হঠাৎই একটা টিভি রিয়েলিটি শোতে আমরা দেখতে পেলাম সোমিকে। সোমি এখন উদিয়মান লেখিকা। আমরা বন্ধুদের গ্রুপ খবরটা ছড়িয়ে দিলাম।সোমির অপরাধ কি? ঐ ইন্টারভিউতে ও শুভজিৎ নাম না করে শুভজিৎ আর সোমির প্রেম কাহিনিটা বলছে রসিক কসিয়ে। এবং ও দাবি করছে শুভজিৎ সফল হতো না যদি সোমি না ওকে ও দিন ছেড়ে দিতো। আমাদের বন্ধুদের গ্রুপ ওখানে হাজির হয়ে ওকে প্রশ্নবান জর্জরিত করে দিলাম।

হঠাৎ ওকে বাঁচাতে হাজির হলো শুভজিৎ। এবং ও সোমিকেই সমর্থন করলো। ঠিকই তো ওরা বিয়ে করে নিলে । সেই ওকে জীবন সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে হতো। ও হারিয়ে যেতো কোথাও সাধারণ মানুষের ভিড়ে। শুভজিৎ ওকে আজো ভালোবাসে আমরা জানি। তাই আজো ও কাউকে বিয়ে করে নি। কিন্তু সোমির চোখের জল বলে দিলো সোমিও ওকে আজো ভালোবাসে। তাইতো বছর ঘুরতে না ঘুরতেই স্বামী হারিয়েও , আজো সোমিও বিধবা হয়েই আছে । বিয়ে করে নি আর। আমাদের বন্ধুদের গ্রুপ কি করতে আছে ওদের আবার বিয়ে দেবো আমরা। ষড়যন্ত্র শুরু করলাম ওদের মধ্যে মিলন ঘটানোর।



Rate this content
Log in

Similar bengali story from Abstract